a সনাতন পার্টিকে শক্তিশালী করতে কর্মিদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান ও ৮ দফা দাবী 
ঢাকা শনিবার, ১৫ ভাদ্র ১৪৩২, ৩০ আগষ্ট, ২০২৫
https://www.msprotidin.com website logo

সনাতন পার্টিকে শক্তিশালী করতে কর্মিদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান ও ৮ দফা দাবী 


সাইফুল আলম, বিশেষ প্রতিনিধি, মুক্তসংবাদ প্রতিদিন
শুক্রবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৫, ১০:১৯
সনাতন পার্টিকে শক্তিশালী করতে কর্মিদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান ও ৮ দফা দাবী 

ছবি : মুক্তসংবাদ প্রতিদিন

 

সাইফুল আলম, ঢাকা:  বাংলাদেশ সনাতন পার্টি এর কর্মী সম্মেলন উপলক্ষে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর মুক্তি ও সনাতনী সম্প্রদায়ের পুর্ব ঘোষিত ৮ দফা দাবির বাস্তবায়ন এবং নিবন্ধন সংক্রান্ত আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। 

আজ রোজ শুক্রবার সকাল ১০ ঘটিকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম হলে এটি আয়োজন করে বাংলাদেশ সনাতন পার্টি। উক্ত অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সনাতন পার্টি এর সভাপতি আশিষ কুমার দাশ এর সভাপতিত্বে ও প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. সুমন কুমার রায় এর সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনিন্দ্র কুমার নাথ।

উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক অশোক তরু, মূখ্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট কলামিষ্ট সুরঞ্জন ঘোষ, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম আহবায়ক অনিক রায়, সম্মিলিত সনাতন পরিষদের অ্যাড. জিতেন বর্মন শ্যামল সরকার, বাংলাদেশ সনাতন পার্টি এর স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য সাংবাদিক শ্যামল কান্তি নাগ, অ্যাড. লিটন বনিক, প্রাণতোষ তালুকদার, মোহন সরকার, দিলিপ অধিকারী, অনিল সাধু, বাংলাদেশ সনাতন পার্টি এর চট্টগ্রাম জেলার সাধারণ সম্পাদক অজয় ভট্টাচার্য, নয়ন বিশংগ্রী, গৌরঙ্গ দে, বাংলাদেশ হিন্দু লীগের সাধারণ সম্পাদক শংকর, বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু যুব মহাজোটের সভাপতি প্রদীপ কান্তি দে, রনি 
রাজবংশী, বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাসংঘের পিযুস দাস, সনাতন সংগঠনের মিঠুন ভট্টাচার্য শুভ এছাড়াও বাংলাদেশ সনাতন পার্টি এর দপ্তর সম্পাদক সুজীৎ দাস, জয় চক্রবর্তী, বিকাশ অধিকারী, অমিত মালী, রাহুল, জয়পুর হাটের বন্ধন বাগচী, শায়ান বালা, জন্টু জয়ন্তসহ আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন। 

অনুষ্ঠানে বক্তারা অনতিবিলম্বে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে মুক্তি ও সনাতনী সম্প্রদায়ের ৮ দফাদাবী বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশ সরকাররের প্রধান উপদেষ্টা দৃষ্টি আকর্ষন করেন।

অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি অনিক রায় সনাতনী সম্প্রদায়ের অস্থিত্ব রক্ষায় ও নতুন বাংলাদেশ বিনির্মানে সকলকে একসাথে কাজ করার উদাত্ত আহ্বান জানান। 

মূখ্য আলোচক কলামিষ্ট ও বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যান ফ্রন্ট এর ভাইস প্রেসিডেন্ট সুরঞ্জন ঘোষ বলেন হিন্দু সম্প্রদায় একচেটিয়া আওয়ামীলীগ কে ভোট দিলেও হিন্দু সম্প্রদায়ের সম্পত্তি আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরাই বেশি লুটপাট ও দখল করছেন। 

বাংলাদেশ সনাতন পার্টি এর প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. সুমন কুমার রায় বলেন সব সকারের আমলেই আমরা নির্যাতিত ও নীপিড়িত কোন সরকারের আমলেই আমাদের সঠিক অধিকার দেয়নি। সনাতনীরাই সবসময় বিভিন্ন দলের ভোটব্যাংক বা বলির পাঠা হিসেবে ব্যাবহার হয়েআসছে। বাংলাদেশ সনাতন পার্টি নিবন্ধন পেলে সনাতনীরা আগামী দিনে কারো ভোট ব্যাংক হিসেবে ব্যবহার হবে না এবং সনাতনী সম্প্রদায়কে বাদ দিয়ে কেউ ক্ষমতায় যেতে পারবে না। 

প্রধান অতিথি বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনিন্দ্র কুমার নাথ বলেন, বাংলাদশের সংখ্যালঘুর নির্যাতন হলেও সব সরকার তা বার বার অস্বীকার করেন যা জাতি হিসেবে আমাদের খুব লজ্জাজনক। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর নির্যাতন বন্ধে দ্রুত সংখ্যালঘু কমিশন গঠন করে সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে মাননীয় উপদেষ্টা বরাবর দ্রুত বিচারের দাবী জানায়। সভাপতির সমাপনী বক্তব্যে বাংলাদেশ সনাতন পার্টি এর সভাপতি আশিষ কুমার দাশ বলেন সনাতনী সম্প্রদায়ের উপর সংগঠিত নির্যাতন ও নিপিড়নের ঘটনা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক তাই আগামীদিনে সনাতনী সম্প্রদায়ের অস্থিত্ব রক্ষার জন্য রাজনৈতিক দলের কোন বিকল্প নাই। তাই বাংলাদেশ সনাতন পার্টিকে শক্তিশালী করতে কর্মিদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান। এবং তিনি নির্বাচন কমিশনকে বাংলাদেশ সনাতন পার্টি (BSP) কে নিবন্ধন দিয়ে সনাতনী সম্প্রদায়ের অস্থিত্ব রক্ষায় ও রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন / কে. আলম

রমজান মাসে শায়েস্তাগন্জে মৃত বাবার অছিয়তে ১২ শতাংশ জমিতে মসজিদ নির্মাণ


মুজিবুর, হবিগঞ্জ প্রতিনিধি, মুক্তসংবাদ প্রতিদিন
সোমবার, ২৭ মার্চ, ২০২৩, ১০:৪২
রমজান মাসে শায়েস্তাগন্জে মৃত বাবার অছিয়তে ১২ শতাংশ জমিতে মসজিদ নির্মাণ

ছবি:মুক্তসংবাদ প্রতিদিন

শায়েস্তাগন্জ,পচ্শিম বিরামচর জগন্নাথপুরে জমির মালিক ছিলেন আব্দুল গফুর মিয়া। তিনি মারা যাওয়ার পূর্বে ১২ শতাংশ জমি মসজিদের জন্য দান করে যান। নিকটে কোন মসজিদ না থাকায় তার বড় ছেলে মোহাম্মদ সৈয়দ মিয়া রমজান মাসে এলাকার মানুষের নামাজের ব্যবস্থা করতে দ্রুত সময়ে মসজিদটি নির্মাণ কাজে সহযোগিতা করেন।

শায়েস্তাগঞ্জ পশ্চিম বিরামচর জগন্নাথপুর উক্ত মসজিদটি মাত্র চারদিনে নির্মাণ করা হয়। এলাকাবাসী জানায়, অনেক দূরে আল ফালাহ নামে একটা মসজিদ আছে, সেখানে বয়স্ক মুসুল্লীসহ সব ধরণের নামাজী ব্যক্তিদের নামাজ পড়া অসুবিধা হচ্ছিল। এলাকার মানুষের এধরণের সমস্যা সমাধানে পবিত্র রমজান মাসে মরহুম আব্দুল গফুর মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ সৈয়দ মিয়া ও এলাকার যুবকদের কায়িক পরিশ্রমে মাত্র ৪ দিনে ২২ মার্চে মসজিদের কাজ সম্পন্ন করে উক্ত মসজিদে তারাবি নামাজেরও ব্যবস্থা করা হয়।

অত্র এলাকার প্রবাসীরা মসজিদটি নির্মাণে ব্যাপক ভূমিকা পালন করেন বলে এলাকাবাসী জানান। অত্র মসজিদ নির্মাণে অনেকে টাকা-পয়সা, আবার অনেকে দিন-রাত শ্রম দিয়ে দ্রুততম সময়ে আল্লাহর ঘর মসজিদটি নির্মাণে সহযোগিতা করেন।

এদিকে বিরামচর এলাকার সন্তান শায়েস্তাগন্জ পৌরযুবলীগের সভাপ্রতি  মসজিদ নির্মাণ কাজের জন্য স্থানীয় এমপির বরাবর দরখাস্ত করেছেন, যাতে সরকার তথা ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে কিছু সাহায্য সহযোগিতা পাওয়া যায়।

এলাকাবাসী আশা করছেন, রমজানের পর পর সকলের সম্মিলিত সহযোগিতায় মসজিদটির বিল্ডিং-এর কাজ শুরু করা হবে ইনশাল্লাহ্।

মসজিদটির জমি বরাদ্দের পর অস্থায়ীভাবে অর্থাৎ আপাতত বাঁশ, টিন দিয়েই মসজিদটি সম্পন্ন করা হয়, যাতে রমজান মাসের ওয়াক্তের নামাজ ও তারাবি  নামাজ চালিয়ে নেওয়া যায়। আর এব্যাপারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন মোহাম্মদ সৈয়দ মিয়া, মুজিবুর রহমান, মো. হাবিবুর, মো. জিয়াউর, আলমগীর হোসেন, মোহাম্মদ সৈয়দ মিয়া, মির হোসেন, মোহাম্মদ ইউনুছ আলী, শহিদ মিয়া জুবায়েল, ফজুলুল হকসহ অনেকে।

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন / কে. আলম

বিপ্লবের মধ্যে দেশ স্বাধীন হলেও দেশ পূনর্গঠনে অপেক্ষা করছে আরো বিপ্লব!


মুক্তসংবাদ প্রতিদিন ডেস্ক
রবিবার, ২৩ ফেরুয়ারী, ২০২৫, ০৩:০৯
বিপ্লবের মধ্যে দেশ স্বাধীন হলেও দেশ পূনর্গঠনে অপেক্ষা করছে আরো বিপ্লব!

সংগৃহীত ছবি

 

পরিবর্তনের জন্য বিপ্লব যেমন সরকার পরিবর্তন করে, তেমনি সমাজ পরিবর্তনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ১৯৭১ সালে এক রক্তক্ষয়ী বিপ্লবের মধ্য দিয়ে আমরা একটি স্বাধীন জাতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করি। কিন্তু ১৯৭১-পরবর্তী সময়ে আমাদের রাজনৈতিক নেতাদের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে সেই বিপ্লব জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, তারা দেশের মানুষের প্রতি তাদের অঙ্গীকার ভুলে গিয়েছিল।  

বাংলাদেশে অতীতে কয়েকটি বিপ্লব ঘটেছে, তবে আজ পর্যন্ত জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়নি। ১৯৭৫ সালের আগস্ট বিপ্লব শেখ মুজিবের একনায়কতন্ত্রের পতন ঘটালেও, তার লক্ষ্য সম্পূর্ণ বাস্তবায়িত করতে ব্যর্থ হয় এবং ইতিহাসে এটি অসমাপ্ত বিপ্লব হিসেবে পরিচিত হয়ে যায়। কিন্তু ৭ নভেম্বর ১৯৭৫-এ সংঘটিত সৈনিক-জনতা বিপ্লব জাতিকে রক্ষা করেছিল এবং জিয়াউর রহমানকে ক্ষমতায় এনেছিল।  

সৈনিক-জনতা বিপ্লবের ফসল জিয়াউর রহমান সময়ের উপযুক্ত নেতা হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছিলেন। সেই সংকটময় মুহূর্তে তিনি জাতিকে রক্ষা করেন এবং দেশকে সঠিক পথে ফেরান। রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে থেকেও তিনি দেশকে স্থিতিশীলতার দিকে নিয়ে যান এবং আধুনিক বাংলাদেশের ভিত্তি গড়ে তোলেন। জিয়াউর রহমানের নেতৃত্ব বাংলাদেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন ছিল, কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা তাকে হারাই।  

অনেকে মনে করেন, বাংলাদেশে ভারতীয় আধিপত্যবাদী রাজনীতির শিকার হয়েছিলেন তিনি। জিয়াউর রহমানের উত্থানের ফলে ভারত বাংলাদেশে তাদের নিয়ন্ত্রণ হারায় এবং তাকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য একটি মিশনে নামে। ১৯৮১ সালের মে মাসে, তাদের স্থানীয় সামরিক এজেন্টদের মাধ্যমে ভারত এই মিশনে সফল হয়।  

এরপর জাতি নেতৃত্বশূন্য হয়ে পড়ে, এবং কয়েক মাসের মধ্যে এক রক্তপাতহীন সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে জেনারেল এরশাদ ক্ষমতায় আসেন। তিনি ভারতপন্থী নেতা হিসেবে পরিচিত হলেও, তার শাসনামলে বিশাল অবকাঠামো উন্নয়ন সাধিত হয়। তবে, তিনি গণতান্ত্রিক চর্চাকে ধ্বংস করেন এবং তার শাসনামলে সমাজে ব্যাপক দুর্নীতির বিস্তার ঘটে। ১৯৯০ সালের ডিসেম্বরের গণঅভ্যুত্থলের মাধ্যমে তাকে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য করা হয়।  

২০০৬ সালের শেষ পর্যন্ত দেশে গণতান্ত্রিক চর্চা চলমান ছিল, কিন্তু পরে মঈনউদ্দীন-ফখরুদ্দীন সরকার ভারত-আমেরিকা জোটের সমর্থনে ক্ষমতায় আসে। এই সরকার শাসন পরিচালনায় ব্যর্থ হয় এবং ২০০৮ সালে ভারতের নির্দেশে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে বাধ্য হয়।  

এরপর ভারত বাংলাদেশের রাজনীতিতে পুরোপুরি আধিপত্য বিস্তার করে এবং ঐতিহাসিক বিডিআর হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে দেশের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার মেরুদণ্ড ভেঙে দেয়। এই ঘটনাটি জাতির জন্য এক গভীর সংকট তৈরি করে।  

শেখ হাসিনা ভারতের প্রকাশ্য সমর্থনে তার পিতার মতোই ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েম করেন এবং রাজনৈতিক বিরোধীদের নির্মূল করতে সম্ভাব্য সবকিছু করেন। বিএনপি ও জামাতের নেতাকর্মীরা তার শাসনামলে চরম নির্যাতন ও দুঃখ-কষ্টের শিকার হয়। কিন্তু তারা পরিবর্তনের আশা ছাড়েনি এবং ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যায়।  

বিএনপি ও জামাত জনগণের সহানুভূতি অর্জন করলেও, তারা শেখ হাসিনার পতনের জন্য কার্যকর কোনো পথ বের করতে পারেনি। তবে, তারা পরিবর্তনের ক্ষেত্র প্রস্তুত করতে সফল হয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব বিএনপি ও জামাতের দীর্ঘদিনের প্রস্তুতির ফলে সম্ভব হয়েছিল। বাংলাদেশের জনগণ বহুদিন ধরে পরিবর্তনের অপেক্ষায় ছিল এবং ছাত্রদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা আন্দোলন তাদের সেই স্বপ্ন পূরণের সুযোগ করে দেয়।  

জাতি সাম্প্রতিক জুলাই বিপ্লবের প্রতিটি অংশগ্রহণকারীর ভূমিকা সম্পর্কে সচেতন। বিশেষত, ছাত্রনেতারা, যাদের অনেকেই শিবিরের সদস্য ছিলেন, বিপ্লবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। বিপ্লবের মোড় ঘুরে যায় যখন শিবির কর্মী আবু সাইয়েদ স্বেচ্ছায় দেশের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেন। এই আত্মত্যাগ আন্দোলনে নতুন গতি সঞ্চার করে। শানতা, ওয়াসিম, সাকিব তামিম, মুগ্ধ, রুদ্র, শাকিল, নায়িমা ও সুমাইয়া সহ আরও অনেকে আবু সাইয়েদের পথ অনুসরণ করেন এবং জীবন উৎসর্গ করেন, যার ফলে বিপ্লব সফল হয়।  

কয়েকশো মানুষের জীবন ও কয়েক হাজার মানুষের সীমাহীন কষ্টের বিনিময়ে জুলাই বিপ্লব সফল হয়। ছাত্রনেতারা বিপ্লবের প্রধান কারিগর হলেও, বিএনপি, জামাত, ইসলামপন্থী শক্তি এবং সাধারণ জনগণও এই বিপ্লবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। যদি কোনো গোষ্ঠী এককভাবে এই বিজয়ের দাবি করে, তাহলে তা বিভেদ সৃষ্টি করবে এবং দেশকে বিপদের দিকে ঠেলে দেবে।  

একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের পরিবর্তে জাতীয় বিপ্লবী সরকার গঠন করা উচিত ছিল, কিন্তু এই সিদ্ধান্ত ভুলভাবে নেওয়া হয়েছে। তবে এখনো সময় শেষ হয়ে যায়নি। অধ্যাপক ড. ইউনূসের নেতৃত্বে একটি জাতীয় বিপ্লবী সরকার গঠন করা যেতে পারে, যেখানে সব পক্ষের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হবে।  

এটি সুস্পষ্ট যে বিএনপি ও জামাতের মধ্যে দ্বন্দ্ব তীব্র আকার ধারণ করতে যাচ্ছে এবং খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (KUET) সাম্প্রতিক ঘটনা এর অন্যতম উদাহরণ। যখন তারা ঐক্যবদ্ধ হয়ে বিপ্লবকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দিতে পারত, তখন তাদের মধ্যে এই বিভেদ অত্যন্ত অনভিপ্রেত।  

বিএনপি ও জামাত উভয়েরই মনে রাখতে হবে যে, এই দ্বন্দ্ব কারও জন্যই সুফল বয়ে আনবে না, বরং উভয়েই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। দেশের জনগণ সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হবে। এখন বিএনপির নেতৃত্বে চলতে হবে এবং জামাতকে তাদের সময়ের জন্য অপেক্ষা করতে হবে, একইভাবে ছাত্র সংগঠনগুলোকেও সংযত থাকতে হবে। বিএনপিকে বাদ দেওয়ার জন্য কোনো গোপন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হলে তা জাতীয় বিপর্যয় ডেকে আনবে।  

বিএনপি বাংলাদেশের সবচেয়ে বিশ্বস্ত জাতীয়তাবাদী শক্তি, যার অতীতের রেকর্ড রয়েছে, যদিও ভুলত্রুটি তারা করেছে। জামাতও বাংলাদেশের একটি নির্ভরযোগ্য ইসলামী শক্তি, তবে তাদের জন্য এখনো উপযুক্ত সময় আসেনি, এবং তারা যদি অতিসত্বর ক্ষমতা প্রত্যাশা করে, তাহলে তা দিবাস্বপ্ন ছাড়া কিছুই হবে না।  

বিপ্লব থেকে এখনই সরাসরি রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করলে তারা পূর্বের মতই ‘অ্যান্টি-লিবারেশন’ অপবাদে আক্রান্ত হতে পারে।  

দোষারোপের রাজনীতি এখনই বন্ধ করতে হবে। বিভাজন মানে শত্রুর জন্য দ্বার উন্মুক্ত করে দেওয়া, যাতে তারা দুই পক্ষের একটিকে ব্যবহার করে ক্ষমতার দ্বন্দ্বে হস্তক্ষেপ করতে পারে। বিএনপি ও জামাতের উভয় পক্ষের মধ্যেই কিছু ব্যক্তি আওয়ামী লীগের মদদপুষ্ট হয়ে এই দ্বন্দ্বকে বাড়িয়ে তোলার চেষ্টা করছে।  

সকল পক্ষকে এখন বুদ্ধিমত্তা ও ধৈর্যের সাথে কাজ করতে হবে। জুলাই বিপ্লব এখনো অসমাপ্ত রয়ে গেছে।

 

লেখক: কর্নেল(অব.) আকরাম

অধ্যাপক ও কলাম লেখক, মুক্তসংবাদ প্রতিদিন

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন / কে. আলম
Share on Facebook

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন এর জনপ্রিয়

সর্বশেষ - ধর্ম