a
ছবি: মুক্তসংবাদ প্রতিদিন
সাইফুল আলম, ঢাকা: ব্রুনাই শ্রমবাজারের সংকট ও সিন্ডিকেট দুর্নীতির বিরুদ্ধে জরুরী সংবাদ সম্মেলন করে ব্রুনাই রিক্রুটমেন্ট এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন। ব্রুনাই রিক্রুটমেন্ট এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন -এর পক্ষ থেকে আজ ২৪-৬-২৫ ইং তারিখ সকাল ১১:০০ ঘটিকায় রিপোর্টার্স ইউনিটি ঢাকায় এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
উক্ত অনুষ্ঠানে লিখিত মূল বক্তব্য পাঠ করেন “ব্রুনাই রিক্রুটমেন্ট এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন” এর সভাপতি জনাব ইকরাম চৌধুরী। উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রশ্নোত্তর প্রদান করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক জনাব লায়ন দেলোয়ার চৌধুরী, সাংগঠনিক ও আইন সম্পর্কিত সম্পাদক মোঃ নূরুল আলম। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন বায়রা, আটাব ও হাবের অন্যতম নেতা লায়ন্সের প্রাক্তন কাউন্সিল চেয়ারপার্সন ও জেলা গভর্নর লায়ন এম এ রশিদ শাহ সম্রাট ও সংগঠনের যুগ্ম সম্পাদক বিল্লাল হোসেন রনি, অর্থ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম।
উক্ত সম্মেলনের মূল বক্তব্য তারা বলেন, আমরা বায়রা সদস্যরা অতি কষ্টে “ব্রুনাই শ্রমবাজার” এর বাংলাদেশী শ্রমিকদের একটি বাজার সম্প্রসারণ করতে সক্ষম হয়েছিলাম। দুঃখের বিষয় এই যে, হঠাৎ ব্রুনাই এ অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তা ও বাংলাদেশ এর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এর যোগসাজসে দুর্নীতির মাধ্যমে কালো টাকা আত্নসাতের জন্য কৌশলে বায়রা সদস্যদের মৌলিক অধিকার হরণ করে একমাত্র সরকারী প্রতিষ্ঠান “বোয়েসেল” এর মাধ্যমে ব্রুনাই দারুসসালামে কর্মী প্রেরণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। যার ফলে আমরা যারা ব্রুনাই দারুসসালামে বাংলাদেশ থেকে কর্মী প্রেরণ করতাম তারা মারাত্মক ক্ষতির সম্মুক্ষীন হই।
আমাদের অফিস কর্মচারীসহ আমরা পরিবার নিয়ে অত্যন্ত মানবেতর জীবন যাপনে বাধ্য হই। এটি বায়রা সদস্যদের মৌলিক অধিকার হরণের সামিল। এই সিদ্ধান্ত বাতিলের জন্য এবং বোয়েসেলের পাশাপাশি আমরা যারা বায়রা সদস্য আছি তাদেরকেও ব্রুনাই দারুসসালামে শ্রমিক প্রেরণের অনুমতি প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপদেষ্টা, সচিব, বিএমইটির ডিজি মহোদয়ের সাথে দেখা করে আমাদের দাবী উত্থাপন করেও অদ্যাবদি কোন সুবিচার পাইনি।
এই দিকে ব্রুনাই দারুসালাম এ প্রচুর কর্মীর চাহিদার বিপরীতে “বোয়েসেল” মাত্র ২% শ্রমিক প্রেরণে সক্ষম হয়। এমতাবস্থায়, ব্রুনাই দারুসসালামের সুন্দর বাজারটি বোয়েসেলের গদাই লস্করী সরকারী ব্যবস্থাপনার জন্য হাতছাড়া হয়ে বাংলাদেশ হারাতে যাচ্ছে রেমিটেন্স। দেশ ও জাতির কল্যাণে ও স্বার্থে এই অচলাবস্থা নিরসনে সরকারী আমলাতন্ত্রের বিরুদ্ধে “ব্রুনাই রিক্রুটমেন্ট এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন (BRAA)” এর পক্ষ থেকে দেশ ও জাতিকে বিষয়টি মিডিয়ার মাধ্যমে অবহিত করনের লক্ষ্যে আমাদের এই সংবাদ সম্মেলন। আমাদের জনশক্তি কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যোগসাজসে ব্রুনাই দারুসসালাম এ বোয়েসেল একতরফাভাবে শ্রমশক্তি রপ্তানীতে জড়িত হয়ে আমাদেরকে যে কারনে রিক্রুটিং লাইসেন্স দেয়া হলো তা অস্বীকার করে সরকার নিজেই ব্যবস্থা শুরু করে আমাদের মৌলিক অধিকার হরণ করেছে।
এমতাবস্থায়, বিষয়টি জনগুরুত্ব ও দেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্টতার প্রশ্নে বিবেচনা করে দেশবাসীর কাছে তা তুলে ধরার জন্য সকল মিডিয়ার কাছে বিনীত আবেদন করছি।
ছবি সংগৃহীত
নিউজ ডেস্ক: ঐক্য জীবনের প্রতিটি স্তরে সাফল্যের মূল চাবিকাঠি এবং এটি একটি ক্লাব থেকে শুরু করে একটি জাতিরাষ্ট্র পর্যন্ত সাফল্যের প্রধান মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত। যে কোনো সাফল্যের জন্য ঐক্য অপরিহার্য। সম্প্রতি আমরা বাংলাদেশের ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে জনগণের ঐক্য প্রত্যক্ষ করেছি।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট বিপ্লব বাংলাদেশের স্বাধীনতাপ্রিয় মানুষের মধ্যে এক নতুন ঐক্যের জন্ম দিয়েছে। আমরা আবারও ১৯৭১ সালের মতো জাতীয় ঐক্য প্রত্যক্ষ করেছি এবং এটি জাতির জন্য মহান বিজয় এনেছে, যার মাধ্যমে ফ্যাসিস্ট হাসিনার পতন ঘটেছে।
ফ্যাসিস্ট শাসনের বিরুদ্ধে বিজয় অর্জন সহজ ছিল না, কিন্তু জনগণ এবং বিএনপি নেতৃত্বাধীন জাতীয়তাবাদী শক্তি ও জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ইসলামী শক্তি অত্যন্ত আন্তরিক ও সংকল্পবদ্ধ হয়ে এই ফ্যাসিস্ট শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে।
বিএনপি এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দল কখনোই ফ্যাসিস্ট সরকারকে চ্যালেঞ্জ ছাড়া ছেড়ে দেয়নি এবং গত পনেরো বছরে তাদের অনেক নেতা-কর্মী জীবন উৎসর্গ করেছেন। জামায়াতে ইসলামীর ক্ষেত্রেও একই অবস্থা ছিল এবং তারা অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তাদের কোনো রাজনৈতিক পরিসর দেওয়া হয়নি; বরং পুরো ফ্যাসিবাদী শাসনামলে তারা বাড়িতে বন্দী থাকতে বাধ্য হয়েছেন। বিনা কারণে কয়েকজন শীর্ষ নেতা ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলেছেন।
হেফাজতে ইসলামের অনেক নেতা-কর্মীকে ফ্যাসিস্ট সরকার হত্যা করেছে। অন্যান্য ইসলামী সংগঠনের আলেমগণও এই সময়ে অত্যন্ত কষ্ট ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।
তবে কোনো কিছুই জনগণের মনোবল ধ্বংস করতে পারেনি এবং পুরো জাতি ধৈর্যের সঙ্গে ফ্যাসিস্ট শাসনের পতনের অপেক্ষায় ছিল। আল্লাহর অশেষ রহমতে এটি সম্প্রতি ঘটেছে এবং তিনি আমাদের জন্য একটি নতুন অধ্যায় খুলে দিয়েছেন যাতে আমরা একটি নতুন বাংলাদেশ গড়তে পারি।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন অত্যন্ত সক্রিয় ছিল এবং এটি জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে গতি পায়। এরপর রাজনৈতিক দল ও সাধারণ মানুষ ছাত্রদের নেতৃত্বে আন্দোলনে যোগ দেয় এবং ৫ই আগস্ট ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন সম্ভব হয়।
আমরা জাতি হিসেবে সম্প্রতি অর্জিত জুলাই-আগস্ট বিজয়কে হারানোর সামর্থ্য রাখি না। বিএনপি, জামায়াত, ছাত্র সমাজ এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকার— সকলের উচিত এমন কিছু করা থেকে বিরত থাকা, যা ঐক্যের মাধ্যমে অর্জিত এই বিজয়কে নষ্ট করতে পারে।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট বিপ্লবের ঘোষণা যত দ্রুত সম্ভব দেওয়া উচিত ছিল এবং সবকিছু সেই অনুযায়ী বাস্তবায়ন করা যেত। এখনও সময় শেষ হয়ে যায়নি, এবং এখনই সময় নষ্ট না করে এটি করা উচিত।
তবে এই ঘোষণা অবশ্যই জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে হওয়া উচিত এবং জাতীয় সিদ্ধান্তে সব পক্ষের প্রতিনিধিত্ব থাকতে হবে।
সমস্ত রাজনৈতিক বিষয় এবং সংস্কারের ব্যাপারগুলো পক্ষগুলোর মধ্যে সংলাপের মাধ্যমে সমাধান করা উচিত। জাতীয় সরকার গঠন করা যেতে পারে, যা অভ্যন্তরীণ এবং বাহ্যিক যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে সক্ষম হবে। কারণ, অভ্যন্তরীণ এবং বাহ্যিক শত্রুরা আমাদের ঐক্য ধ্বংস করার জন্য সক্রিয় রয়েছে। ঐক্যের মাধ্যমে অর্জিত সাফল্য আমাদের নিজেদের ভুলের কারণে যেন ভবিষ্যতে নষ্ট না হয়।
লেখক: সম্পাদক, মিলিটারি হিস্ট্রি জার্নাল এবং আইন ও ইতিহাসের অধ্যাপক।
অধ্যাপক রাশীদ মাহমুদ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অধ্যাপক রাশীদ মাহমুদ মারা গেছেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ছিলেন। বুধবার সাতক্ষীরার শ্যামনগরে তিনি মারা যান বলে জানা যায়। ঢাবি নৃবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. ফারহানা বেগম বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
জানা গেছে, অধ্যাপক রাশীদ মাহমুদ সাতক্ষীরার শ্যামনগরে গবেষণার জন্য ফিল্ডওয়ার্কে ছিলেন। সেখানে তিনি হঠাৎ অসুস্থ বোধ করেন। এর পরই তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
শ্যামনগর উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বলেন, তাকে (অধ্যাপক রাশীদ মাহমুদ) মৃত অবস্থায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হয়েছিল। কী কারণে তিনি মারা গেছেন তা ময়নাতদন্ত না হওয়া পর্যন্ত বলা যাবে না।
নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. ফারহানা বেগম গণমাধ্যমকে বলেন, “আমি করোনায় আক্রান্ত। আজ (বুধবার) সকালে রাশীদ ফোন করে আমার খোঁজ-খবর নিয়েছেন। প্রাণবন্ত ও স্বাভাবিক একজন মানুষের মৃত্যুর খবর পেয়ে খুব খারাপ লাগছে। তার মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে বেদনাহত।”
অধ্যাপক রাশীদ মাহমুদের পৈতৃক বাড়ি ফেনীতে। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ও দুই সন্তান রেখে গেছেন।