মোহাঃ খোরশেদ আলম, সম্পাদক ও প্রকাশক, মুক্তসংবাদ প্রতিদিন ১৩ আগষ্ট ২০২৬ ১১:৩২ পি.এম
বিশেষ মতামত: রাজনীতিতে নেতৃত্বের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা কেবল জনপ্রিয়তা অর্জনে নয়—সঠিক সময়ে সঠিক মানুষকে সঠিক দায়িত্বে বসানোর রাজনৈতিক প্রজ্ঞায়। ১৩ আগস্ট ২০২৬-এ বিএনপির উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়েছে। একই দিনে তাঁর দলীয় মহাসচিব ও জাতীয় স্থায়ী কমিটির পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর কথাও জানানো হয়েছে।
তবে বৃহত্তর রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টির তাৎপর্য অন্য জায়গায়। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সালাহউদ্দিন আহমদ, শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী এবং রুহুল কবীর রিজভীর মতো নেতারা দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে নিজেদের অবস্থান তৈরি করেছেন। বিরোধী রাজনীতির কঠিন সময়ে মামলা, গ্রেপ্তার, রাজনৈতিক চাপ ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও মাঠে সক্রিয় থাকা তাঁদের রাজনৈতিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যে রাজনৈতিক পুনর্বিন্যাসটি সামনে এসেছে, তার মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বের কৌশলগত দিকটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সালাহউদ্দিন আহমদকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আনা এবং মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানীকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে স্থলাভিষিক্ত করার সিদ্ধান্ত সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দুই খাতে নতুন সমন্বয়ের ইঙ্গিত বহন করে। একই ধারায় রুহুল কবীর রিজভীকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দেওয়া হলে দলীয় সংগঠনের ধারাবাহিকতাও অক্ষুণ্ন থাকে। আজকের সংবাদপ্রবাহে মির্জা ফখরুলের প্রার্থিতা এবং সালাহউদ্দিন-এ্যানীকে ঘিরে মন্ত্রণালয় পুনর্বিন্যাসের খবর প্রকাশিত হয়েছে।
এখানেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিকের সম্ভাব্য ব্যাখ্যা পাওয়া যায়—যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা, আনুগত্য ও রাজনৈতিক ত্যাগকে রাষ্ট্র পরিচালনার প্রয়োজনের সঙ্গে সমন্বয় করা। রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের সহযোদ্ধাদের মূল্যায়ন যেমন সংগঠনের ভিত শক্ত করে, তেমনি প্রশাসনে দায়িত্ব বণ্টনের ক্ষেত্রে ব্যক্তির অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানো সরকারের কার্যকারিতাও বাড়াতে পারে।
তারেক রহমানকে যদি দাবার একজন অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ের সঙ্গে তুলনা করা হয়, তবে আজকের সিদ্ধান্তগুলোকে কেবল তাৎক্ষণিক পদবদল হিসেবে দেখলে চলবে না; দেখতে হবে কয়েক চাল পরের রাজনৈতিক বোর্ডটিও। একজন দক্ষ দাবাড়ু প্রতিপক্ষের চোখের সামনে থাকা ঘুঁটির দিকে শুধু তাকান না—তিনি বোঝার চেষ্টা করেন, পরবর্তী চালের পর কোন ঘুঁটি কোথায় থাকবে এবং পুরো বোর্ডের ভারসাম্য কোন দিকে যাবে। মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী করা, সালাহউদ্দিন আহমদকে এলজিআরডিতে এবং এ্যানীকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আনা, আর রিজভীকে দলীয় ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দেওয়া—এই সমন্বিত বিন্যাসকে সেই ‘কয়েক চাল পরের বোর্ড’ বিবেচনার একটি রাজনৈতিক উদাহরণ হিসেবে দেখা যায়।
রাষ্ট্র পরিচালনাতেও একই দর্শন প্রযোজ্য। মন্ত্রণালয় পুনর্বিন্যাস, দলের অভিজ্ঞ নেতাদের নতুন দায়িত্ব দেওয়া কিংবা সাংগঠনিক নেতৃত্বে পরিবর্তন—এসবকে বিচ্ছিন্ন সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখলে এর রাজনৈতিক তাৎপর্য ধরা পড়ে না। এগুলো যদি একটি সুসংগঠিত বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হয়, তবে তা সরকার ও দলের মধ্যে সমন্বয়, জবাবদিহি এবং রাজনৈতিক যোগাযোগকে আরও কার্যকর করতে পারে।
তবে এখানেই একটি বড় দায়িত্বও রয়েছে। রাজনৈতিক আনুগত্য কখনো যোগ্যতা ও জবাবদিহির বিকল্প হতে পারে না। যে নেতারা দীর্ঘ সংগ্রাম করেছেন, তাঁদের রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে এনে যদি দক্ষতা, সততা ও জনকল্যাণের প্রমাণ দিতে হয়, সেটিই হবে তাঁদের ত্যাগের সবচেয়ে বড় স্বীকৃতি। কারণ জনগণ শেষ পর্যন্ত পদ দেখে নয়—কাজের ফল দেখে নেতৃত্বের মূল্যায়ন করে।
বিরোধী রাজনৈতিক মহলের প্রতিক্রিয়া নিয়েও অতিরঞ্জিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। কোনো রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে কেউ বিস্মিত হতে পারেন, কেউ সমর্থন করতে পারেন, কেউ সমালোচনা করতে পারেন—গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে এটাই স্বাভাবিক। বরং এসব সিদ্ধান্তের প্রকৃত মূল্যায়ন হবে কয়েক মাস ও কয়েক বছর পরে—প্রশাসন কতটা কার্যকর হলো, আইনশৃঙ্খলা কতটা উন্নত হলো, স্থানীয় সরকার কতটা গতিশীল হলো এবং দল ও সরকারের মধ্যে সমন্বয় কতটা শক্তিশালী হলো, তার ওপর।
সুতরাং সময়ই বলে দেবে কোন চাল কতটা দূরদর্শী ছিল। কিন্তু রাজনীতির ভাষায় এটুকু বলা যায়—তারেক রহমান যদি ত্যাগী ও অভিজ্ঞ সহযোদ্ধাদের যথাযথ মর্যাদা দিয়ে তাঁদের রাষ্ট্রীয় সক্ষমতাকে জনকল্যাণে কাজে লাগাতে পারেন, তবে সেটিই হবে তাঁর নেতৃত্বের সবচেয়ে শক্তিশালী রাজনৈতিক বার্তা।
কারণ শেষ পর্যন্ত রাজনীতির দাবার বোর্ডে সবচেয়ে বড় জয় প্রতিপক্ষকে চমকে দেওয়ায় নয়; জনগণকে আস্থায় রেখে রাষ্ট্রকে সঠিক পথে এগিয়ে নেওয়াতেই।
রাজনীতির দাবার বোর্ডে তারেক রহমানের ‘সঠিক চাল’
"চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা আমলাতান্ত্রিক বাজেটে চরমভাবে উপেক্ষিত, দেশ গভীর খাদের কিনারায়"— তিন সংগঠনের বাজেট সংশোধনী ও অর্থনৈতিক সংস্কার প্রস্তাবনা উত্থাপন
স্থানীয় নেতাকর্মীরা আসন্ন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তুহিরুল ইসলাম তুহিনকে চান
রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক সংকট নিরসনে শহীদ জিয়া অমর হয়ে থাকবে- দুদু
সহনশীল রাজনীতি, না মব সংস্কৃতি! বাংলাদেশ হাঁটবে কোন পথে?
রাষ্ট্র, সমাজ ও নাগরিকদের সমন্বিত উদ্যোগে স্থিতিশীল বাংলাদেশ গঠনে এখনই সময়
রমজানের এই আয়োজনের মাধ্যমে সামাজিক সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ সুদৃঢ় হবে- জয়রুল আবেদীন ফারুক
স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানদের পুনর্বহালের দাবি
বাংলাদেশ লেবার পার্টির আলোচনা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত
গণভোটের রায়ের ব্যাপারে গড়িমসি করার ফলে রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংকট হওয়ার ঝুঁকি তৈরী হয়েছে
নতুন সরকারের প্রথম ১০০ দিনের অগ্রাধিকার নিয়ে মতবিনিময় সভা