a
ছবি সংগৃহীত
পরকীয়া একটি মানসিক ব্যাধি। পরকীয়া পারিবারিক অশান্তি এবং বিবাহ বিচ্ছেদের একটি অন্যতম কারণ। অধিকাংশ পরকীয়ার সম্পর্ক গুলোতেই ভালোবাসা থাকে না, পরকীয়ার সম্পর্কে যে অনুভূতিগুলো তৈরি হয় সেটিকে প্রেম বলা যেতে পারে যেখানে রোমান্স থাকে, শারীরিক সম্পর্কের একটা বিষয় থাকে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পরকীয়া সম্পর্কগুলো ক্ষণস্থায়ী হয়, সর্বোচ্চ দুই থেকে তিন বছর এই সম্পর্কিত মানুষ দুটির একে অপরের প্রতি আকর্ষণ থাকে। এরপর সম্পর্কের পরিণতি হতে থাকে। ক্ষণস্থায়ী এই সম্পর্কের প্রভাব অনেক ক্ষতিকর যা দুটি সুন্দর সাজানো সংসারকে ধ্বংস করে দেয়। পরকীয়া থেকে ফিরে আসা ব্যক্তিটি তার জীবন সঙ্গীর কাছে আগের মত আর বিশ্বস্ত হতে পারে না। ভাঙা বা ছেরা জিনিসকে সুপার গ্লু দিয়ে জোরা লাগালে জোরা লাগবে কিন্তু একটা দাগ থেকে যায়।
পরকীয়া সম্পর্ক দিন দিন বেড়েই চলছে। যার ফলে বাড়ছে পারিবারিক অশান্তি এবং বিবাহ বিচ্ছেদ। এই সম্পর্ক গুলো গড়ে ওঠার পেছনে কে দায়ী? কেন মানুষ পরকীয়া সম্পর্কে জড়িত হয়? অনেক মানুষ তার স্বভাবগত কারণে পরকীয়া সম্পর্ক করে থাকে। কখনো কখনো তারা একটি নয়, একই সঙ্গে একাধিক পরকীয়া সম্পর্ক করে। একটি সম্পর্ক ভেঙে গেলে আবার অন্য কারো সঙ্গে নতুন করে পরকীয়া করে। এই বিকৃত স্বভাবের মানুষগুলোর এই ধরনের আচরণ গড়ে ওঠার পেছনে তার ত্রুটিপূর্ণ পারিবারিক পরিবেশ, পরিবার থেকে ন্যায় নীতি এবং ধর্মীয় শিক্ষার অভাব এবং বিকৃত সামাজিক অবস্থা অনেক ভূমিকা পালন করে। পরকীয়ায় লিপ্ত আছে এমন কারো সঙ্গে বন্ধুত্ব থাকলেও পরকীয়া করার প্রতি প্রভাবিত হতে পারে।
পরকীয়ার অন্যান্য কারণ গুলোর মধ্যে একটি অন্যতম কারণ হচ্ছে জীবনসঙ্গীর কাছ থেকে পাওয়া অবহেলা। বিশেষ করে পুরুষরা যখন তার স্ত্রীর কাছ থেকে বিভিন্নভাবে অবহেলিত হয় এবং স্ত্রীরা সে বিষয়ে উদাসীন থাকে তখনই একজন পুরুষ বহির্মুখী হয়। এক্ষেত্রে স্বামী স্ত্রীর শারীরিক সম্পর্ক বা যৌন সম্পর্কের অপরিপূর্ণতা সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।অপর পক্ষে একজন স্ত্রীও যখন স্বামীর কাছ থেকে অবহেলিত হন তখন সে পরকীয়া করতে পারে।
পরকীয়া কখনোই স্থায়ী হয় না সুতরাং যে সম্পর্ক স্থায়ী হয় না বরং এর প্রভাব দুটো পরিবারের উপরে মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে তাই এ বিষয়ে সচেতন হওয়া প্রয়োজন। স্বামী এবং স্ত্রী উভয়কেই সুন্দর সম্পর্ক ধরে রাখার জন্য মনোযোগী হতে হবে। উভয়েই উভয়ের চাহিদাগুলো পূরণ করার জন্য সচেষ্ট থাকতে হবে। স্বামী-স্ত্রীর সুন্দর সম্পর্ক পরকীয়ার চেয়ে হাজার হাজার গুণ বেশি শ্রেয়। তাই এই সম্পর্ক কে টিকিয়ে রাখার জন্য সচেতনতার প্রয়োজন রয়েছে। আর যারা জীবনসঙ্গীর কাছ থেকে সবকিছু পাওয়া সত্বেও পরকীয়ার উপর নির্ভরশীল তাদের উচিত একজন ভালো মনোবিজ্ঞানীর পরামর্শ নেয়া।
সবাই ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন এবং সুন্দর সম্পর্কে সম্পর্কিত থাকুন।
নাসরীন আহমেদ
প্রাক্তন শিক্ষক মনোবিজ্ঞান বিভাগ
সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়
বেইলী রোড, ঢাকা
বাংলাদেশ
ফাইল ছবি: মুক্তা দাশ
আমার সারাবেলা
অবসরে যাবার বয়স এখনো অনেকটা দুর ।
বাপের বাড়ির গোত্র ঝেড়ে- মুছে
এই তো সেদিন সবে বিয়ের পিড়িতে বসা হলো...
দিন যেতে না যেতেই তিন তিনটে ছানাপোনা।
হেঁসেল আর ছানাপোনাদের স্কুল কলেজের
গন্ডি পেরোতেই পঞ্চাশটা বছর কেটে গেলো
জীবন থেকে।
অবসরে যাবার বয়স এখনো অনেকটা দুর...!
একাকিত্ব কাটাতে ঘরে আমদানি হলো পোষ্য..
নাম কুকি --- আমার সারাবেলার সঙ্গী !
অবসরে যাবার বয়স এখনো অনেকটা দুর...
সংসারে মেয়েদের আবার অবসর কি !!?
রান্না - বান্না ঘরকন্যা
সংসারে মেয়েদের অবসরে যেতে নেই !
সকালের সূর্যোদয়ে গনগনে গরম উনুন আর
রাতের হেঁসেল গুছানো.. এ আর এমন কি কাজ !
অবসরে যাবার বয়স এখনো অনেক দুর...!
হঠাৎই হয়তো ডাক পড়বে, ফুরাবে সব পুতুলখেলা !
চন্দন কাঠের গন্ধে না হয় গায়ে মাখবো আগুনখেলা !!
সেদিন আমি, সত্যি সত্যি ই ! অবসরে যাবো...
এপারের খেলা শেষে ওপারের নৌকায় উঠবো ।।
ফাইল ছবি: মুক্তা দাশ
তোমাকে খুব মনে পড়ে..!!
কুয়াশা আলগোছে সরিয়ে শিশির ঝরে , মৃতপ্রায়
লাউ গাছটায় গজানো লকলকে নতুন ডগায় ।
খাচায় বন্দী শালিকটা ডেকেই যাচ্ছে একমনে... !
ভাপা পিঠার গরম ভাপ নাক মুখ ছাপিয়ে সবার হাতে হাতে পেটে চালান হচ্ছে ম্যারাথন দৌড়ে।
ঘোমটা মাথায় উনুনে পাটকাঠি জ্বলছে দাউ দাউ...! সংসারে চাকা ঘুরছে সময়ের নিয়ম মেনে।
এলোমেলো ভাবনাগুলো এখন গুছিয়ে আনার আপ্রাণ চেষ্টা করছি...
পারছি কি?
হয়তো হ্যাঁ ! হয়তো না !!
বুমেরাং হয়ে স্মৃতিগুলো সব ফিরতি ট্রেনে শেষ স্টেশন ধরে আমাকেই।
ধ্যানমগ্ন ঋষির মতো অতীতটাকে মাটিচাপা দিচ্ছি....তুষের ছাই দিয়ে।
ধর্মের ফাঁদে নতুন ছাঁচে জীবনকে সাজানোর চেষ্টা..... বৃথাই বাল্মিকী মুনিনামা !
সেও তো এক রকমের প্রতারণা
নিজের সাথে নিজের ছলনা,
তবুও যদি পরিত্রাণ পাওয়া যায়।
তোকে মনে না করার বাহানায় আটপৌরে আমি
ক্ষণে ক্ষণে তোকেই খুঁজি!
' তুমি থেকে তুই
তুই থেকে তুমি '...!
স্পর্শে তোকে মনে রাখা যতটা সহজ
স্পর্শহীন তোকে ভুলে থাকা ততটাই কঠিন ।
তোমাকে খুব মনে পড়ে ...!!
প্রতিটি নতুন ভোরে.... নিশুতি রাতের গভীরে
খুব মনে পড়ে ।।