a
ফাইল ছবি
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট বিদায় বলতে যাচ্ছেন জিম্বাবুয়ের তারকা ক্রিকেটার ব্রেন্ডন টেলর। ৩৫ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার আর একটি ওয়ানডে খেলেই বিদায় জানাবেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে। অবসরের সিদ্ধান্তের বিষয়টি জানিয়েছেন টেলর নিজেই।
জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় টেলর জানান, আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেই হবে তার ক্যারিয়ারের সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ।
গত সোমবার (১৩ সেপ্টেম্বর) স্বাগতিক আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে মাঠে নামবে জিম্বাবুয়ে। এই ম্যাচে ১১০ রান করতে পারলে টেলর বনে যাবেন ওয়ানডেতে দেশের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক।
ইনস্টাগ্রাম বার্তায় টেলর বলেন, ‘অনেক ভারাক্রান্ত হৃদয় নিয়ে বলতে হচ্ছে, আগামীকাল আমার প্রিয় দেশের হয়ে শেষ ম্যাচটি খেলব। এটা আমাকে বিনয়ী হতে সহায়তা করেছে, আমাকে মনে করিয়ে দিয়েছে এই পর্যায়ে থাকতে পেরে আমি কতটা ভাগ্যবান। ২০০৪ সালে প্রথম যখন খেলতে নামি, তখন থেকেই আমার লক্ষ্য ছিল দলকে ভালো অবস্থানে রাখা। আশা করি আমি এটা করতে পেরেছি।’
টেলর আরও বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে যে বন্ধুত্বগুলো হয়েছে তাতে আমি কৃতজ্ঞ। আমাকে সুযোগ দেওয়ার জন্য জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটকে ধন্যবাদ। আমার সাবেক-বর্তমান কোচ ও সতীর্থদের হৃদয়ের অন্তঃস্থল থেকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আমি তোমাদের কখনই ভুলব না।’
এছাড়াও স্ত্রী-সন্তানদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে টেলর লিখেছেন, ‘এয়ারপোর্টে আর মন খারাপ করতে হবে না।’ ২০০৪ সালের এপ্রিলে ওয়ানডে ক্রিকেট দিয়ে জিম্বাবুয়ের হয়ে অভিষেক হয় টেলরের। ১৭ বছরের ক্যারিয়ারে তিনি খেলেছেন ৩৪টি টেস্ট, ২০৪টি ওয়ানডে, ৪৫টি টি-টোয়েন্টি। বাংলাদেশের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্ট ও পাকিস্তানের বিপক্ষে সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি খেলা টেলর অবসর নেবেন ২০৫টি ওয়ানডে খেলে।
ফাইল ছবি
চলতি মাসের ২১ তারিখ থেকে শুরু হতে যাওয়া শ্রীলঙ্কা-বাংলাদেশ দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজের আন্তর্জাতিক ধারাভষ্যকার, আম্পায়ার ও ম্যাচ রেফারির তালিকা প্রকাশ করেছে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট (এসএলসি)। আজ (১৮ এপ্রিল) এসএলসি’র দেওয়া সংবাদ বিজ্ঞপ্তি মোতাবেক ধারাভাষ্যকার হিসেবে বাংলাদেশ একমাত্র ধারাভাষ্যকার হিসেবে থাকছেন শামীম আশরাফ চৌধুরী। করোনার কারনে সীমিত করা হয়েছে ধারাভাষ্য প্যানেল সেই হিসেবে বাংলাদেশী দর্শকরা আতাহার আলীর কন্ঠ শুনতে পাবে না এই সিরিজে।
সিরিজে আম্পায়ার ও ম্যাচ রেফারির দায়িত্বে থাকা সবাই শ্রীলঙ্কান। মূলত করোনা ভাইরাস প্রভাবে গত বছর থেকেই আইসিসি নিরপেক্ষ আম্পায়ার ও ম্যাচ রেফারি নিয়োগের ক্ষেত্রে নিয়ম বেধে দিয়েছে।
সিরিজে ম্যাচ রেফারির দায়িত্ব পালন করবেন ইতোমধ্যে ১৯৭ টি টেস্ট পরিচালনার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন রঞ্জন মাদুগালে। মাঠের আম্পায়ারের দায়িত্বে থাকবেন কুমার ধর্মসেনা ও রুচিরা পল্লিয়াগুরুগে।
টিভি আম্পায়ারের ভূমিকায় দেখা যাবে রবীন্দ্র উইমালাসিরিকে। চতুর্থ আম্পায়ার হিসেবে থাকছেন লিন্ডোন হ্যানিবাল (১ম টেস্ট), প্রগিত রাম্বুকওয়েলা (২য় টেস্ট)। রিজার্ভ আম্পায়ার প্রগিত রাম্বুকওয়েলা (১ম টেস্ট), লিন্ডোন হ্যানিবাল (২য় টেস্ট) ও রিজার্ভ ম্যাচ রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পাচ্ছেন গ্রেইম লেব্রয়।
সিরিজে টিভি ধারাভাষ্যকার হিসেবে থাকছেন সুপরিচিত ধারাভাষ্যকার সাবেক লঙ্কান ক্রিকেটার রাসেল আরনল্ড, পারভেজ মারুফ, লঙ্কান জনপ্রিয় ধারাভাষ্যকার রোশান আবেসিংহে, পাকিস্তানি সাবেক ক্রিকেটার আমির সোহেল ও একমাত্র বাংলাদেশি ধারাভাষ্যকার শামীম আশরাফ।
দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজের প্রথমটি মাঠে গড়াবে ২১ এপ্রিল-২৫ এপ্রিল, দ্বিতীয় ও শেষ ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে ২৯ এপ্রিল-৩ মে। ম্যাচ দুইটি করোনার কারনে একই ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে।
ফাইল ছবি
মুসলিম উম্মাহর বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা আজ। বৈশ্বিক করোনা মহামারির মধ্যে ভিন্ন মাত্রা ও আবহে এ বছর আসছে এই ঈদ। করোনার প্রভাব ঈদ পালনের অনুষঙ্গগুলোর ছন্দপতন ঘটাচ্ছে। উৎসবের সেই রোশনাই, বর্ণচ্ছটা ম্রিয়মাণ হয়ে আছে। মুসলিম জাতির পিতা হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর আত্মত্যাগ ও অনুপম আদর্শের প্রতীকী নিদর্শন হিসেবে কোরবানির রেওয়াজ।
পবিত্র হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, প্রতি বছর জিলহজ মাসের ১০ তারিখে বিশ্ব মুসলিম ময়দানে নামাজ আদায়ের পর যার যা সাধ্য ও পছন্দ অনুযায়ী পশু কোরবানি দিয়ে থাকেন। আরবি আজহা এবং কোরবান উভয় শব্দের অর্থ হচ্ছে উত্সর্গ। কোরবানি শব্দের উত্পত্তিগত অর্থ হচ্ছে আত্মত্যাগ, আত্মোৎসর্গ, নিজেকে বিসর্জন, নৈকট্য লাভের চেষ্টা, অতিশয় নিকটবর্তী হওয়া প্রভৃতি।
সুরা হাজ্জে বলা হয়েছে, ‘এগুলোর (কোরবানির পশুর) গোশত ও রক্ত আল্লাহর কাছে পৌঁছায় না, কিন্তু তোমাদের তাকওয়া পৌঁছে যায়।’ আল্লাহর বান্দারা কে কতটুকু ত্যাগ ও খোদাভীতির পরিচয় দিতে প্রস্তুত এবং আল্লাহপাকের নির্দেশ পালন করেন তিনি তা-ই প্রত্যক্ষ করেন কেবল। প্রত্যেক আর্থিক সামর্থ্যবান মুসলমানের ওপর কোরবানি করা ওয়াজিব। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি সামর্থ্য থাকার পরও কোরবানি দিল না, সে যেন আমার ঈদগাহে না আসে (মুসনাদে আহমদ)। আল কোরআনের সুরা কাউসারে বলা হয়েছে, ‘অতএব, তোমার পালনকর্তার উদ্দেশে নামাজ পড়ো এবং কোরবানি করো।’ সুরা হাজ্জে বলা হয়েছে, ‘কোরবানি করার পশু মানুষের জন্য কল্যাণের নির্দেশনা।’
জিলহজ মাসের ১০, ১১ ও ১২ তারিখের যে কোনো এক দিন কোরবানি করা যায়। কোরবানিকৃত পশুর তিন ভাগের এক ভাগ গরিব-মিসকিন, এক ভাগ আত্মীয়স্বজনের মধ্যে বিলিয়ে দেওয়ার বিধান আছে। আবার পুরোটাই বিলিয়ে দেওয়া যায়। এদিকে ৯ জিলহজ ফজরের নামাজের পর থেকে ১৩ জিলহজ আসর পর্যন্ত প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর তাকবিরে তালবিয়াহ পাঠ করা ওয়াজিব। তালবিয়াহ হলো, ‘আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়ালিল্লাহিল হামদ।’
হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, প্রত্যেক জাতির বাৎসরিক আনন্দ-ফুর্তির দিন আছে। এই দিনে ধনী-গরিব, বাদশা-ফকিরনির্বিশেষে সব মুসলমান এক কাতারে ঈদের নামাজ আদায় করে, একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি করে। ঈদ মুসলিম উম্মাহর জাতীয় উত্সব। আজ থেকে ঈদুল আজহা উপলক্ষে তিন দিনের সরকারি ছুটি শুরু হয়েছে।
দেশবাসীকে পবিত্র ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানিয়ে বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, জাতীয় পার্টি-জেপির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা এ উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।