মোহাঃ খোরশেদ আলম, সম্পাদক ও প্রকাশক, মুক্তসংবাদ প্রতিদিন ৩০ সেপ্টেম্বার ২০২৬ ১০:৪৩ পি.এম
বিশেষ প্রতিনিধিঃ ইরাক থেকে মার্কিন সেনাদের সম্পূর্ণ প্রত্যাহার মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনার জন্ম দিয়েছে। ২০০৩ সালে সামরিক অভিযান দিয়ে ইরাকে প্রবেশের দুই দশকেরও বেশি সময় পর অবশেষে আমেরিকা তার সামরিক উপস্থিতির ইতি টানল। এই দীর্ঘ সময়ে প্রায় ৪,৫০০ মার্কিন সেনা প্রাণ হারিয়েছে।
ইরানের দৃষ্টিকোণ থেকে ঘটনাটির গুরুত্ব আরও বেশি। ২০২০ সালে বাগদাদে মার্কিন হামলায় ইরানের প্রভাবশালী কমান্ডার কাসেম সোলায়মানি নিহত হওয়ার পর তেহরান মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি প্রত্যাহারের দাবি আরও জোরালো হয়। ইরাকের পার্লামেন্টেও বিদেশি সেনা প্রত্যাহারের দাবি উঠেছিল।
আজ সেই দাবির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ বাস্তবে পরিণত হয়েছে। ফলে ইরান ও তার মিত্ররা স্বাভাবিকভাবেই এটিকে একটি কৌশলগত ও মনস্তাত্ত্বিক সাফল্য হিসেবে তুলে ধরছে। যে ইরাক একসময় মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার অন্যতম প্রধান সামরিক ঘাঁটি ছিল, সেখান থেকেই এখন মার্কিন সেনারা চলে গেছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরাক ২০২৪ সালেই মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক মিশন শেষ করার সময়সূচি নির্ধারণ করেছিল। ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে যুদ্ধের পরিস্থিতি বদলে যাওয়ায় সৈন্য প্রত্যাহারের অন্যতম কারণ বলে জানায় ।
তারপরও এর রাজনৈতিক বার্তা অস্বীকার করার উপায় নেই। ইরাকে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি দীর্ঘদিন ধরে ইরানের আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের অন্যতম প্রধান প্রতিবন্ধক ছিল। সেই উপস্থিতি এখন শেষ হওয়ায় তেহরানের প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্র কিছুটা প্রশস্ত হয়েছে।
অন্যদিকে আমেরিকার জন্য ইরাকের অভিজ্ঞতা একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। সামরিক শক্তি দিয়ে একটি সরকার উৎখাত করা সম্ভব হলেও দীর্ঘমেয়াদে একটি অঞ্চলের রাজনৈতিক বাস্তবতা নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত কঠিন। বিপুল সামরিক ব্যয় ও প্রাণহানির পর শেষ পর্যন্ত সেনা প্রত্যাহার প্রমাণ করে, মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী সামরিক উপস্থিতির সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
তবে প্রতীকী অর্থে ইরাক থেকে আমেরিকার প্রস্থান ইরানের জন্য নিঃসন্দেহে একটি বড় অর্জনের ছবি তৈরি করেছে। সোলায়মানি হত্যার পর যে দাবিটি তেহরান সামনে এনেছিল, মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির অবসান- তার অন্তত একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় আজ বাস্তব রূপ পেয়েছে।
এখন প্রশ্ন, এই পরিবর্তিত বাস্তবতায় ইরান তার প্রভাব কতটা কাজে লাগাতে পারে এবং ইরাক নিজস্ব সার্বভৌমত্ব ও স্থিতিশীলতা কতটা ধরে রাখতে পারে। কারণ আমেরিকার প্রস্থান যেমন ইরানের জন্য সুযোগ তৈরি করেছে, তেমনি এর পরবর্তী রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাগত ফলাফলও হবে মধ্যপ্রাচ্যের নতুন পরীক্ষার বিষয়।
লেখক: মোহা: খোরশেদ আলম, সম্পাদক, মুক্তসংবাদ প্রতিদিন
ইরাক থেকে আমেরিকার প্রস্থান: ইরানের কৌশলগত বিজয়!
আকাশ ও সমুদ্রসহ তিনদিক থেকে পরমাণু হামলার প্রস্তুতি চীনের, বাড়ছে আঞ্চলিক উদ্বেগ
চীনা সেনাবাহিনী ঢুকে পড়েছে ভারতের ভূখণ্ডে
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের নতুন সমীকরণ: বাস্তবতা, ভারসাম্য ও ভবিষ্যতের কূটনীতি
দক্ষিণ এশিয়ায় ভারত হচ্ছে আঞ্চলিক নিরাপত্তার সবচেয়ে বড় হুমকি
ট্রাম্পের চীন সফর, ইরান সংকট ও বদলে যাওয়া বিশ্ব ভূ-রাজনীতির হিসাব
‘হলদে পাহাড়ের গুহা’ থেকে ‘গ্রেট হল’- প্রেসিডেন্ট সির উত্থানের বিস্ময়কর গল্প
ইরানি তেল আমদানিকারক চীনা কোম্পানিগুলোর ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ইঙ্গিত দিয়েছে ট্রাম্প
সামরিক প্রধানের সঙ্গে খামেনির বৈঠকের পর শত্রু মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান
হামলা-পাল্টা হামলার মধ্যেই ইরানে ৪ দশমিক ৩ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত
আগামী ১লা মার্চ ২০২৬ এগিয়ে চল সংঘের প্রকাশনা মঞ্চের নবম বার্ষিক সাধারণ সভা
যুক্তরাষ্ট্র যে কোন সময় ইরানে হামলা চালাতে পারে