a
ছবি: মুক্তসংবাদ প্রতিদিন
মো: সাইফুল আলম সরকার, ঢাকা: প্রযুক্তিগত স্বাস্থ্যসুরক্ষা বিষয়ক শীর্ষস্থানীয় আমেরিকান প্রতিষ্ঠান কমিউর একই ধারার আরেকটি কোম্পানি অগমেডিক্সকে অধিগ্রহণ করেছে। এই দুই কোম্পানি একীভূত হয়ে রোগীদের তথ্যসংরক্ষণকে এখন এআই সমৃদ্ধ করে আরো সুচারু ও অধিক সেবামূলক করার ক্ষেত্রে আরো একধাপ এগিয়ে যাবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সমৃদ্ধ অগমেডিক্সের প্রযুক্তি এবং কমিউরের বিস্তৃত সেবা এখন এক হয়ে আরো দ্রুত সমাধান এবং উন্নত রোগীসেবা দুনিয়ার শ্রেষ্ঠতম স্তরে উন্নীত হবে। কমিউরের চিফ বিজনেস অফিসার হার্শ সোলাণকি এবং অগমেডিক্সের ফাউন্ডার এবং কমিউরের সিএসও ইয়ান শাকিল সম্প্রতি বাংলাদেশ সফর করেন। তারা কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং কিভাবে আরো উন্নত সেবা প্রদান করা যায় সে বিষয়ে কর্মীদের মতামত শোনেন।
ইয়ান শাকিল বলেন, 'অগমেডিক্সে আমাদের প্রতিশ্রুতি ছিল নতুন প্রযুক্তি আবিষ্কারের মাধ্যমে রোগীদের সেবাপ্রদান আরো সহজ করা। কমিউরের সাথে একীভূত হয়ে এখন সেই সমাধানগুলো আরো বেগবান, ইতিবাচক এবং সেবার মান সর্ব্বোচ্চ করা হচ্ছে।' উল্লেখ্য অগমেডিক্স গত দশ বছর ধরে বাংলাদেশে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং মাত্র ষাটজন দিয়ে শুরু করে এখন প্রায় তেরোশো তরুণের এক বিশাল প্রাণোচ্ছল কর্মীবাহিনী তাদের রয়েছে।
কমিউরের চিফ বিজনেস অফিসার হার্শ সোলাণকি বলেন, ' অগমেডিক্স রোগীসেবা তথ্য সংরক্ষণ এবং চিকিৎসার ক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী দৃষ্টান্ত স্থাপণ করেছে এবং এখন কমিউরের সঙ্গে একীভূত হবার পর তা আরো দ্রুততার সাথে এগিয়ে যাবে এবং বাণিজ্যে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।'
দুই কোম্পানির একীভূত হওয়ার প্রাক্কালে কমিউরের বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর রাশেদ মুজিব তাদের কার্যক্রমকে আরো বিস্তৃত এবং আকর্ষক করার কথা বলেন যা বাংলাদেশের আইসিটি ক্ষেত্রে সাফল্যের নতুন মাত্রা যোগ করবে।
ফাইল ছবি
চীনে উৎপত্তি হ্ওয়া করোনা বিশ্বব্যাপী মহামারী রোগ হিসেবে আত্মপ্রকাশ কোভিড-১৯ নামে। এই ভাইরাসের কারণে ২০২০ সালের মার্চে থেকেই পুরো বিশ্বে আতঙ্ক চরমে ওঠে। অফিস, স্কুল-কলেজ থেকে শুরু করে সকল প্রতিষ্ঠান এক এক করে বন্ধ হয়ে যায়। করোনার ভয়ে মানুষ ঘর থেকে বের হওয়া বন্ধ করে দেয়। ধীরে ধীরে ব্যবসা, পড়াশোনা, যোগাযোগ সব বন্ধ হয়ে গেলো। তখন মানুষ ব্যাপকভাবে প্রযুক্তির উপর নির্ভরশীল হতে লাগলো।
আর মানুষের সেই কাজকে সহজ করে দিয়েছে অডিও-ভিডিও কনফারেন্সিং মাধ্যম জুম। ইন্টারনেটের সাহায্যে ডিভাইসে (যেমন, মোবাইল, কম্পিউটার) অ্যাপ ব্যবহার করে এই প্লাটফর্মের মাধ্যমে কয়েকজন ব্যবহারকারী একসঙ্গে ভিডিও কলে যুক্ত হতে পারেন। বলতে গেলে যোগাযোগকে সহজ এবং আরও বাস্তব করে তুলেছে জুম।
করোনাকালীন জুমের জনপ্রিয়তা:
মানুষ যখন করোনার কারনে ঘরবন্দী হয়ে পড়েছে তখন একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য জুমের উপর নির্ভর হচ্ছিলো। লকডাউন শুরুর পর এই অ্যাপের ব্যবহার জনপ্রিয়তা কতটা বেড়েছে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। জুমে কী না করেছে মানুষ? অনলাইন ক্লাস, ক্লাসপার্টি, অফিসের কাজ, মিটিং, আদালতের বিচারকাজ, সরকারি মিটিং, এমনকি বিয়ের আয়োজনও হয়েছে জুমে।
কতক ক্ষেত্রে যে জুম মানুষকে পথ দেখিয়েছে, তা এক সমীক্ষায় দেখা গেছে। ফেব্রুয়ারিতে জুম ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল ২ দশমিক ২২ মিলিয়ন অর্থাৎ ২২ লাখ। যার পরিমান ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে ছিল প্রতিদিনের ব্যবহারকারীর প্রায় ১০ মিলিয়নের মতো। সেখান থেকে ২০২১ সালের এপ্রিলে দৈনিক ব্যবহারকারীর সংখ্যা দাঁড়ায় ৩০০ মিলিয়নে।
জুমের জনপ্রিয়তার রহস্য :
অনেকেরই প্রশ্ন থাকতে পারে অন্যান্য অ্যাপ থাকতে জুম এত জনপ্রিয় কেন? কারন হিসেবে উল্লেখ করা যায় যে, জুমের ফ্রি ভার্সনে একসঙ্গে ১০০ জন ব্যবহারকারী একসঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সিং এ যুক্ত হতে পারেন। যেখানে মাইক্রোসফটের ফ্রি ভার্সনে মাত্র ৫০ জন এর বেশি ব্যবহারকারী একসাথে যুক্ত হতে পারেন না।
আবার ৪০ মিনিটের বেশি সময় কনফারেন্সিংয়ে যুক্ত থাকতে হলে মাসে খরচ করতে হয় ১৪ দশমিক ৯৯ মার্কিন ডলার। তবে এন্টারপ্রাইজ ব্যবহারকারীদের খরচ করতে হয় ১৯ দশমিক ৯৯ মার্কিন ডলার। জুমে রয়েছে, প্রাইভেট কল, সরাসরি মেসেজ পাঠানোর সুবিধা এবং পারসোনালাইজড টুলসহ নানা ফিচার।
জুমের যাত্রা:
২০১১ সালের শুরুরদিকে ৪০ জন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারকে নিয়ে নতুন একটি কোম্পানি চালু করেন এরিক ইউয়ান। শুরুতে এর নাম ছিল ‘সাসবি’। কোম্পানিটি প্রথমদিকে বিনিয়োগ অভাবে কাজ করতে পারেনি। সকলের মত ছিল বর্তমানে ভিডিও টেলিফোনোর বাজার পড়ে গেছে। এ কারণেই কোনো ব্যক্তি কিংবা প্রতিষ্ঠান এর পেছনে বিনিয়োগে আগ্রহী ছিল না। ভাগ্যক্রমে সে বছরই বছরের জুন মাসে বেশ কিছু পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ পায় কোম্পানিটি। পরের বছর অর্থাৎ ২০১২ সালে ‘সাসবি’ জুম নামটি ধারণ করে।
২০১২ সালের সেপ্টেম্বরে কোম্পানিটি একটি বেটা ভার্সন চালু করে যেটির মাধ্যমে ১৫ জন ব্যবহারকারী ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হতে পারতেন। একই বছরের নভেম্বরে প্রথম গ্রাহক হিসেবে স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়। ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে আরও কোম্পানিটি আরও বিনিয়োগ পায়। সেসময় জুম ১.১ ভার্সন চালু করে। এতে ২৫ জন ব্যবহারকারী একসঙ্গে যুক্ত হতে পারতেন। চালুর এক মাসের মধ্যে এর ব্যবহারকারীর সংখ্যা দাঁড়ায় ৪ লাখ। এরপর মে মাসের মধ্যেই ব্যবহারকারীর সংখ্যা পৌঁছে ১ মিলিয়নে।
তবে মজার ইতিহাস হলো, জুমের আবিস্কার হয়েছে এরিক ইউয়ান এর একান্ত এক ব্যক্তিগত এক সম্পর্ক থেকে। কলেজে পড়ার সময় তার এক বান্ধবি ছিল তার সাথে দেখা করতে তাকে অনেকটা পথ পেরিয়ে যেতে হতো। সময় লেগে যেত প্রায় ১০ ঘণ্টা। তখন থেকেই চিন্তা করতেন যদি এমন কোনো মাধ্যম থাকতো, যার সাহায্যে দূর থেকেও একে অপরকে মূহুর্তেই মন চাইলে দেখে দেখে কথা বলা যেত। তখন হয়তো চিন্তাও করেন নাই তিনিই একদিন সেই মাধ্যমে কোটি কোটি মানুষকে যুক্ত করে সেবা দিতে পারবেন। তার সেই ভাবনা- আজকের জুম। যা তাকে বিশ্বের শীর্ষ ৪০০ ধনীর কাতারে এনে দিয়েছে।
ফাইল ছবি
ক্রিকেটের অভিজাত ফরম্যাটের ধুমধাড়াক্কা লড়াই হলো টি-টুয়ান্টি। সেখানে অনেকেই বাংলাদেশকে ছোট দল হিসেবেই গননা করে থাকে কিন্তু সম্প্রতি সময়ে বাংলাদেশ যেন রীতিমতো উড়ছে। টি-টোয়েন্টিতে জিম্বাবুয়ে, অস্ট্রেলিয়ার পর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেও সংক্ষিপ্ত এই সংস্করণে টাইগারদের জয়রথ চলছেই।
এদিকে, ধারাবাহিক সাফল্যে র্যাংকিংয়েও অবিস্মরণীয় সাফল্য মাহমুদউল্লাহ বাহিনীর। গতকাল শুক্রবার সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে টস জিতে আগে ব্যাট করে ৬ উইকেটে ১৪১ রান করে বাংলাদেশ। টার্গেট তাড়া করতে নেমে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৩৭ রানে ইনিংস গুটায় নিউজিল্যান্ড। শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে ৪ রানের জয় পায় বাংলাদেশ।
টানা দ্বিতীয় জয়ে এবার র্যাংকিংয়ে আরেকধাপ এগোল মাহমুদউল্লাহ বাহিনী। টি-২০ তে এখন অস্ট্রেলিয়ার চেয়েও ভালো দল বাংলাদেশ! কি অবাক হচ্ছেন? অবাক হওয়ার কিছুই নেই। আইসিসির সবশেষ র্যাংকিং যে বলছে অজিদের চেয়ে এই মুহূর্তে টাইগাররাই এগিয়ে। ক’দিন আগে ওদের বিপক্ষে ৪-১ এ সিরিজ জয়।
এরপর নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে টানা দুই ম্যাচ জয়ের পুরস্কার এটি। আইসিসি র্যাংকিং হালনাগাদ করা হলেও এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি। সংস্থাটির ওয়েবসাইটে টি-টোয়েন্টি র্যাংকিংয়ের ২৪১ রেটিং নিয়ে ছয় নম্বরে অবস্থান করছে বাংলাদেশ।
মাহমুদউল্লাহরা পেছনে ফেলেছে অস্ট্রেলিয়া (২৪০), শ্রীলংকা (২৩৫), আফগানিস্তান (২৩৬) ও ওয়েস্টে ইন্ডিজকে (২৩৪)। সুখবর আরও অপেক্ষা করছে বাংলাদেশের সামনে। কিউইদের বিপক্ষে তৃতীয় টি-২০ জিতলে আরও তিন রেটিং পয়েন্ট যুক্ত হবে তাদের। জয়ের ধারাবাহিকতা পরের ম্যাচে থাকলে আরও দুই পয়েন্ট পাবে টাইগররা। সেক্ষেত্রে সমান ২৪৬ রেটিং পয়েন্ট হবে দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে।
তবে ম্যাচ কম খেলার কারণে সমান পয়েন্টেও প্রোটিয়াদের টপকে পাঁচ নম্বরে উঠে যাবে রিয়াদ বাহিনী। এর আগে ওয়ানডে র্যাংকিংয়ের সাত নম্বরে উঠেছিল বাংলাদেশ। রেটিং পয়েন্টের হিসেবে ওটাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে টাইগারদের সবচেয়ে বড় অর্জন ছিল এতদিন। কিন্তু সেটা ছাপিয়ে এবার টি-২০ তে সফলতা পেল সাকিব-মুস্তাফিজরা। ওয়ানডে তাদের পছন্দের ফরম্যাট বলা হলেও শতকরা জয়ের হিসেবে টি-২০’তেই সফলতার হার এখন সবচেয়ে বেশি।