a
ফাইল ছবি
গত ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান চালিয়ে আসছে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পরাশক্তি রাশিয়া এবং অভিযানের আজ ত্রয়োদশতম দিন। ইতোমধ্যে ইউক্রেনের বেশ কয়েকটি নগরীসহ সামরিক স্থাপনা দখলে নিয়েছে রুশ সৈন্যরা। এতে করে দেশটির বিভিন্ন জায়গায় সামরিক-বেসামরিক হতাহত হয়েছে অনেকে।
এদিকে রাশিয়া দাবি করছে ইউক্রেনে তাদের সামরিক অভিযানের অর্থ যুদ্ধ নয়। বরং বিশ্বব্যাপী একটি সম্ভাব্য যুদ্ধ এড়াতে এই অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। পুতিন আরও বলেন, ইউক্রেনকে নাৎসিমুক্ত করা, দেশটির নিরস্ত্রিকরণ ও ন্যাটো জোটে ইউক্রেনের অন্তর্ভুক্তি প্রতিহত করাই এই অভিযানের লক্ষ্য।
উল্লেখ্য, রাশিয়া ইউক্রেনে সামরিক অভিযানের শুরু থেকে ইউরোপ, ন্যাটোসহ বিভিন্ন দেশ থেকে ইউক্রেন সামরিক সাহায্যের আবেদন করলেও তারা সেভাবে সহযোগিতা পায়নি। ন্যাটো, ইউরোপ, আমেকিাসহ প্রতিটি দেশ তাদের সৈন্যদের নিরাপদ অবস্থানে রেখে কৌশলে তারা ইউক্রেনকে জানিয়ে দিয়েছে রাশিয়ার বিরুদ্ধে যু্দ্ধে অংশগ্রহণ করবেনা।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সৈন্য, যুদ্ধ-বিমান, নো-ফ্লাই জোনসহ নানাবিধ সাহায্য চেয়ে বার বার বিফল হয়েছে। ইউরোপসহ, আমেকিার রাষ্ট্র প্রধানরা জানিয়ে দিয়েছেন রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউক্রেনে সৈন্য বা সামরিক বিমান পাঠালে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের রূপ নিতে পারে বলে নিজেদের নিরাপদে রাখার চেষ্টা করেছে। ফ্রান্স, জার্মানসহ বেশ কয়েকটি দেশ আমেরিকার কূটনৈতিক চাল থেকে নিজেদের কৌশলগত স্বতন্ত্র অবস্থানে রাখার সর্বদায় চেষ্টা করে আসছে এবং তারা ঘন্টার পর ঘন্টা পুতিনের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে নিজেদের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা করেছেন।
জেলেনস্কি বার বার ইউক্রেনের আকাশসীমা সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে আসছেন ন্যাটো ও আমেরিকার কাছে কিন্তু সেসব দেশ সেভাবে সাড়া দেয়নি। ইদানিং ইউক্রেনে পোল্যান্ডের যুদ্ধবিমান পাঠাতে বাইডেন প্রশাসনকে চাপ দিচ্ছেন মার্কিন আইনপ্রণেতারা। তাদের যুক্তি ইউক্রেনে পোল্যান্ডের যুদ্ধবিমান পাঠিয়ে বিনিময়ে ওয়ারশতে ন্যাটোর বিমান সরবরাহ করতে বলা হয়েছে।
পোল্যান্ডে সোভিয়েত আমলের বিপুল সংখ্যক বিমান মজুদ আছে। আর ইউক্রেনের পাইলটরা এসব যুদ্ধবিমান ওড়াতে পারে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিও এসব বিমান চেয়ে আসছেন। সূত্র: বিবিসি
পোল্যান্ড এখনও ইউক্রেনে যুদ্ধবিমান পাঠানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেনি। যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিক চালে বলেছে, ইউক্রেনে বিমান পাঠানো হবে কি হবে না, সেটার সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার পোল্যান্ডেরই।
এদিকে বিশ্লেষকদের ধারণা, পোল্যান্ড এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে বসলে তা রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে ক্ষেপিয়ে তুলতে পারে এবং সীমান্তবর্তী দেশ দুটোর মধ্যে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়তে পারে।
অতি উৎসাহী মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চকক্ষের বৈদেশিক সম্পর্ক বিভাগের শীর্ষ আইনপ্রণেতা সেনেটর বব মেন্ডেজ যুক্তরাষ্ট্র সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, পোল্যান্ড যদি কিইভে বিমান পাঠায় সে ক্ষেত্রে তাদের খালি হয়ে যাওয়া বহর ওয়াশিংটন থেকে অত্যাধুনিক বিমান পাঠিয়ে পূরণ করতে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মার্কিন কংগ্রেসের এসব সিদ্ধান্ত যদি মার্কিন সরকার মিত্র দেশগুলোকে নিয়ে গ্রহণ করে তাহলে তৃতীয় বিশ্ব যুদ্ধের আশংকা থেকেই যায়।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি গত শুক্রবার আবারও যুক্তরাষ্ট্রের আইন প্রণেতাদের কাছে তার দেশের আকাশসীমায় ‘নৌ-ফ্লাই জোন’ ঘোষণার আহ্বান জানিয়েছেন। একইসঙ্গে তিনি রাশিয়ার ওপর আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের অনুরোধ জানান। এসব দেশ জেলেনস্কির বার বার অনুরোধ কিভাবে রক্ষা করবেন, ভবিষ্যতেই তা দেখার বিষয়।
অপরপক্ষে, রাশিয়ার মিত্র দেশগুলো এখনও নিশ্চুপ থাকলেও কখন তারা কি করে বসবে এই মূহুর্তে বলা যাচ্ছে না। আমেরিকার সাথে ইরানের যে দফারফা তা অমীমাংসাই রয়ে গেছে। চীন, ইরান, উত্তর কোরিয়াসহ আমেরিকা বিরোধী দেশগুলো কখন কোথায় ইউক্রেনের ন্যায় নতুন সমস্যা সৃষ্টি করে তা হয়তোবা সময় বলে দেবে।
ইতিমধ্যে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বলেছেন, রাশিয়ার সাথে চীনের বন্ধুত্ব ‘পাথরের মতো শক্ত’। ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার নিন্দা করতে বা এটিকে আগ্রাসন বলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে চীন। সেই সাথে পশ্চিমা দেশগুলোকে রাশিয়ার ‘বৈধ নিরাপত্তা উদ্বেগ’কে সম্মান জানাতে বলেছে দেশটি। ‘এক দিনে ৩ ফুট বরফ জমে না’ উল্লেখ করে ওয়াং ই বলেন, ‘ইউক্রেন পরিস্থিতির কারণগুলো জটিল এবং রাতারাতি ঘটেনি।’
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনি বলেন, ‘যে কোনো সংকটের সমাধান’ এর ‘মূল কারণের’ মধ্যে নিহিত। ইউক্রেন সংকটের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররাই দায়ী। ইউক্রেনের নাগরিকরা যুক্তরাষ্ট্রের নীতির কারণে ‘ভুক্তভোগী’।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আরও বলেন, ইউক্রেনকে বর্তমানের অবস্থায় ঠেলে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইউক্রেনের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে, সেখানে বিপ্লব ঘটিয়ে এবং এক সরকারের পতন করে অন্য সরকারকে ক্ষমতায় বসিয়ে ইউক্রেনকে এ পরিস্থিতিতে টেনে আনে ওয়াশিংটন। খবর আনাদোলুর।
খামেনি বলেন, ইউক্রেন সংকট থেকে শিক্ষা নেওয়ার অনেক কিছু রয়েছে। তিনি বলেন, যদি ইউক্রেনের নাগরিকরা সরকারকে সমর্থন দিত তবে পরিস্থিতি ভিন্ন হতো। যুক্তরাষ্ট্র একটি ‘মাফিয়া সাম্রাজ্য’, ইউক্রেন সে সাম্রাজ্যের নীতির কারণে ‘ভুক্তভোগীতে’ পরিণত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র বেঁচেই আছে সংকট তৈরির মাধ্যমে। যদি যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা না বাড়ায় তবে তাদের অস্ত্র খাত বিকশিত হতে পারবে না।
উত্তর কোরিয়া ইউক্রেন সংকটের মূল কারণ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রকে চিহ্নিত করেছে। গত রোববার বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে ইউক্রেন ইস্যুতে একটি ‘ভাষ্য’ পোস্ট করা হয়েছে। এতে জনৈক রি জি সংয়ের নামে লেখা ভাষ্যটিতে বলা হয়, এ বিপর্যয়ের জন্য দায়ী যুক্তরাষ্ট্র।
শনিবার পোস্ট করা ভাষ্য অনুযায়ী, রাশিয়ার নিরাপত্তাসংক্রান্ত বৈধ দাবিকে উপেক্ষা করে সামরিক আধিপত্যের চেষ্টা করেছে ওয়াশিংটন। এতে বলা হয়, ইউক্রেন সংকটের মূল কারণটিও যুক্তরাষ্ট্রের উচ্ছৃঙ্খলতা ও স্বেচ্ছাচারিতার মধ্যে নিহিত রয়েছে।
নর্থস সোসাইটি ফর ইন্টারন্যাশনাল পলিটিকস স্টাডির গবেষক রি জি সংয়ের নামে প্রকাশ করা ভাষ্য ‘ডবল স্ট্যান্ডার্ড’ ভূমিকা বজায় রাখার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করে।
ভাষ্যে বলা হয়, শান্তি ও স্থিতিশীলতার নামে অন্যান্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র হস্তক্ষেপ করেছে। অথচ তারাই আবার অন্য দেশগুলোর নেওয়া কোনো সংগত আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপের নিন্দা করে।
উল্লেখ্য, চীন, কোরিয়া ও ইরান প্রকারন্তরে রাশিয়ার পক্ষেই কথা বলার চেষ্টা করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ এর মিত্র দেশগুলোর কঠোর সমালোচনা করেছে। তাই এসব দেশগুলোর সীমান্তে বা বিভিন্ন দ্বীপ নিয়ে যে সমস্যাগুলো রয়েছে এবং সেসব জায়গায় যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি ভূমিকা রয়েছে, তারা সুযোগ বুঝে সেখানে ঝামেলা পাকাতে পারে। আমেরিকা মিত্র দেশগুলোকে নিয়ে ইউক্রেন ইস্যুতে ব্যস্ত থাকায় রাশিয়ার মিত্রদেশগুলো সময়ে সহজেই তাদের কাংখিত উদ্দেশ্য হাসিল করতে পারবে।
আর যুক্তরাষ্ট্র আক্রান্ত দেশগুলোর পাশে দাঁড়াতে গেলে ইউক্রেন যুদ্ধে বর্তমানে রাশিয়া বিরোধী যে শিবির তা অনেকটা ঢিলেঢালা হলে রাশিয়ার বিরুদ্ধে পোল্যান্ডসহ পার্শ্ববর্তী দেশগুলো যারা রাশিয়াবিরোধী অবস্থান নিয়ে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও যুদ্ধ বিমান পাঠিয়ে রাশিয়াকে নাস্তানুবাদ করার চেষ্টা করছে, তাদের পরিণতিও যদি ইউক্রেনের ন্যায় হয় তবে সেই ধাক্কা সামলাবে কে?
লেখক: মোহা: খোরশেদ আলম, কলাম লেখক, ঢাকানিউজ২৪ ও মুক্তসংবাদ প্রতিদিন।
ফাইল ছবি: টিউলিপ সিদ্দিক ও শেখ রেহানা
নিউজ ডেস্ক: শেখ রেহানার মেয়ে টিউলিপ সিদ্দিক যুক্তরাজ্যে এবার মন্ত্রিত্ব হারানোর ঝুঁকিতে পড়েছেন। লন্ডনে বহুল আলোচিত উপহারের ফ্ল্যাটটি নিয়ে মিথ্যাচার করায় তার ওপর পদত্যাগের চাপ জোরালো হয়েছে।
বর্তমানে যুক্তরাজ্যের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনীতিবিষয়ক মিনিস্টার (ইকোনমিক সেক্রেটারি) হিসেবে আর্থিক খাতে দুর্নীতি বন্ধের দায়িত্বে আছেন টিউলিপ। রবিবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
ব্রিটিশ এই সংবাদমাধ্যমের সহযোগী দৈনিক দ্য মেইল অন সানডে টিউলিপ সিদ্দিকের কাছে একাধিকবার জানতে চায়, তাকে দুই শয্যাকক্ষের ফ্ল্যাটটি উপহার হিসেবে দেওয়া হয়েছে কি না। বর্তমানে যার বাজার মূল্য ৭ লাখ পাউন্ড; ফ্ল্যাটটি তার বাংলাদেশি স্বৈরশাসক খালা শেখ হাসিনার পরিচিত একজন ডেভেলপারের মালিকানাধীন।
জবাবে উপহার হিসেবে ফ্ল্যাট পাওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন টিউলিপ সিদ্দিক। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, ফ্ল্যাটটি তার বাবা-মা তাকে কিনে দিয়েছেন। একই সঙ্গে দ্য মেইল অন সানডে পত্রিকার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকিও দিয়েছেন টিউলিপ।
তবে দেশটির লেবার পার্টির একাধিক সূত্র লন্ডনের কিংস ক্রস এলাকার ফ্ল্যাটটি আসলে একজন ডেভেলপার টিউলিপ সিদ্দিককে “কৃতজ্ঞতাস্বরূপ” দিয়েছিলেন বলে নিশ্চিত করেছে।
৪২ বছর বয়সী টিউলিপ যুক্তরাজ্যের আর্থিক খাতের দুর্নীতি বন্ধের দায়িত্বে রয়েছেন। বাংলাদেশে তিনি ও তার পরিবারের চার সদস্যের বিরুদ্ধে একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে ৩ দশমিক ৯ বিলিয়ন পাউন্ড আত্মসাতের অভিযোগের তদন্ত চলছে।
শনিবার রাতে ব্রিটেনের টরি এমপিরা দাবি জানিয়ে বলেন, টিউলিপ সিদ্দিক যদি তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে না পারেন, তাহলে তার অর্থমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ানো উচিত।
লন্ডনের হ্যারো ইস্টের টরি এমপি বব ব্ল্যাকম্যান বলেন, টিউলিপ সিদ্দিককে তার সম্পত্তির বিষয়ে অবস্থান স্পষ্ট এবং ব্যাখ্যা করতে হবে, আসলে তিনি কী বলেছিলেন এবং কেন। যদি তিনি তা না করেন, তাহলে মন্ত্রী হিসেবে তার অবস্থান অগ্রহণযোগ্য হবে।
ব্রিটেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের ছায়ামন্ত্রী ম্যাট ভিকার্স বলেন, “সরকারের কোনও সদস্যের বিরুদ্ধে এই ধরনের অভিযোগ অগ্রহণযোগ্য। কিন্তু সেই সদস্য যখন স্টারমারের দুর্নীতি-বিরোধী মন্ত্রী তখন তা আরও বেশি প্রশ্নবিদ্ধ।”
আর হান্টিংডনের টরি এমপি বেন ওবেস-জেকটি বলেন, টিউলিপ সিদ্দিক সম্পর্কে নতুন এই তথ্য বেশ উদ্বেগজনক। তিনি বলেন, এখন দেখা যাচ্ছে ফ্ল্যাটটি উপহার হিসেবে পাওয়া এবং আগের দাবি অনুযায়ী না কেনার বিষয়ে টিউলিপ সিদ্দিকের কাছে আরও কিছু প্রশ্নের জবাব আছে।
লেবার দলীয় একাধিক সূত্র শনিবার রাতে দ্য মেইল অন সানডেকে বলেছে, ২০২২ সালে আমরা যখন প্রথম তদন্ত করি সেই সময় টিউলিপ সিদ্দিককে তার পরিবার বলেছিল, একটি বাড়ি বিক্রির অর্থে ফ্ল্যাটটি কেনা হয়েছিল। কিন্তু গত সপ্তাহে এই ফ্ল্যাট কেনার বিষয়ে তার পরিবারের স্মৃতিচারণ পাল্টে গেছে। অর্থাৎ আগের দাবির সঙ্গে তাদের বর্তমান দাবির কোনও মিল নেই।
দেশটির ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির একজন রাজনীতিক ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে বলেছেন, জীবনের চ্যালেঞ্জিং সময়ে এক ব্যক্তিকে আর্থিক সহায়তা করেছিলেন টিউলিপ সিদ্দিকের বাবা-মা। তার বা-মায়ের আর্থিক সহায়তার কৃতজ্ঞতাস্বরূপ সেই ব্যক্তি তাকে একটি সম্পত্তির মালিকানা হস্তান্তর করেছিলেন।
ফিন্যান্সিয়াল টাইমসে প্রতিবেদন প্রকাশের পরপর লেবার দলীয় সূত্র মেইল অন সানডের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানায়, তারা তিন বছর আগে আমাদেরকে ‘ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্ত’ করেনি।
লন্ডনের ভূমি রেজিস্ট্রি রেকর্ডে দেখা যায়, ২০০৪ সালের নভেম্বরে তৃতীয় তলার ফ্ল্যাটটির একক মালিক হন টিউলিপ সিদ্দিক। আর তখন তিনি কেবল লন্ডনের কিংস কলেজ থেকে স্নাতকোত্তর শেষ করেছিলেন এবং তার কোনও উপার্জন ছিল না। ফ্ল্যাটটির কোনও মর্টগেজও ছিল না এবং এর কোনও দামও উল্লেখ ছিল না। এর ফলে ফ্ল্যাটটি যে কেনা হয়নি এবং তার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল, সেটির প্রমাণ মিলেছে।
মেইল অন সানডে বলেছে, ফ্ল্যাটটির আগের মালিক ৭০ বছর বয়সী বাংলাদেশি আব্দুল মোতালিফ ২০০১ সালে সেটি এক লাখ ৯৫ হাজার পাউন্ডে কিনেছিলেন বলে জানিয়েছেন। ২০২২ সালের এপ্রিলে মেইল অন সানডের পক্ষ থেকে টিউলিপ সিদ্দিকের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, ফ্ল্যাটটি তাকে উপহার হিসেবে দেওয়া হয়েছিল কি না?
তখন লেবার পার্টি এক ই-মেইলে বলেছিল, ২০ বছর আগে টিউলিপের বাবা-মা যখন আলাদা হয়েছিলেন, তখন তাদের পারিবারিক বাড়ি বিক্রি করে কিংস ক্রস এলাকার ফ্ল্যাটটি কিনেছিলেন। ফ্ল্যাট কেনার এই অর্থ অন্য কোনও উৎস থেকে এসেছে, এমন দাবি একেবারে ভুল এবং মানহানিকর।
পরে টিউলিপ সিদ্দিকের পরিবারের বিষয়ে অনুসন্ধান করে মেইল অন সানডে। অনুসন্ধানে ২০২২ সালে অথবা তার আগে টিউলিপ সিদ্দিকের পরিবারের বাড়ি বিক্রি করার কোনও প্রমাণ পায়নি ব্রিটিশ এই সংবাদমাধ্যম। পরে গত জুলাইয়ে টিউলিপ সিদ্দিক ও লেবার পার্টির কাছে এই বিষয়ে জানতে আবারও প্রশ্ন পাঠিয়েছিল মেইল অন সানডে। প্রশ্নের জবাব না দিলেও তিনি সংবাদমাধ্যমটির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দেন। সূত্র: ডেইলি মেইল
ফাইল ছবি
সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে একজন পুরুষ নার্সের ধর্ষণের শিকার হলেন করোনা আক্রান্ত এক নারী। ধর্ষণের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ওই নারীর মৃত্যু হয়।
ভারত মধ্যপ্রদেশের ভোপালের একটি সরকারি হাসপাতালে এ ঘটানটি ঘটে। প্রায় এক মাস আগে। অভিযুক্তকে গ্রেফতারের পর বৃহস্পতিবার এই ঘটনার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
৪৩ বছরের ওই নারী ভোপালের মেমোরিয়াল হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টারে ভর্তি হয়ে ছিলেন। গত ৬ এপ্রিল এই ঘটনার কথা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নিজেই জানান। ধর্ষক নার্সকে
তিনিই চিহ্নিত করেছিলেন। এরপরই তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয় এবং সেদিনই তার মৃত্যু হয়।
এরপর ওই নারীর ছেলে থানায় অভিযোগ দায়ের করলে অভিযুক্ত পুরুষ নার্স সন্তোষ আহিরওয়ারকে (৪০) গ্রেফতার করে পুলিশ।
সিনিয়র পুলিশ অফিসার ইরশাদ আলি জানিয়েছেন, অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে এর আগেও যৌন হয়রানির বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। সে মদ্যপান করেও ডিউটি করার অভিযোগও রয়েছে।