মোহাঃ খোরশেদ আলম, সম্পাদক ও প্রকাশক, মুক্তসংবাদ প্রতিদিন ১১ সেপ্টেম্বার ২০২৬ ০৩:৩৬ পি.এম
মোহা: খোরশেদ আলমঃ একসময় বাংলাদেশকে নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যে ধারণাটি প্রচলিত ছিল, ‘সহায়তা-নির্ভর একটি ছোট দেশ’, সেই ধারণা আজ অনেকটাই বদলে গেছে। অর্থনীতি, মানবসম্পদ, শান্তিরক্ষা, তৈরি পোশাক, প্রবাসী আয় কিংবা আন্তর্জাতিক কূটনীতি, বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশ নিজের সক্ষমতার পরিচয় দিয়েছে। এখন সময় এসেছে সেই অর্জনকে বিশ্ব কূটনীতির শক্তিতে রূপান্তর করার।
জাতিসংঘে ১৯৩টি সদস্যরাষ্ট্রের সামনে একজন বাংলাদেশি যখন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বসেন, তখন সেটি শুধু একজন ব্যক্তির সাফল্য নয়; সেটি বাংলাদেশের সক্ষমতারও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। সেই সম্ভাবনার আলোচনায় উঠে আসছে খলিলুর রহমানের নাম, অভিজ্ঞতা, মেধা ও আন্তর্জাতিক পরিসরের কাজের কারণে যাঁকে ঘিরে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
কিন্তু প্রশ্ন হলো, বাংলাদেশ কি এবার সত্যিই তার প্রাপ্য জায়গাটি নিতে পারবে? আমাদের উত্তর হওয়া উচিত-কেন পারবে না?
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিল অনেক সময় নিজের শক্তিকে নিজেরাই যথেষ্ট গুরুত্ব না দেওয়া। আমরা প্রতিবেশীকে সম্মান করব, বিশ্বের শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে বন্ধুত্ব রাখব, আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করব, কিন্তু তার অর্থ কখনোই নিজের জাতীয় স্বার্থ বিসর্জন দেওয়া নয়।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির নতুন দর্শন হওয়া উচিত খুব পরিষ্কার: বন্ধুত্ব সবার সঙ্গে, মর্যাদা নিজের; সহযোগিতা সবার সঙ্গে, সিদ্ধান্ত জাতীয় স্বার্থে।
ভারত বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী। এই সম্পর্ক বাস্তবতা, ইতিহাস ও ভূগোলের কারণে গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু কোনো সম্পর্কই একতরফা হতে পারে না। প্রতিবেশী বড় হলেই ছোট প্রতিবেশীর অধিকার ছোট হয়ে যায় না। বরং সুস্থ প্রতিবেশী সম্পর্কের ভিত্তিই হলো পারস্পরিক সম্মান, সমতা ও স্বার্থের ভারসাম্য।
বাংলাদেশকে যদি কেউ অতীতে নিজের প্রভাববলয়ের মধ্যে আটকে রাখার চেষ্টা করে থাকে, তার জবাব আবেগ দিয়ে নয়—দক্ষ কূটনীতি, শক্ত অর্থনীতি এবং আন্তর্জাতিক বন্ধু বাড়ানোর মধ্য দিয়ে দিতে হবে।
এখানেই তারেক রহমানের নেতৃত্ব এবং খলিলুর রহমানের মতো অভিজ্ঞ কূটনৈতিক নেতৃত্বের সমন্বয় একটি নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে, যদি সেই নেতৃত্বের কেন্দ্রে থাকে বাংলাদেশ।
বিশ্ব এখন বদলে গেছে। একক কোনো শক্তির ওপর নির্ভর করে একটি রাষ্ট্র এগিয়ে যেতে পারে না। বাংলাদেশকে একই সঙ্গে ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য, জাপান, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও আফ্রিকার সঙ্গে কার্যকর সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। যে দেশ যত বেশি আন্তর্জাতিক অংশীদার তৈরি করতে পারে, তার কূটনৈতিক স্বাধীনতাও তত বেশি শক্তিশালী হয়। আর এই জায়গাতেই একজন দক্ষ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
খলিলুর রহমানের সামনে তাই শুধু একটি মন্ত্রণালয় পরিচালনার দায়িত্ব নয়; বরং বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি পুনর্গঠন, জাতীয় স্বার্থের দৃঢ় উপস্থাপন এবং বিশ্ব কূটনীতিতে বাংলাদেশের প্রভাব বাড়ানোর বড় সুযোগ রয়েছে। তবে মনে রাখতে হবে—কূটনীতি মাইক্রোফোনের শব্দে নয়, ফলাফলে সফল হয়।
কতটি আন্তর্জাতিক সমর্থন পাওয়া গেল, কতটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে বাংলাদেশের অবস্থান গুরুত্ব পেল, শ্রমবাজার কতটা সম্প্রসারিত হলো, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ কতটা বাড়ল, প্রবাসীদের অধিকার কতটা সুরক্ষিত হলো, রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানে কতটা অগ্রগতি হলো, নদীর পানি ও সীমান্তসহ দ্বিপক্ষীয় বিষয়গুলোতে কতটা ন্যায্য সমাধান এল, এসবই হবে সাফল্যের প্রকৃত মাপকাঠি।
বাংলাদেশ কারও বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে বড় হবে না। বাংলাদেশ বড় হবে নিজের যোগ্যতায়।
আর সেই যোগ্যতার সবচেয়ে শক্তিশালী পরিচয় হবে এমন একটি বাংলাদেশ, যার সঙ্গে বিশ্বের বড় দেশগুলো সম্পর্ক রাখতে চায়; যার কথা আন্তর্জাতিক ফোরামে গুরুত্ব দিয়ে শোনা হয়; যার নাগরিকের পাসপোর্ট সম্মানের সঙ্গে গ্রহণ করা হয় এবং যার কূটনৈতিক অবস্থানকে উপেক্ষা করা সহজ নয়।
আজ তাই স্বপ্ন দেখতেই পারি, জাতিসংঘের বিশাল মঞ্চে একদিন ১৯৩ দেশের প্রতিনিধিরা একজন বাংলাদেশির দিকে তাকিয়ে বলবেন,
“মি. প্রেসিডেন্ট!” সেদিন করতালি উঠবে শুধু নিউইয়র্কে নয়, করতালি উঠবে ঢাকার অলিগলি থেকে টেকনাফ, তেঁতুলিয়া, সুন্দরবন থেকে সিলেট পর্যন্ত।
কারণ তখন একজন ব্যক্তি নয়, কথা বলবে বাংলাদেশ। আর বাংলাদেশের সেই কণ্ঠ হবে আত্মবিশ্বাসী, স্বাধীন এবং মর্যাদাপূর্ণ। বাংলাদেশ কারও ছায়া নয়, বাংলাদেশ নিজেই একটি শক্তি। এবার সেই শক্তিকে বিশ্বমঞ্চে প্রতিষ্ঠা করার সময়।
লেখক: আইনজীবী, মানবাধিকার কর্মী ও সাংবাদিক
জাতিসংঘের শীর্ষ মঞ্চে বাংলাদেশি মেধার উত্থান, কে এই খলিলুর রহমান?
মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক এমএজি ওসমানীর ১০৮তম জন্মবার্ষিকী পালন
গণভোটের রাজনীতি ও সংসদের ওয়াকআউট: বিরোধিতা কি যুক্তির পথে?
বৃহত্তর ময়মনসিংহ কর আইনজীবী সমিতি-ঢাকার কার্যনির্বাহী পরিষদ ২০২৬–২০২৭-এর প্রথম সভা অনুষ্ঠিত
অসহায় স্ত্রী- শারমিন চৌধুরী সন্তানদের বাচাঁতে সরকারের সহায়তা চেয়ে সাংবাদিক সম্মেলন
হেলথ প্রমোশনে সমন্বিতভাবে কাজ করার লক্ষ্যে কুয়েট ও ডাব্লিউবিবি ট্রাস্টের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত
বিশ্ব শরণার্থী দিবস ২০২৬ এ রোহিঙ্গা এবং হোস্ট কমিউনিটির প্রতি মর্যাদা ও সম্মান আহ্বান
মালয়েশিয়া সফর: বাংলাদেশ–মালয়েশিয়া সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন
চোর পলাশকে ধরিয়ে দিতে পারলে ২০ হাজার টাকা পুরস্কার ঘোষণা
সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর: তথ্যমন্ত্রী
সম্পাদক পরিষদ নেতাদের সাথে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক