a
ফাইল ছবি
দেশে এক দিনে ডেঙ্গুতে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে রেকর্ড ৭১২ ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম এ তথ্য জানিয়েছে।
শনিবার বিকেলে পাঠানো কন্ট্রোল রুমের সর্বশেষ তথ্যে বলা হয়েছে, গতকাল শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে আজ শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ৭১২ ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এ বছর একদিনে এত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হতে দেখা যায়নি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুয়াযী, এ বছর ২০ হাজার ২৩৫ ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এবং ডেঙ্গুতে ৬৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। সূত্র: ইত্তেফাক
ফাইল ছবি
ঋতু পরিবর্তনে জ্বর সর্দি কাশি সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ছে এবং শিশু, গর্ভবতী মাসহ সব বয়সিকে কাবু করছে ভাইরাল ইনফ্লুয়েঞ্জা। রাজধানী থেকে প্রত্যন্ত গ্রামে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা কমলেও চিন্তা বাড়াচ্ছে মৌসুমি রোগটি।
চিকিৎসা কেন্দ্রগুলোতে জ্বর, সর্দি, কাশি, গায়ে-হাতে ব্যথা নিয়ে রোগীরা আসছেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষায় কিছু মানুষের করোনা ও ডেঙ্গি ধরা পড়লেও অধিকাংশই ভাইরাল ইনফ্লুয়েঞ্জায় আক্রান্ত।
কিছুতেই ছন্দে ফিরছে না আবহাওয়া। এই রোদ এই বৃষ্টি। খেয়ালি আবহাওয়ার সঙ্গে ঋতু ফাঁদে বাড়ছে সর্দি-কাশির সঙ্গে জ্বরের মতো মৌসুমি রোগ। ঘরে-বাইরে অনেকেই খুকখুক করে কাশছে। কেউবা নাক টানছে। দিনের তাপমাত্রা বাড়ছে-কমছে।
কিন্তু গভীর রাত কিংবা ভোরে ঠান্ডা বাড়ছে। সাধারণত সন্ধ্যার পর থেকে গরম-গরম ভাব দেখে অনেকেই ঘরে ফ্যান বা এসি চালিয়ে রাখছেন। রাতে ঘুমানোর সময়েও তা বন্ধ করা হয় না। ফলে গভীর রাত থেকে ভোর পর্যন্ত তাপমাত্রা আরও কমলে চট করে সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত হচ্ছেন সব বয়সি। অনেকে ঠান্ডা পানি কিংবা ফ্রিজে রাখা কোমল পানীয় খেয়েও সর্দিজ্বর ডেকে আনছেন।
এ প্রসঙ্গে একাধিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জ্বর-সর্দি-কাশির তীব্রতা থাকছে চার থেকে ১০ দিন। জ্বর সেরে গেলেও শুকনো কাশি, দুর্বলতা ভোগাচ্ছে অনেককে। অন্যান্য ইনফ্লুয়েঞ্জার মতোই এ ক্ষেত্রেও একসঙ্গে পরিবারের একাধিক সদস্য জ্বর-সর্দি-কাশিতে ভুগছেন। অনেকের গলাব্যথাও হচ্ছে। তাই রোগটি না কমা পর্যন্ত নিজেকে আলাদা করে অন্তত ৬ ফুট দূরত্ব বজায় রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। একই সঙ্গে ঘরে ও বাইরে অবশ্যই মাস্ক পরার ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করেন তারা।
প্রিভেন্টিভ মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, প্রায় এক মাস ধরে জ্বর-সর্দি-কাশির উপসর্গ নিয়ে প্রচুর রোগী চিকিৎসা নিতে আসছেন। কেউ আবার বাসায় বসে ঘরোয়া চিকিৎসা নিচ্ছেন। ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে এ উপসর্গগুলো ব্যাপক হারে দেখা দিচ্ছে। শুধু শিশু নয়, গর্ভবতী মাসহ সব বয়সিরাই এতে কাবু হচ্ছেন। ভাইরাল ইনফ্লুয়েঞ্জার কারণে করোনা-ডেঙ্গি ও ফুসফুসের রোগীদের অবস্থা জটিল হতে পারে।
এইসব রোগীর বুকের এক্সরে-সিটি স্ক্যান দেখে করোনার মতো মনে হলেও পরে দেখা যাচ্ছে তারা ভাইরাল ইনফ্লুয়েঞ্জায় আক্রান্ত। এখন হাসপাতালের আউটডোরে বেশির ভাগ শিশুই জ্বর-সর্দি-কাশি নিয়ে আসছে। হাঁচি-কাশির সঙ্গে শরীরে তীব্র ব্যথাও হচ্ছে। এক্ষেত্রে যাথযথ চিকিৎসার সঙ্গে পর্যাপ্ত পানি, ফলমূল, শাকসবজি খেতে হবে। নিজে থেকে কোনো ওষুধ বা অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া একেবারেই ঠিক হবে না। এতে সমস্যা বাড়তে পারে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল নবজাতক ইউনিটের সাবেক বিভাগীয় প্রধান শিশু বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ডা. আবিদ হোসেন মোল্লা গণমাধ্যমকে জানান, শিশুদের জ্বর-কাশি, হাঁচি-সর্দি বেশি হচ্ছে। তবে সব বয়সিদের মধ্যেই এ উপসর্গগুলো দেখা যাচ্ছে। এ ধরনের উপসর্গ নিয়ে আসা অনেক শিশুর ডেঙ্গি শনাক্ত হচ্ছে। এছাড়া অনেক রোগী ভাইরাল ইনফ্লুয়েঞ্জা নিয়ে আসছেন। এ ধরনের ইনফ্লুয়েঞ্জারও মহামারি ঘটানোর ক্ষমতা রাখে।
তিনি বলেন, লক্ষণগুলো দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। বাসায় পর্যাপ্ত তরল খাবার নিশ্চিত করতে হবে রোগী দুর্বল হলে পরিস্থিতি কঠিন হয়ে উঠতে পারে। এক-দুই দিন হলেই পরীক্ষার ব্যবস্থা করা উচিত। তবে ভাইরাল ইনফ্লুয়েঞ্জা বর্ষায় বাড়ে একইসঙ্গে ঋতু পরিবর্তনের কারণেও এমনটা হয়। এটা নিয়ে ভয়ের তেমন কোনো কারণ নেই।
ডা. আবিদ হোসেন মোল্লা বলেন, এ সময়ে বিশেষ করে শূন্য থেকে দেড়-দুই বছর বয়সি শিশুদের মধ্যে উপসর্গগুলো বেশি দেখা দিচ্ছে। তবে যেসব শিশু মায়ের দুধ খায় তাদের খুব বেশি কাবু করতে পারে না।
তিনি বলেন, অনেক শিশু চার-পাঁচ দিনের মধ্যে সুস্থ হয়ে ওঠে। তবে মনে রাখতে হবে, উপসর্গগুলো থাকলেও অনেক শিশু প্রাণচাঞ্চল্য থাকে। কিন্তু নাক দিয়ে পাতলা সর্দি পড়ে। বুকের ভেতর এক ধরনের আওয়াজ হয়। অক্সিজেন কমে যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। অক্সিজেন কমে গেলে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করাতে হবে। অভিভাবকদের ভয় পাওয়ার কারণ নেই। তিনি বলেন, শিশুর প্রতি যত্ন নিতে হবে, অবহেলা নয়। শিশুকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।
ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাজমুল হক গণমাধ্যমকে জানান, উপসর্গগুলো নিয়ে অনেক রোগী ঢামেক হাসপাতাল আউটডোরে আসছেন। নতুন ভবনের ১০ তলা পর্যন্ত করোনা রোগীর চিকিৎসা হচ্ছে। ফলে এমন উপসর্গ নিয়ে আসার পরও অনেক রোগী ভর্তি করানো যাচ্ছে না। আউটডোরে রোগীর সংখ্যা বাড়ছেই।
কার্ডিওলজি বিশেষজ্ঞ ডা. মো. তৌফিকুর রহমান জানান, জ্বর-সর্দি-কাশির উপসর্গগুলো হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদেরও কাবু করে। বিশেষ করে যাদের ডায়াবেটিস-উচ্চ রক্তচাপ থাকে তাদের ক্ষেত্রে অবস্থা কঠিন হয়। প্রচণ্ড কাশি-হাঁচির কারণে হৃদযন্ত্র বিকলও হওয়ার শঙ্কা থাকে। এজন্য সতর্ক থাকতে হবে।
গর্ভবতী মায়েদের ক্ষেত্রে জ্বর, সর্দি-কাশি বিপদ ডেকে আনতে পারে বলে জানিয়েছেন হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. তাহমিনা। তিনি জানান, ইদানীং গর্ভবতী অনেক মা জ্বর-সর্দির উপসর্গগুলো নিয়ে হাসপাতালে ও বিভিন্ন ডাক্তার চেম্বারে আসছেন। উপসর্গ ঘিরে করোনা-ডেঙ্গি হলে রোগীর জন্য চিকিৎসা দেওয়া কঠিন হয়ে ওঠে। গরমে মায়ের সঙ্গে বাচ্চাদের যত সম্ভব আরামে রাখতে হবে, বিশ্রাম নিতে হবে ঠান্ডা খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। তার মতে এসবই সুস্থ থাকার চাবিকাঠি।
চিকিৎসকরা জানান, গলাব্যথা, খুসখুস ভাব, নাক বন্ধ বা অনবরত হাঁচি, মাথাব্যথা, মাংসপেশিতে ব্যথা, শরীর ম্যাজম্যাজ, দুর্বল লাগা ও ক্ষুধামন্দা দেখা দিলে চিকিৎসা করাতে হবে। উপসর্গে সাইনাস, টনসিলে প্রদাহ হতে পারে। সতেজ ও পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ এবং পর্যাপ্ত পানি পানের পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। একই সঙ্গে আদা-লং-এলাচ-লেবু চা, তুলসী পাতা, মধু ও লেবুর রসসহ দেশীয় ফলের রস পান করার জন্যও বলা হয়েছে। সূত্র: যুগান্তর
ছবি: মুক্তসংবাদ প্রতিদিন
সাইফুল আলম, ঢাকা: বাংলাদেশের শিক্ষক সমাজের সর্ববৃহৎ এবং প্রতিনিধিত্বশীল প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশন এর পক্ষ থেকে জাতীয় প্রেসক্লাবে আজ এক সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা হয়। এই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তারা শিক্ষক-কর্মচারীদের যুক্তিক দাবীসমূহ তুলে ধরেন। যা বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা একটি নতুন গতিপথে প্রবেশ করবে।
জুলাই মাস আমাদের জাতীয় ইতিহাসে এক স্মরণীয় অধ্যায়-এক গণজাগরণের মাস। যা আমরা ‘জুলাই বিপ্লব' নামে স্মরণ করি। এই বিপ্লব ছিল একটি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-শিক্ষক জনতার অভ্যুত্থান, যার সফল পরিণতি ঘটে ৫ আগস্ট ২০২৪। আমরা বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের পক্ষ থেকে জুলাই বিপ্লবের সকল শহীদ, আহত এবং অংশগ্রহণকারীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা, সমবেদনা ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। আমরা লক্ষ্য করছি যে, অন্তর্বর্তী সরকার প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক সংস্কারের কিছু গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ গ্রহণ করলেও দেশের শিক্ষা খাত এখনো দৃশ্যমান কোনো মৌলিক সংস্কার করেনি। শিক্ষা খাতে বৈষম্য, অবহেলা ও বিশৃঙ্খলা অনেকাংশে পূর্বের ন্যায়ই বহাল রয়েছে।
শিক্ষকদের প্রতি অব্যাহত বঞ্চনা, স্বীকৃতিহীনতা, প্রায় বেতনহীন চাকরি, মূল্যায়নের অভাব এবং প্রশাসনের গড়িমসি গ্রহণযোগ্য নয়। বর্তমানে শিক্ষা খাতের যে সংকট, তা জাতীয় জীবনের ভিত্তি আদর্শ বিনষ্ট করছে। জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ ও এর সৃষ্ট বিতর্কিত শিক্ষাক্রমের মাধ্যমে দেশে ঈমান আকিদা বিরোধী, নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধহীন প্রজন্ম তৈরির বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট।
বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশন দীর্ঘদিন ধরে একটি গঠনমূলক ও অংশগ্রহনমূলক শিক্ষা সংস্কার দাবি করে আসছে এবং শিক্ষকদের বিভিন্ন দাবী-দাওয়া উত্থাপন করে আসছে। কিন্তু বর্তমানে উক্ত দাবীগুলো বাস্তবায়নের ব্যাপারে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোন পদক্ষেপ আমরা দেখছি না। দাবিগুলো হলো-
■ বেসরকারি ও এমপিওভুক্ত এবং কারিগরিসহ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকুরী জাতীয়করণ এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য স্বতন্ত্র বেতন স্কেল প্রবর্তন করতে হবে।
চাকুরী জাতীয়করণ না হওয়া পর্যন্ত নিম্নের দাবীগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে।
১. শিক্ষক-কর্মচারীদের শতভাগ উৎসব বোনাস, সরকারি নিয়মে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ভাতাসহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধা দিতে হবে।
২. প্রাথমিকে ২০২৬ সাল থেকে ধর্মীয় শিক্ষা চালু এবং ধর্মীয় বিষয়ে শিক্ষক নিয়োগ দিতে হবে। স্কুলের প্রধান শিক্ষকের বেতন-ভাতা নবম গ্রেডে এবং সহকারী শিক্ষকদের বেতন-ভাতা ১০ম গ্রেডে প্রদান করতে হবে।
৩. শিক্ষার সকল স্তরে ধর্মীয় শিক্ষা চালু করতে হবে এবং সকল শ্রেণীর পাঠ্য পুস্তক থেকে ধর্মীয় মূল্যবোধ বিরোধী বিষয় বাদ দিতে হবে।
৪. পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি ও মানোন্নয়নের জন্য সকল স্তরের শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা ও গবেষণা কর্মের সুযোগ দেয়া এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের বদলীর ব্যবস্থা করা।
৫. সচল স্বীকৃতি প্রাপ্ত সকল নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিও ভুক্তির গেজেট ঘোষণা করে আগস্ট মাস থেকে বেতন ভাতা প্রদানের ব্যবস্থা করতে হবে।
৬. বেসরকারি কলেজ ও মাদরাসা শিক্ষকদের ৮ বৎসর পূর্ণ হওয়ার পর অটো সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি দেওয়া এবং সহযোগী অধ্যাপক ও অধ্যাপকের পদ সৃষ্টি করতে হবে।
৭. বৈষম্যের শিকার ও চাকুরিচ্যুত, সাময়িক বরখাস্ত ও বিতাড়িত সকল শিক্ষক-কর্মচারীকে স্ব-স্ব কর্মস্থলে পূণর্বহাল ও বকেয়া বেতনভাতা, অবসরকালীন সকল পাওনা পরিশোধ করা এবং অবসরে যাওয়া শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর ভাতাসহ সকল পাওনাদি প্রাপ্তির বিষয়ে সরকারিভাবে নির্বাহী আদেশ প্রদান করতে হবে।
৮. সৎ ও যোগ্য শিক্ষকদের সমন্বয়ে অবিলম্বে অবসর সুবিধাবোর্ড ও কল্যাণ ট্রাষ্টের কমিটি গঠন করতে হবে।
৯. প্রতিটি উপজেলায় অবিলম্বে একটি করে ফাজিল ও জেলায় কামিল মাদরাসা সরকারিকরণ করতে হবে।
১০. কিন্ডারগার্টেন স্কুলের নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজিকরণ ও সকল শিক্ষক কর্মচারীদের বেতন-ভাতা প্রদানের ব্যবস্থা করতে হবে।
১১. নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের আলোকে শিক্ষাব্যবস্থা প্রণয়ন করার লক্ষ্যে অবিলম্বে শিক্ষা কমিশন গঠন করতে হবে। মাধ্যমিক পর্যায় থেকেই শিক্ষার্থীদেরকে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি সপ্তাহে একদিন মাঠ পর্যায়ে কিংবা শিল্প কলকারখানায় শ্রমের শিক্ষা দেওয়া এবং পার্ট টাইম ইন্টার্নিশীপের সুযোগ প্রদান করতে হবে।
১২. ভোকেশনাল শিক্ষাকে সাধারণ শিক্ষার মূল ধারায় যুক্ত করে সরকারি ও বেসরকারি অংশীদারিত্বের মাধ্যমে কারিগরি প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠাকরণ সহজ করতে হবে।
১৩. দেশীয় প্রযুক্তিকে উন্নত করার মাধ্যমে মেধাবীদের মূল্যায়নের পাশাপাশি দেশের বেকারত্ব দূর করার জন্য কারিগরি প্রশিক্ষনের এবং বেকারদের জন্য পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে ।
১৪. শিক্ষার সকল স্তরের পাঠ্যপুস্তকে ধর্মীয় ও নৈতিকতাবোধের আলোকে এবং ২০২৪ এর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস গুরুত্বের সাথে তুলে ধরতে হবে।
১৫. সকল শ্রেণিতে মহানবী (সা:) এর জীবনীসহ মহামানবদের জীবনী সম্বলিত প্রবন্ধ, গল্প ও কবিতারসংযোজন করতে হবে।
১৬. কওমী মাদরাসা শিক্ষার স্তরগুলোকে সাধারণ শিক্ষার সমমান দেওয়া। কওমী মাদরাসাসমূহের সকল বোর্ডকে একটি বোর্ডে রুপান্তর এবং পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ধর্মতত্ত্ব অনুষদের মাধ্যমে বিষয় ভিত্তিক মাস্টার্সের সার্টিফিকেট প্রদান করা।
১৭. ধর্মীয় দায়িত্ব পালন ও মধ্যপ্রাচ্যে দক্ষ জনশক্তি সরবরাহের লক্ষ্যে স্কুল, কলেজসমূহে ধর্মীয় বা আরবী ভাষা শিক্ষক হিসাবে এনটিআরসিএ দ্বারা নিয়োগ প্রদান করতে হবে ।
১৮. প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনায় উদ্যোক্তাদের ব্যবসায়ী মনোভাব দূর করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে যেমন সরকারি খাস জমি বরাদ্দ দেয়া, ইউনিভাসিটি উদ্যোক্তাদের থেকে শিক্ষা সেবা মর্মে অঙ্গীকার নেয়া এবং IQAC নিশ্চিত করা ।
১৯. বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের বেতন কাঠামো রাষ্ট্র কর্তৃক নির্ধারণ করে দেয়া।
২০. স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা স্থাপন, পাঠদান অনুমতি, স্বীকৃতি প্রদান এবং এমপিওকরণ নীতিমালা বাস্তবায়নে আওয়ামী ফ্যাসিস্ট কর্মকর্তাদের দীর্ঘসূত্রীতা অবলম্বন বন্ধ করতে হবে।
২১. স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা নীতিমালা ২০২৫ পরিপূর্ণ অনুসরণ করতে প্রতি ৩ মাস পর পর যেসকল মাদ্রাসা এমপিও অর্জনের উপযোগিতা পূরণ করেছে তাদেরকে এমপিওভুক্ত করতে হবে।
২২. যে সকল মাদ্রাসা জাতীয়করণের শর্ত পূরণ করবে তাদেরকে নিয়মিত এবং ধারাবাহিকভাবে এমপিও ও জাতীয়করণ করতে হবে।
২৩. ৫ আগস্টের পর বেশ কয়েকটি শিক্ষক সংগঠনের শিক্ষকরা ক্লাসরুমে পাঠদান ছেড়ে তাদের পেটের ক্ষুধা নিবারণের জন্য রাজপথে দিন-রাত তাদের দাবী পুরণের জন্য সরকারের নিকট দাবী জানিয়ে আসছে। কিন্তু তাদের দাবি পূরণে সরকার কোন পদক্ষেপ নিচ্ছেনা। অথচ এই শিক্ষকরা বৃষ্টিতে ভিজে, রোদ্রে পুরে, মশার কামড় খেয়ে তারা অসুস্থ হয়ে পরছে। তাই সরকারের প্রতি আমাদের জোরদাবি এই সকল শিক্ষক সংগঠনের যুক্তি সংগত দাবীগুলো মেনে নিন। সম্মিলিত নন-এমপিও ঐক্য পরিষদ, স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা শিক্ষক পরিষদসহ অন্যান্য শিক্ষক সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন যাবত তাদের দাবী- দাওয়া আদায়ের জন্য রাজপথে আন্দোলন করছে।
২৪. অবসর সুবিধা বোর্ড ও কল্যাণ তহবিলে ইতোমধ্যে যারা আবেদন করেছে তাদের প্রাপ্য অবিলম্বে সরকারি তহবিল থেকে প্রদান করতে হবে ।
২৫. ১৭ ও ১৮ তম শিক্ষক নিবন্ধনে উত্তির্ণ হয়েও যারা বাদ পরেছে অবিলম্বে তাদের নিয়োগ প্রদান করতে হবে।
উপরে উল্লেখিত দাবিসমূহ যদি অবিলম্বে বাস্তবায়ন করা না হয় তাহলে শিক্ষকদের যৌক্তিক দাবি আদায়ের লক্ষে বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশন রাজপথে আন্দোলন করতে বাধ্য হবে। আশা করি আপনারা শিক্ষক সমাজের অতীত ভূমিকাকে মূল্যায়ন করে উপরেউল্লেখিত দাবিগুলো বাস্তবায়নে আপনাদের সহযোগীতা প্রত্যাশা করছি। পরিশেষে মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা ও শিক্ষা উপদেষ্টা মহোদয়ের নিকট আমাদের উল্লেখিত দাবিসমূহ বাস্তবায়নে আশু পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য বিনীতভাবে অনুরোধ করছি।
আমরা চাই, শিক্ষা হোক জাতীয় ঐক্যের ভিত্তি,শিক্ষক সমাজ হোক মর্যাদার প্রতীক এবং আদর্শ ও আলোকিত মানুষ তৈরির সত্যিকারের কারিগর। তাই আসুন আমরা সকলে একসাথে মিলিত হয়ে বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা এবং বাংলাদেশকে উন্নতির দিকে এগিয়ে নিয়ে যাই। একটি শিক্ষিত,আত্মমর্যাদা ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে আল্লাহ তাআলা আমাদের সহায় হোন।