a দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার পর করোনা শনাক্ত হলে বুস্টার ডোজ নেওয়া যাবে ৬ সপ্তাহ পর
ঢাকা বুধবার, ৫ ফাল্গুন ১৪৩২, ১৮ ফেরুয়ারী, ২০২৬
https://www.msprotidin.com website logo

দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার পর করোনা শনাক্ত হলে বুস্টার ডোজ নেওয়া যাবে ৬ সপ্তাহ পর


স্বাস্থ্য ডেস্ক: মুক্তসংবাদ প্রতিদিন
রবিবার, ৩০ জানুয়ারী, ২০২২, ০৭:৫৩
দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার পর করোনা শনাক্ত হলে বুস্টার ডোজ নেওয়া যাবে ৬ সপ্তাহ পর

সংগৃহীত ছবি: মুক্তসংবাদ প্রতিদিন

স্বাস্থ্য অধিদফতরের মুখপাত্র অধ্যাপক ডা. নাজমুল ইসলাম বলেছেন, টিকার দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার পর কারও করোনা শনাক্ত হলে সুস্থ হওয়ার ছয় সপ্তাহ পর বুস্টার ডোজ নেওয়া যাবে।

রবিবার (৩০ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদফতরের স্বাস্থ্য বুলেটিনে তিনি এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, যারা টিকার দুই ডোজ নেওয়ার পর বুস্টার ডোজের অপেক্ষায় আছেন, তারা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলে সঙ্গে সঙ্গে টিকা নিতে পারবেন না। এ জন্য তাদের কমপক্ষে ছয় সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হবে। এছাড়া করোনা আক্রান্ত হয়ে ১০ দিন আইসোলেশনে থাকার পর কোনো উপসর্গ না থাকলে নেগেটিভ সনদ ছাড়াই কাজে যোগ দেওয়া যাবে।

করোনা টিকার বুস্টার ডোজ দেওয়ার ন্যুনতম বয়স কমিয়েছে সরকার। এখন থেকে ৪০ বছর ও তদূর্ধ্ব বয়সীরা বুস্টার নিতে পারবেন।

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন / কে. আলম

দূষণ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে শ্রমজীবী ও নিম্নআয়ের মানুষ


সাইফুল আলম, বিশেষ প্রতিনিধি, মুক্তসংবাদ প্রতিদিন
শুক্রবার, ২০ জুন, ২০২৫, ০১:২৫
দূষণ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে শ্রমজীবী ও নিম্নআয়ের মানুষ

ছবি: মুক্তসংবাদ প্রতিদিন

 

সাইফুল আলম, ঢাকা: বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৫ উদযাপন উপলক্ষে এই বছরের নির্ধারিত প্রতিপাদ্য ‘ENDING PLASTIC POLLUTION’ ‘প্লাস্টিক দূষণ আর নয়' - সামনে রেখে পোশাক শ্রমিক উন্নয়ন জনকল্যাণ সংস্থা মানববন্ধন ও সমাবেশ আয়োজনের মধ্যে দিয়ে দিবসটিকে উদযাপন করছে।

আজ জাতীয় প্রেসক্লাবে সকাল-১০ঃ৩০ ঘটিকায় এরই ধারাবাহিকতায় বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালনের উদ্দেশ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি ও বিশ্বব্যাপি শ্রমজীবি মানুষকে সচেতনতা গড়ে তোলার প্রয়াসে পরিবেশ নিয়ে ভাবনার জায়গায় একত্রিত হয়েছে । বর্তমান সময়ে জলবায়ু পরিবর্তন, দূষণ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে পৃথিবী চরম ঝুঁকিতে রয়েছে, যার প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে শ্রমজীবী ও নিম্নআয়ের মানুষের ওপর। পরিবেশগত এই সংকট আমাদের অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তাই সবাইকে নিজেদের অবস্থান থেকে পরিবেশ রক্ষায় উদ্যোগ নিতে হবে। একমাত্র সম্মিলিত প্রচেষ্টাই পারে আমাদের ভবিষ্যৎকে নিরাপদ করতে।

এছাড়া বন-ভূমির গাছপালা কেটে ফেলা, শিল্প কলকারখানার ধোঁয়া ও দূষিত বর্জ্যপদার্থ প্রকৃতির সাথে মিশে পরিবেশকে মারাত্মক বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে । অন্যান্য সকল ক্ষেত্রের মতো পোশাকশিল্পেও পরিবেশ দূষণের প্রভাব বহুদিন ধরে পরিলক্ষিত হচ্ছে । এ ধরনের পরিবশ দূষণের ফলে কারখানার আশেপাশে যেসব শ্রমিকরা থাকে তাদের খাবার, তাপমাত্রা ও তাদের পারিপার্শ্বিক পরিবেশ হয় নোংরা এবং নোংরা পরিবেশের কারনে তারা প্রায়শই বিভিন্ন রোগের শিকার হয় । কারখানায় ব্যবহৃত রাসায়নিক বর্জ্য ও অপরিচ্ছন্ন কর্মপরিবেশের দরুন তাদের বিভিন্ন পেশাগত ব্যাধি হয়। কারখানার ভেতরে সঠিক বায়ুচলাচলের (ভেন্টিলেশন) কোনো ব্যবস্থা নেই, যা শ্রমিকদের স্বাস্থ্য ও কর্মপরিবেশের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তাই অবিলম্বে কার্যকর ভেন্টিলেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন, যাতে কর্মস্থলে স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ পরিবেশ বজায় থাকে। তাদের জন্য বাসযোগ্য আবাসস্থল নিশ্চিত করতে হবে। যথাস্থানে কারখানা নির্মাণ করতে হবে।

প্রকৃতি বিনাশ করে এভাবে শিল্প কারখানা ও স্থাপত্য নির্মাণ এভাবে চলতে থাকলে বাংলাদেশ ভবিষ্যতে ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়বে । সমগ্রবিশ্বের পাশাপাশি বাংলাদেশকেও এখন টেকসই উন্নতির জন্য (Sustainable Development) পরিবেশ রক্ষার কথা ভাবতে হচ্ছে। এছাড়াও গ্রীন ডেভেলপমেন্ট নিয়ে পৃথিবীর উন্নত দেশ গুলোও বেশ সোচ্চার এবং অগ্রনী ভুমিকা পালন করছে। বিশ্বেও অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশকেও পরিবেশ উন্নয়নের জন্য সক্রিয়ভাবে কাজ করে পদক্ষেপ নিতে হবে। টেকসই উন্নয়নের জন্য আজকের মানববন্ধন ও সমাবেশ থেকে শ্রমিকরা পরিবেশ দূষণ প্রতিরোধে বেশ কিছু পদক্ষেপ সরকারের নিকট বলিষ্ট কন্ঠে উত্থাপন করেন ।

পদক্ষেপ সমূহঃ
পরিবেশ রক্ষায় সকলের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন ।
শিল্প কারখনার বর্জ্য ও রাসায়নিক পদার্থের সুষ্ঠ ব্যবস্থাপনায় কার্যকরী সরকারি পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন ।
শিল্প কারখানায় রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহারের দিক নিদের্শনা সঠিকভাবে মেনে চলতে হবে, উদাহরণ স্বরুপ ইটিপির মাধ্যমে ময়লা জল নিষ্কাশন করে তা পূনঃ ব্যবহারের উপযোগী করে তোলা ।
কার্বন নিঃস্বরণ কমিয়ে পরিবেশ বান্ধব কারখানা তৈরী করতে হবে ।
জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার বন্ধ করে নবায়ন যোগ্য জ্বালানি ব্যবহার বৃদ্ধি করি ।
কারখানায় ন্যায় সঙ্গত রুপান্তরে বায়ার ও ব্র্যান্ডকে পরিবেশ বান্ধব শিল্পকারখানা তৈরীতে সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে ।
পাহাড় ও গাছপালা কেটে, নদী-নালা ভরাট করে শিল্পকারখানা ও স্থাপনা নির্মান রোধে সরকারকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে । সামাজিক সংলাপের মাধ্যমে পরিবেশ বান্ধব সবুজ কারখানা গড়ে তোলার অঙ্গীকার বদ্ধ হতে হবে ।
পরিবেশ আইন অমান্যকারীদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে ।
বায়ার ও ব্র্যান্ডকে পরিবেশবান্ধব শিল্পকারখানা তৈরীতে দায়িত্ব গ্রহনের মাধ্যমে সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে ।
প্লাষ্টিক দ্রব্য ব্যবহার রোধে মালিক, শ্রমিক, বায়ার, ব্র্যান্ড, দেশী-বিদেশী উন্নয়ন সংস্থা ও সরকার সকলকে সম্মিলিতভাবে কাজ করে পরিবেশকে রক্ষা করতে হবে ।
পরিবেশ বান্ধব ব্যবসানীতি প্রনয়ণ করতে হবে ।
পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাস সর্বপরি প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষার্থে সরকারকে জোরালো পদক্ষেপ নিতে হবে।
বাংলাদেশের মতো তৃতীয় বিশ্বে ফাষ্ট-ফ্যাশন এর জন্য শ্রমিকদের ঝুকিপুর্ন কাজ বন্ধ করার মাধ্যমে পোশাক শিল্পের শ্রমিকদের জন্য সুষ্ঠু কর্মপরিবেশ তৈরী করতে হবে ।
জাতীয় বাজেটে পরিবেশ দূষণ প্রতিরোধসহ শ্রমিকের উপর বিরূপ প্রতিক্রিয়া নিরসনকল্পে যেসকল পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে, তার জন্য
বরাদ্দ রাখা।
পরিবেশ দূষণের ফলে শ্রমিকেরা যেসব ক্ষতিকর স্বাস্থ্য হানির স্বীকার হচ্ছে তা রোধকল্পে সরকারকে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে ।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন পোশাক শ্রমিক উন্নয়ন জনকল্যাণ সংস্থার সভাপতি, সহ- সভাপতি, দপ্তর সম্পাদক, নারী কল্যাণ সম্পাদক, অর্থ সম্পাদক সহ বিভিন্ন এলাকার ৪০টি ইউনিয়নের নির্বাহী কমিটির সদস্যসহ আরো শ্রমিকগণ ।

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন / কে. আলম

হেলেনা জাহাঙ্গীরের বিপুল সম্পদের সন্ধান!


এমএস.প্রতিদিন ডেস্ক:
রবিবার, ০১ আগষ্ট, ২০২১, ১০:৪১
হেলেনা জাহাঙ্গীরের বিপুল সম্পদের সন্ধান!

ফাইল ছবি

নামে-বেনামে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক উপকমিটি থেকে সদ্য বহিষ্কৃত নেত্রী এবং জয়যাত্রা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা হেলেনা জাহাঙ্গীর (হেজা)। এরই মধ্যে তার নিজের এবং পরিবারের সদস্যদের নামে পাঁচটি গার্মেন্টস, রাজধানীর অভিজাত এলাকায় ১৫টি ফ্ল্যাট, অসংখ্য ভুঁইফোড় সংগঠনের প্রতিষ্ঠার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা পেয়েছে একটি সংস্থা। 

হেলেনা জাহঙ্গীরকে গ্রেফতারের পর সংবাদ সম্মেলনেও র‌্যাব হেলেনার আর্থিক অনিয়মের বিষয়টি উল্লেখ করেছে। এদিকে, শিগগিরই তার সম্পদের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অনুসন্ধানে নামছে বলে নিশ্চিত করেছে সূত্র। দুদক তার মানি লন্ডারিংয়ের বিষয়টিও খতিয়ে দেখবে। দুদকের একাধিক সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করে জানায়, মানি লন্ডারিং, বিদেশে অর্থ পাচারসহ হেলেনা জাহাঙ্গীরের জ্ঞাত আয়বহির্ভূত কোনো প্রকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ আছে কি না সে বিষয়ে অনুসন্ধানে নামতে পারে সংস্থাটি। 

দুদকের সচিব ড. মুহম্মদ আনোয়ার হোসেন হাওলাদার বলেন, র‌্যাব যেহেতু তাদের ব্রিফিংয়ে হেলেনা জাহাঙ্গীরের আর্থিক বিষয়টি উল্লেখ করেছে তাই তারা অফিশিয়ালি আমাদেরকে অবহিত করবে। পরবর্তীতে কমিশন এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত নেত্রী হেলেনা জাহাঙ্গীরকে গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদেই তার বিপুল সম্পদের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তবে এগুলো কীভাবে তিনি অর্জন করেছেন সে ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেননি। এ ব্যাপারে র‌্যাবের ভাষ্য ছিল, দলকে ভাঙিয়ে তিনি বিভিন্ন সময়ে চাঁদাবাজি কিংবা ‘ব্ল্যাকমেল’ করে দুর্নীতির মাধ্যমে আদায় করা টাকাগুলো তিনি ফ্ল্যাট কেনা ও ফাউন্ডেশনে বিনিয়োগ করতেন। দুদক চাইলে র‌্যাব তাদের সহায়তা করবে। দুদক কমিশনার  মোজাম্মেল হক খান জানান, দুদকের তফসিলভুক্ত অপরাধে হেলেনা জাহাঙ্গীর জড়িত থাকলে অবশ্যই সে বিষয়ে অনুসন্ধানসহ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তদন্তে যা উঠে এসেছে: একটি সংস্থার অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, রাজধানীতে হেলেনা জাহাঙ্গীরের সর্বমোট ১৫টি ফ্ল্যাট রয়েছে। এর মধ্যে উত্তরা ৩ নম্বর সেক্টরে পাঁচটি, গুলশান ৩৬ নম্বর সড়কের পাঁচটি, গুলশান ২ নম্বরের ৮৬ নম্বর সড়কের ৭/বি নম্বর বাড়িতে ৮ হাজার ফুটের একটি ফ্ল্যাট, গুলশান এভিনিউতে একটি, গুলশান নিকেতনে একটি, মিরপুর ১১ নম্বরের ৬ নম্বর রোডে একটি ও কাজী পাড়ায় একটি ফ্ল্যাট। এর বাইরে তিনি মোট পাঁচটি গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠানের মালিক। এগুলো হলো মিরপুর ১১ নম্বরের নিউ কনসার্ন প্রিন্টিং ইউনিট, নারায়ণগঞ্জের জয় অটো গার্মেন্টস, জেসি এমব্রয়ডারি, প্যাক কনসার্ন ও হুমায়রা স্টিকার। এ ছাড়া অনেক ভুঁইফোড় প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেছেন। এগুলোর মাধ্যমে তিনি বিভিন্ন সময় দেশ-বিদেশ থেকে অনুদান সংগ্রহ করেছেন। অনুদান সংগ্রহে ব্ল্যাকমেলিং ছিল হেলেনার অন্যতম একটি কৌশল। কেবল জয়যাত্রা ফাউন্ডেশনের ব্যানারেই তিনি বিপুল অঙ্কের চাঁদাবাজি এবং অনুদান সংগ্রহ করেছেন। ‘জয়যাত্রা ফাউন্ডেশনের সঙ্গে ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলের প্রভাবশালী একাধিক নেতাকে সম্পৃক্ত করেছিলেন। তাদের সামনে রেখেই তিনি অনেকের সঙ্গে ব্ল্যাকমেলিং করেছেন এমন অভিযোগ এখন উঠে আসছে। সুনামগঞ্জে তিনি ত্রাণ বিতরণ করায় স্থানীয়রা তাকে পল্লী মাতা উপাধি দিয়েছেন। তবে এই ফাউন্ডেশনের নামে প্রবাসীদের কাছ থেকে অনেক টাকা এনেছেন তিনি। এগুলো কী কাজে ব্যবহার করা হয়েছে সে বিষয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি হেলেনা জাহাঙ্গীর। 

হেলেনা দেশের ১২টি অভিজাত ক্লাবের সদস্য। সেগুলো হলো- গুলশান ক্লাব, গুলশান ক্যাপিটাস ক্লাব, গুলশান নর্থ ক্লাব, ঢাকা বোর্ড ক্লাব, গুলশান সোসাইটি ক্লাব, কুমিল্লা ক্লাব, গুলশান জগার সোসাইটি, ফিল্ম ক্লাব, গুলশান হেলথ ক্লাব, গুলশান লেডিস ক্লাব, ঢাকা রাইফেলস ক্লাব ও ওয়ার্ড ট্রাভেলস ক্লাব। হেলেনার কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের বরাত দিয়ে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, হেলেনা জাহাঙ্গীরের স্বামী ১৯৯০ সাল থেকে গার্মেন্টসে চাকরি করতেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে অন্যদের সঙ্গে পার্টনারশিপের মাধ্যমে ব্যবসা শুরু করে এখন পর্যন্ত পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের মালিক তিনি। একটা সময় রাজধানীর একটি অভিজাত ক্লাবে চিয়ার গার্ল হিসেবে কাজ করেছেন হেলেনা। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি কখনো ছয়টি অভিজাত গাড়ি, কখনো বা আটটি গাড়ির কথা বলেছেন। তবে আয়ের উৎস সম্পর্কে প্রকৃত তথ্য দিচ্ছেন না। এখন সিআইডি কিংবা দুদক এ ব্যাপারে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে।


জানা গেছে, ২০১৮ সালে তিনি আইপি টিভির কার্যক্রম শুরু করেন। তার এসব চ্যানেলে প্রায় ৭০ জন স্টাফ রয়েছে। তাদের বেতন ভাতা পরিশোধের ব্যাপারে অনিয়ম রয়েছে। জয়যাত্রা আইপিটিভির নিবন্ধন না করে স্টাফদের বেতন-ভাতা না দিয়ে অন্যায়ভাবে স্টাফদের চাকরিচ্যুত করেন তিনি। 

গত দুই বছরে বিভিন্ন মাধ্যম এবং টেলিভিশনে চাকরি দেওয়ার কথা বলে, এজেন্সি দেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন জনের কাছ থেকে বিভিন্ন পরিমাণ টাকা আদায় করছেন তিনি। কারও কাছ থেকে ১০ হাজার, কারো কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা, আবার কারও কাছ থেকে ১ লাখ টাকা নিয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তবে এভাবে তিনি কী কারণে টাকা নিয়েছেন এবং কী কাজে ব্যবহার করেছেন এসব বিষয়ে হেলেনা কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি বলেও জানান র‌্যাব কর্মকর্তারা। তারা জানতে পেরেছেন, এসবের দায় অফিস স্টাফদের ওপর চাপিয়েছেন তিনি। তার বাসা এবং অফিস থেকে যে পরিমাণ ভাউচার পাওয়া গেছে তা এখনো পর্যালোচনা করা হচ্ছে। জয়যাত্রা টেলিভিশনের আইডি কার্ড ব্যবহার করে অনেক প্রতিনিধিও চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন।

সাইবার টিম ছিল হেলেনার: হেলেনার নিজস্ব একটি বিশেষ সাইবার টিম রয়েছে। টিমের সদস্যদেরকে তিনি উদ্দেশ্যমূলকভাবে নিজের প্রচার প্রচারণায় ব্যবহার করতেন। যারা তার সম্পর্কে নেতিবাচক মন্তব্য করত তাদেরকে কৌশলে ঘায়েল করার পাশাপাশি অপমান অপদস্ত করতেন তিনি। র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, বর্তমানে হেলেনা পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। মামলার তদন্তও করছে পুলিশ। এখন এ বিষযে তদন্তকারী কর্মকর্তাই বলবেন। তবে এখন পর্যন্ত বিতর্কিত এই নারীর বিষয়ে অনেক তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। তবে প্রতিটি তথ্যই গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখে আমরা ছায়া তদন্ত করছি।

হেলেনার বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা: অনুমোদন ও বৈধ কাগজপত্র ছাড়া জয়যাত্রা টিভির সম্প্রচারের অভিযোগে হেলেনা জাহাঙ্গীরের নামে পল্লবী থানায় আরেকটি মামলা হয়েছে। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন আইনে র‌্যাব-৪-এর মামলার বাদী হয়েছেন র‌্যাব-৪-এর উপপরিদর্শক ইদ্রিস আলী। শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে ওই মামলা করেন। এ নিয়ে হেলেনা জাহাঙ্গীরের নামে রাজধানীর গুলশান থানায় দুটি, পল্লবী থানায় একটিসহ তিনটি মামলা হলো। ওই মামলায় হেজাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। 

প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর গুলশান-২ এর ৩৬ নম্বর রোডের ৫ নম্বরের হেলেনা জাহাঙ্গীরের বাসায় অভিযান চালিয়ে ১৯ বোতল বিদেশি মদ, একটি ক্যাঙ্গারুর চামড়া, একটি হরিণের চামড়া, দুটি মোবাইল ফোন, ১৯টি চেক বই ও বিদেশি মুদ্রা, দুটি ওয়াকিটকি সেট এবং ক্যাসিনো খেলার সরঞ্জামসহ ৪৫৬টি চিপস উদ্ধার করা হয়। সূত্র: বিডি প্রতিদিন

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন / কে. আলম
Share on Facebook

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন এর জনপ্রিয়

সর্বশেষ - স্বাস্থ্য