a
ফাইল ছবি
কান্নাভেজা চোখে বসেছিল তখন সবাই। হ্যাঁ করোনা আছে। তাই বলে পেটের ক্ষুধা যে লক ডাউন মেনে চলতে পারেনা। রাজধানী ঢাকা শহরের কামরাঙ্গীর চর এলাকায় সবচেয়ে কঠোর পরিশ্রম যারা করে তাদের মধ্যে রিকশাওয়ালাদের কথা না বললেই নয়। কেউ কেউ তো আবার সারাদিন রিক্সা চালানোর পরে রাতে যোগ দেয় ভিন্ন কিছু শ্রমজীবীদের সাথে। গ্রামে বড় পরিবারের ঘানি টানতে টানতে হাড়-পাঁজর এক করা পরিশ্রম তাদের।
সপ্তাহ জুড়ে লকডাউনে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন যেমন থেমে থাকেনি, প্রয়োজন অপ্রয়োজনে অনেকেরই বাইরে যাওয়া ও থেমে থাকেনি। কিন্তু আর যাই হোক তিন বেলা খাবারের নিশ্চয়তা তো ছিল। যখন পেটের দায়ে করোনা মহামারীর এত বাজে অবস্থা কে তুচ্ছ করেই ঘর থেকে বের হতে হলো অমান্য করতে হলে সরকারি নিষেধাজ্ঞা, তখন তা অবশ্যই ছোট কোনো বিষয় নয়!
ঘরে স্ত্রী সন্তান যখন ক্ষুধায় কাতর তখন কাজ না করে কি করে বসে থাকা যায় ঘরে? এমন আরও অনেক অভিব্যক্তি নিয়েই রোজের টাকা আনতে বের হতে হয় ঘর থেকে। পুলিশি তৎপরতা এবং জরিমানার ভয় তো আছেই। কিন্তু পেট তো তা মানে না।
অন্তত তিন, চারটে ক্ষেপ চাই। একশ টাকা রিকাশার জমা, একশ টাকা থাকার খরচ আর একশ টাকা কিছু খাবারের জন্য হলেও।
পড়াশোনা না থাকায় বাচ্চা কাচ্চাদের মাস শেষে পাঁচশ টাকার চিন্তা টা না হয় নাই-বা করলাম। সামনে ঈদ বাড়িতে বাবা-মায়ের জন্য কিছুতো পাঠাতে হবে। গত বছরে না বাড়িতেই ছিলাম সবাই দেখেছে কাজ নাই, টাকা নাই, তবু ঈদ চলে গেছে।কিন্তু এবার আশায় আছে সবাই।
একথা ভাবতেই কান্না করছিলেন তারা। অপেক্ষা ছিলো সার্জন যদি একটু মায়া করে রিকশাটা ছেড়ে দেয় অন্তত আজকের খাবারের টাকাটা জোগাড় করার সুযোগ হতো।
জরিমানা দেওয়ার পয়সা তো নেই। সে কথা বলে লাভও নেই। লাঠির বারি চারটা দিলেও চলবে। কিন্তু খাবার ছাড়া যে ঘরে যাওয়া যাবে না।
চোখের সামনেই রিকশাটা উল্টো করে রেখে বসে আছেন তারা। হ্যাঁ সব রিকশাই যে ধরছে এমন না। যারা বসে আছে তারা কপাল চাপড়ে ভাবছে কি দেখে ঘর থেকে বের হয়েছি আজ।
অপেক্ষার প্রহর যেন দীর্ঘ হয়। বেলা ৯ টা থেকে আটকে আছে। সময় যেন পার হচ্ছে না কোনোভাবেই। সেহেরীতে পান্তা ভাতের আয়োজন হলেও চলবে। রোজার মাস সারাদিন না খেয়ে চালিয়ে দিলেও সন্ধ্যায় ইফতার আয়োজন করতে না পারলে বাচ্চা গুলোর চোখের দিকে তাকানো যায় না।
গত বছরের লুঙ্গিগুলো এ বছর পরা যাছে না। নতুন শাড়ী দিতে না পারলেও অন্তত একটা বোরখা কিনে যে দিতেই হবে। বাচ্চার জন্য একটা নতুন জামা আর নামাজ পড়ার জন্য একটু আয়োজন।
এরকম হাজারো স্বপ্ন আর ভাবনাগুলো যেন চোখের সামনে মাটি চাপা দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ছাড়া উপায় নাই। তবে কি দরিদ্রের ঘরে জন্ম নেওয়া পাপের ফল এটা?
এ লক ডাউন যদি ঈদ অবধি চলে কেমন করে কি হবে? এসব ভাবনা বাদ দিয়েই বার বার সার্জন এর কাছে গিয়ে চলছে আকুতি মিনতি।
অবশেষে বেলা ১২ টার ঠিক কিছু আগে যখন ছাড়া হলো যেন কান্না চোখের একটুখানি স্বস্তি এলো। সৃষ্টিকর্তার কাছে শুকরিয়া আদায় করে একটুখানি পেটের চাহিদা মেটাবার চেষ্টা করার জন্য আবার নামলো রাস্তায়।
ত্রাণের অপেক্ষায় যদিও মনে কিছুটা ভরসা আসে, তবে পাওয়া না পাওয়ার শঙ্কাও জাগে মনে।
ছবি: মুক্তসংবাদ প্রতিদিন
হবিগঞ্জ শহরের আমির চাঁন কমপ্লেক্সের বাসায় মিলেছে জুলি আক্তার ২৪ এর লাশ ঝুলন্ত অবস্থায় যায়। গত ০৯-০৯-২০২১ ইং হবিগঞ্জ মডেল থানার পুলিশ লাশ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করেন। এ নিয়ে চলছে জল্পনা কল্পনা। আত্মহত্যা না কি পরিকল্পিত হত্যাকান্ড?
নিহত ঝুলি আমির চাঁন কমপ্লেক্স এর মালিক এর আত্মীয় বলে জানা যায়। জানা যায় যে, পোষ্টমর্ডেম রিপোর্ট আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টায় এক শ্রেণীর প্রভাব শালীদের চেষ্টা চলছে। রাতে মারা গেলেও লাশ উদ্ধার হয় ঐ দিন দুপুর ২-৩০ মিনিটে, তাতে জনমনে নানান সন্দেহ এবং আলোচনা-সমালোচনা চলছে লোক মুখে ও চায়ের টেবিলে।
ফাইল ছবি
আজ ১৭ মে, আওয়ামী লীগ সভাপতি হিসেবে শেখ হাসিনার ৪০তম স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস আজ। দীর্ঘ ৬ বছর নির্বাসিত থেকে ১৯৮১ সালের আজকের এই দিনে দেশে ফেরেন তিনি। এ দিন বিকেলে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি থেকে কলকাতা হয়ে তাকে বহনকারী উড়োজাহাজটি ঢাকায় নামলে বিমানবন্দরে লাখো মানুষ তাকে স্বাগত জানান।
১৯৮১ সালে স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের ওই দিনটি ছিল রোববার। সারা দেশ থেকে আসা লাখো মানুষ সেদিন তাকে বিমানবন্দরে স্বাগত জানান, ভালোবাসায় সিক্ত হন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে তাকে একনজর দেখার জন্য কুর্মিটোলা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে শেরেবাংলা নগর পর্যন্ত লাখো মানুষের ঢল নামে।
ঝড়-বাদল আর জনতার আনন্দাশ্রুতে অবগাহন করে শেরেবাংলা নগরে লাখো জনতার সংবর্ধনার জবাবে সেদিন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা বলেছিলেন, ‘সব হারিয়ে আপনাদের মাঝে এসেছি, বঙ্গবন্ধুর নির্দেশিত পথে তার আদর্শ বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে জাতির পিতার হত্যার প্রতিশোধ গ্রহণে আমি জীবন উৎসর্গ করতে চাই।’
এর আগে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করার সময় তার দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা প্রবাসে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান।
এদিকে বঙ্গবন্ধুকন্যা দেশে ফেরার আগেই ওই বছরের (১৯৮১) ১৪, ১৫ ও ১৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার হোটেল ইডেনে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিল অধিবেশনে তার অনুপস্থিতিতেই তাকে সর্বসম্মতিক্রমে আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়।
স্বদেশ প্রবর্তন দিবসের কর্মসূচিঃ
শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের চার দশক পূর্তি উপলক্ষে ‘শেখ হাসিনার চার দশক: বদলে যাওয়া বাংলাদেশের অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রা’ শীর্ষক তথ্যচিত্র প্রদর্শনী। আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা উপ-কমিটি আয়োজিত এই তথ্যচিত্র প্রদর্শনীর মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রাম এবং রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে তার নেতৃত্বে অপ্রতিরোধ্য গতিতে উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়ার ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারবে। দুই দিনব্যাপী এই প্রদর্শনী ধানমন্ডির ঐতিহাসিক ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হবে।
এদিকে দিবসটি উপলক্ষে বেলা ১১টায় ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে ঢাকা মহানগর উত্তর ও বিকেল ৩টায় মহানগর নাট্য মঞ্চে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের উদ্যোগে দোয়া মাহফিল ও আলোচনা অনুষ্ঠান। এছাড়াও সারাদেশে মসজিদ, মন্দির, গির্জা ও প্যাগোডায় বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনা করা হবে।
দিনটি উপলক্ষে আজ বাংলাদেশ টেলিভিশনও বিটিভি ওয়ার্ল্ডসহ বেশ কয়েকটি বেসরকারি টেলিভিশনে প্রচারিত হবে ডকুড্রামা- ‘হাসিনা: এ ডটারস টেল’। প্রচারিত হবে দুপুর ৩টা ৩০ মিনিটে। এ চলচ্চিত্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিজের মুখ থেকে তার বিদেশ জীবন, দেশে ফিরে আসার কথা শোনা যায়। স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের কথাও বর্ণনা করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হিসেবে নয়, বরং এ ডকুড্রামার মূল উপজীব্য জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা।