সাইফুল আলম, বিশেষ প্রতিনিধি ০৩ মার্চ ২০২৬ ০২:১২ পি.এম
সাইফুল আলম, ঢাকা: গত ফেব্রুয়ারী মাসে ১৮৩ জন নারী ও কন্যা বিভিন্ন সহিংসতার শিকার হয়েছেন। ক্রমাগত ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় বিচারহীনতা সমাজকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে তা আমাদের ভাবতে হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম। তিনি ০২ মার্চ ২০২৬ সকাল ১১:০০টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের উদ্যোগে দেশব্যাপী ক্রমবর্ধমান নারী ও কন্যা ধর্ষণ, হত্যা, সহিংসতার ঘটনায় প্রতিবাদ সমাবেশে একথা বলেন।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম আরো বলেন, এসময় নরসিংদীতে কিশোরী কে দলবদ্ধ ধর্ষণ শেষে হত্যার ঘটনায় উল্লেখ করে প্রশ্ন রাখেন বাংলাদেশের আইনে সালিশ বেআইনী হলেও কেন এই ঘটনায় সালিশ হলো ? তিনি এসময় সদ্য নির্বাচিত সরকারের প্রতি গৃহীত ছয় মাসের পরিকল্পনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অধীনে টাস্কফোর্স গঠনের মাধ্যমে নারী ও কন্যার প্রতি সকল সহিংসতা বন্ধে শূন্য সহিষ্ণুতা নীতি গ্রহণের উপর জোর দাবি জানান।
প্রতিবাদ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম। বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সীমা মোসলেম; যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. মাসুদা রেহানা; আন্দোলন সম্পাদক রাবেয়া খাতুন শান্তি, লিগ্যাল এইড সম্পাদক রেখা সাহা, পরিবেশ সম্পাদক পারভীন ইসলাম, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বহ্নিদাশ পুরকায়স্থ এবং ঢাকা মহানগর কমিটির লিগ্যাল এইড সম্পাদক শামীমা আফরোজ আইরিন।
সভাপতি তার বক্তব্যে আরো বলেন, আমরা অত্যন্ত উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করেছি সরকারের ছয়মাসের পরিকল্পনায় ও আসন্ন সংসদ অদিবেশনে নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধ সংক্রান্ত আলোচনা থাকতে হবে। আমরা হত্যা, ধর্ষণ ও অপরাধযুক্ত সমাজ দেখতে চাইনা। নারীর প্রতি সংবেদনশীল হয়ে ওঠার মধ্য দিয়ে মানবিক সমাজ গড়ে তোলার যাত্রা আমাদের শুরু করতে হবে;এর মধ্য দিয়ে মানুষের জন্য সংবেদনশীল সমাজ তৈরি হবে।
সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু বলেন, প্রতিদিনের পত্রিকার পাতায় বিভিন্ন বয়সের নারীসহ আমাদের ভবিষ্যৎ সম্পদ আমাদের কন্যাদের যে নির্মম ও নৃশংস পরিণতি আমরা দেখতে পাচ্ছি তার জন্য আমরা অত্যন্ত ক্ষুদ্ধ ও বেদনাহত। নারী আন্দোলন অব্যাহতভাবে চলছে, বিভিন্ন সামাজিক আন্দোলন হচ্ছে, অনেক আইন প্রণীত হয়েছে, আইন কঠোর থেকে কঠোর তম করা হচ্ছে, সরকার পরিবর্তন হলেও নারীর প্রতি ক্রমবর্ধমান সহিংসতা প্রতিরোধে, সহিংসতার ঘটনার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিতে আমরা কোনো রাষ্ট্রীয় মেকানিজম তৈরি করতে পারিনি। এর কারণ হলো আমাদের রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক চর্চায় মধ্য দিয়ে নারীকে আমরা মর্যাদা দিতে পারিনি। নারী ও কন্যার ন্যায় বিচার প্রাপ্তির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট যারা কাজ করছেন তারা এখনও পুরুষতান্ত্রিক মনোভাব পোষণ করার ফলে নারীর ন্যঅয়বিচার প্রাপ্তি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি এসময় অপরাধীর সুষ্ঠ’ বিচার নিশ্চিতে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের উপর গুরুত্তরোপ করেন।
উক্ত প্রতিবাদ সমাবেশে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় ও ঢাকা মহানগর কমিটির নেত্রীবৃন্দ, সম্পাদকমন্ডলী, কর্মকর্তাগণ এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের লিগ্যাল অ্যাডভোকেসি ও লবি পরিচালক অ্যাড. দীপ্তি শিকদার।
ক্রমবর্ধমান নারী ও কন্যা ধর্ষণ, হত্যা, সহিংসতার ঘটনায় প্রতিবাদ সমাবেশ
পশুপ্রেমী শিক্ষিকাকে হেনস্তা ও প্রাণনাশের হুমকি, বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন
প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে ন্যায় বিচার ও ৪ কোটি টাকা উদ্ধার চেয়ে ব্যাবসায়ী ফখরুদ্দীনের সংবাদ সম্মেলন
প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে ন্যায় বিচার ও ৪ কোটি টাকা উদ্ধার চেয়ে ব্যাবসায়ী ফখরুদ্দীনের সংবাদ সম্মেলন
তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশটি বাস্তবায়ন অতীব জরুরী