a
ফাইল ছবি
সর্বাত্মক লকডাউন চলাকালে রাজধানীতে পরিচয়পত্র দেখতে চাওয়ায় পুলিশ সদস্য ও ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে রীতিমতো এক নারী চিকিৎসক তুলকালাম কাণ্ড করেছেন। পুলিশ ও দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট বার বার অনুরোধ করেও মুভমেন্ট পাস বা কোন মেডিকেলের চিকিৎসক পরিচয়পত্র বের করতে পারেননি তার কাছ থেকে।
রবিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের রেডিওলজি অ্যান্ড ইমেজিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সাইবা শওকত জিমি এলিফ্যান্ট রোডের বাটা সিগন্যালে ভ্রাম্যমাণ আদালতের চেকে পড়েন। ঢাকা জেলা প্রশাসন অফিসের সহকারী কমিশনার শেখ মো. মামুনুর রশিদ সেখানে আদালত পরিচালনা করছিলেন। নিউ মার্কেট থানার একজন পরিদর্শকের নেতৃত্বে সেখানে দায়িত্বরত ছিলেন একাধিক পুলিশ সদস্য।
চেক পোস্টে চিকিৎসকের কাছে তার আইডি কার্ড দেখতে চান পুলিশ সদস্যরা। চিকিৎসক জিমি সঙ্গে আইডি কার্ড আনেননি বলে জানান। এরপর মুভমেন্ট পাস দেখতে চাওয়া হয় তার কাছে। এ সময় জিমি কিছুটা উত্তেজিত হয়ে পড়েন। ডাক্তারের মুভমেন্ট পাস লাগে? এ কথা জিজ্ঞাসা করেন তিনি।
এলিফ্যান্ড রোডে পুলিশ চেকপোস্টে পরিচয়পত্র দেখতে চায় পুলিশ ওই নারীর কাছে । এতে তিনি উত্তেজিত হয়ে উঠেন। পুলিশের কাছে তিনি মুক্তিযোদ্ধার সন্তান দাবি করেন। তিনি বলেন, ‘আমি বীর বিক্রমের মেয়ে। তোমরা পুলিশ হয়েছ আমার বাবা যুদ্ধ করেছিল বলেই।’ পাল্টা জবাব, ‘আমরাও ভেসে আসিনি। আমিও মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। আপনার বাবা একা যুদ্ধ করে নাই।’
এক পর্যায়ে তিনি গালিগালাজ করতে থাকেন পুলিশ সদস্যদের। চাকরি হারানোর হুমকি দেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমনি একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। বার বার নমনীয়ভাবে কথা বলতে দেখা যায় পুলিশ সদস্য ও ম্যাজিস্ট্রেটকে। কিন্তু তাদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করতে থাকেন ওই নারী ।
৫ মিনিট ২৬ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, ওই নারী পুলিশকে বলেছেন, ‘করোনায় কয়জন ডাক্তারের জীবন গেছে, আর কতজন মরছেন আপনারা। আমার কাছে চান মুভমেন্ট পাস আবার।’
এরপরই পরিস্থিতি পাল্টে যায়। ওই নারীকে পুলিশের এক সদস্য বলেন, ‘আপনি ধমক দিচ্ছেন কেনো আমাদের?’ জবাবে নারী বলেন, ‘আমি বীর মুক্তিযোদ্ধা শওকত আলীর মেয়ে।’ পুলিশও বলে, ‘আমিও মুক্তিযোদ্ধার ছেলে। মুক্তিযোদ্ধার কথা শোনাচ্ছেন আপনি আমাকে।’
এসময় নিজেকে চিকিৎসক দাবি করা ওই নারী পুলিশকে বলেন, ‘ বন্ধ করতে হবে ডাক্তার হয়রানি। আমি বিএসএমএমইউ প্রফেসর, বীর বিক্রমের মেয়ে। আপনারা আমাকে হয়রানি করতে পারেন না।’ পরে পুলিশের আরেক সদস্য বলেন, ‘আপা আপনাকে তো হয়রানি করা হচ্ছে না। আপনার কাছে পরিচয়পত্র চাওয়া হচ্ছে।’
এর পরে ওই নারী চিকিৎসক নিজ গাড়িতে ওঠে যান। তখন পুলিশের এক সদস্য বারবার ওই নারীকে বলেন, ‘আমাকে আপনি তুই তুই করে কেন বলছেন?’ এক পর্যায়ে হয়রানি করলে তিনি পুলিশকে আন্দোলনের হুমকি দেন। পুলিশ জবাবে বলছে, ‘আমাদের আন্দোলনের ভয় দেখাচ্ছেন।’
‘আর আমি কে, এখন সেটা তোদের দেখাচ্ছি হারামজাদা।’ এই কথা বলে তিনি এক ‘মন্ত্রীকে’ ফোন করেন । ফোনে তাকে হয়রানি করার কথা বলেই তার ফোন তুলে দেন পুলিশ সদস্যের হাতে কথা বলার জন্য। তারপরও তিনি পুলিশকে পরিচয়পত্র দেখাননি ।
ফাইল ছবি
শরীয়তপুরে থেকে দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ২০২২ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১১ জুলাই (সোমবার) বিকাল ৪টায় সিরাজ সিকদার ডিগ্রি কলেজ মাঠে সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। ২৬টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৪০ জন শিক্ষার্থীকে এ সংবর্ধনা দেয়া হয়।
উক্ত অনুষ্ঠানে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় পানি সম্পদ উপমন্ত্রী জনাব এ কে এম এনামুল হক শামীম উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও ব্যস্ততার কারনে উপস্থিত হতে পারেননি কিন্তু তিনি ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে সকলের উদ্দেশ্যে কথা বলেছেন। তিনি বলেন প্রোগ্রামে উপস্থিত হতে না পেরে প্রথমেই দুঃখ প্রকাশ করছি। আমাদের সখিপুর এখন সব দিক থেকে এগিয়ে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী সব সময় তারুনদের প্রধান্য দিচ্ছেন। লেখাপড়ার দিকে মনোযোগ দিতে শিক্ষার্থীদের তিনি আহ্বান জানান। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি আরো বলেন উন্নত সখিপুর গড়ে তুলতে চাইলে গুনগত মানের ক্ষেত্রে কোন কম্প্রোমাইজ করা যাবে না।
বিশেষ অতিথি হিসেব উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থ এন্ড এনভায়রনমেন্ট সাইন্স অনুষদের ডিন, সিনেট সদস্য অধ্যাপক ড.মোঃ জিল্লুর রহমান, ঢাকা সিটি কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড.মোঃআনোয়ার হোসেন।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের অধ্যাপক ড. এইচ এম মোশাররফ হোসেন। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড.শাহরিয়ার আহম্মেদ। আরো উপস্থিত ছিলেন শরীয়তপুর সাংবাদিক সমিতির সভাপতি ও বাংলাভিশনের বার্তা সম্পাদক জনাব, বেনজির আহমেদ প্রমূখ।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. জিল্লুর রহমান বলেন, আগে খুব কমসংখ্যক শিক্ষার্থী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিত আর এখন সে সংখ্যা বহুগুণ বেড়ে গেছে সেখান থেকে লড়াই করে যারা ভর্তি হয় তারা নিশ্চয়ই মেধাবী শিক্ষার্থী। তোমরা সেই মেধাবী শিক্ষার্থীদের অংশ।আমরা বিভিন্ন সূচকে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ। আমরা যদি আমাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করতে পারি তাহলে ২০৪১ সালের মধ্যে আমরা উন্নত সমৃদ্ধ দেশে পরিনত হতে পারবো। ২০৪১ সালে ইউরোপকে ছাড়িয়ে যাবে আমাদের দেশ। দেশকে উন্নত শিখরে এগিয়ে নিতে হলে দায়িত্ব হবে শিক্ষার্থীদের।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সিরাজ সিকদার কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান জনাব পলাশ রাউত। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রয়াস সংগঠন এর সভাপতি মোঃ মোতালেব মাঝি।
ফাইল ছবি
পাহাড়ে যেভাবে সন্ত্রাসী তৎপরতা ও সহিংস ঘটনা ঘটছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।গত মঙ্গলবার রাঙ্গামাটি জেলার বিলাইছড়িতে সেনা টহল দলের ওপর বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন কুকি চিন ন্যাশনাল আর্মির (কেএনএ) সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের অতর্কিত হামলায় দুজন সেনা সদস্য নিহত এবং দুজন সেনা কর্মকর্তা আহত হন।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর জানিয়েছে, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিলাইছড়ি উপজেলার জারুলছড়িপাড়া নামক স্থানে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের আস্তানার খবর পেয়ে সেনাবাহিনীর একটি টহল দল ওই স্থানের উদ্দেশে রওয়ানা দেয়। টহল দলটি জারুলছড়িপাড়ার কাছে পানির ছড়ার কাছাকাছি পৌঁছালে কেএনএ সন্ত্রাসীদের ইম্প্রোভাইজ্ড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস বিস্ফোরণ ও অতর্কিত গুলিবর্ষণের মুখে পড়ে এবং এ হতাহতের ঘটনা ঘটে।
সাম্প্রতিক সময়ে পাহাড়ে এক নতুন আতঙ্ক হিসাবে আত্মপ্রকাশ করেছে এই কেএনএ। এটি কুকি চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের (কেএনএফ) একটি সামরিক শাখা। বছরখানেক আগে বান্দরবানে সংগঠনটির আত্মপ্রকাশ ঘটে।
জানা যায়, কেএনএফের সামরিক শাখা কেএনএ’র শতাধিক সদস্য তিন বছর আগে প্রশিক্ষণের জন্য মিয়ানমারের কাচিন প্রদেশে যায়।
২০২১ সালে একটি দল ফিরে আসে প্রশিক্ষণ নিয়ে। এ দলের সদস্যরাই এখন সেনাবাহিনীর ওপর একের পর এক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। অনুমান করা যায় যে, কেএনএ সদস্যরা মিয়ানমার থেকে শুধু প্রশিক্ষণই নয়, অস্ত্র-গোলাবারুদ ও রসদ সামগ্রী পাচ্ছে। ফলে পাহাড়ের সাধারণ মানুষ ভুগছে নিরাপত্তাহীনতায়। ব্যাহত হচ্ছে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড।
সাম্প্রতিক বছরগুলোয় পাহাড়ে অনেক সন্ত্রাসী গ্রুপ সক্রিয় থাকার খবর গণমাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। এসব সংগঠন চাঁদাবাজি, খুন, অপহরণ, মাদক ব্যবসাসহ নানান ধরণের অপকর্মে জড়িত। আবার বিভিন্ন সশস্ত্র গ্রুপ পারস্পরিক দ্বন্দ্ব-সংঘাতে লিপ্ত রয়েছে। জমি নিয়ে বিরোধ ও আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টাও এসব দ্বন্দ্ব ও সংঘাতের মূল কারণ।
তবে কেএনএ’র তৎপরতা শুধু এসবের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এরা বিচ্ছিন্নতাবাদী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত। তাদের তৎপরতা পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তির আগের পরিস্থিতির কথা মনে করিয়ে দেয়, যখন পার্বত্য এলাকা ছিল এক ভয়ের জনপদ। এটিই বড় চিন্তার বিষয়। কাজেই এ ধরনের সংগঠনগুলো কঠোরভাবে দমন করা সময়ের দাবি।
সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো নির্মূলে পাহাড়ে সন্ত্রাসবিরোধী সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করা জরুরি হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। আমরা পার্বত্য এলাকায় স্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করতে সরকারসহ সমগ্র দেশবাসীকে এগিয়ে আসার ও সচেতন থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। সূত্র: যুগান্তর