a
ফাইল ছবি
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে ঘরের মাঠে লিডস ইউনাইটেডের বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ের গোলে হেরে বসলো ম্যানচেস্টার সিটি। তবে এখনো ৭৪ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষেই রয়েছে ম্যানসিটি।
শনিবার ঘরের মাঠ ইতিহাদ স্টেডিয়ামে লিডসের বিপক্ষে ২-১ গোলে পরাজয় বরণ করে।
পুরো ম্যাচেই আধিপত্য দেখিয়ে খেলেছে সিটিজেনরা। তবে আক্রমণাত্মক খেলা সিটি ৪২তম মিনিটে গোল হজম করে। প্যাট্রিক বামফোর্ডের সহায়তায় গোলটি করেন ডালাস। কিন্তু প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ১০ জনের দলে পরিণত হয় লিডস। ট্যাকেল করার কারণে লিয়াম কুপারকে লাল কার্ড দেখান রেফারি।
বিরতির পর আক্রমণের ধারা বাড়িয়ে দেয় সিটি। আর ম্যাচের ৭৬ মিনিটে ফলাফলও আসে। বানার্দো সিলভার অ্যাসিস্টে সিটিকে স্বস্তির গোল এনে দেন তোরেস। তবে দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা প্রথম মিনিটেই গার্দিওলা শিষ্যদের মুখ থেকে হাসি কেড়ে নেন ডালাস। আলিওস্কির সহায়তায় নিজের জোড়া গোল করে লিডসকে জয় উপহার দেন উত্তর আয়ারল্যান্ডের এই মিডফিল্ডার।
লিগে ৩২ ম্যাচে ২৩টি জয়, পাঁচটিতে হার ও ৪টি ড্র নিয়ে ৭৪ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষেই রয়েছে ম্যানসিটি। আর ৩১ ম্যাচে ৪৫ পয়েন্ট নিয়ে নয়ে উঠে লিডস।
ছবি: সংগৃহীত
কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল–জাজিরার তৈরি কাশেফ নামের রোবট সফটওয়্যার বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচের আগে ভবিষ্যদ্বাণী করছে।
আর্জেন্টিনা-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচে রোবট কাশেফ ভবিষ্যদ্বাণী করেছে লিওনেল মেসির পক্ষে। কাতারের আহমেদ বিন আলী স্টেডিয়ামে রাত ১টায় ম্যাচটি শুরু হবে।
এদিন রাত ৯টায় খলিফা আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে যুক্তরাষ্ট্রের মুখোমুখি হবে নেদারল্যান্ডস। এই ম্যাচে রোবট ভবিষ্যদ্বাণী করেছে নেদারল্যান্ডস তথা ডাচসের পক্ষে।
কাতার বিশ্বকাপে শুক্রবার পর্যন্ত হয়ে যাওয়া ৪৮টি ম্যাচ নিয়ে প্রতিদিনই ভবিষ্যদ্বাণী করেছে রোবট কাশেফ। এই ৪৮টি ম্যাচের মধ্যে কাশেফের ভবিষ্যদ্বাণী মিলেছে ৬৫ শতাংশ।
কাশেফ বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া ৩২ দলের খেলার ধরন, খেলোয়াড়দের দক্ষতা, অভিজ্ঞতাসহ খেলার জয়-পরাজয়ের ইতিহাস পর্যালোচনা করে সম্ভাব্য ফলাফল দিচ্ছে। এ জন্য প্রায় ২০০ ধরনের ১ লাখ তথ্যের একটি তথ্যভাণ্ডার তৈরি করেছে আল-জাজিরা। গুগল ক্লাউডে থাকা এসব তথ্য দ্রুত পর্যালোচনা করে প্রোগ্রামটি। সূত্র: যুগান্তর
ছবি সংগৃহীত
সম্প্রতি চীনের মধ্যস্থতায় সৌদি ও ইরানের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছে। বলার অপেক্ষা রাখেনা ভূরাজনীতিতে এর প্রভাব ও গুরুত্ব কত অপরিসীম! সারা বিশ্বে হঠাৎ চীন যেভাবে আধিপত্য বিস্তারে যুক্তরাষ্ট্রকে টেক্কা দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে তার দায় যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা মিত্র এড়াতে পারবে?
ইরান-সৌদি আরবে সন্ধি স্থাপনের পর পরই আরব রাজনীতিতে বরফ গলতে শুরু করেছে। মধ্যপ্রাচ্যে ইরাক,ইয়েমেনসহ অন্যান্য দেশগুলোর সাথে ইরানের যে বৈরিতা শুরু হয়েছিল, সৌদির সাথে ইরানের সম্পর্ক উন্নয়নে গোটা মধ্যপ্রাচ্যে সম্পর্ক উন্নয়নে আমুল পরিবর্তন আসছে।
মূল কথায় আসি। যদিও চীন মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা আনয়নে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কাজ করছে কিন্তু ভূ-রাজনীতি বিবেচনায় চীনকে গনতন্ত্রের সহায়ক শক্তি হিসেবে কখনো বিবেচনা করা যাবে না। কারন চীন অর্থনৈতিক, সামরিক শক্তির পাশাপাশি বহুমাত্রায় নিজের শক্তি বাড়াতে মধ্যপ্রাচ্যসহ উন্নয়নশীল দেশগুলোর সহিত যোগাযোগ বৃদ্ধি করেইা যাচ্ছে। আর এটা করতে গিয়ে বেছে নিচ্ছে বিভিন্ন দেশের ফ্যাসিবাদ ও কর্তৃত্ববাদী সরকারকে। দেশটি নিজের আধিপত্য বিস্তার করতে আর্থিক সহযোগিতার নামে ফ্যাসিবাদ রপ্তানি করছে এবং আমেরিকার পুঁজিবাদী মুক্তবাজার মডেলের বিপরীতে হিউম্যান অথোরিটি বা মানুষের কর্তৃত্ব নিয়ে বিশ্বকে দখলে নিতে চাচ্ছে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জার্মান, জাপান ও ইতালি অক্ষশক্তিগুলোর পতন হলে যুক্তরাষ্ট্র পুঁজিবাদী অর্থনীতির নাম করে মুক্তবাজার ও উদার রাজনীতির খোলস পরে মানুষের মুক্তি ও স্বাধীনতার ধোঁয়া তুলে বিশ্ব রাজনীতিতে নিজেদের অবস্থান পাকাপোক্ত করেছিল। যুক্তরাষ্ট্র গণতন্ত্র ও রাজনৈতিক স্বাধীনতার নামে বিভিন্ন দেশে অন্যায়ভাবে ক্ষমতার পরিবর্তন করেছে। অনেক ক্ষেত্রে নিরংকুশ জনপ্রিয় ও গণতান্ত্রিক সরকারগুলোকেও অন্যায়ভাবে ক্ষমতা থেকে তাড়িয়ে দিয়ে তাদের ইচ্ছা মতো শাসককে বসিয়ে দিতেও কার্পন্য করেনি। এসব করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র দেশের কিছু সুশীল সমাজ, জনসাধারণ ও সামরিক বাহিনীকে নির্লজ্জভাবে ব্যবহার করেছে। যদিও ইদানীং চীনকে ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্র তার নীতির পরিবর্তন এনেছে, তারপরও রাশিয়া-ইউক্রেনের যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন হীন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো বুঝতে পেরে এবং একক ক্ষমতাধর যুক্তরাষ্ট্র করোনা উত্তরোত্তর ও খালি হাতে আফগানিস্তান ও ইরাক হতে সৈন্য ফেরত এককচ্ছত্র ক্ষমতা শৈথিল্য বিশ্ব দরবারে প্রকাশের ফলে দেরিতে হলেও ঘুপটি মেরে থাকা দেশগুলো বর্তমানে চীন-রাশিয়ার বলয়ে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে চলে আসছে।
পূর্বেই বলেছি চীন তার শক্তির বলয় বাড়াতে বিভিন্ন দেশে ফ্যাসিবাদ ও কর্তৃত্ববাদী সরকারকে সমর্থন দিয়ে আমেরিকার আধিপত্যবাদ ঠেকিয়ে নিজেদের দিকে ভেড়াচ্ছে। ফলে চীন রাশিয়া, উত্তর কোরিয়া, মায়ানমার, সিরিয়াসহ অগনতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রধানদের সঙ্গে নিয়ে বিশ্বরাজনীতিতে নিজেদের অবস্থান পাকা পোক্ত করতে মরিয়া।
এদিকে, চীন তার শক্তি বৃদ্ধিতে অর্থনৈতিক শক্তি, দক্ষ কূটনীতি ও সামরিক শক্তি দিয়ে বিভিন্ন দেশ ও শাসককে নিরবে নিজেদের পক্ষে নেয়ার কাজ করে যাচ্ছে। আর এটা করতে গিয়ে চীন বিভিন্ন দেশের অগণতান্ত্রিক সরকারগুলোর সাথে কাজ করছে। এরই সর্বশেষ উদাহরণ ইরান-সৌদি আরবকে মিলিয়ে দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে আমেরিকার বলয় থেকে বের করার সুযোগ সৃষ্টি করে চমক তৈরির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতেও চীন একই নীতিতে প্রভাব বিস্তার করে চলেছে।
উল্লেখ্য, ইসরায়েলের নিরাপত্তার কথা বলে ফিলিস্তিনীসহ আরব দেশগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের ভ্রষ্ট নীতির কারনে বিশ্বের শান্তিকামী মুসলমানকে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে দিয়েছে। বাংলাদেশের রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা উল্লেখ না করলেই নয়। বাংলাদেশের জন্ম থেকে বর্তমানবধি যুক্তরাষ্ট্রের প্রচ্ছন্ন ভূমিকা এদেশের স্বাধীন প্রিয় ও সচেতন জনগনকে আশাহত করে অনেক অনেক ক্ষেত্রে। আর যুক্তরাষ্ট্রের এসব রাজনীতিতে ইইউসহ পশ্চিমা শক্তিগুলো নির্লজ্জ সমর্থনের কারনে অনেক দেশ যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বলয় থেকে বেরিয়ে চীন-রাশিয়ার বলয়ে ঝুঁকছে।
আরো উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘ সময়ে সন্ত্রাসবিরোধী লড়াই করে নিজেদের ইমেজ নষ্ট করেছে। এরমধ্যে আরও দৃশ্যমান তাদের নীতিতে দ্বি-চারিতা ও দূর্বল কূটনৈতিক কৌশল। মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার দেশগুলোতে অযথা সংঘাত বাধিয়ে সেসব দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ হাতিয়ে নেওয়ার জ্বলন্ত উদাহরণ সম্পর্কে সম্যক ধারণা সবার।
তারপরও যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষয়িষ্ণু শক্তির বিপরীতে চীনের উত্থান কোনভাবেই বিশ্ববাসীর জন্য আশাপ্রদ নয়। কারণ চীন বিভিন্ন দেশের এক নায়কতন্ত্র লৌহমানব ও কর্তৃত্ববাদী শাসকদের সঙ্গে নিয়ে একক মঞ্চ তৈরি করার সুযোগ করে দিচ্ছে ও তাদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা শক্তিগুলোর যুদ্ধাংদেহী মনোভাব ও ভুল পররাষ্ট্রনীতির কারনে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মিত্র দেশগুলোকে একে একে হারানোর ফলে সেসব জায়গাগুলো পূরণ করছে চীন। বিশেজ্ঞদের ধারণা, বিশ্ব ভূ-রাজনীতিতে চীনের উত্থানের দায় যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা শক্তিগুলো কোনভাবে এড়াতে পারবে না।
মোহা. খোরশেদ আলম
কলাম লেখক ও সম্পাদক মুক্তসংবাদ প্রতিদিন
নির্বাহী পরিচালক
হিউম্যানরাইটস এন্ড এনভায়রমেন্ট ডেভে. সোসাইটি