a
ছবি সংগৃহীত
জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিন বিশেষ ফজিলতপূর্ণ। যারা সামর্থ্যবান ব্যক্তি তারা হজ ও কোরবানি আদায় করবেন এবং বেশি বেশি নফল রোজা রাখার চেষ্টা করবেন।
এছাড়াও ছোট ছোট অনেক আমল আছে সেদিকে মনোযোগী দেয়ার তাগীদ আছে। জিলহজ মাসে চাঁদ উঠা থেকে শুরু করে ঈদের দিন কোরবানি পূর্ব পর্যন্ত চুল, নখ ইত্যাদি কাটা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। আর এসব ছোট ছোট কাজগুলো সম্মানিত হাজিদের হজের কাজগুলোর সাথে সাদৃশ্য পায় বলে এসব ছোট কাজগুলোর মধ্যেই অনেক ফজিলত। তাই এসব ব্যাপারে সকলকে যত্নবান হওয়া উচিত।
হাদীছে সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের ওপর কোরবানি করা ওয়াজিব করা হয়েছে। এই সময়গুলোর মধ্যে কোরবানির সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে হয়। উল্লেখ্য, শরীরের অবাঞ্ছিত লোম কাটার তাগিদ ইসলামে থাকলেও এই সময় সেসব চুল ও নখ কাটারও নিষেধ করা হয়েছে।
এটি মুস্তাহাব একটি আমল। উম্মে সালামা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তির কাছে কোরবানির পশু আছে সে যেন জিলহজের চাঁদ দেখার পর থেকে কোরবানি করা পর্যন্ত তার চুল ও নখ না কাটে। (মুসলিম, হাদিস : ৪৯৫৯; আবু দাউদ, হাদিস : ২৭৮২)
মুস্তাহাব এই আমল করার জন্য জিলহজ আগমনের আগেই চুল-নখ কেটে-ছেঁটে পরিপাটি হয়ে থাকা উচিত, যেন পরবর্তী সময়ে বেশি লম্বা হয়ে না যায়।
অপরদিকে, যাদের ওপর কোরবানি ওয়াজিব নয় তারাও আমলটি করতে পারে। হাদিসে বর্ণিত আছে—এই আমলটি তাদের জন্য কোরবানির সমতুল্য।
আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আমার প্রতি আজহার (১০ জিলহজ) দিন ঈদ করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যাকে আল্লাহ তাআলা এই উম্মতের জন্য (ঈদ হিসেবে) নির্ধারণ করেছেন। তখন এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করে, (হে আল্লাহর রাসুল) আপনি বলুন, (যদি আমার কোরবানির পশু ক্রয়ের সামর্থ্য না থাকে), কিন্তু আমার কাছে এমন উট বা বকরি থাকে, যার দুধ পান করার জন্য বা মাল বহন করার জন্য তা প্রতিপালন করি। আমি কি তাকে কোরবানি করতে পারি? তিনি বললেন, না; বরং তুমি তোমার মাথার চুল, নখ ও গোঁফ কেটে ফেল এবং নাভির নিচের চুল পরিষ্কার করো। এটাই আল্লাহর কাছে তোমার কোরবানি। (আবু দাউদ, হাদিস : ২৭৮০)
নারী ও শিশুরাও এই ফজিলতপূর্ণ আমলে শামিল হতে পারে। তাদের আমলের প্রতি পিতা-মাতাগণ উৎসাহিত করতে পারেন। সাহাবায়ে কিরাম ও তাবেঈদের আমল থেকে এটাই প্রমাণিত হয়। ওলিদ বিন মুসলিম (রহ.) বলেন, আমি মুহাম্মাদ বিন আজলান (রহ.)-কে জিলহজের প্রথম দশকে চুল কাটা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তখন তিনি বলেন, আমাকে নাফে (রহ.) বলেছেন, আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) এক নারীর কাছ দিয়ে অতিক্রম করছিলেন। ওই নারী জিলহজের প্রথম দশকের ভেতরে তার সন্তানের চুল কেটে দিচ্ছিলেন। তখন তিনি বলেন, যদি ঈদের দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে, তাহলে অনেক ফজিলত হতো। (মুস্তাদরাকে হাকেম, হাদিস : ৭৫২০)
সংগৃহীত ছবি
সৌদি আরবে ঈদুল আজহা ২০ জুলাই পালিত হবে। শুক্রবার দেশটির সুপ্রিম কোর্ট ঈদুল আজহা পালনের এই তারিখ ঘোষণা করেছে। খবর গালফ নিউজের।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার সন্ধ্যায় জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। সে হিসেবে আগামী রবিবার শুরু হবে জিলহজ মাস। আর দেশটিতে ঈদুল আজহা পালিত হবে আগামী ২০ জুলাই অর্থাৎ জিলহজ মাসের দশম দিন। আগের দিন ১৯ জুলাই হবে আরাফাতের দিন।
উল্লেখ্য, মুসলমানরা প্রতি বছর জিলহজ মাসে হজ পালন করে থাকেন। এর অংশ হিসেবে এই মাসের দশম দিন ঈদুল আজহা পালিত হয়ে থাকে।
ছবি সংগৃহীত: রামমন্দির
ভারতের উত্তর প্রদেশের অযোধ্যায় ‘বাবরি মসজিদের’ স্থলে নির্মিত আলোচিত সেই রামমন্দিরটি আজ উদ্বোধন করা হচ্ছে। ‘প্রাণ প্রতিষ্ঠা’ নামের এই অনুষ্ঠান আজ সোমবার উদ্বোধন করবেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে উদ্বোধন করা হবে (বাংলাদেশ সময় দুপুর ১২টা ৫০ মিনিট)।
রামমন্দিরের এই উদ্বোধন ঘিরে অযোধ্যাকে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলেছে। লতা মঙ্গেশকর চকে মোতায়েন করা হয়েছে রাজ্যের সন্ত্রাসবিরোধী স্কোয়াডের (এটিএস) সদস্যদের।
অযোধ্যা পুলিশ জানিয়েছে, অনুষ্ঠান ঘিরে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিস্তৃত পরিসরে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ড্রোনের মাধ্যমে নিরাপত্তা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
রামমন্দির প্রতিষ্ঠা ভারতের ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) সরকারের অন্যতম রাজনৈতিক অঙ্গীকার। এ প্রতিশ্রুতি পূরণ এ বছর অনুষ্ঠেয় লোকসভা নির্বাচনের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ বহন করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গে কংগ্রেস সভাপতি ও রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে, কংগ্রেস সংসদীয় দলের নেত্রী সোনিয়া গান্ধী ও লোকসভার বিরোধী নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরীকেও ট্রাস্টের পক্ষ থেকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে এ অনুষ্ঠানে কংগ্রেস না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এছাড়া শিবসেনার উদ্ধব ঠাকরে, সমাজবাদী পার্টির অখিলেশ যাদব, তৃণমূল কংগ্রেসের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কিংবা সিপিএমের সীতারাম ইয়েচুরিও জানিয়ে দিয়েছেন, ওই অনুষ্ঠানে তারা যাবেন না।
উল্লেখ্য, মোগল সম্রাট বাবরের সেনাপতি মীর বাঁকি ১৫২৮ সালে অযোধ্যায় মসজিদটি তৈরি করেন, যা পরবর্তী সময়ে বাবরি মসজিদ নামে পরিচিতি লাভ করে। তবে দেশটির হিন্দু সম্প্রদায়ের দাবি, সেখানে ‘রামের মন্দির ভেঙে’ মসজিদটি তৈরি করা হয়েছিল। সূত্র: এনডিটিভি, হিন্দুস্তান টাইমস, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস