সোমবার ২৫ মে ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বঙ্গাব্দ
অর্থনীতি

এনবিএফআই খাতে ক্ষতিগ্রস্ত আমানতকারীদের অর্থ দ্রুত ও পূর্ণ ফেরতের দাবি

এনবিএফআই খাতে ক্ষতিগ্রস্ত আমানতকারীদের অর্থ দ্রুত ও পূর্ণ ফেরতের দাবি

সাইফুল আলম, ঢাকা:   সারা দেশের বিভিন্ন প্রান্তের প্রায় ১২,০০০ সাধারণ আমানতকারী যাদের সারাজীবনের সঞ্চয় ২০১৯ সাল থেকে আটকে আছে। এনবিএফআই খাতে ক্ষতিগ্রস্ত আমানতকারীদের অর্থ সরকার এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংক এর কাছে দ্রুত ও পূর্ণ ফেরতের দাবি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর আমানতকারীরা। গতকাল ২৩মে ২০২৬ইং শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনের আবেগঘন পরিবেশে ক্ষতিগ্রস্ত আমানতকারীরা তাদের জীবনের দুঃখ দুর্দশার চিত্র তুলে ধরেন এবং সরকারের কাছে কিছু লিখিত দাবি প্রকাশ করেন। 

এই সংকটের সাথে জড়িত প্রতিষ্ঠানগুলো হলো: আভিভা ফাইন্যান্স, ফাস ফাইন্যান্স, ফারইস্ট ফাইনান্স, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং এবং পিপলস লিজিং। বক্তারা বলেন, দীর্ঘ সাত বছর ধরে আমরা প্রতিশ্রুতি শুনেছি, আশ্বাস পেয়েছি, কিন্তু বাস্তবে পাইনি আমাদের ন্যায্য পাওনা৷ এই সময়ের মধ্যে অসংখ্য পরিবার নিঃস্ব হয়েছে, অনেকের জীবনযাত্রা ভেঙে পড়েছে—কেউ চিকিৎসা করাতে পারেনি, কেউ সন্তানের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে পারেনি। ৬ই মে, ২০২৬ তারিখে আমাদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ এবং স্মারকলিপির আনুষ্ঠানিক দাখিলের পর বাংলাদেশ ব্যাংক এসব প্রতিষ্ঠানের অবসায়নের উদ্যোগ নিয়েছে এবং আমানতকারীদের অর্থ ফেরতের কথা বলেছে—এটি অবশ্যই একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। তবে এটি একটি নীতিগত ঘোষণা আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, “ঘোষণা নয়—বাস্তবায়নই এখন সবচেয়ে জরুরি।”

সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নের মধ্যকার ব্যবধান ঘোচাতে আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে নিম্নলিখিত বিষয়গুলোর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি
:১. একটি লিখিত, সময়বদ্ধ পুনরুদ্ধার কর্মপরিকল্পনাআমরা বাংলাদেশ ব্যাংককে তহবিল বিতরণের সুস্পষ্ট সময়সীমা উল্লেখ করে একটি আনুষ্ঠানিক, পর্যায়ক্রমিক বাস্তবায়ন পরিকল্পনা প্রকাশের আহ্বান জানাচ্ছি। প্রতিটি পর্যায়ে স্বচ্ছতা কোনো সৌজন্যতা নয়, এটি জনআস্থার জন্য একটি পূর্বশর্ত।
২. মূলধন ও অর্জিত মুনাফা পূর্ণ নিষ্পত্তিঅনেক আমানতকারী সাত বছরেরও বেশি সময় ধরে কোনো মুনাফা পাননি। যে কোনো পুনরুদ্ধার কাঠামো যেখানে আইনত প্রাপ্য মুনাফা বাদ দেওয়া হয়, তা একটি অসম্পূর্ণ প্রতিকার। আমরা দাবি করছি যে কর্মপরিকল্পনায় মূলধন এবং অর্জিত মুনাফা উভয়ই সম্পূর্ণরূপে অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে।
৩. যাচাইকৃত, মাইলফলক-ভিত্তিক অগ্রগতিআমাদের আমানতকারীরা ব্যাংক কর্মকর্তাদের কাছ থেকে শুধুমাত্র অনানুষ্ঠানিক, মৌখিক আশ্বাস পেয়েছেন—কোনো লিখিত প্রতিশ্রুতি, কোনো নথিভুক্ত সময়সীমা এবং কোনো জবাবদিহিতার ব্যবস্থা ছাড়াই। আনুষ্ঠানিক লিখিত নিশ্চয়তা প্রকৃত ব্যাংক স্থানান্তরে প্রতিফলিত না হওয়া পর্যন্ত অ্যালায়েন্স তার শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাবে। 

গভীর সম্মিলিত শ্রদ্ধাসহ,৬টি নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জোট আমানত পুনরুদ্ধার কমিটি ৬ মে ২০২৬ তারিখে আমাদের নীরব প্রতিবাদ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকে আনুষ্ঠানিক স্মারকলিপি জমা দেওয়ার পরও বাংলাদেশ ব্যাংক বা অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে অ্যালায়েন্সের সঙ্গে কোনো সরাসরি যোগাযোগ করা হয়নি। আমরা যা জানি, তা সাধারণ নাগরিকের মতোই কেবল সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের মাধ্যমে জেনেছি।

সরকার যদি ক্ষতিগ্রস্ত আমানতকারীদের অর্থ পরিশোধও করে, তবুও এতে এক টাকাও কমবে না সেই সব পরিচালক, নির্বাহী কর্মকর্তা ও ঋণখেলাপি ঋণগ্রহীতাদের ব্যক্তিগত দায়, যারা এই প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংসের জন্য দায়ী। ভুয়া কোম্পানি, জাল ঋণ হিসাব এবং প্রতারণামূলক লেনদেনের মাধ্যমে এসব প্রতিষ্ঠান লুট করা হয়েছে – আর তা ঘটেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ন্ত্রক তদারকির মধ্যেই।
অ্যালায়েন্সের দাবি :
১. দায়ী সকল ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা ও বিচার নিশ্চিত করতে হবে কোনো বিলম্ব বা প্রত্যাহার ছাড়া।
২. কারও ব্যক্তিগত দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়া যাবে না। 
৩. সব ঋণখেলাপির সম্পদ আইনের সর্বোচ্চ প্রয়োগের মাধ্যমে উদ্ধার করতে হবে। 
৪. দায়ী পরিচালক, ঋণগ্রহীতা ও কর্মকর্তাদের নাম প্রকাশ করে একটি পাবলিক রেজিস্টার প্রকাশ করতে হবে।“আমাদের সদস্যদের আর শুনতে হবে না যে ‘প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে'। তারা দেখতে চান তাদের অর্থ – পূর্ণ মুনাফা সহ, চলতি বছরের মধ্যেই ফেরত দেওয়া হচ্ছে। এবং তারা দেখতে চান যারা এই অর্থ নিয়েছে, তারা আইনের মুখোমুখি হয়েছে। এই দুইটি বিষয় নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত অ্যালায়েন্সের আন্দোলন চলবে।