a ডিএমপি কমিশনারের হুঁশিয়ারি, থানায় মামলা না নিলে ১ মিনিটেই সাসপেন্ড
ঢাকা বুধবার, ২৯ মাঘ ১৪৩২, ১১ ফেরুয়ারী, ২০২৬
https://www.msprotidin.com website logo

ডিএমপি কমিশনারের হুঁশিয়ারি, থানায় মামলা না নিলে ১ মিনিটেই সাসপেন্ড


মুক্তসংবাদ প্রতিদিন ডেস্ক
সোমবার, ২৫ নভেম্বর, ২০২৪, ০৩:২৬
ডিএমপি কমিশনারের হুঁশিয়ারি, থানায় মামলা না নিলে ১ মিনিটেই সাসপেন্ড

ফাইল ছবি: ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী

 

নিউজ ডেস্ক: ঢাকা মেট্টোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী বলেছেন, ঢাকার যে কোন থানায় মামলা না নিলে সাথে সাথেই ঐ থানার ওসিকে সাসপেন্ড করা হবে। আজ ২৫ নভেম্বর, সোমবার ডিএমপি সদর দপ্তরে অটোরিকশা, অটো ভ্যান ও ইজিবাইক চালকদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।

বৈঠকে একজন রিকশাচালকের নালিশ করেন, তাকে কামরাঙ্গীরচর এলাকায় গতকাল রবিবার ও এর আগেও একদিন মারপিট করা হয়েছিল। এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ডিএমপি কমিশনার বলেন, আপনি মামলা করেননি কেন? মামলাযোগ্য বিষয় হলে অবশ্যই প্রতিটি থানার ওসিদের মামলা নিতে হবে। যদি মামলা নিতে কোন থানার ওসি গড়িমসি করে তাকে ১ মিনিটে সাসপেন্ড করা হবে জানান।

চাঁদাবাজির বিষয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, কোন চাঁদাবাজির সাথে কোন পুলিশ জড়িত থাকে, তাদের রক্ষা নেই। বিশেষ করে গরীব মানুষের কষ্টার্জিত অর্থ

চাঁদাবাজির বিষয়ে শেখ মো. সাজ্জাত আলী বলন, কোনো চাঁদাবাজি চলবে না। গরিবদের কষ্টার্জিত অর্থ কেউ নিতে পারবে না। স্থানীয় মাস্তানরা চাঁদাবাজির টাকা ভাগ করে খায়। যদি পুলিশের কোনো লোক চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত থাকে তাহলে তার আর রক্ষা নেই। গরিবের কষ্টার্জিত টাকা কেউ নিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সকাল ১১টায় দিকে অটো রিকশাচালকদের একটি প্রতিনিধি দল ডিএমপি কমিশনারের সাথে দেখা করেন এবং রিকশাচালকরা তাদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া তুলে ধরেন।

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন / কে. আলম

বাধ্যতামূলকভাবে অবসরে তিন পুলিশ সুপার


আন্তর্জাতিক ডেস্ক:মুক্তসংবাদ প্রতিদিন
বুধবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২২, ১০:৫৬
বাধ্যতামূলকভাবে অবসরে তিন পুলিশ সুপার

ফাইল ছবি

তথ্য সচিব মো. মকবুল হোসেনকে মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো নিয়ে আলোচনার মধ্যেই এবার পুলিশ সুপার (এসপি) পদমর্যাদার তিন কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসর দিল সরকার।

গতকাল মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে পৃথক তিনটি প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

এই তিন পুলিশ কর্মকর্তা হলেন—পুলিশ সদর দপ্তরের পুলিশ সুপার (টিআর) মুহাম্মদ শহীদুল্ল্যাহ চৌধুরী, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) পুলিশ সুপার মো. দেলোয়ার হোসেন মিঞা এবং মীর্জা আবদুল্লাহেল বাকী। তাদের মধ্যে ভালো কাজের স্বীকৃতি হিসেবে মুহাম্মদ শহীদুল্ল্যাহ চৌধুরী পিপিএম এবং মীর্জা আবদুল্লাহেল বাকী পিপিএম (সেবা) পদকপ্রাপ্ত।

জানা গেছে, বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া এই তিন পুলিশ কর্মকর্তার মধ্যে মুহাম্মদ শহীদুল্ল্যাহ চৌধুরী ও দেলোয়ার হোসেন মিঞা বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের ১২তম ব্যাচের। বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের ১৫তম ব্যাচের কর্মকর্তা মীর্জা আবদুল্লাহেল বাকী।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সরকারি চাকরি ২০১৮ (২০১৮ সালের ৫৭ নম্বর আইন) এর ৪৫ ধারার বিধান অনুযায়ী জনস্বার্থে তাদেরকে সরকারি চাকরি থেকে অবসর প্রদান করা হলো। জনস্বার্থে জারিকৃত এ আদেশ কার্যকর হবে। তবে এই তিন কর্মকর্তা বিধি মোতাবেক অবসরজনিত সব সুযোগ-সুবিধা পাবেন কি না প্রজ্ঞাপনে সে বিষয়ে কিছু বলা হয়নি। এর আগে গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি শেখ ওমর ফারুককে বাধ্যতামূলক অবসর দিয়েছিল সরকার। সূত্র: ইত্তেফাক

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন / কে. আলম

আরও পড়ুন

ভারত উপমহাদেশে মুসলিম শাসনের পুরো সময়টাই ছিল ষড়যন্ত্র, যা পারিবারিক জীবন থেকে জাতীয় জীবন পর্যন্ত বিস্তৃত!


কর্নেল(অব.) আকরাম, মুক্তসংবাদ প্রতিদিন
বুধবার, ১২ মার্চ, ২০২৫, ১০:২৬
ভারত উপমহাদেশে মুসলিম শাসনের পুরো সময়টাই ছিল ষড়যন্ত্র, যা পারিবারিক জীবন থেকে জাতীয় জীবন পর্যন্ত ব

ছবি সংগৃহীত

 

কর্নেল(অব.) আকরাম: ষড়যন্ত্র আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এটি পারিবারিক জীবন থেকে শুরু করে জাতীয় জীবন পর্যন্ত বিস্তৃত। আমাদের জাতি অতীতে ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছে এবং এর ফলে সীমাহীন কষ্ট ভোগ করেছে। ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় ষড়যন্ত্র আমাদের জাতীয় জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অধ্যায় হয়ে উঠেছে।  

ভারতে মুসলিম শাসনের সময় ষড়যন্ত্র ছিল একটি সাধারণ ঘটনা। প্রাসাদ অভ্যন্তরের কূটচাল এবং ক্ষমতার দ্বন্দ্বের মাধ্যমে বহু শাসকের পরিবর্তন ঘটেছে। পুরো মুসলিম শাসনামলেই রাজপ্রাসাদের অভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্র শাসকের পরিবর্তনে বড় ভূমিকা রেখেছিল। তবে এই সময়ে বাইরের কোনো শক্তির সরাসরি হস্তক্ষেপের নজির ইতিহাসে ছিল না।  

বিদেশি শক্তির প্রথম প্রত্যক্ষ ষড়যন্ত্র দেখা যায় বাংলায়, যখন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে ক্ষমতা থেকে উৎখাতের ষড়যন্ত্রে জড়িয়ে পড়ে। কোম্পানি নবাবের সেনাপ্রধান মীরজাফর এবং মুর্শিদাবাদের হিন্দু ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক অভিজাতদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে বাংলার শাসনভার দখল করে। মীরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতা এবং মুর্শিদাবাদের হিন্দু ব্যাংকারদের সহযোগিতার ফলে বাংলার স্বাধীনতা হারায়, আর ভারতবর্ষের মুসলমানরা প্রায় দুইশত বছরের জন্য ব্রিটিশদের দাসে পরিণত হয়।  

পলাশীর যুদ্ধের পরিণতি এতটাই ভয়াবহ হয়েছিল যে, পুরো ভারতবর্ষের মুসলমানরা সমাজের নিপীড়িত শ্রেণিতে পরিণত হয় এবং ব্রিটিশ শাসনামলে একের পর এক ষড়যন্ত্রের শিকার হতে থাকে। কলকাতার হিন্দু অভিজাত সম্প্রদায় বঙ্গভঙ্গের বিরোধিতা করে এবং ১৯১১ সালে ব্রিটিশদের ওপর চাপ প্রয়োগ করে এটি বাতিল করতে বাধ্য করে। কিন্তু ১৯৪৭ সালে একই হিন্দু অভিজাত শ্রেণি বাংলাকে একত্রিত রাখতে দেয়নি। এটি ছিল কংগ্রেসের হিন্দু নেতাদের গভীর ষড়যন্ত্র।  

ভারতের মুসলমানরা ১৯৪৭ সালে পাকিস্তানের জন্ম পর্যন্ত একের পর এক ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছে। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর, পূর্ব পাকিস্তানের মধ্যবিত্ত শ্রেণি নতুন সুযোগের সন্ধান পায় এবং উন্নতির স্বপ্ন দেখে। কিন্তু স্বাধীনতার শুরু থেকেই ভারত ষড়যন্ত্রমূলক নীতি গ্রহণ করে পাকিস্তানকে বিভক্ত করার পরিকল্পনা করে। ভারত দ্রুত সোভিয়েত-সমর্থিত কমিউনিস্ট দল এবং সদ্য প্রতিষ্ঠিত আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করে।  

ভারতের ষড়যন্ত্র তখনই প্রকট হয়ে ওঠে যখন শেখ মুজিব আওয়ামী লীগের প্রধান নেতা হিসেবে আবির্ভূত হন। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা ছিল ভারতের ষড়যন্ত্রের স্পষ্ট প্রমাণ। ১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময় পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিল। এই সুযোগে শেখ মুজিব তার ছয় দফা দাবি উপস্থাপন করেন, যা পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালিদের কাছে ‘ম্যাগনা কার্টা’ হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠে।  

ছয় দফা দ্রুত জনপ্রিয়তা লাভ করে এবং ভারত-সমর্থিত আওয়ামী লীগের চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলো পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধীনতার জন্য সক্রিয় হতে শুরু করে। আবদুর রাজ্জাক ও সিরাজুল ইসলাম খানের নেতৃত্বে কয়েকজন তরুণ নেতা স্বাধীনতা আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু গঠন করেন। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ শেখ মুজিবের নেতৃত্বে নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করে, কিন্তু পাকিস্তানের সামরিক-রাজনৈতিক অভিজাত শ্রেণি ষড়যন্ত্র শুরু করে। সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের পরিবর্তে তারা পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের ওপর দমন-পীড়ন চালায়।  

এই সুযোগে ভারত দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে যায়। মাত্র নয় মাসের মধ্যে ভারত ও সোভিয়েত রাশিয়ার প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় পাকিস্তান বিভক্ত হয়ে বাংলাদেশ সৃষ্টি হয়। ভারতের ষড়যন্ত্র সফল হয় এবং তারা বাংলাদেশকে একটি আজ্ঞাবহ রাষ্ট্রে পরিণত করার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু করে।  

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ভারতের ষড়যন্ত্র পুরনো সামাজিক কাঠামো, ইসলামী ঐতিহ্য ও মূল্যবোধকে ধ্বংস করার দিকে মোড় নেয়। কথিত ‘বাঙালি জাতীয়তাবাদ’ এর মাধ্যমে সমাজের ধর্মীয় মূল্যবোধকে দুর্বল করা হয়। গত পাঁচ দশকে আমরা সমাজের নৈতিক অবক্ষয়, শিক্ষার মানের বিপর্যয় এবং আন্তর্জাতিক চাকরির বাজারে আমাদের অযোগ্যতার প্রমাণ পেয়েছি। ভারতের ষড়যন্ত্র এতটাই সফল হয়েছে যে, আমরা কখনো তা বুঝতে পারিনি।  

আমাদের রাজনৈতিক নেতারা, জিয়াউর রহমান ছাড়া, ভারতের ষড়যন্ত্রমূলক রাজনীতিকে বিশ্লেষণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন। ভারতীয় ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে জিয়াউর রহমান নিহত হন। গত ৫৪ বছরে আমরা ভারতের ষড়যন্ত্র থেকে মুক্ত হতে পারিনি, বরং প্রতিবার তাদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছি।  

বেগম খালেদা জিয়া দুইবার জনগণের সমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় এলেও, দুবারই তার নিজের নিয়োগকৃত সেনাপ্রধানদের ষড়যন্ত্রের শিকার হন। উভয় ক্ষেত্রেই ভারতের হাত ছিল, কিন্তু তার গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক এটি আগে থেকে বুঝতে পারেনি। ফলাফল—আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় প্রত্যাবর্তন।  

২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব নতুন বাংলাদেশের সম্ভাবনা তৈরি করলেও এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি, বরং সবকিছু আরও জটিল হয়ে উঠছে। রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের স্বার্থ নিয়ে ব্যস্ত, আর জাতির ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।  

ভারতীয় আধিপত্যবাদী রাজনীতি আজও সক্রিয় রয়েছে, অন্যথায় কেন রাজনৈতিক দলগুলো জনগণের পরিবর্তে ভারতের সমর্থনের প্রত্যাশা করবে? আমরা কি কখনো ভারতীয় আধিপত্যবাদী রাজনীতি থেকে মুক্ত হতে পারব? এটি আজ জাতির সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।


লেখক: ড. শেখ আকরাম আলী
লেখক ও আন্তর্জাতিক কলাম লেখক, মুক্তসংবাদ প্রতিদিন

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন / কে. আলম
Share on Facebook

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন এর জনপ্রিয়

সর্বশেষ - আইন