a
নিউজ ডেস্ক: ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এবং এই সম্পর্ক সঠিক কূটনৈতিকভাবে পরিচালনা করা প্রয়োজন। তবে এই দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক কখনোই স্বাভাবিক ছিল না, এবং এর পেছনে কিছু সুস্পষ্ট কারণ রয়েছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক একটি ভিন্ন ধারায় বিকশিত হয়েছে, যা সাধারণ কূটনীতির রীতিনীতির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
স্বাধীনতার পর থেকে যে ধরণের সম্পর্ক এই দুই দেশের মধ্যে গড়ে উঠেছে, তা অনন্য। এটি সাধারণত ভারত সরকারের সাথে বাংলাদেশের আওয়ামী লীগের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। যেখানে সাধারণভাবে রাষ্ট্রের সঙ্গে রাষ্ট্রের সম্পর্ক গড়ে ওঠার কথা, সেখানে এই সম্পর্ক মূলত একটি দলের সাথে কেন্দ্রীভূত হয়েছে। গত পাঁচ দশকে ভারত কখনোই প্রকৃত কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনে আগ্রহ দেখায়নি। বরং, তারা সবসময় বাংলাদেশের প্রতি বড় ভাইয়ের মতো আচরণ করেছে।
বর্তমান সম্পর্কের শিকড় ইতিহাসে নিহিত। ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক প্রায় এক হাজার বছরের পুরনো। আমরা, মুসলমানরা, গর্ব ও সফলতার সঙ্গে সাতশ বছরের বেশি সময় ধরে ভারত শাসন করেছি। আজকের ভারতীয় ঐতিহ্যের অনেকটাই মুসলিম শাসকদের অবদান। কিন্তু ভারতীয় নেতৃত্ব কখনো মুসলমানদের এই গৌরবময় ইতিহাস মেনে নিতে পারেনি। তারা মুসলমানদের বহিরাগত হিসেবে বিবেচনা করেছে এবং ভারতের সমাজ থেকে মুসলিম সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য মুছে ফেলার চেষ্টা করেছে। বাবরি মসজিদ ধ্বংস তার একটি উজ্জ্বল উদাহরণ।
ব্রিটিশ শাসনকে হিন্দু সম্প্রদায় শুধু শাসকের পরিবর্তন হিসেবে দেখেছে এবং শুরু থেকেই ব্রিটিশদের পক্ষ নিয়েছিল। তারা মুসলিম জনগোষ্ঠীকে নির্মূল করার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিল। তবে মুসলিম লীগ ও তার নেতৃত্বের কারণে তারা তাদের উদ্দেশ্যে সফল হতে পারেনি।
১৯৪৭ সালে ভারতের বিভক্তি নিয়ে তৎকালীন হিন্দু নেতৃত্ব, বিশেষত জওহরলাল নেহেরু, সন্তুষ্ট ছিলেন না। পাকিস্তানের জন্মের দিন থেকেই তারা এর বিরুদ্ধে কাজ শুরু করেন।
১৯৭১ সালে আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধ তাদের সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগ করে দেয়। তারা সময় নষ্ট না করে পাকিস্তানকে ভাঙার পরিকল্পনায় সফল হয়।
আমাদের বহু ত্যাগের বিনিময়ে স্বাধীনতা অর্জিত হয় এবং ভারত একটি ভালো বন্ধুর মুখোশে হাজির হয়। কিন্তু স্বাধীনতার পরপরই তাদের প্রকৃত রূপ প্রকাশ পায়, যা ছিল লুটেরার মতো।
ভারত কখনোই প্রকৃত বন্ধু হয়ে উঠতে পারেনি; তারা সবসময় বন্ধুত্বের ভান করে কূটনৈতিক সম্পর্ককে একতরফাভাবে পরিচালনা করেছে। ১৯৭১ সাল থেকে ভারত কৌশলে বাংলাদেশকে ব্ল্যাকমেইল করেছে এবং বড় ভাইয়ের মতো প্রভাব বিস্তার করেছে।
তবে এটা অস্বীকার করার উপায় নেই যে ভারত আমাদের চিরস্থায়ী প্রতিবেশী। আমাদের তাদের সঙ্গে ভালো কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে, তবে সেটি হওয়া উচিত ভারসাম্যপূর্ণ এবং উভয়ের সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মানজনক।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট বিপ্লবের পর দৃশ্যপট পরিবর্তন হয়েছে। আমরা এখন ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য সঠিক পথে ফিরে এসেছি। নতুন সম্পর্কটি পেশাদারিত্বের ভিত্তিতে গড়ে উঠবে এবং উভয় দেশের মধ্যে ভালো প্রতিবেশীর সম্পর্কের নতুন অধ্যায় সূচিত করবে।
প্রফেসর ড. শেখ আকরাম আলী
সম্পাদক, সামরিক ইতিহাস জার্নাল ও আইনের অধ্যাপক।
ফাইল ছবি
ক্যাসিনো-কাণ্ডে অভিযুক্ত ও বহিষ্কৃত নেতাদের রাজনৈতিকভাবে পুনর্বাসনের সংবাদে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাটি বলেছে, একজন সংসদ সদস্যের সাংগঠনিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে দুর্নীতি দমন কমিশনকে দেখে নেওয়ার হুমকি একসূত্রে গাঁথা।
টিআইবি বলেছে, রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের হাতে সরকারের দুর্নীতিবিরোধী অঙ্গীকার জিম্মি করার এই হীন প্রচেষ্টায় তারা হতাশ। আজ শুক্রবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এই ক্ষোভের কথা প্রকাশ করেন টিআইবি।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ক্যাসিনো-কাণ্ডে অভিযুক্ত ও বহিষ্কৃত নেতা বিদেশে দীর্ঘদিন পলাতক থেকে চমকপ্রদ উপায়ে দেশে ফিরে দায়িত্বশীলদের উপস্থিতিতে হকি ফেডারেশনে পুনর্বহাল হয়েছেন। একই সঙ্গে আরও একাধিক অভিযুক্ত নেতা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে পুনরায় সক্রিয় হওয়ার সুযোগ করে নিচ্ছেন। এটি সরকার প্রধানের দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতার ঘোষণাকে পদদলিত করার প্রকট দৃষ্টান্ত।
যুবলীগের সাবেক নেতা এ কে এম মমিনুল হক সাঈদ ওরফে ‘ক্যাসিনো সাঈদ’ ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান শুরুর পর আলোচনায় আসেন। তখন ক্যাসিনো-কাণ্ডে যুবলীগের মহানগর দক্ষিণের সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী (সম্রাট), সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াসহ অনেকে গ্রেপ্তার হলেও সাঈদ ধরা পড়েননি।
কারণ, অভিযান শুরুর কয়েক দিন আগেই তিনি দেশের বাইরে চলে যান। এরপর ওই বছরের ১৭ অক্টোবর তাঁকে কাউন্সিলর পদ থেকে অপসারণ করে সরকার। তিনি গত জানুয়ারির শেষ দিকে দেশে আসেন। দেশে ফিরে ক্যাসিনো সাঈদ প্রথম প্রকাশ্যে আসেন ১৪ ফেব্রুয়ারি। সেদিন রাজধানীর তেজগাঁওয়ের ফ্যালকন হলে হকি ফেডারেশনের কার্যনির্বাহী কমিটির নিয়মিত সভায় আকস্মিকভাবে হাজির হন তিনি।
আজ ইফতেখারুজ্জামান বিবৃতিতে বলেন, ক্ষমতাসীন জোটের একজন সংসদ সদস্য দুর্নীতির অভিযোগে মামলা করার কারণে দুদককে যে ভাষায় হুমকি দিয়েছেন, তা শুধু আইনের শাসনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শনই নয়। তার কর্তৃত্বাধীন সাংগঠনিক সক্ষমতাকে পেশিশক্তি হিসেবে ব্যবহারের নগ্ন উদাহরণ। অথচ আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে তিনি অভিযুক্ত ব্যক্তিদের নির্দোষ প্রমাণ করার প্রয়াসের পথে হাঁটতে পারতেন।
গত সোমবার দুদকের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী। এই সংসদ সদস্য সেদিন বলেন, ‘দুদক নজিবুল বশর মাইজভান্ডারীকে চেনেনি। যা তা কমেন্ট করছেন সহকারী পরিচালক। চামড়া সব ছিঁড়ে ফেলব। মাইজভান্ডারীর গায়ে হাত!’
সংসদ সদস্য নজিবুল বশরের এই বক্তব্যের ভিডিও চিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। নজিবুল বশরের এই বক্তব্য দেওয়া সমীচীন নয় বলে মনে করেন হাইকোর্ট।
গতকাল বৃহস্পতিবার নজিবুল বশরের বক্তব্য নজরে আনার পর বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি খিজির হায়াতের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ বলেন, ‘আমরা সবাই কেমন যেন অসহিষ্ণু হয়ে পড়ছি। সিভিল সোসাইটির একজন মানুষ, ভালোভাবে বলতে পারতেন। তাঁর মন্তব্য আরও সুন্দর হওয়া উচিত ছিল।’
টিআইবির প্রধান ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘এই পরিস্থিতি দুর্নীতিবিরোধী অঙ্গীকার এবং দুর্নীতি প্রতিরোধক আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোকে রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের হাতে জিম্মি করার হীন প্রয়াস। সরকার ও ক্ষমতাসীন দল দেশবাসীকে কী বার্তা দিতে চাইছে? ‘যেকোনো অপরাধই করা হোক না কেন, ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে যুক্ত থাকলে তা থেকে পার পাওয়া যাবে! রাজনৈতিক অঙ্গনকে পেশিশক্তি ও দুর্বৃত্তায়নের প্রাতিষ্ঠানিকীকরণের এই অশুভ প্রক্রিয়াকে প্রতিহত করার দায়িত্ব সরকার ও ক্ষমতাসীন জোটকেই নিতে হবে।’ সূত্র: প্রথম আলো
সোনিয়া হক
এলেবেলে লেখা
------------------------
পঞ্চাশ বছর বয়সে আজো হিংসা গেলোনা,
ছেলে পেলে বড় করেও
নিজেরা আজও বড় হলাম না।
একের ভালো দেখতে নারি
সময় কাটাই পরচর্চা করি,
অন্যের ছিদ্র খুঁজতে ভুলি
নিজের কাপড় গেছে খুলি।
অপরে যা করলে মন্দ,
নিজের বেলায় নেইকো গন্ধ ,
এ'সবেতে লাভ কিছু নাই,
নিজের বা'কাধ হয় যে বোঝাই।
আমার নামে যত খুশি মন্দ বলো,
আখেরাতে তোমার পূণ্য আমার হলো।
আমি কি তা আমি জানি,
কে কী বলে কী এসে যায়
আমার রাজ্যে আমিই রানী।
প্লিজ লক্ষ্য করে বয়সটাকে
সামলে রাখো ঈর্ষাটাকে,
অন্যের জন্য গর্ত খুঁড়ে
নিজেই মরবে তাতে পড়ে।