a
ছবি: এম.এস.প্রতিদিন
সদরঘাটের সাথে পরিচিত নন এমন লোক বাংলাদেশে হয়ত খুজেই পাওয়া যাবে না। সদরঘাট হলো দক্ষিণবঙ্গগামী সকল মানুষের জন্য নদীপথে ঢাকা ত্যাগের প্রধান ফটক। ২২টি জেলার মানুষের কাছে প্রধান চলাচল মাধ্যম সদরঘাট। পূর্বে সদরঘাটের নাম শুনলেই চোখে ভেসে আসতো এদিক সেদিক ময়লার ভাগাড় কিন্তু বর্তমান সদরঘাটের চিত্র দেখে অনেকেই বিশ্বাস করতে পারবে না তারা কোথায় চলে এসেছে।
বাংলাদেশ সরকারের নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় বিআইডব্লিউটিআইর সাবেক যুগ্ম পরিচালক একেএম আরিফ উদ্দিনের প্রচেষ্টায় ২০১৯ সালে দখলদারদের থেকে সদরঘাটের বিভিন্ন যায়গা উদ্ধার করে গ্রিন সদরঘাট করা পরিকল্পনা হাতে নিয়েছিলেন তার সেই পদক্ষেপ আজ মানুষের সামনে দৃশ্যমান।
বর্তমানে দেশের এই নদী বন্দরকে সর্বদা পর্যবেক্ষণ করার জন্য ৩২টি পয়েন্টে সিসি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। যেকোনো সময় যাত্রী সেবা দিতে চালু করা হয়েছে হটলাইন নম্বর। দখলি স্থান উদ্ধার করে সেখানে লাগানো হয়েছে নানা ধরনের গাছ, ঝাউ গাছ, বট গাছ, কৃষ্ণচূড়া গাছ উল্লেখযোগ্যভাবে সৌন্দর্য বাড়িয়ে তুলছে। একেবারে লালকুঠি ঘাট থেকে পশ্চিমের সীমানা পর্যন্ত রাস্তার পাশে ড্রামের ভিতর লাগানো হয়েছে ঝাউ গাছ এছাড়া লালকুঠি ঘাট থেকে প্রধান ফটক পর্যন্ত ইট দিয়ে গোলা করে মাটি উচু করে বট গাছ লাগানো হয়েছে। যা টার্মিনালের সামনের সড়কের শৃঙ্খলা বজায়ে রাখতে সহায়তা করে।
টার্মিনালের সামনেই রয়েছে পাবলিক টয়লেটের ব্যবস্থা যা খুব প্রয়োজন ছিল এমন গুরুত্বপূর্ণ যায়গায়। প্রধান ফটক থেকে শুরু করে আহসান মঞ্জিল পর্যন্ত প্রত্যেক গেট দিয়ে ঢুকার সময়ই মন কেড়ে নিবে বাহারি ফুলের সৌন্দর্য্যে।
বর্তমানে যাত্রীর চাপ হালকা করতে বিভিন্ন অঞ্চলের ঘাট আলাদা করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ, পূর্বে সদরঘাটে পন্টুন সংখ্যা ছিল মাত্র ১৩টি উচ্ছেদ অভিযানের পর পন্টুনের সংখ্যা এখন ৩০টি। ঘাটে কমেছে কুলি ও দালালদের দৌরাত্ব।
ছবি:মুক্ত সংবাদ প্রতিদিন
দেশের সঙ্গীত ভুবনে ইতিমধ্যে সারা ফেলেছেন এক ঝাঁক তরুন সঙ্গীত শিল্পী। এবার ভিন্ন রকম একটি নতুন গান ও মিউজিক ভিডিও নিয়ে আসছেন সাফাওয়াত আলম। গানের শিরোনাম ''তুমি নেই''। নোমান ফিল্মস এর ব্যানারে সম্পূর্ণ নতুন রুপে আসছে "তুমি নেই'' শিরোনামের এই মিউজিক ভিডিওটি।
গানটির কথা লিখেছেন এই প্রজন্মের প্রতিভাবান পরিচালক ও গীতিকবি নিজাম উদ্দিন রনি। ভোকাল দিয়েছেন সাফাওয়াত আলম এবং মিউজিক করেছেন স্বনামধন্য কম্পোজার পিরান খান। বাংলা সঙ্গীত অঙ্গনে পিরান খান ইতিমধ্যেই অনেক হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন। তিনি তার কাজ দ্বারা স্বাক্ষরতার প্রমাণ দিয়েছেন।
নির্মাতা নিজাম উদ্দিন রনি'র পরিচালনায় এবং আব্দুল্লাহ আল নোমানের প্রযোজনায় আসছে "তুমি নেই "। পরিচালক জানিয়েছেন এই মাঝে সকল শুটিং ও কম্পোজিশনের কাজ শেষ হয়েছে। অভিনয়ে ছিলেন শেহজাদ ওমর এবং লিয়না লুবায়না ইসলাম। ডিওপি হিসেবে আছেন এইচ আর হানিফ, সম্পাদনায় রুমি ও পোস্টার ডিজাইন করেছেন সোহান আহমেদ।
পরিচালকের সাথে আলাপকালে তিনি জানান— এ বছর চিন্তা করেছি অনেক কাজ করবো। এরই ধারাবাহিকতায় কাজ করে যাচ্ছি। অসাধারণ সুন্দর এই সুন্দর মিউজিক ভিডিওটি দেখতে পাবেন খুব শীঘ্রই নোমান ফিল্মস ইউটিউব চ্যানেলে।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পটভূমির দিকে যদি তাকাই, তাহলে দেখতে পাই যে, আমাদের শিক্ষার্থীদের মেধা ও যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আসন স্বল্পতার কারণে তারা উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছিল না। এ কারণে আমাদের শিক্ষার্থীদের একটি বিরাট অংশ পার্শ্ববর্তী দেশসহ বিভিন্ন দেশে উচ্চশিক্ষার জন্য গমন করতো। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা গিয়েছে যে, এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা মানসম্মত বলে বিবেচিত হয়নি। এমনকি শিক্ষার্থীরা অনেক ক্ষেত্রে প্রতারণার শিকার হয়েছিল। এই পরিস্থিতি একদিকে যেমন আমাদের মেধার অপচয় করছিল অন্যদিকে তেমনি দেশ থেকে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা বের হয়ে যাচ্ছিলো। কিন্তু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ সংখ্যা প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। সুতরাং বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
উল্লেখিত পরিস্থিতিতে সরকার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার অনুমতি প্রদান করে এবং এই লক্ষ্যে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন প্রণীত হয়। সরকারের এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তারা এগিয়ে আসেন। তখন কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সরকারের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং তাদের কার্যক্রম শুরু করে। কিন্তু সেই সময় যে কয়টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল তাতে এমন একটি ধারণার সৃষ্টি হয়েছিল যে, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা একটি বিশেষ শ্রেণীর মধ্যে সীমাবদ্ধ। এরকম ধারণার কারণ ছিল বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের অত্যন্ত ব্যয়বহুল টিউশন ফি স্ট্রাকচার। যে কারণে শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের মধ্যে একটি ধারণার জন্ম হয় যে, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ স্বল্প আয়ের লোকদের পক্ষে সম্ভব নয়।
এরকম একটি অবস্থার মধ্যে ১৯৯৬ সালের ৪ জানুয়ারি এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ তার যাত্রা শুরু করে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টি একমাত্র বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, যা দ্বৈত পদ্ধতিতে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি লাভ করে। অর্থাৎ দূরশিক্ষণ এবং অন ক্যাম্পাস ভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার অনুভূতি লাভ করে| বিশ্ববিদ্যালয়টি সব শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের কথা মাথায় রেখে টিউশন ফি স্ট্রাকচার , পাঠ্যসূচি নির্ধারণ এবং বিষয়সমূহ চালু করে যা স্বল্পমূল্যে মানসম্মত উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পথ প্রশস্ত করে। ‘বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় উচ্চশিক্ষা অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং সাধারণের নাগালের বাইরে’- বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে এই অচলায়তন ভেঙে দেয়| এই প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকেই সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি সরকারি বেসরকারি খাতে কর্মরত বিভিন্ন পেশাজীবীদের স্বল্প ব্যয়ে মানসম্মত উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছে।
একটা বিষয় মনে রাখতে হবে, বাংলাদেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এখন বাস্তবতা। প্রচুর শিক্ষার্থী এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়ে কর্মক্ষেত্রে যোগ দিচ্ছেন। দেশের অর্থনীতিতে তাদের অবদানও যোগ হচ্ছে। ৩৪তম বিসিএসে মেধা তালিকায় সবার সেরা হয়েছিলেন ওয়ালিদ। এই ওয়ালিদ কিন্তু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। বিসিএসের ইতিহাসে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হিসেবে প্রথম হওয়ার গৌরবও এই ওয়ালিদের হাতে।
সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পাশাপাশি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয়তা কোনোভাবেই অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। বরং পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ভালোমানের শিক্ষার্থী তৈরির ব্যাপারে ভূমিকা রাখছে।
বাংলাদেশে উচ্চ শিক্ষা বিস্তারে এবং জ্ঞান ভিত্তিক সমাজ নির্মাণে যেসকল বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে তারমধ্যে অন্যতম হলো এশিয়ান ইউনিভারিসিটি অব বাংলাদেশ। আসন্ন ২০২১ সালের জানুয়ারি মাসে এ বিদ্যাপীঠ রজত জয়ন্তী উৎসব পালন করবে নব চেতনায়, তার সুবিশাল নিজস্ব ক্যাম্পাসে।
বাংলাদেশের ইতিহাস ,ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি তুলে ধরার জন্য এটিই প্রথম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় যেখানে বাংলা বিভাগ চালু করা হয় |এই বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও একটি অনন্য বৈশিষ্ট্য হচ্ছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত শিক্ষার পাশাপাশি সামাজিক, কলা ও মানবিক বিষয় সমূহকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে| এইউবি শুরু থেকেই শিক্ষাক্রম এমনভাবে নির্ধারণ ও চালু করেছে, যাতে একজন শিক্ষার্থী পূর্ণাঙ্গ মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় দুই লক্ষ শিক্ষার্থী তাদের শিক্ষা কার্যক্রম শেষে দেশে ও বিদেশে সাফল্যের সাথে কাজ করে যাচ্ছেন।
রজতজয়ন্তী তথা ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে জাতির প্রত্যাশা, বিশ্ববিদ্যালয়টি জ্ঞানভিত্তিক সমাজ নির্মাণে তার কার্যক্রম সাফল্যের সাথে অব্যাহত রাখবে।
গবেষক ও লেখক
সহযোগী অধ্যাপক, এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ