a নেপালের প্রধানমন্ত্রী আস্থা ভোটে হেরে গেলেন
ঢাকা মঙ্গলবার, ২৯ পৌষ ১৪৩২, ১৩ জানুয়ারী, ২০২৬
https://www.msprotidin.com website logo

নেপালের প্রধানমন্ত্রী আস্থা ভোটে হেরে গেলেন


নাঈম, মুক্তসংবাদ প্রতিদিন:
সোমবার, ১০ মে, ২০২১, ১১:২৩
নেপালের প্রধানমন্ত্রী আস্থা ভোটে হেরে গেলেন

প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি । ফাইল ছবি


 
পার্লামেন্টে আস্থা ভোটে হেরে গেছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি। ওলির পক্ষে ভোট দিয়েছেন ৯৩ জন সদস্য। বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন ১২৪ জন সদস্য। আর ভোটদানে বিরত ছিলেন ১৫ জন সংসদ সদস্য। খবর আলজাজিরার

খবরে বলা হয়, দেশটির প্রেসিডেন্ট বিদ্যা দেবী ভান্ডারি ওলি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নেতৃত্বে নতুন নির্বাচন দিয়ে নতুন সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করবেন। তবে ওলির কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ভারতের সংবাদসংস্থা এএনআই জানিয়েছে, আস্থা ভোটে জয়ের জন্য ওলির কমপক্ষে ১৩৬টি ভোটের দরকার ছিল। কিন্তু ৯৩ জন সেই প্রস্তাবের সমর্থনে ভোট দেন। অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় সমর্থন জোগাড় করতে পারেননি ওলি।

গত মার্চে সরকার থেকে জোটসঙ্গী ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি সমর্থন তুলে নেওয়ায় সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছিলেন ওলি। ফলে আস্থা ভোটের আগে হুইপ জারি করেছিল সিপিএম-ইউএমএল (কমিউনিস্ট পার্টি অফ নেপাল-ইউনিফায়েড মার্ক্সিট লেনিনিস্ট)। 

হিমালয়ান টাইমসের প্রতিবেদন উদ্ধৃত করে এএনআই জানিয়েছে, আস্থা ভোটপর্ব শুরু আগে সংসদে নিজের সরকারের ‘কৃতিত্ব’ তুলে ধরেছিলেন। কিন্তু তাতেও কোনও ফল হয়নি।হিন্দুস্তান টাইমসর খবরে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরেই দলের অভ্যন্তরে বিরোধিতার মুখে পড়ে আসছেন ওলি। বিরোধী গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে বারবার দাবি করা হয় যে, সাধারণ আহ্বায়ক কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ওলি, তা যেন প্রত্যাহার করা হয়। দলের অভ্যন্তরে যে সমস্যাগুলো মাথাচাড়া দিচ্ছিল, তা সমাধানের জন্য একসঙ্গে কাজের বার্তা দেওয়া হয়েছিল। 

এরই মধ্যে পুষ্পকুমার দাহাল ওরফে প্রচণ্ডের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীর চালে আরও চাপে পড়ে যান ওলি। তাছাড়া করোনা ভাইরাস মহামারী সামলানো নিয়ে দেশের অভ্যন্তরে তুমুল সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন ওলি। বিশেষত গত কয়েকদিনে যেভাবে দেশে আক্রান্ত এবং মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে, তাতে সেই সমালোচনার মাত্রা আরও বাড়তে থাকে। বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে ওষুধ, অক্সিজেন শেষ হয়ে যাওয়ার খবরও মিলতে থাকে। সেই পরিস্থিতিতে আরও কঠিন হয়ে ওঠে ওলির কাজ। সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস, আলজাজিরা ও এএনআই

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন / কে. আলম

মোসাদের সাবেক প্রধানের অবৈধ সম্পর্ক নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস


আন্তর্জাতিক ডেস্ক:মুক্তসংবাদ প্রতিদিন
সোমবার, ২০ ডিসেম্বর, ২০২১, ০৯:২২
মোসাদের সাবেক প্রধানের অবৈধ সম্পর্ক নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস

ফাইল ছবি

ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সাবেক প্রধান ইয়োসি কোহেনের গোপন চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস হলো। তথ্য সূত্রে জানা যায়, এক ফ্লাইট অ্যাটেন্ডেন্টের সহিত অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন কোহেন। আর সেই সম্পর্কের সূত্র ধরে অনেক গোপন তথ্য ফাঁস করে ইয়োসি।

এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ওই ফ্লাইট অ্যাটেন্ডেন্টের স্বামী নিজেই। চ্যানেল থার্টিন নামে একটি ইসরায়েলি টিভি চ্যানেলের বরাতে এ খবর দিয়েছে টাইমস অব ইসরায়েল। গাই শিকার নামের ওই ব্যক্তি জানান, তার স্ত্রী কোহেনের সঙ্গে সম্পর্কের মাধ্যমে ইসরায়েলের অনেক গোপন তথ্য পাচার করেছে। অনেক গোপন তথ্য নিজের অবৈধ প্রেমিকাকে বলতেন কোহেন। আর তাদের এই অবৈধ সম্পর্ক শুরু হয় ২০১৮ সালের শেশের দিকে।

অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাবেক মোসাদ প্রধান কোহেন। তিনি বলেছেন, যা বলার এখতিয়ার তার ছিল না তেমন কোনো কিছুই কোথাও প্রকাশ করেননি। এদিকে কোহেনের এই তথ্য ফাঁসের পুরো অনুসন্ধানী প্রতিবেদনটি আগামী বৃহস্পতিবার প্রচার করবে চ্যানেল থার্টিন নামে এক গণমাধ্যম।

ওই ফ্লাইট অ্যাটেন্ডেন্টের স্বামী আরো জানিয়েছেন, মোসাদের নানাবিধ কর্মকাণ্ড, বিশ্বজুড়ে চালানো অপারেশন, নিজের ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়াসহ নানা স্পর্শকাতর তথ্য প্রকাশ করেন কোহেন।

ইসরায়েলের পুঁজিবাজারের পরিচিত মুখ গাই আরও বলেন, কোহেন তার স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক চালিয়ে যাওয়ার সময় ইরানের ওপর ইসরায়েলে নানা গোয়েন্দা কর্মকাণ্ড নিয়েও বিভিন্ন তথ্য ফাঁস করেছেন।

ইসরায়েল যে ইরানের নাতাঞ্জ পারমানবিক কেন্দ্রের ভূগর্ভে সেন্ট্রিফিউজ নিউক্লিয়ার ফ্যাসিলিটি ধ্বংস করে দেয় সে তথ্যও ফাঁস করে দেন কোহেন। এরপর তাকে মোসাদ প্রধানের পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে কোহেন মোসাদের দায়িত্ব নেওয়ার পর কখন কোন দেশ ভ্রমণ করেছেন সে তথ্যও পাচার করেছেন তিনি। এ নিয়ে একটি তদন্ত প্রতিবেদন হিব্রু ভাষায় প্রচার করবে ইসরায়েলি টেলিভিশন। সূত্র: বিডি প্রতিদিন

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন / কে. আলম

রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বেগম খালেদা জিয়াকে শেষ বিদায়


আরাফাত, বিশেষ প্রতিনিধি, মুক্তসংবাদ প্রতিদিন
বৃহস্পতিবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১১:৪৮
রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বেগম খালেদা জিয়াকে শেষ বিদায়

ছবি সংগৃহীত

 

নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া চিরনিদ্রায় শায়িত হয়েছেন। লাখো মানুষের অশ্রুসিক্ত ভালোবাসা আর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে তার স্বামী, সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে সমাহিত করা হয়েছে।

বুধবার, (৩১ ডিসেম্বর ২০২৫) বিকেলে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে তার দাফন সম্পন্ন হয়। এর আগে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হয় স্মরণকালের অন্যতম বৃহৎ জানাজা। যেখানে জনস্রোতে পরিণত হয়েছিল পুরো মানিক মিয়া এভিনিউ ও এর আশপাশের এলাকা। এই মানিক মিয়া এভিনিউতেই ১৯৮১ সালের ২ জুন খালেদা জিয়ার স্বামী তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জানাজা হয়েছিল। পরে তাকে সমাহিত করা হয় চন্দ্রিমা উদ্যানে, যার বর্তমান নাম জিয়া উদ্যান।

বুধবার, পুরো সংসদ ভবন এলাকার মানিক মিয়া এভিনিউ থেকে শুরু করে আশপাশের সব সড়ক ও উন্মুক্ত স্থান লোকে লোকার?ণ্য হয়ে ওঠে। লাখো মানুষ চোখের জলে প্রিয় নেত্রীকে শেষ বিদায় জানাতে জড়ো হন। কালো ব্যাজ, দলীয় পতাকা ও জাতীয় পতাকা হাতে অনেককে শোক প্রকাশ করতে দেখা যায়। জানাজার সময় বাদ জোহোর নির্ধারণ করা হলেও দুপুরের আগেই মানিক মিয়া এভিনিউ যেন এক আবেগঘন জনসমুদ্রে রূপ নেয়। জাতীয় সংসদ ভবনের ভেতরের মাঠ, বাইরের অংশ এবং পুরো মানিক মিয়া এভিনিউ ছাড়িয়ে আশপাশের সব সড়ক, অলিগলি থেকে অজস্র মানুষ জানাজায় শরিক হোন।

বুধবার, সকালে খালেদা জিয়ার মরদেহ এভারকেয়ার হাসপাতালের হিমঘর থেকে বের করা হয়। সকাল ৮টা ৫৩ মিনিটে মরদেহবাহী গাড়িটি হাসপাতালের গেইট দিয়ে বের হয়ে গুলশানের উদ্দেশে রওনা হয়। শুরুতে তার মরদেহ দীর্ঘদিনের বাসভবন ‘ফিরোজায়’ নেয়ার কথা থাকলেও, পরিকল্পনা পরিবর্তন করে তা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের গুলশান-২-এর ১৯৬ নম্বর বাসভবনে নিয়ে যাওয়া হয়।

সকাল ৯টা ১৬ মিনিটে মরদেহ সেখানে পৌঁছায়। সেখানে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। সদ্য প্রয়াত মায়ের কফিনের পাশে বসে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করেন  তারেক রহমান। এ সময় পরিবারের সদস্য, আত্মীয়-স্বজন এবং দলের সিনিয়র নেতারা উপস্থিত ছিলেন এবং তারা অশ্রুসজল চোখে প্রিয় নেত্রীকে শেষ শ্রদ্ধা জানান।

বেলা ১১টা ৫ মিনিটে তারেক রহমানের গুলশানের বাসা থেকে মরদেহ নিয়ে গাড়িবহর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার উদ্দেশে রওনা হয়। খালেদা জিয়ার মরদেহ বহনকারী ফ্রিজার ভ্যানটি লাল-সবুজ রঙের জাতীয় পতাকায় মোড়ানো ছিল। গাড়িবহরে তারেক রহমান, তার স্ত্রী জুবাইদা রহমান, কন্যা জাইমা রহমান এবং প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রীসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা ছিলেন। দুপুর পৌনে ১২টার দিকে মরদেহবাহী গাড়ি সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় প্রবেশ করে।

তবে ভোর থেকেই জানাজায় অংশ নিতে মানিক মিয়া এভিনিউ এবং এর আশপাশের এলাকায় মানুষ জড়ো হতে শুরু করেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বাস, মাইক্রোবাস ভাড়া করে, এমনকি পায়ে হেঁটে লাখো মানুষ এই জানাজায় অংশ নিতে আসেন।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক দিয়ে সকাল থেকেই মানুষের স্রোত নামে। জানাজা স্থল মানিক মিয়া এভিনিউয়ের দিকে যে যেভাবে পারছেন আসছেন। কেউ হেঁটে, কেউ বাস ও অন্যান্য যানবাহনে করে এসে জানাজাস্থলের আশপাশে অবস্থান নিচ্ছেন। সংসদ ভবন এলাকা ছাড়িয়ে যায় জানাজায় আসা মানুষের ঢল। শেষ পর্যন্ত দেখা যায় জানাজায় অংশ নিতে কয়েক লাখ লোক সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা, মানিক মিয়া এভিনিউ ছাড়াও ঢাকার বিভিন্ন সড়কে অবস্থান নিয়েছেন। ফলে সকাল থেকেই মানিক মিয়া এভিনিউ ও এর আশপাশের সড়কে যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সংসদ ভবন এলাকার মানিক মিয়া এভিনিউ থেকে রাজধানীর ফার্মগেট, বিজয় সরণি, খামারবাড়ি, কারওয়ান বাজার, পান্থপথ পর্যন্ত রাস্তাগুলো লোকে লোকারণ্য হয়ে ওঠে। জনস্রোত আশপাশের কয়েক কিলোমিটার এলাকা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। সংসদ ভবনের আশপাশে বিভিন্ন সড়কে অবস্তান নিয়ে বিপুল মানুষ জানাজায় অংশ নেয়। এছাড়া আসাদ গেইট থেকে মোহাম্মদপুর পর্যন্ত, আগারগাঁও মেট্রো স্টেশন থেকে মিরপুর শিশু মেলার (শ্যামলী) কাছাকাছি পর্যন্ত এলাকার সড়কে বিপুল মানুষ জানাজায় অংশ নেন।

রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউতে দুপুর ৩টা ৩ মিনিটে খালেদা জিয়ার জানাজা শুরু হয়। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি মোহাম্মদ আবদুল মালেক জানাজায় ইমামতি করেন। জানাজা ৩টা ৫ মিনিটে সম্পন্ন হয়।

জানাজায় লাখো মানুষের উপস্থিতি মানিক মিয়া এভিনিউকে এক বিশাল জনসমুদ্রে পরিণত করে। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি জানাজায় অংশ নেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস এবং উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা। এছাড়া সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌ বাহিনী প্রধান এবং বিমানবাহিনী প্রধানও জানাজায় শরিক হন।

রাজনীতিবিদদের মধ্যে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা, জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি এবং ভিপি নুরুল হক নুরসহ বিভিন্ন দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

জানাজার আগে বিএনপি চেয়ারপারসনের ছেলে ও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান উপস্থিত জনতার উদ্দেশে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন। মায়ের মরদেহের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, ‘আমি মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার বড় সন্তান তারেক রহমান। আপনারা আমার মরহুমা মায়ের জন্য দোয়া করবেন।’

তারেক রহমান উপস্থিত সবার কাছে মায়ের ভুলত্রুটির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে বলেন, ‘কেউ আমার মায়ের আচরণে বা কথায় কষ্ট পেয়ে থাকলে তার পক্ষ থেকে আমি ক্ষমাপ্রার্থী। কারও কাছে আম্মার কোনো ঋণ থাকলে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করবেন, আমি তা পরিশোধ করব।’ তিনি মহান আল্লাহর কাছে মায়ের বেহেশত নসিবের জন্য দোয়া কামনা করেন। এর আগে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান খালেদা জিয়ার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন নিয়ে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন।

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে আন্তর্জাতিক পরিম-লেও শোকের ছায়া নেমে আসে। জানাজায় অংশ নিতে এবং শ্রদ্ধা জানাতে ঢাকায় আসেন পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের স্পিকার সরদার আয়াজ সাদিক। তিনি তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করে সহমর্মিতা জানান। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ঢাকায় এসে তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং ভারতের শোকবার্তা হস্তান্তর করেন।

এছাড়াও ভুটানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং মালদ্বীপের মন্ত্রিসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা শ্রদ্ধা জানাতে ঢাকায় আসেন। জানাজাস্থলে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, রাশিয়া, ইরান, কাতার, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ ৩২টি দেশের দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিকরা উপস্থিত ছিলেন।

জানাজা শেষে বিকেল ৪টার দিকে মরদেহবাহী ফ্রিজার ভ্যানটি জিয়া উদ্যানের উদ্দেশে রওনা হয়। ৪টা ৪২ মিনিটে সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় এবং ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে খালেদা জিয়াকে সমাহিত করা হয়। তাকে দাফন করা হয় তার স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের ঠিক পাশেই।

দাফনের সময় সেনাবাহিনী হিউম্যান চেইন তৈরি করে রাষ্ট্রীয় প্রটোকল প্রদান করে। দাফন কাজ নির্বিঘ্ন করতে জিয়া উদ্যানে আগে থেকেই সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছিল। এর মাধ্যমে সাড়ে ৪৪ বছর পর জিয়াউর রহমানের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন তার সহধর্মিণী। উল্লেখ্য ১৯৮১ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জানাজাও এই মানিক মিয়া এভিনিউতেই অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

জানাজা ও দাফন কার্যক্রমকে ঘিরে রাজধানীজুড়ে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল। এভারকেয়ার হাসপাতাল, জাতীয় সংসদ ভবন এবং জিয়া উদ্যান এলাকায় বিজিবি, সেনাবাহিনী, পুলিশ ও র? র‌্যবের সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছিল।

দিনভর মানিক মিয়া এভিনিউ ও আশপাশের এলাকায় যানচলাচল বন্ধ ছিল। শোকের প্রতীক হিসেবে নেতাকর্মীরা কালো ব্যাজ ধারণ করেন এবং বিভিন্ন স্থানে কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়। বিএনপির পক্ষ থেকে ৭ দিনের শোক ঘোষণা করা হয়েছে এবং দলীয় কার্যালয়গুলোতে কোরআন খতম ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে লিভার, কিডনি, হৃদরোগ, ডায়াবেটিসসহ নানা জটিল রোগে ভুগছিলেন ৮০ বছর বয়সী এই প্রবীণ নেত্রী। চিকিৎসকদের সব প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ করে দিয়ে গতকাল মঙ্গলবার ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। গত ২৩ নভেম্বর থেকে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন এবং সোমবার গভীর রাতে তার শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি ঘটে। তার মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে পুরো দেশে শোকের ছায়া নেমে আসে। প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস আনুষ্ঠানিকভাবে জাতির উদ্দেশে এই সংবাদ জানান এবং তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেন। এছাড়া গত সারাদেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। সূত্র: সংবাদ

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন / কে. আলম
Share on Facebook

সর্বশেষ - আন্তর্জাতিক