a ব্যাংকে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের সন্ধান পেয়েছেন গোয়েন্দা সংস্থা
ঢাকা শনিবার, ১৪ ভাদ্র ১৪৩২, ৩০ আগষ্ট, ২০২৫
https://www.msprotidin.com website logo

ব্যাংকে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের সন্ধান পেয়েছেন গোয়েন্দা সংস্থা


মুক্তসংবাদ প্রতিদিন ডেস্ক
বৃহস্পতিবার, ১১ নভেম্বর, ২০২১, ০৯:৩১
ব্যাংকে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের সন্ধান পেয়েছেন গোয়েন্দা সংস্থা

ফাইল ছবি

গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হওয়া পাঁচ ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে। গোয়েন্দারা প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে জড়িত একটি চক্রের সন্ধান পেয়েছেন।

তারা পরীক্ষা আয়োজক ও ব্যাংকে কর্মরত অন্তত তিনজনের নামও পেয়েছেন। তাদের ধরার জন্য অভিযানও চলছে। তাদের সঙ্গে এ অপকর্মে আরও কয়েকজনকে চিহ্নিত করা গেছে বলেও গোয়েন্দাদের দাবি। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক এখনও বলে যাচ্ছে, তাদের কাছে এমন তথ্য নেই। তবে প্রমাণ মিললে তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

সোনালী, রূপালী, জনতা, অগ্রণী ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকে নিয়োগ পরীক্ষা ছিল গত ৬ নভেম্বর। ওই পাঁচ ব্যাংকে এক হাজার ৫১১টি পদে নিয়োগ পরীক্ষায় এক লাখ ১৬ হাজার ৪২৭ চাকরিপ্রত্যাশী অংশগ্রহণ করেন। বাংলাদেশ ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটির আওতায় পাঁচ ব্যাংকের অফিসার (ক্যাশ) নিয়োগের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা ছিল সেদিন। সেদিনই প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ পাওয়া যায়।

পরীক্ষার্থীদের অনেকেই দাবি করেছেন, আগেই প্রশ্নপত্র অনেকের কাছে ছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাদের কেউ কেউ পোস্ট দিয়ে এসব তথ্য জানানোর পাশাপাশি পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার দাবি জানানো হয়। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের যথাযথ ভাষ্য ছিল- প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়নি।

শেষ পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার যে দাবি করেছেন, ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের তদন্তে তার সত্যতা পেয়েছেন। যে প্রশ্নে পরীক্ষা হয়েছিল, তা হুবহু আগেই অনেক শিক্ষার্থীর কাছে চলে গেছে- এমন প্রমাণও পাওয়া গেছে।

এবার ব্যাংকের প্রশ্ন ফাঁসের এই সিন্ডিকেটের মধ্যে দু'জন ব্যাংকার ও একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা রয়েছেন। প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িত এমন কয়েকজনকে গোয়েন্দা নজরদারিতে রাখা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ঢাকা গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মো. হারুন-অর রশিদ  মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি বলেন, ব্যাংকের প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় আজকালের মধ্যে সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানানো হবে। এর বেশি এখন বলতে চাই না।

প্রশ্ন ফাঁসের প্রমাণ মিলেছে কিনা- এর উত্তরে তিনি বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ব্যাপারে তথ্য-প্রমাণ আমরা পেয়েছি। আমরা অনেককে খুঁজছি।

তবে ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটি ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক হুমায়ুন কবির গণমাধ্যমকে বলেন, ২৬ শিক্ষার্থী বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে বলে লিখিত অভিযোগ করেন। তবে আমরা এখনও এমন কোনো প্রমাণ পাইনি। তদন্ত চলছে। আমরাও চাই সত্য উদ্ঘাটিত হোক। যদি প্রশ্ন ফাঁসের সন্দেহাতীত প্রমাণ মেলে, তবে পরীক্ষা বাতিল করা হবে।

জানা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটি এবার পাঁচটি ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষার দায়দায়িত্ব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আহ্‌ছানউল্লা ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির মাধ্যমে সম্পাদন করে। আহ্‌ছানউল্লা ইউনিভার্সিটির তত্ত্বাবধানে পরীক্ষাটি অনুষ্ঠিত হয়।

একাধিক সূত্রমতে, আহ্‌ছানউল্লা ইউনিভার্সিটিতে কর্মরত আইসিটি টেকনিশিয়ান (হার্ডওয়্যার অ্যান্ড সফটওয়্যার) মো. মুক্তারুজ্জামান তার প্রতিষ্ঠান থেকেই প্রশ্নপত্র সংগ্রহ করেন। তার সঙ্গে আরও কয়েক সহযোগী ছিল। তবে অন্যদের নাম এখনো জানা সম্ভব হয়নি।

একটি দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, প্রশ্নপত্র ফাঁসের এই চক্রের সঙ্গে রূপালী ব্যাংকের সাভারের নবীনগর শাখায় কর্মরত জানে আলম মিলনের সংশ্নিষ্টতা পাওয়া গেছে। তার সঙ্গে জনতা ব্যাংকের গুলশান শাখায় অফিসার পদে কর্মরত শামছুল হক শ্যামলও ছিলেন। জানে আলম ও শ্যামলকে গোয়েন্দা নজরদারিতে রাখা হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে একাধিক জায়গায় অভিযানও চালিয়েছে পুলিশ।

জানা গেছে, পাঁচ ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসকারী একটি চক্র সক্রিয় ছিল- এমন তথ্য জানার পর পরীক্ষার কয়েক দিন আগে থেকে গোয়েন্দা ফাঁদ পাতা হয়। প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের সঙ্গে জড়িত সন্দেহভাজন হিসেবে যাদের নাম সামনে আসে, তাদের কয়েকজনের সঙ্গে ছদ্মবেশী চাকরিপ্রার্থী সেজে যোগাযোগ করেন গোয়েন্দারা। প্রশ্ন ফাঁস চক্রের অন্যতম সদস্য স্বপন নামে এক ব্যক্তি অগ্রিম টাকার বিনিময়ে প্রশ্নপত্র সরবরাহ করতে রাজি হয়। সব কিছু চূড়ান্ত হলে ছদ্মবেশী গোয়েন্দাদের সঙ্গে স্বপনের চুক্তি হয়- টাকা হাতে পেলেই পরীক্ষার অন্তত ৭ ঘণ্টা আগে একটি 'সেফ হাউসে' নেওয়া হবে। যেখানে চাকরিপ্রত্যাশী প্রশ্ন সরবরাহ করে উত্তর মুখস্থ করানোর ব্যবস্থা করা হবে।

এমন কৌশল প্রয়োগ করেই স্বপনের খোঁজ মেলে। পরীক্ষার আগে তার কাছে হুবহু প্রশ্নপত্র চলে আসে। স্বপনের সঙ্গে রূপালী ব্যাংকের কর্মকর্তা জানে আলমসহ আরও কয়েকজন ব্যাংকার এবং অন্যান্য পেশার লোকের সঙ্গে প্রযুক্তিগত যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে। ওই তথ্য বলছে, পরীক্ষার কয়েক ঘণ্টা আগে তাদের সবার কাছে প্রশ্নপত্র পৌঁছে যায়।

জানা গেছে, জানে আলম, মুক্তারুজ্জামান ও শ্যামল মিলে চার দফায় প্রশ্নপত্র সংগ্রহ করেছে। পুলিশের তদন্ত বলছে, অন্তত ৩০০ জনের কাছে তাদের মাধ্যমে পরীক্ষার আগেই প্রশ্ন চলে যায়। ৭-১৫ লাখ টাকায় একেকজনের কাছে প্রশ্ন বিক্রি করা হয়েছে।

চুক্তি অনুযায়ী অধিকাংশ চাকরিপ্রত্যাশীর কাছ থেকে পরীক্ষার আগে ২০ শতাংশ টাকা নিয়ে নেয় চক্রটি। বাকি টাকা লিখিত পরীক্ষার আগে ২০ শতাংশ ও সর্বশেষ বাকি অর্থ চাকরি হওয়ার পর পরিশোধের শর্ত ছিল। স্বপনের দায়িত্ব ছিল পরীক্ষার্থী সংগ্রহ করা। জানে আলম ও সামছুল হক সেফ হোম বা বুথে পরীক্ষার্থীদের হাতে প্রশ্ন দিয়ে তা মুখস্থ করার ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করে। আহ্‌ছানউল্লা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রশ্ন সংগ্রহ করার দায়িত্ব ছিল মো. মুক্তারুজ্জামানের। সূত্র: সমকাল

 

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন / কে. আলম

চাঁদা আদায়ের নামে গ্রেফতার নাটক, সিআইডির ২ সদস্যসহ গ্রেফতার ৫


মুক্তসংবাদ প্রতিদিন ডেস্ক:
শনিবার, ০৬ জানুয়ারী, ২০২৪, ১০:১৯
চাঁদা আদায়ের নামে গ্রেফতার নাটক, সিআইডির ২ সদস্যসহ গ্রেফতার ৫

ছবি: সংগৃহী যুগান্তর ডেস্ক

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) এস আই রেজাউল করিম নিজেকে ইন্সপেক্টর রবিউল পরিচয়ে টার্গেট ব্যক্তিদের ফোন করেন। তাদের বলেন, ‘আপনার নামে অভিযোগ আছে। আপনি মানি লন্ডারিং করেন।’ টার্গেট ব্যক্তিকে মালিবাগের সিআইডি হেডকোয়ার্টার্সে ডাকেন তিনি। অফিসে না আসলে ওই ব্যক্তিকে তার বাসা থেকে তুলে নিয়ে আসেন। পরে টাকা নিয়ে ছেড়ে দেন। তার এসব কাজে সহায়তা করেন আবু সাঈদ নামে সিআইডির আরেক সদস্যসহ অপর ৩ ব্যক্তি। দীর্ঘদিন ধরেই তারা এ ধরনের কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। পুলিশের তদন্ত সংস্থার কর্মকর্তার এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড এতদিন কেউ না জানলেও এক ভুক্তভোগীর করা মামলায় বিষয়টি সামনে উঠে এসেছে। এ নিয়ে পুলিশ প্রশাসন সতর্ক হয়েছে। শর্ষের ভেতর ভূত। এ যেন সেই বইয়ের বাগধারাই বাস্তবতা। আসলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনেকের বিরুদ্ধে মানুষকে জিম্মি করে অথবা তাদের কাছে বিভিন্ন আইনগত সুবিধা নিতে গেলে উল্টো তারাই প্রকারন্তরে ক্ষতিগ্রস্থ ও হেরাজমেন হন। আবার বিভাগীয় তদন্তে অনেকেই ছাড় পেয়ে যান, ফলে পরবর্তীতে এরা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠে। তবে এবার ভুক্তভোগী গার্মেন্ট ব্যবসায়ী মোস্তাফিজুর রহমান অনেকটা সাহসের পরিচয় দিয়েছেন। রাজধানীর ভাটারা থানায় মামলা করেছেন। তাতে উল্লেখ করেছেন, তাকে জিম্মি করে তার বাবার অপারেশনের জন্য জমি বিক্রির টাকা ও ব্লাংক চেকে সই নেয় সিআইডির ওই চক্রের সদস্যরা। এটি তিনি কোনভাবেই সহ্য করতে পারেননি। ওই মামলায় অভিযুক্ত সিআইডি এসআই রেজাউল করিম (৩৯), কনস্টেবল আবু সাঈদসহ (৩২) পাঁচ জনের বিরুদ্ধে অপহরণ, মারধর ও চাঁদাবাজির অভিযোগ করা হয়েছে। তাদের গ্রেফতারও করেছে ডিবি পুলিশ। অন্য আসামিরা হলেন- বরিশালের উজিরপুরের মো. ইমন (২১), একই উপজেলার আব্দুল্লাহ আল ফাহিম (২১) ও ময়মনসিংহের মুক্তাগাছার শরীফ হোসেন (২৬)। ফাহিম ও ইমনকে গত ৩ ডিসেম্বর গ্রেফতার করা হয়। আর বাকি তিনজনকে রোববার গ্রেফতার করা হয়। সোমবার অনেকটা গোপনেই তাদের কারাগারে পাঠিয়েছে ডিবি পুলিশ। অথচ অন্যান্য আসামিদের বেলায় ব্রিফিং করে আসামিদের ছবিসহ গণমাধ্যমকে অবহিত করা হয়। ভাটারা থানায় করা মামলার বাদী মো. মোস্তাফিজুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, তিনি গার্মেন্ট ব্যবসায়ী। টাকা নেওয়া ছাড়াও তার কাছ থেকে ব্লাংক চেকে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। ওই এলাকার অনেকের কাছ থেকেই এই চক্র বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ফন্দি আটিয়ে টাকা আদায় করেছে। এর আগে রংপুর থেকে দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলায় গিয়ে এক বাড়ি থেকে দুজনকে অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে সিআইডির তিন সদস্যকে আটকের পর আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়। সিআইডির ওই তিন সদস্যের মধ্যে একজন সহকারী পুলিশ সুপার, একজন সাব ইন্সপেক্টর ও একজন কনস্টেবল। সিআইডির সদস্যদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় নানা অপকর্মের অভিযোগ উঠেছে। অনেকে কারাগারেও গিয়েছেন কিন্তু পরবর্তীতে তাদের খবর অদৃশ্যই থেকে যায়। ৩১ অক্টোবর ভাটারা থানায় দায়ের করা মামলায় ভুক্তভোগী মো. মোস্তাফিজুর রহমান উলে­খ করেন, গত ৭ অক্টোবর আমাকে হোয়াটস-অ্যাপে ফোন করে এক ব্যক্তি বলেন, আমি সিআইডির ওসি রবিউল বলছি। আপনি আগামীকাল সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে মালিবাগ সিআইডি অফিসে এসে আমার সঙ্গে দেখা করবেন। তখন মোস্তাফিজ বলেন, ‘আমি একটু ব্যস্ত আছি। আমি আগামীকাল দুপুরের পর আপনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারব।’ পরদিন সকালে ৪ জন হেলমেটধারী ব্যত্তি সিআইডির পোশাক ও আইডি কার্ডসহ আমাকে বাসা থেকে ধরে নিয়ে যায়। এ সময় আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। প্রকাশ্যে চড়থাপ্পড় মারে। পরে আমাকে পূর্বাচলের নির্জন একটি লেকের পাড়ে নিয়ে মারধর করে। আমার কাছে ১০ লাখ টাকা দাবি করে। পরে ইসলামী ব্যাংকের নিকুঞ্জ শাখায় আমাকে নিয়ে যায়। সেখানে আমার এটিএম কার্ডের মাধ্যমে বুথ থেকে ৫ লাখ ২০ হাজার টাকা তুলে নেয় তারা। পরে নির্যাতন করে ইসলামী ব্যাংকের দুটি ব্লাংক চেকে সই নেয়। এমনকি তিনশ টাকার একটি ব্লাংক স্ট্যাম্প পেপারেও সই নেয় তারা। বিষয়টি কাউকে বললে মেরে ফেলার হুমকি দেয়।’ এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃতদের বিষয়ে জানা গেছে, এসআই রেজাউল সিআইডি হেডকোয়ার্টার্সে কর্মরত। তার বাড়ি পিরোজপুরের ইন্দুরকানি থানার চর বলেশ্বর বালিপাড়া। তার বাবার নাম মোহাম্মদ আলতাব হোসেন হাজী। আর কনস্টেবল আবু সাঈদও সিআইডি হেডকোয়ার্টার্সে কর্মরত। তার বাড়ি রাজবাড়ী জেলার পাংশা থানার শাহমিরপুর। বাবার নাম আব্দুল হামিদ। সোমবার বিকালে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিবি কার্যালয়ে সাংবাদিকরা এ বিষয়ে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদের কাছে জানতে চান। তখন তিনি বলেন, ভাটারা থানায় চলতি বছরের আগস্ট মাসে এক ট্রাভেল ব্যবসায়ী ভুক্তভোগী হিসাবে একটি মামলা করেন। মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) পরিচয় দিয়ে ফোন করে ধরে নিয়ে টাকা-পয়সা আদায় শেষে ফেলে যাওয়ার। ডিবি প্রধান বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই এমন বেশ কিছু অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের (উত্তর) তদন্তের নামে। তদন্তের পর্যায়ে বরিশাল থেকে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে আদালতের তারা ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে অপহরণ ও টাকা আদায়ের কথা স্বীকার করে। এই সময়ে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, চক্রে একজন পরিদর্শক ও আরেকজন উপ-পরিদর্শক (এসআই) পদের দুই পুলিশ সদস্য জড়িত রয়েছে। যদিও পরে জানা যায়, যিনি নিজেকে পরিদর্শক রবিউল পরিচয় দিয়েছেন তিনি আসলে একজন এসআই। তারা নিজেদের ভুয়া নাম-পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তিকে ধরে নিয়ে টাকা-পয়সা আদায় করে থাকে। তিনি বলেন, পরবর্তীতে দুজনের নাম-পরিচয় নিশ্চিত হওয়ায় অপহরণ ও ব্যাংক থেকে টাকা তোলার সিসিটিভি ফুটেজ, কল লিস্ট এবং লোকেশন ট্রাকিং করে নিশ্চিত হওয়ার পর সিআইডির দুজনকে গ্রেফতার করা হয়। ডিবি প্রধান আরও বলেন, আমরা তাদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করব। তাদের কাছ থেকে জানার চেষ্টা করা হবে আর কেউ জাড়িত আছে কি না, অথবা বর্তমান ও সাবেক কোনো পুলিশ সদস্য জড়িত আছে কি না। এদিকে, ডিবির ওয়ারী বিভাগের ডিসি আ. আহাদের বিরুদ্ধে গঠিত তদন্ত কমিটির বিষয়ে জানতে চাইলে ডিবি প্রধান বলেন, এক ব্যক্তির অভিযোগ পেয়ে জয়েন কমিশনার নর্থকে প্রধান করে দুই সদস্যে কমিটি করা হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পরই বিস্তারিত জানানো হবে বলে জানান ডিবি প্রধান। সূত্র: যুগান্তর

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন / কে. আলম

আরও পড়ুন

হ্যাকড হয়েছে এয়ার ইন্ডিয়ার সার্ভার! ৪৫ লাখ যাত্রীর ব্যক্তিগত তথ্য চুরি


আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
শনিবার, ২২ মে, ২০২১, ১১:৩৫
হ্যাকড হয়েছে এয়ার ইন্ডিয়ার সার্ভার! ৪৫ লাখ যাত্রীর ব্যক্তিগত তথ্য চুরি

ফাইল ছবি

সাইবার হামলা করে এয়ার ইন্ডিয়ার প্রায় ৪৫ লাখ যাত্রীর ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস করে দিয়েছে হ্যাকাররা। হিন্দুস্তান টাইমসের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে এই সাইবার হামলা করা হয়েছে।

হামলায় হাতিয়ে নেওয়া তথ্যগুলোর মধ্যে আছে, যাত্রীদের ক্রেডিট কার্ড, পাসপোর্টের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, ফোন নম্বর‌সহ ব্যক্তিগত নানান তথ্য। তবে যাত্রীদের ভিতর যাদের তথ্য চুরি করা হয়েছে, তাদেরকে সতর্ক করতে মেসেজ দিয়ে জানিয়ে দিয়েছে ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত এই বিমান সংস্থা।

উক্ত ঘটনায় সারা বিশ্বের লাখ লাখ বিমানযাত্রীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। ২০১১ সালের ২৬ অগাস্ট হতে আরম্ভ করে ৩ ফেব্রয়ারি ২০২১ পর্যন্ত মোট ১১ বছরের তথ্য চুরির অভিযোগ উঠেছে। তবে কোনো পাসওয়ার্ডের ডেটা প্রভাবিত হয়নি বলে জানিয়েছে এয়ার ইন্ডিয়া কর্তৃপক্ষ। এয়ার ইন্ডিয়া কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যাত্রীদের ক্রেডিট কার্ডের তথ্যের ক্ষেত্রে, সিভিভি বা সিভিসি নম্বরগুলো সংস্থার ডেটা প্রসেসরে রাখা হয় না। তাছাড়া সার্ভারের সব পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করা হয়েছে। এবং কি সার্ভারগুলো সুরক্ষিত করার পর আর কোনো অস্বাভাবিকত্ব লক্ষ্য করা যায়নি।

উক্ত ঘটনার তদন্তে নেমেছে এয়ার ইন্ডিয়া। হ্যাকড হওয়া সার্ভারগুলো এখন থেকে আরো সুরক্ষিত করা হয়েছে। তথ্য সুরক্ষার ব্যাপারে বিশেষজ্ঞদের সহায়তা ও পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে। 

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন / khurshedalm@msprotidin.com
Share on Facebook

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন এর জনপ্রিয়

সর্বশেষ - অপরাধ