মোহাঃ খোরশেদ আলম, সম্পাদক ও প্রকাশক, মুক্তসংবাদ প্রতিদিন ৩১ অক্টোবার ২০২৬ ১২:৪৯ পি.এম
খোরশেদ আলম: আসন্ন ৩ নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে আবারও যুদ্ধের দামামা বেজে উঠেছে। বিশ্বস্ত সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ওয়াশিংটন ও তেল আবিব যৌথভাবে ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে একটি স্বল্পমেয়াদি কিন্তু তীব্র সামরিক অভিযানের ছক কষছে। এই সম্ভাব্য অভিযানের বিষয়ে উপসাগরীয় আরব মিত্রদের ইতিমধ্যে সতর্কও করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো চূড়ান্ত নির্দেশ দেননি। ফলে এই সামরিক প্রস্তুতিকে এখনই আসন্ন যুদ্ধের নিশ্চিত ঘোষণা বলার চেয়ে, এর পেছনের ভূরাজনৈতিক ও মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমীকরণটি তলিয়ে দেখা জরুরি।
প্রশ্ন উঠছে—এই শক্তির প্রদর্শন কি কেবলই কৌশলগত নিরাপত্তাজনিত হিসাব, নাকি ট্রাম্পের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ সামলানোর একটি সুদূরপ্রসারী কৌশল? মধ্যবর্তী নির্বাচন সরাসরি হোয়াইট হাউসের ক্ষমতা পরিবর্তন না করলেও, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ এবং প্রশাসনের নৈতিক গ্রহণযোগ্যতা নির্ধারণে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ট্রাম্প অতীতেও ইরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের নীতি দেখিয়েছেন, আবার সংঘাতের মাত্রা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টাও করেছেন। তবে এবারের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে মার্কিন অভিযানে যেভাবে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসা হয়েছে, তা আন্তর্জাতিক আইন এবং রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব নিয়ে বিশ্বমঞ্চে বড় ধরনের বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এই একতরফা নীতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ওয়াশিংটনের নৈতিক অবস্থানকে কিছুটা হলেও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
তাছাড়া, সামরিক শক্তি দিয়ে অবকাঠামো ধ্বংস করা সম্ভব হলেও, একটি রাষ্ট্রের রাজনৈতিক প্রতিরোধ ক্ষমতা ভেঙে দেওয়া সহজ নয়। তেহরানের হাতে থাকা ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা, আঞ্চলিক প্রক্সি নেটওয়ার্ক এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। রাশিয়া ও চীনের মতো প্রতিদ্বন্দ্বী রাষ্ট্রগুলোর সাথে ইরানের অস্ত্র ও প্রযুক্তিগত কৌশলগত সমীকরণ এই সংঘাতকে দ্বিপক্ষীয় গণ্ডি থেকে বের করে একটি বহুমাত্রিক রূপ দিতে পারে।
যুদ্ধ কখনোই কোনো দেশের জন্য স্থায়ী নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেয় না, বরং এর মানবিক মূল্য ও অর্থনৈতিক ক্ষতি দীর্ঘমেয়াদে বহন করতে হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৃত শক্তি কেবল তার সামরিক সক্ষমতায় নয়; বরং তার গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান, অর্থনৈতিক সামর্থ্য এবং আন্তর্জাতিক আস্থার মধ্যে নিহিত। শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত আমেরিকার জনগণকেই নিতে হবে- তারা কি সংঘাতনির্ভর পররাষ্ট্রনীতি চান নাকি কূটনীতি ও দেশের অভ্যন্তরীণ উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেবেন। মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য সেই রাজনৈতিক বার্তারই একটি বড় পরীক্ষা হতে যাচ্ছে।
কলাম লেখক: মোহাঃ খোরশেদ আলম
সম্পাদক ও প্রকাশক মুক্তসংবাদ প্রতিদিন
নির্বাহী সম্পাদক, হিউম্যান রাইটস এন্ড এনভায়রমেন্ট ডেভোলপমেন্ট সোসাইটি(হিডস)
ইরানে মার্কিন হামলার হুঁশিয়ারি: ট্রাম্পের শক্তির প্রদর্শন নাকি অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ঢাল?
ইরাক থেকে আমেরিকার প্রস্থান: ইরানের কৌশলগত বিজয়!
আকাশ ও সমুদ্রসহ তিনদিক থেকে পরমাণু হামলার প্রস্তুতি চীনের, বাড়ছে আঞ্চলিক উদ্বেগ
চীনা সেনাবাহিনী ঢুকে পড়েছে ভারতের ভূখণ্ডে
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের নতুন সমীকরণ: বাস্তবতা, ভারসাম্য ও ভবিষ্যতের কূটনীতি
দক্ষিণ এশিয়ায় ভারত হচ্ছে আঞ্চলিক নিরাপত্তার সবচেয়ে বড় হুমকি
ট্রাম্পের চীন সফর, ইরান সংকট ও বদলে যাওয়া বিশ্ব ভূ-রাজনীতির হিসাব
‘হলদে পাহাড়ের গুহা’ থেকে ‘গ্রেট হল’- প্রেসিডেন্ট সির উত্থানের বিস্ময়কর গল্প
ইরানি তেল আমদানিকারক চীনা কোম্পানিগুলোর ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ইঙ্গিত দিয়েছে ট্রাম্প
সামরিক প্রধানের সঙ্গে খামেনির বৈঠকের পর শত্রু মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান
হামলা-পাল্টা হামলার মধ্যেই ইরানে ৪ দশমিক ৩ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত
আগামী ১লা মার্চ ২০২৬ এগিয়ে চল সংঘের প্রকাশনা মঞ্চের নবম বার্ষিক সাধারণ সভা
যুক্তরাষ্ট্র যে কোন সময় ইরানে হামলা চালাতে পারে