a
ফাইল ছবি
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এ বি এম খুরশীদ আলম জানিয়েছেন, ১৮ বছরের কম বয়সীদের আপাতত টিকা দেওয়া হচ্ছে না। তবে বিষয়টি এখনো আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। এ ছাড়া সিটি করপোরেশনের স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থীদেরও টিকা দেওয়ার ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
আজ মঙ্গলবার সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) ভবনে কোভ্যাক্স থেকে পাওয়া ফাইজারের টিকা সংরক্ষণের সক্ষমতা পরিদর্শন শেষে তিনি এ তথ্য জানান।
ডা. এ বি এম খুরশীদ আলম বলেন, ফাইজারের টিকা এবার ঢাকা ছাড়াও বড় বিভাগীয় শহর ও জেলা পৌরসভায় দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রশিক্ষণ ও প্রস্তুতি শেষ করে অচিরেই দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে ৮২ লাখ টিকা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে দৈনিক ৫ লাখ করে টিকা দেওয়া হচ্ছে। সে হিসেবে সপ্তাহে দেওয়া হচ্ছে ৩০ লাখ এবং মাসে এক কোটি ২০ লাখ টিকা দেওয়া হচ্ছে। এভাবে দিলেও দ্রুত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী সব মানুষকে টিকার আওতায় আনা সম্ভব।
এ সময় বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল আর মিলারসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সূত্র: কালের কন্ঠ
ছবি: মুক্তসংবাদ প্রতিদিন
সাইফুল আলম, ঢাকা: তামাকজাত পণ্যের দ্রুত কর ও মূল্য বৃদ্ধির দাবী জানিয়েছে স্বাস্থ্য সুরক্ষা ফাউন্ডেশন। বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী, সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাব এর তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলরুমে, “জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় আসন্ন ২০২৫-২৬ বাজেটে তামাকজাত পণ্যের কর ও মূল্য বৃদ্ধির আবশ্যকতা” শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবী জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে তামাকজাত পণ্যের কার্যকর করারোপ এবং মূল্য বৃদ্ধির যৌক্তিক দাবী তুলে ধরা হয়। বর্তমানে বাজারে নিম্ন, মধ্যম, উচ্চ, ও অতি উচ্চ- এই চার স্তরের সিগারেট বিক্রি হচ্ছে। আসন্ন অর্থবছরে নিম্ন ও মধ্যম- এই দুটি স্তরকে একিভূত করে একটি নতুন স্তর তৈরি করে মোট স্তরের সংখ্যা তিনটিতে নামিয়ে আনা। এই নতুন তিন স্তরের সিগারেটের দশ-শলাকার একেকটি প্যাকেটের দাম যথাক্রমে ৯০ টাকা, ১৪০ টাকা, ও ১৯০ টাকা ধার্য করার প্রস্তাব করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে, স্বাস্থ্য সুরক্ষা ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক এবং গ্লোবাল এলায়েন্স ফর ভ্যাক্সিন অ্যান্ড ইনিশিয়েটিভ (গ্যাভী), চেয়ার, ডাঃ নিজাম উদ্দীন আহম্মেদ, তামাকজাত পণ্যে ব্যবহারের কিছু ক্ষতিকর দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, টোব্যাকো এটলাস ২০১৮-এর তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে তামাক ব্যবহারজনিত রোগে প্রতিবছর প্রায় ১ লাখ ৬১ হাজার মানুষ অকাল মৃত্যুবরণ করেন। সে হিসেবে প্রতিদিন ৪৪২টি প্রাণ অকালে ঝরে যাচ্ছে। তামাকের কারণে বিভিন্ন রোগ যেমন- হৃদ্রোগ, ফুসফুস, ডায়াবেটিস, দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসরোগ, ক্যান্সার, কিডনি রোগ এবং আঘাতজনিত রোগ ক্রমেই বাড়ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তথ্য মতে, তামাকজাত পণ্য ব্যবহারের ফলে সৃষ্ট রোগের কারনে তরুণ প্রজন্মের ছেলে মেয়েরা অকালেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পরছে। এই অকাল মৃত্যু হ্রাসে বর্তমান সরকারকে এখনই তামাকজাত পণ্যের উপর কার্যকর করারোপ এবং মূল্য বৃদ্ধি করতে হবে।
স্বাস্থ্য সুরক্ষা ফাউন্ডেশনের পলিসি অ্যাডভাইজর ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন, জনস্বাস্থ্য রক্ষায় যেখানে তামাকপণ্যের উপর কার্যকর করারোপ করা জরুরি সেখানে তামাক কোম্পানিগুলোর নানা রকম মিথ্যাচার এটিকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে। তামাকপণ্যের উপর অতিরিক্ত করারোপ এবং দাম বৃদ্ধি করলে সরকারের রাজস্ব কমে যাবে বলে তামাক কোম্পানি প্রচারণা চালাচ্ছে, যা মোটেও যুক্তিসংগত নয়।
তিনি আরও বলেন, আসন্ন ২০২৫-২৬ বাজেটে তামাকপণ্যের উপর কার্যকর করারোপ এবং দাম বৃদ্ধি করা হলে ৬৯ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয় করা সম্ভব, ১৭ লক্ষ্য মৃত্যু রোধ করা সম্ভব, ২৪ লক্ষ্য প্রাপ্তবয়স্ক মানুষকে ধূমপান থেকে বিরত রাখা সম্ভব এবং ১৭ লক্ষ্য তরুণকে ধূমপান শুরু করা থেকে বিরত রাখা সম্ভব। গ্লোবাল ইয়ুথ টোব্যাকো জরিপের তথ্যমতে ১৩ থেকে ১৫ বছর বয়সীদের মধ্যে ভারত, ইন্দোনেশিয়া এবং বাংলাদেশে ধূমপান আসক্ত কিশোর-কিশোরীর হার সবচেয়ে বেশি। বাংলাদেশে প্রায় ১২ শতাংশ কিশোর-কিশোরী নিয়মিত ধূমপানে আসক্ত। তাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষায় আসন্ন ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তামাকজাত পণ্যের কর ও মূল্য বৃদ্ধির কোন বিকল্প নেই।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এন্টি টোব্যাকো ক্লাবের প্রেসিডেন্ট, মুতাসিম বিল্লাহ (মাসুম), তরুণ প্রজন্মকে আহ্বান করেন তামাকজাত পণ্য ব্যবহার করা থেকে বিরত থকার জন্য এবং তিনি বাংলাদেশ সরকারকে অনুরোধ করেন আসন্ন ২০২৫-২৬ বাজেটে তামাকজাত পণ্যের উপর কর ও মূল্য বৃদ্ধি করে তরুণ প্রজন্মকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য।
এই সংবাদ সম্মেলনের মধ্যে দিয়ে জীবন রক্ষায় তামাকজাত পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি এবং কার্যকর করারোপ করার দাবী জানানো হয় এবং তামাক বিরোধী কার্যক্রমকে সুদূঢ় করতে বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার দাবী জানানো হয়।
সংগৃহীত ছবি
‘মানবকেন্দ্রিক পুনরুদ্ধারের জন্য সাক্ষরতা : ডিজিটাল বিভাজন কমিয়ে আনা’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সারাবিশ্বে উদযাপিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস।
আজ বুধবার (৮ সেপ্টেম্বর) সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।
রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে দেশের বিশাল কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে যথাযথ শিক্ষা প্রদানের মাধ্যমে দক্ষ জনসম্পদে পরিণত করে বাংলাদেশকে উন্নয়নের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে এক যোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
অপরদিকে, প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার দেশের নিরক্ষর জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে সাক্ষরতা ও জীবনমুখী দক্ষতা বৃদ্ধিতে বহুমুখী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।
প্রতিবারের ন্যায় এবারও সারাবিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশেও দিবসটি যথাযথভাবে পালন করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এই বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, দিবস উপলক্ষ্যে প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে দিবসটির উদ্বোধন করবেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ইউনেস্কো মহাপরিচালকের বক্তব্য পেশ করা হবে।
এছাড়াও দিবস উপলক্ষে আলোচনা অনুষ্ঠান, ক্রোড়পত্র প্রকাশ, গোলটেবিল বৈঠক, বাংলাদেশ টেলিভিশনে টক-শো অনুষ্ঠান করা হবে। পাশাপাশি দেশের প্রত্যেক জেলা প্রশাসক স্বাস্থ্যবিধি মেনে আলোচনা সভা করবেন। এ কারণে উপানুষ্ঠনিক প্রাথমিক ব্যুরো বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এছাড়া দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোও দিবসটি পালন করবে।