a
ছবি সংগৃহীত
ঢাকা প্রতিনিধি: জেবুন ইনডেক্স ট্রেড সেন্টারের ১১তলায় এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ‘ল’ টেম্পল চেম্বার আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান সিনিয়র আইনজীবী জয়নুল আবেদীন। তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে অনেক গরীব মানুষ আছে। এখানে মানুষের সেবা করার যত সুযোগ আছে, এতো সুযোগ পৃথিবীতে খুব কম দেশেই আছে। গরীব মানুষের সেবা করার মধ্যে অনেক তৃপ্তি থাকে।’ কনিষ্ঠ আইনজীবীদের উদ্দেশ্যে এসব কথা বলেছেন সারাদেশের আইনজীবীদের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান সিনিয়র আইনজীবী জয়নুল আবেদীন।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মানবাধিকার বিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার আবু সালেহ মো. সায়েমের চেম্বার ‘ল’ টেম্পলের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন।
শুক্রবার (২০ জুন) রাজধানীতে এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। রাজধানীর বিজয়নগরে অবস্থিত জেবুন ইনডেক্স ট্রেড সেন্টারের ১১তলায় এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই চেম্বারের পথচলা শুরু।
অনুষ্ঠানে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভাপতি জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘আইন ও ন্যায়বিচার মানুষের মৌলিক অধিকার। ব্যারিস্টার সায়েম সাধারণ মানুষের কথা ভেবেই এই মহৎ উদ্যোগটি নিয়েছেন। আমি তাকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই।
বিএনপি সবসময়ই জনগণের কল্যাণে কাজ করে। ‘ল’ টেম্পল’-এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষ মানসম্মত আইনি সেবা পাবেন বলে আমি বিশ্বাস করি। মানবাধিকার রক্ষায় এ প্রতিষ্ঠান কার্যকর ভূমিকা রাখবে।’
ব্যারিস্টার আবু সালেহ মো. সায়েম উদ্বোধনী বক্তব্যে বলেন, ‘আমার স্বপ্ন ছিল - আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় এমন একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা, যা মানুষকে কেবল পরামর্শ নয়, প্রয়োজনে সুরক্ষা ও প্রতিনিধিত্বের সুযোগও দেবে। ‘ল’ টেম্পল’-এর মাধ্যমে আমরা দেওয়ানি, ফৌজদারি, করপোরেট, মানবাধিকার, পরিবার আইনসহ বিভিন্ন শাখায় আইনি সেবা প্রদান করবো। এই প্রতিষ্ঠান হবে জনগণের কণ্ঠস্বর, ন্যায়ের প্রতিচ্ছবি।’
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিজ্ঞ আইনজীবী, শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষজনের উপস্থিতিতে মিলনমেলায় রূপ নেয় জেবুন ইনডেক্স ট্রেড সেন্টার।
ব্যারিস্টার আবু সায়েম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি (অনার্স) ও এলএলএম ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন থেকে এলএলবি (অনার্স) ডিগ্রি লাভ করেন এবং ইউনিভার্সিটি অব ল-এ বার ভোকেশনাল কোর্স সম্পন্ন করেন। তিনি লন্ডনের ঐতিহ্যবাহী ‘দ্য অনারেবল সোসাইটি অব দ্য মিডল টেম্পল’-এর সদস্য হিসেবে Barrister-at-Law হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন। বর্তমানে তিনি যুক্তরাজ্যে আইন পেশায় নিয়োজিত থাকার পাশাপাশি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এই আইনজীবীর দেশে ফেরার উদ্যোগকে স্বাগতম জানিয়ে জয়নুল আবেদীন বলেন, আমাদের দেশে মেধার বিকাশের অনেক প্রয়োজন রয়েছে।
ফাইল ছবি: জাবি’র ছাত্রছাত্রীদের বিক্ষোভ প্রদর্শন
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের বিক্ষোভে হামলা করা হয়েছে। রোববার দিবাগত রাত পৌনে তিনটার দিকে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা এই হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেছেন আন্দোলনকারী ছাত্ররা।
এর আগে রাত নয়টার দিকে বিভিন্ন আবাসিক হলের শিক্ষার্থীরা, ‘তুমি কে আমি কে, রাজাকার রাজাকার’, ‘চাইতে গেলাম অধিকার, হয়ে গেলাম রাজাকার’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকেন। পরে তাঁরা বিভিন্ন হল থেকে রাত সাড়ে ১১ টার দিকে ক্যাম্পাসের বটতলায় জড়ো হতে থাকেন। তখন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলে দুজন আন্দোলনকারীকে অবরুদ্ধ করার অভিযোগ ওঠে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে। এই খবর জানাজানি হলে রাত সাড়ে ১২টার দিকে তাঁদের মুক্ত করার জন্য বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীরা হলের সামনে অবস্থান নেন।
এ সময় ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা-কর্মীকে নিয়ে বৈঠকে বসেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের প্রাধ্যক্ষ নাজমুল হাসান তালুকদার। তখনো শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন হলের সামনে ও ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করছিলেন। পরে রাত দেড়টার দিকে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়কে বিক্ষোভ মিছিল করতে থাকেন আন্দোলনকারীরা। মিছিলটি রাত সোয়া দুইটার দিকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের সামনে এলে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা বাধা দেন এবং মুখোমুখি অবস্থান নেন। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পরে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমগীর কবিরসহ কয়েকজন শিক্ষক দুই পক্ষকে থামানোর চেষ্টা করেন। এ সময় ছাত্রলীগের নেতা–কর্মীরা আন্দোলনকারীদের জামায়াত-শিবির আখ্যা দেন ও নারী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে গালাগাল করেন।
এক পর্যায়ে রাত পৌনে তিনটার দিকে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালানো হয়। হামলার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। এতে দেখা যায় বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হল ছাত্রলীগের সভাপতি পদপ্রত্যাশী ৪৬ ব্যাচের ছাত্র প্রাচুর্যসহ বেশ কয়েকজন হামলা করছেন। হামলায় আহসান লাবিব নামের একজন আন্দোলনকারী ও একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা আহত হয়েছেন।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের প্রাধ্যক্ষ নাজমুল হাসান তালুকদার ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের উসকে দিয়েছেন। তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অধ্যাপক নাজমুল হাসান তালুকদার।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের অর্থসম্পাদক ও বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের ছাত্রলীগের জ্যেষ্ঠ নেতা তৌহিদুল আলম বলেন, ‘আন্দোলনকারীরা আমাদের হলের সামনে এসে কোটা আন্দোলনের নামে মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু ও ছাত্রলীগকে অবমাননা করে স্লোগান দিচ্ছিল। তখন আমরা একটা শান্তিপূর্ণ মিছিল নিয়ে যেতে চাইলে তারা বাধা দেন এবং গালিগালাজ করেন। তাদের কোনো হামলা করিনি, যথেষ্ট সম্মান দেখিয়েছি। আমরা হলে ফিরে যাওয়ার সময় তারা আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়েছে।’
সোমবার বেলা ১১টায় সহউপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ মোস্তফা ফিরোজ বিষয়টি নিয়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন, এমন আশ্বাস পেয়ে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা ভোর সাড়ে চারটার দিকে নিজ নিজ হলে ফিরে যেতে থাকেন। সূত্র: প্রথম আলো
ফাইল ছবি
বায়তুল মোকাররম ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যারয়ের জিমনেসিয়াম মাঠে শান্তি সমাবেশের অনুমতি না পেয়ে আগারগাঁওয়ের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার পুরনো মাঠে সমাবেশের সিদ্ধান্ত নিল আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম তিন সংগঠন যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও ছাত্রলীগ। তবে মাঠ প্রস্তুত না থাকায় বৃহস্পতিবারের বদলে শুক্রবার সমাবেশ করবে জানায় তারা।
স্বেচ্ছাসেবক লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি গাজী মেজবাউল হোসেন সাচ্চু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া জানান, আগারগাঁওয়ের বাণিজ্য মেলা মাঠটি সমাবেশের জন্য উপযোগী না হওয়ায় সমাবেশ একদিন পিছিয়ে শুক্রবার করা হবে।
প্রথমে বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে শান্তি সমাবেশ করার অনুমতি চেয়েছিল আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম তিন সংগঠন। শুরুতে তাদের সমাবেশ করার অনুমতি দেওয়া হলেও পরে মানা করা হয়।
ফলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জিমনেসিয়াম মাঠে সমাবেশের অনুমতি চেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়। প্রক্টরিয়াল বডি এ নিয়ে বৈঠকেও বসে কিন্তু পরে শান্তি সমাবেশ আগাঁরগাওয়ের বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের পাশে আয়োজনের কথা জানানো হয়।
একই দিনে রাজধানীতে আওয়ামী লীগের এই তিন সংগঠনের শান্তি সমাবেশ ছাড়াও বিএনপির মহাসমাবেশ রয়েছে। ফলে শুক্রবার ঢাকার রাজপথে বড় দুই দলের নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সূত্র: ইত্তেফাক