মঙ্গলবার ১৬ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বঙ্গাব্দ
লাইফস্টাইল

বিসিএস হেলথ ক্যাডার অ্যাসোসিয়েশনের চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তায় ১৭ দফা দাবি

সাইফুল আলম, বিশেষ প্রতিনিধি ১৬ জুন ২০২৬ ১০:৩৮ এ.এম

বিসিএস, হেলথ ক্যাডার, চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মী

সাইফুল আলম, ঢাকা:   বর্তমান বাস্তবতা বিবেচনায়, বিসিএস হেলথ ক্যাডার এসোসিয়েশন চিকিৎসক ও চিকিৎসালয় নিরাপত্তা এবং দেশের আপামর জনগণের মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নিকট একটি সমন্বিত ১৭ দফা প্রস্তাবনা উপস্থাপন করছে।
গতকাল ১৫ই জুন ২০২৬ইং সোমবার বিকেলে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে মাওলানা মোহাম্মদ আকরাম খাঁ হলে এ প্রস্তাবনা তুলে ধরেন বিসিএস হেলথ ক্যাডার অ্যাসোসিয়েশনের অর্থ সম্পাদক ডা. খালেদ আহমেদুর রহমান। এই সময় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কার্যকরী নির্বাহী পরিষদের সম্মানিত সভাপতি,  ডা. মোঃ নেয়ামত হোসেন। আরো বক্তব্য রাখেন ডা. স্বর্ণা সহ আরো অনেকেই।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা বলেন, বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাত গত পাঁচ দশকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করলেও চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তাহীনতা, জনবল সংকট, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং প্রশাসনিক জটিলতা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। এসব সমস্যা সমাধানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কাছে একটি সমন্বিত ১৭ দফা প্রস্তাবনা তুলে ধরা হয়েছে।
প্রস্তাবনায় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘হেলথ পুলিশ’ গঠন, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী সুরক্ষা আইন প্রণয়ন, হাসপাতালভিত্তিক নিরাপত্তা কাঠামো শক্তিশালীকরণ, হামলার ঘটনায় রাষ্ট্রীয় মামলা বাধ্যতামূলক করা এবং ডিজিটাল ইমার্জেন্সি রেসপন্স সিস্টেম চালুর দাবি জানানো হয়।
এছাড়া স্বাস্থ্যখাতে আধুনিক অর্গানোগ্রাম প্রণয়ন, শূন্যপদে দ্রুত জনবল নিয়োগ, প্রয়োজনভিত্তিক নতুন পদ সৃষ্টি, ন্যায়ভিত্তিক পদোন্নতি নিশ্চিতকরণ এবং সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে ‘কোড ব্লু’ সেবা চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, আমাদের লক্ষ্য আমাদের চিকিৎসকদের তথা সকল স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করে জনগণের জন্য আরও উন্নত, মানবিক ও টেকসই স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা।সরকারের নিকট “বিসিএস হেলথ ক্যাডার এসোসিয়েশন”- এর প্রস্তাবনাঃ
১) স্বাস্থ্য কর্মীদের নিরাপত্তায়ঃ
ক) স্বাস্থ্য পুলিশ (Health Police) গঠন ও হাসপাতালভিত্তিক নিরাপত্তা কাঠামো শক্তিশালীকরণ করতে হবে
খ) চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী সুরক্ষা আইন (Healthcare Worker Protection Act) প্রণয়ন ও কার্যকর বাস্তবায়ন করতে হবে
গ) ডিজিটাল ইমার্জেন্সি রেসপন্স সিস্টেম চালু করতে হবে
ঘ) হাসপাতালে দর্শনার্থী নিয়ন্ত্রণ নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে
ঙ) হামলার ঘটনায় রাষ্ট্রীয় মামলা বাধ্যতামুলক ভাবে করতে হবে
চ) স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য মানসিক ও আইনি সহায়তা সেল চালু করা
ছ) নিয়মিত মিডিয়া ব্রিফিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে
জ) জনসচেতনতা কার্যক্রম গ্রহণ“চিকিৎসক ও রোগী প্রতিপক্ষ নয়, সহযোদ্ধা”- এই বার্তা নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালাতে হবে।
উদ্দেশ্য— স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা, চিকিৎসা সেবার ধারাবাহিকতা রক্ষা করা এবং একটি সহিংসতামুক্ত হাসপাতাল ব্যবস্থা গড়ে তোলা ও জনগণকে নিরবিচ্ছিন্ন সেবা প্রদান করা।

২) সকল স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের আধুনিক অর্গানোগ্রাম প্ৰণয়নঃউদ্দেশ্য একটাই- সীমিত জনবল দিয়ে অতিরিক্ত চাপ নয়; বরং বৈজ্ঞানিক পরিকল্পনার মাধ্যমে নিরাপদ, মানসম্মত ও টেকসই স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা।
৩) ক্যাডার সার্ভিসের আইন, জ্যেষ্ঠতা, মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে পদোন্নতি নিশ্চিতকরণ করতে হবে।
৪) স্বাস্থ্যখাতে প্রয়োজনভিত্তিক নতুন পদসৃষ্টি (Creation of Posts) নিশ্চিতকরণ। উদ্দেশ্য- চিকিৎসা সেবার মান বৃদ্ধি, কর্মস্থলের চাপ হ্রাস এবং একটি টেকসই ও আধুনিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা। ফলে জনগণ সুন্দর পরিবেশে সেবা গ্রহণ করতে পারবে।
৫) শয্যা (Bed) সংখ্যার অতিরিক্ত রোগী ভর্তি বন্ধ এবং বাস্তবসম্মত রোগী ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতকরণ। উদ্দেশ্য- নিরাপদ, মানসম্মত ও নিয়ন্ত্রিত রোগী ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে চিকিৎসাসেবার গুণগত মান উন্নয়ন এবং চিকিৎসক-রোগী উভয়ের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে হবে।
৬) বহির্বিভাগে একজন চিকিৎসকের জন্য দৈনিক রোগী দেখার যৌক্তিক সীমা নির্ধারণ (প্রতি চিকিৎসক সর্বোচ্চ ৪০ জন রোগী)। উদ্দেশ্য- প্রতিটি রোগীকে পর্যাপ্ত সময় ও মনোযোগ দিয়ে নিরাপদ, মানবিক ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা; চিকিৎসকদের ওপর অযৌক্তিক কর্মচাপ কমানো এবং একটি কার্যকর, রোগীবান্ধব ও টেকসই স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
৭) সর্বোচ্চ থেকে সর্বনিম্ন সকল শূন্যপদে দ্রুত সময়ের মধ্যে জনবল নিয়োগ নিশ্চিতকরণ করতে হবে।উদ্দেশ্য- জনবল ঘাটতির জন্য প্রয়োজনীয় জনসেবা বিঘ্নিত হচ্ছে। সুতরাং, শূন্যপদের কারণে সৃষ্ট স্বাস্থ্যসেবার ঘাটতি দূর করে একটি কার্যকর, শক্তিশালী ও জনবান্ধব স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।


এই সম্পর্কিত আরও খবর