a
ফাইল ছবি
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যার সময় কেন প্রতিবাদ হয়নি সে প্রশ্ন রেখেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, জাতির পিতা তো অনেককে ফোনও করেছিল কোথায় ছিলেন তারা? ১৫ আগস্ট ৩২ নম্বর ওই ধানমন্ডিতে লাশগুলো তো পড়ে ছিল। একটি মানুষ ছিল না সাহস করে এগিয়ে আসার? একটি মানুষ ছিল না প্রতিবাদ করার? কেন করতে পারেনি। এতো বড় সংগঠন এতো লোক কেউ তো একটা কথা বলার সাহসও পায়নি। কত স্লোগান। বঙ্গবন্ধু তুমি আছো, যেখানে আমরা আছি সেখানে, অমুক তমুক অনেক স্লোগান, ছিল কোথায় সেই মানুষগুলো।
আজ মঙ্গলবার বিকালে বঙ্গবন্ধুর শাহাদতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস স্মরণে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘সবাইকে হারিয়ে বেঁচে আছি। এ বাঁচা কত যন্ত্রণার বাঁচা যারা বাঁচে তারাই জানে। আমাদের মানবাধিকার লঙ্ঘন করা হয়েছিল। যদি ৯৬ সালে সরকারে আসতে না পারতাম। যদি ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল করতে না পারতাম এই হত্যার বিচার হতো না। বার বার বাধা এসেছে। এমন কি বিচারের কথা বলতে যেয়ে বাধা পেয়েছি। বিচারের কথা বললে নাকি কোনো দিন ক্ষমতায় যেতে পারবো না। আমি বাধা মানি নাই দেশে-বিদেশে জনমত সৃষ্টি করেছি। সর্বপ্রথম এই হত্যার প্রতিবাদ করে বক্তব্য দিয়েছে আমার বোন রেহানা।’
তিনি বলেন, ‘কত অপপ্রচার চালানো হয়েছে আমার বাবা, মা-ভাইয়ের নামে। কত অপপ্রচার, কোথায় সেগুলো? কত রকমের মিথ্যা অপপ্রচার দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে। তারপরও যখন দেখে বাংলাদেশের মানুষের মন থেকে জাতির পিতাকে মুছে ফেলা যায়নি। তখন হত্যা করা হয় জাতির পিতাকে। বাংলাদেশের ইতিহাস থেকে জাতির পিতার নাম মুছে ফেলা হলো।’
প্রধানমন্ত্রী দলের নেতাদের উদ্দেশে বলেন, একটি মানুষ ছিল না সাহস করে এগিয়ে আসার? একটি মানুষ ছিল না প্রতিবাদ করার। কেন করতে পারেনি? এতো বড় সংগঠন, এতো লোক কেউ তো একটা কথা বলার সাহসও পায়নি।
১৫ আগস্ট থেকে ১৬ আগস্ট ওই লাশ পড়েছিল। ১৬ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে নিয়ে গেল টুঙ্গিপাড়ায়। কারণ দুর্গম পথ যেতে ২২ থেকে ২৪ ঘণ্টা লাগবে তাই কেউ যেতে পারবে না। তাই সেখানে নিয়ে মা-বাবার কবরের পাশে মাটি দিয়ে আসে। সেখানকার মৌলভী সাহেব আপত্তি করেছিলেন যে গোসল করাবো, কাফন দাফন করাবো। জাতির পিতা কিছু নিয়ে যাননি শুধু দিয়ে গেছেন। একটা দেশ দিয়ে গেছেন একটা জাতি দিয়ে গেছেন, পরিচয় দিয়ে গেছেন। আত্মপরিচয় দিয়ে গেছেন। বিধ্বস্ত বাংলাদেশকে গড়ে তুলে উন্নয়নের পথে যাত্রা শুরু করে দিয়েছেন, কিছুই নিয়ে যাননি বাংলাদেশের মানুষের কাছ থেকে।
শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের গরীব মানুষের রিলিফের কাপড় তিনি দিতে পারতেন সেই রিলিফের কাপড়ের পার ছিঁড়ে সেটা দিয়েই তাকে কাফন দেওয়া হয়েছিল। বাংলাদেশের মানুষের কাছ থেকে কিছুই নিয়ে যাননি। মা-বা-ভাই-বোন কিছুই নিয়ে যাননি। ১৬ তারিখ বনানীতে মাটি চাপা দিয়ে রাখা হয়েছিল। মুসলমান হিসেবে এতোটুক দাবি থাকে জানাজা পড়ার সেটাও তো পড়েনি।
তিনি বলেন, কাফনের কাপড় সেটাও দেয়নি। ৭৫ এর ঘাতকরা বাংলাদেশকে ইসলামিক রাষ্ট্র করার ঘোষণা দিয়েছিল ইসলামের কোনো বিধি তারা মানেনি। আমার প্রশ্ন জাতির পিতা তো অনেককে ফোনও করেছিলেন, কি করেছিলেন, কোথায় ছিলেন তারা? বেঁচে থাকতে সবাই থাকে, মরে গেলে যে কেউ থাকে না তার জীবন্ত প্রমাণ।
এজন্য আমি কিছু আশা করি না। আমার একটাই কথা জাতির দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে চেয়েছিলেন। সব সহ্য করে নীল কণ্ঠ হয়ে অপেক্ষা করেছি কবে ক্ষমতায় যেতে পারবো। দেশকে জাতির পিতার স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারবো তাহলেই হত্যার প্রতিশোধ নেয়া হবে। সূত্র: বিডি প্রতিদিন
ফাইল ছবি
বাংলাদেশ ফাইজার ও বায়োএনটেকের যৌথ উদ্যোগে তৈরি করোনাভাইরাসের টিকা ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর।
বৃহস্পতিবার ঔষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানান।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে জানা গেছে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহযোগী কোভ্যাক্স গ্রুপ থেকে ফাইজারের টিকা দেশে আসবে। কোভ্যাক্স থেকে প্রথম ধাপে বিনামূল্যে দেশের ১১ শতাংশ মানুষের জন্য টিকা আসার কথা রয়েছে। পরে সরকার প্রয়োজন মনে করলে সেসব গ্রুপ থেকে কিনে আরও টিকা আনতে পারবে।
প্রথম চালান হিসেবে ফাইজারের এক লাখ ৬২০ ডোজ টিকা আসবে এবং এর সঙ্গে আনুষঙ্গিক উপকরণ সামগ্রী আগামী সপ্তাহে দেশে পৌঁছাবে।
ফাইল ছবি
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর কাজী নূর হোসেনের বিরুদ্ধে উপাচার্য বরাবর অসৌজন্যমূলক আচরণের প্রতিকার চেয়ে লিখিত অভিযোগ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) মোঃ মাজহারুল ইসলাম।
অভিযোগপত্র থেকে জানা, ২৬ জুলাই আনুমানিক সকাল ১১:৩০ ঘটিকায় মােঃ আনিছুর রহমান, সহকারী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) মনােবিজ্ঞান বিভাগে লাইট এবং ফ্যান, সংশ্লিষ্ট বিভাগকে বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য যান। তিনি বিভাগের চেয়ারম্যানের সাথে কথা বলে বেরিয়ে আসার সময় উক্ত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও সহকারী প্রক্টর জনাব মােঃ কাজী নূর হােসেন তাকে প্রশ্ন করেন কেন তার রুমের কাজ হয়নি। প্রতিউত্তরে আনিছুর বলেন, কি কাজ সেটা আমি জানিনা। তারপর, কাজী নুর হােসেন বলেন “তাের দপ্তরের দাড়িওয়ালা একটা আছে না, প্রধান প্রকৌশলীর সাথে ঘুরে, তাকে (মােঃ মাজহাল ইসলাম, সহকারী প্রকৌশলী, বিদ্যুৎ) ধরে নিয়ে এসে উল্টো করে ঝুলিয়ে পাছার ছাল তুলে ফেলব এবং ইলেকট্রিশিয়ান পাঠিয়ে আধা ঘন্টার মধ্যে কাজ না করে দিলে তাের খবর আছে। আমি যে মেসেজটা দিলাম সেটা তাের প্রধান প্রকৌশলীকে জানিয়ে দিবি।
মনােবিজ্ঞান বিভাগের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের উপস্থিতিতে একজন সম্মানিত শিক্ষক হয়ে পাশাপাশি প্রশাসনিক দায়িত্বে থেকে একজন কর্মকর্তার সাথে মানহানিকর মন্তব্য করায় খুবই মর্মাহত, মানসিক ভাবে বিপর্যন্ত এবং নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে লিখিত অভিযোগে জানান মো মাজহারুল ইসলাম। এমতাবস্থায়, উক্ত ঘটনার প্রতিকার এবং উক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আবেদন জানিয়েছেন।
এবিষয়ে মোঃ মাজহারুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। ভিসি স্যার বিষয়টি সুরাহা করবেন বলে জানিয়েছেন। পূর্বের বিরোধ আছে কিনা জিজ্ঞাসা করলে বলেন, স্যারের সাথে আমার পূর্বের কোনো বিরোধ নেই।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ ইমদাদুল হক বলেন, আগামীকাল উভয়পক্ষকে ডেকে বিস্তারিত জানব। অভিযোগ যেহেতু এসেছে সমাধান করে দিব।
প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোস্তফা কামাল বলেন, বিষয়টি ভিসি স্যার আগামীকাল ১টায় বসে সমাধান করতে চেয়েছেন।
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কিছু শিক্ষার্থী কাজী নূর হোসেন সম্পর্কে বলেন, তিনি আমাদের সাথেও অকারণে রূঢ় ব্যবহার করেন।
এসব বিষয়ে কাজী নূর হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হন নি।
মনোবিজ্ঞান বিভাগের সদ্য সাবেক চেয়ারম্যান ও কাউন্সিলিং সেন্টারের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. নূর মোহাম্মদ মনে করেন, সকল শিক্ষকদেরকে বিশেষ করে মনোবিজ্ঞানের শিক্ষকদের আচার ব্যবহারে দায়িত্বশীল হতে হবে যেন তারা রোল মডেল হিসেবে সকলের কাছে অনুকরণীয় হয়।