a
ফাইল ছবি
অক্টোবরে অনুষ্ঠেয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য আজ বৃহস্পতিবার দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। ১৫ সদস্যের দলের সাথে স্ট্যান্ডবাই হিসেবে রাখা হয়েছে ২ জন ক্রিকেটারকে।
বিশ্বকাপে তামিম নেই, এবারই প্রথম। তামিমকে ছাড়া এই দল। উল্লেখযোগ্য চমক তরুণ শামীম হোসেনের অন্তর্ভুক্তি। মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে দল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন।
শামীম ছাড়া প্রথমবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছেন আরো কয়েকজন। তারা হলেন- লিটন কুমার দাস, মোহাম্মদ নাঈম শেখ, আফিফ হোসেন, মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন, শরিফুল ইসলাম, শেখ মেহেদি হাসান ও নাসুম আহমেদ।
চলতি নিউজিল্যান্ড সিরিজের দল থেকে বিশ্বকাপ দলে ঠাঁই পাননি মোসাদ্দেক হোসেন, রুবেল হোসেন, তাইজুল ইসলাম ও আমিনুল ইসলাম বিপ্লব। তবে রুবেল ও আমিনুল ইসলাম দলের সাথে যাবেন স্ট্যান্ডবাই হিসেবে।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রথম রাউন্ডে বাংলাদেশ খেলবে ওমানে। গ্রুপ ‘বি’-তে বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ ১৭ অক্টোবর, স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে। পরের দুই ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ওমান ও পাপুয়া নিউ গিনি।
বাংলাদেশের বিশ্বকাপ দল : মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ (অধিনায়ক), সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, সৌম্য সরকার, লিটন কুমার দাস, আফিফ হোসেন ধ্রুব, নাইম শেখ, নুরুল হাসান সোহান, শামীম হোসেন পাটোয়ারী, মোস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, শরিফুল ইসলাম, শেখ মেহেদী হাসান ও নাসুম আহমেদ।
স্ট্যান্ডবাই : রুবেল হোসেন ও আমিনুল ইসলাম বিপ্লব।
ফাইল ছবি
বাংলাদেশের কাছে হার মানল ওমান। ২৬ রানে জিতল বাংলাদেশ। ওমানের আল আমেরাতে মঙ্গলবারের ম্যাচে সৌম্য সরকারকে বসিয়ে ওপেনিংয়ে নাঈম শেখকে নামাল বাংলাদেশ টিম ম্যানেজমেন্ট।
আর নির্বাচকদের পরিকল্পনার সুবিচার করলেন নাঈম। তার ৫০ বলে ৬৪ রানের অনবদ্য ইনিংসে ভর করে ১৫৩ রানের লড়াকু পুঁজি পায় বাংলাদেশ।
আর ১৫৪ রানের তাড়ায় দুর্দান্ত ব্যাটং করে বাংলাদেশকে চাপে রেখেছিল ওমানের ব্যাটাররা।
১৬ ওভার শেষে ৫ উইকেটে ১০৪ রান করে জয়ের পথে অনেকটাই এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। বাংলাদেশের আকাশে জমা কালো মেঘে দূর করে দেয় বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান।
এক ওভারেই নেয় দুটি উইকেট। ১৭তম ওভারে সাকিবের ৪র্থ ও ৫ম ডেলিভারিতে আউট হয়ে যায় ওমানের আয়ান খান ও নাসিম খুশি। খেলায় ফেরে বাংলাদেশ। এরপর সাকিবকে অনুসরণ করে মোস্তাফিজুর রহমান। মোস্তাফিজও দুটি উইকেট নিলে ওমানের জয়ের আশা ক্ষীণ হয়ে যায়।
ব্যাটিংয়ের মতো বোলিংয়েও বাংলাদেশের শুরুটা ভালো হয়নি। তাসকিন আর মোস্তাফিজ মিলে ২ ওভারেই দেয় ৯টি অতিরিক্ত রান। মোস্তাফিজ এক ওভারেই করে ৫টি ওয়াইড। মাহমুদউল্লাহ ছাড়ে ক্যাচ।
সব মিলিয়ে দুর্বল ওমানের বিপক্ষে বাংলাদেশ দলটিকে খুব অচেনাই লাগছিল সবার। শেষ দিকে বোলিংয়ে সাকিব-মোস্তাফিজ জ্বলে না উঠলে বিদায় ঘণ্টা বেজে যেত মাহমুদউল্লাহ বাহিনীর। ১৬তম ওভার শেষে জয়ের জন্য ওমানের সমীকরণ ছিল ২৪ বলে ৫০ রান। হাতে পাঁচটি উইকেট।
এ সময়ে দলের ত্রাতা হয়ে আসেন অলরাউন্ডার সাকিব। মাত্র ৩ রান দিয়ে নেন ২ উইকেট। পরের ওভারে মোস্তাফিজুর ৫ রান দিয়ে নেন ২ উইকেট।
এতে খেলার চিত্রটাই পাল্টে মাহমুদউল্লাহর হাতে চলে আসে। শেষ ৬ বলে ওমানের প্রয়োজন পড়ে ৩৯ রানের। অথচ ৯ উইকেট হারিয়ে ফেলে ইতোমধ্যে।
ওভারের পঞ্চম বলে মোস্তাফিজকে নাদিম ছক্কা হাঁকালেও তা জয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল না। ২৬ রানে জয় নিয়ে বিশ্বকাপের সুপার টুয়েলভে ওঠায় টিকে থাকলো বাংলাদেশ।
এর আগে ব্যাট করতে নেমে ওমানের মতো দলের বিপক্ষে ২১ রানে ২ উইকেট হারিয়ে কোণঠাসা হয়ে পড়ে বাংলাদেশ দল। সেই অবস্থা থেকে দলকে খেলায় ফেরান ওপেনার মোহাম্মদ নাঈম।
তৃতীয় উইকেটে সাকিব আল হাসানের সঙ্গে গড়েন ৮০ রানের জুটি। দলীয় ১০১ রানে রানআউট হয়ে ফেরেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব। তার আগে ২৯ বলে ৬টি চারের সাহায্যে করেন ৪২ রান।
ব্যাটিংয়ে প্রমোশন নিয়ে চারে খেলতে নেমে কাজের কাজ কিছুই করতে পারেননি নুরুল হাসান সোহান। চার বলে মাত্র ৩ রান করে ফেরেন তিনি।এরপর একাই লড়াই চালিয়ে যান নাঈম শেখ। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে সৌম্যর কারণে একাদশে জায়গা হয়নি নাঈমের।
বাঁচা-মরার লড়াইয়ের ম্যাচে ওমানের বিপক্ষে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু থেকেই বেশ সাবধানি ব্যাটিং করেন নাঈম শেখ। তার দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ের কারণেই ১৫৩ রান তুলতে সমর্থ হয় বাংলাদেশ দল।
তবে শেষ চার ওভারে ৬ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। একের পর এক উইকেট পতনের কারণে শেষ ২৪ বলে ৩৩ রানের বেশি করতে পারেনি বাংলাদেশ দল।
ওপেনিংয়ে ব্যাটিংয়ে নেমে ইনিংসের ১৬.৪ ওভারে ক্যাচ তুলে দিয়ে ফেরে মোহাম্মদ নাঈম শেখ। ৫০ বলে ৩টি চার ও ৪টি ছক্কায় করে হয় ৬৪ রান।
ফাইল ছবি
গত ১৫ আগস্ট আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল দখল করে নেয় তালেবান। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ২০ বছর পর দেশটির পুরো নিয়ন্ত্রণ নেয় বিদ্রোহী গোষ্ঠী তালেবান।
আর তালেবান কাবুল দখলের আগেই আফগানিস্তান ছেড়ে পালায় মার্কিন মদতপুষ্ট দেশটির প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি। এরপর হঠাৎ করেই দেশটির পরিস্থিতি পুরোপুরি পাল্টে যায়। আফগানিস্তানের মাটি ছেড়ে পালাতে থাকে বিদেশি সব সৈন্য ও নাগরিকরা।
আফগানিস্তানের এই পরিস্থিতিকে নিম্নোক্তভাবে মূল্যায়ন করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।
তিনি বলেছেন, আমেরিকা গত ২০ বছর ধরে নিজের মূল্যবোধগুলোকে আফগানিস্তানের জনগণের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছে কিন্তু ওয়াশিংটনের কপালে পরাজয় ও বিপর্যয় ছাড়া আর কিছুই জোটেনি।
বুধবার রাশিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় ভ্লাদিভস্তকে স্কুলের নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর একটি অনুষ্ঠানে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
পুতিন বলেন, এই যুদ্ধের মধ্য দিয়ে এটা প্রমাণিত হলো- কোনও মূল্যবোধ অন্য কোনও জাতির ওপর চাপিয়ে দেওয়া যায় না। আফগানিস্তানে আমেরিকার হস্তক্ষেপ ত্রুটিপূর্ণ ছিল বলেও মন্তব্য করেন।
রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন, মার্কিন বাহিনী গত ২০ বছরে আফগানিস্তানের জনগণের জীবন-যাপনে পরিবর্তন আনার চেষ্টা করেছে। মার্কিনিরা আফগানদের ওপর নিজেদের নিয়মকানুন ও জীবনযাপনের আদর্শ জোর করে চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছে।
তিনি বলেন, এর ফলাফল হিসেবে এসেছে বিপর্যয়। আর আমেরিকার হয়ে যারা কাজ করেছেন তারা প্রাণ হারিয়েছেন। আর এই যুদ্ধে আমেরিকার অর্জন শূন্য।
পুতিন আফগানিস্তান ইস্যুতে এর আগেও বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কথা বলেছেন। তিনি বলেছিলেন, আফগানদের মতো কোনও জাতির সঙ্গে কাজ করতে গেলে তাদের ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং দর্শন আমলে নেওয়া অবশ্যই জরুরি।