a
ছবি: সংগৃহীত
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়সহ সব মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। দুর্যোগ মোকাবিলা এবং দুর্গত মানুষের পাশে থাকার জন্য ছুটি বাতিলের এ সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মহিববুর রহমান।
রোববার (২৬ মে) সচিবালয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সমন্বয় কমিটির সভা শেষে তিনি এ কথা জানানো হয়।
প্রতিন্ত্রী বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলে আপাতত স্কুল খোলা থাকবে, তবে ক্লাস বন্ধ থাকবে। আজ সন্ধ্যা থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু টানেল বন্ধ থাকবে। তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যে ৮ লাখের বেশি মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে এসেছেন। বাকিদের আশ্রয়কেন্দ্রে আসার জন্য আহ্বান জানানো হচ্ছে।
এদিকে, ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’ আরও অগ্রসর ও ঘনীভূত হয়ে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে। প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি শুরু হয়েছে উপকূলীয় এলাকায়। এ অবস্থায় পায়রা ও মোংলা সমুদ্রবন্দরকে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
উপকূলীয় জেলা খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বরগুনা, বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী ও অদূরবর্তী দ্বীপ-চর ১০ নম্বর মহাবিপদ দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বরগুনা, বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, ফেনী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং এর অদূরবর্তী দ্বীপ-চরগুলোর নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৮ থেকে ১২ ফুট উচ্চতার বেশি বায়ুতাড়িত জলোচ্ছাসে প্লাবিত হতে পারে।
ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে অতিভারী বর্ষণে কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও চট্টগ্রামের পাহাড়ি অঞ্চলের কোথাও কোথাও ভূমিধস হতে পারে।
বিজ্ঞপ্তিতে আবহাওয়া অফিস আরও জানিয়েছে, প্রবল ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়াসহ ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি হতে পারে। সূত্র: ইত্তেফাক
ফাইল ছবি
বাংলাদেশ, ভারত শ্রীলঙ্কা, ভুটানসহ এশীয় অঞ্চলের প্রধান খাদ্য হিসেবে সকলের কাছে প্রথম পছন্দ ভাত। আর বাঙালি হলে সেক্ষেত্রে কথাই নাই। বাঙালি জনগোষ্ঠীর অন্য সব কিছু না হলেও ভাত ছাড়া চলে না তাদের। বর্তমান কৃষি ব্যবস্থায় বিভিন্ন ধরনের ধান চাষ করা হয় যেমন ইরি, বোরো, আউশ, আমন ইত্যাদি। যা আমাদের ভাতের চাহিদা মিটিয়ে থাকে।
বর্তমান সময়ে নতুন এক প্রজাতির ধানের সন্ধান দিয়েছে বিজ্ঞানীরা যা আমাদের ভাতের চাহিদা মিটানোর পাশাপাশি দেহের কিছু কঠিন রোগ প্রতিরোধে ভুমিকা রাখতে সক্ষম। বিভিন্ন জায়গায় নতুন প্রজাতির কালো দেখা যাচ্ছে কালো ধানের চাষ হচ্ছে এ চাল নাকি ক্যান্সারকে দূরে রাখে। শুধু ক্যান্সারই নয়, এ চালে মানুষের স্নায়ুও ভাল রাখতে সক্ষম বলে দাবি বিজ্ঞানীদের। এমনকী আরো দাবি করা হচ্ছে যে এ চাল আলঝাইমার্স-এর সঙ্গেও মোকাবিলার ক্ষমতা আছে।
ভারতে এ ধরনের চাল আগে চাষ হলেও এমন ঔষধিগুণ সম্পন্ন চালের কথা আগে শোনেননি ভারতের চাষিরা। তাঁদের সবার কাছে এমন ধানের কথা তুলে ধরেন মণিপুরের ধান গবেষক ৬৩ বছরের পি দেবকান্ত। এই ধানের নাম ‘চাখাও পোইরিটন’।
তিনি চাষিদের বলেছেন, “এটা আসলে আমাদের জন্য ধান নয়, এটা আসলে ভেষজ ঔষধ। শুধু টাকার জন্য চাষ না করে নিজেদের রোগমুক্ত রাখতে এই ধান চাষ করতে সকলকে আহ্বন জানান এই গবেষক"।
কালো ধান নিয়ে গবেষনা করা এই বিজ্ঞানী ২০১২ সালে ভারত কেন্দ্র সরকারের ‘প্রোটেকশন অফ প্লান্ট ভ্যারাইটিস অ্যান্ড ফার্মাস রাইট অ্যাক্ট’ পুরষ্কার পেয়েছেন। এই ধানের ফলন যাতে বেশি হয়, এজন্য উচ্চতর গবেষণা চলছে। কালো চাল ক্যান্সার প্রতিরোধক এবং এন্টি এজিং। এছাড়াও বার্ধক্য, ডায়াবেটিস, স্নায়ুরোগ প্রতিরোধক ও ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ ঠেকাতে কার্যকর। এ চালের ভেতর ভিটামিন, ফাইবার ও মিনারেল থাকে, অত্যন্ত পুষ্ঠিগুন সমৃদ্ধ।
বাংলাদেশও এ ধানের চাষ শুরু হয়েছে, ২০১৯ সালে বাংলাদেশের কুমিল্লায় কালো ধান চাষ করে ব্যাপক সাড়া ফেলে দিয়েছিলেন কুমিল্লার চাষী মনজুর হোসেন, নিজের তৈরি করা বীজ নিয়ে তিনি ১৫ জন কৃষকের সাথে চুক্তিভিত্তিক ভাবে চাষ করে কালো ধান, দেশব্যাপী এই ধান ছড়িয়ে দেওয়ার আশা করছেন কুমিল্লার এই কৃষক। একসময় এ ধান চীন, থাইল্যান্ড এ নিষিদ্ধ ছিল। যা একসময় শুধু রাজবংশের লোকেরাই খেয়ে থাকত। কুমিল্লার এই কৃষক আশাবাদী একদিন সাড়াদেশে সফল্যের সাথে ছড়িয়ে পড়বে এ ধান। যা চাষে কৃষক লাভবান হবে এবং নিজেদের পুষ্ঠিগত সমস্যাও পুরণ করতে সক্ষম হবে।
ছবি সংগৃহীত
নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া চিরনিদ্রায় শায়িত হয়েছেন। লাখো মানুষের অশ্রুসিক্ত ভালোবাসা আর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে তার স্বামী, সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে সমাহিত করা হয়েছে।
বুধবার, (৩১ ডিসেম্বর ২০২৫) বিকেলে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে তার দাফন সম্পন্ন হয়। এর আগে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হয় স্মরণকালের অন্যতম বৃহৎ জানাজা। যেখানে জনস্রোতে পরিণত হয়েছিল পুরো মানিক মিয়া এভিনিউ ও এর আশপাশের এলাকা। এই মানিক মিয়া এভিনিউতেই ১৯৮১ সালের ২ জুন খালেদা জিয়ার স্বামী তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জানাজা হয়েছিল। পরে তাকে সমাহিত করা হয় চন্দ্রিমা উদ্যানে, যার বর্তমান নাম জিয়া উদ্যান।
বুধবার, পুরো সংসদ ভবন এলাকার মানিক মিয়া এভিনিউ থেকে শুরু করে আশপাশের সব সড়ক ও উন্মুক্ত স্থান লোকে লোকার?ণ্য হয়ে ওঠে। লাখো মানুষ চোখের জলে প্রিয় নেত্রীকে শেষ বিদায় জানাতে জড়ো হন। কালো ব্যাজ, দলীয় পতাকা ও জাতীয় পতাকা হাতে অনেককে শোক প্রকাশ করতে দেখা যায়। জানাজার সময় বাদ জোহোর নির্ধারণ করা হলেও দুপুরের আগেই মানিক মিয়া এভিনিউ যেন এক আবেগঘন জনসমুদ্রে রূপ নেয়। জাতীয় সংসদ ভবনের ভেতরের মাঠ, বাইরের অংশ এবং পুরো মানিক মিয়া এভিনিউ ছাড়িয়ে আশপাশের সব সড়ক, অলিগলি থেকে অজস্র মানুষ জানাজায় শরিক হোন।
বুধবার, সকালে খালেদা জিয়ার মরদেহ এভারকেয়ার হাসপাতালের হিমঘর থেকে বের করা হয়। সকাল ৮টা ৫৩ মিনিটে মরদেহবাহী গাড়িটি হাসপাতালের গেইট দিয়ে বের হয়ে গুলশানের উদ্দেশে রওনা হয়। শুরুতে তার মরদেহ দীর্ঘদিনের বাসভবন ‘ফিরোজায়’ নেয়ার কথা থাকলেও, পরিকল্পনা পরিবর্তন করে তা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের গুলশান-২-এর ১৯৬ নম্বর বাসভবনে নিয়ে যাওয়া হয়।
সকাল ৯টা ১৬ মিনিটে মরদেহ সেখানে পৌঁছায়। সেখানে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। সদ্য প্রয়াত মায়ের কফিনের পাশে বসে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করেন তারেক রহমান। এ সময় পরিবারের সদস্য, আত্মীয়-স্বজন এবং দলের সিনিয়র নেতারা উপস্থিত ছিলেন এবং তারা অশ্রুসজল চোখে প্রিয় নেত্রীকে শেষ শ্রদ্ধা জানান।
বেলা ১১টা ৫ মিনিটে তারেক রহমানের গুলশানের বাসা থেকে মরদেহ নিয়ে গাড়িবহর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার উদ্দেশে রওনা হয়। খালেদা জিয়ার মরদেহ বহনকারী ফ্রিজার ভ্যানটি লাল-সবুজ রঙের জাতীয় পতাকায় মোড়ানো ছিল। গাড়িবহরে তারেক রহমান, তার স্ত্রী জুবাইদা রহমান, কন্যা জাইমা রহমান এবং প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রীসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা ছিলেন। দুপুর পৌনে ১২টার দিকে মরদেহবাহী গাড়ি সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় প্রবেশ করে।
তবে ভোর থেকেই জানাজায় অংশ নিতে মানিক মিয়া এভিনিউ এবং এর আশপাশের এলাকায় মানুষ জড়ো হতে শুরু করেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বাস, মাইক্রোবাস ভাড়া করে, এমনকি পায়ে হেঁটে লাখো মানুষ এই জানাজায় অংশ নিতে আসেন।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক দিয়ে সকাল থেকেই মানুষের স্রোত নামে। জানাজা স্থল মানিক মিয়া এভিনিউয়ের দিকে যে যেভাবে পারছেন আসছেন। কেউ হেঁটে, কেউ বাস ও অন্যান্য যানবাহনে করে এসে জানাজাস্থলের আশপাশে অবস্থান নিচ্ছেন। সংসদ ভবন এলাকা ছাড়িয়ে যায় জানাজায় আসা মানুষের ঢল। শেষ পর্যন্ত দেখা যায় জানাজায় অংশ নিতে কয়েক লাখ লোক সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা, মানিক মিয়া এভিনিউ ছাড়াও ঢাকার বিভিন্ন সড়কে অবস্থান নিয়েছেন। ফলে সকাল থেকেই মানিক মিয়া এভিনিউ ও এর আশপাশের সড়কে যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সংসদ ভবন এলাকার মানিক মিয়া এভিনিউ থেকে রাজধানীর ফার্মগেট, বিজয় সরণি, খামারবাড়ি, কারওয়ান বাজার, পান্থপথ পর্যন্ত রাস্তাগুলো লোকে লোকারণ্য হয়ে ওঠে। জনস্রোত আশপাশের কয়েক কিলোমিটার এলাকা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। সংসদ ভবনের আশপাশে বিভিন্ন সড়কে অবস্তান নিয়ে বিপুল মানুষ জানাজায় অংশ নেয়। এছাড়া আসাদ গেইট থেকে মোহাম্মদপুর পর্যন্ত, আগারগাঁও মেট্রো স্টেশন থেকে মিরপুর শিশু মেলার (শ্যামলী) কাছাকাছি পর্যন্ত এলাকার সড়কে বিপুল মানুষ জানাজায় অংশ নেন।
রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউতে দুপুর ৩টা ৩ মিনিটে খালেদা জিয়ার জানাজা শুরু হয়। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি মোহাম্মদ আবদুল মালেক জানাজায় ইমামতি করেন। জানাজা ৩টা ৫ মিনিটে সম্পন্ন হয়।
জানাজায় লাখো মানুষের উপস্থিতি মানিক মিয়া এভিনিউকে এক বিশাল জনসমুদ্রে পরিণত করে। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি জানাজায় অংশ নেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস এবং উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা। এছাড়া সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌ বাহিনী প্রধান এবং বিমানবাহিনী প্রধানও জানাজায় শরিক হন।
রাজনীতিবিদদের মধ্যে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা, জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি এবং ভিপি নুরুল হক নুরসহ বিভিন্ন দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
জানাজার আগে বিএনপি চেয়ারপারসনের ছেলে ও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান উপস্থিত জনতার উদ্দেশে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন। মায়ের মরদেহের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, ‘আমি মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার বড় সন্তান তারেক রহমান। আপনারা আমার মরহুমা মায়ের জন্য দোয়া করবেন।’
তারেক রহমান উপস্থিত সবার কাছে মায়ের ভুলত্রুটির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে বলেন, ‘কেউ আমার মায়ের আচরণে বা কথায় কষ্ট পেয়ে থাকলে তার পক্ষ থেকে আমি ক্ষমাপ্রার্থী। কারও কাছে আম্মার কোনো ঋণ থাকলে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করবেন, আমি তা পরিশোধ করব।’ তিনি মহান আল্লাহর কাছে মায়ের বেহেশত নসিবের জন্য দোয়া কামনা করেন। এর আগে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান খালেদা জিয়ার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন নিয়ে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন।
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে আন্তর্জাতিক পরিম-লেও শোকের ছায়া নেমে আসে। জানাজায় অংশ নিতে এবং শ্রদ্ধা জানাতে ঢাকায় আসেন পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের স্পিকার সরদার আয়াজ সাদিক। তিনি তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করে সহমর্মিতা জানান। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ঢাকায় এসে তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং ভারতের শোকবার্তা হস্তান্তর করেন।
এছাড়াও ভুটানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং মালদ্বীপের মন্ত্রিসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা শ্রদ্ধা জানাতে ঢাকায় আসেন। জানাজাস্থলে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, রাশিয়া, ইরান, কাতার, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ ৩২টি দেশের দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিকরা উপস্থিত ছিলেন।
জানাজা শেষে বিকেল ৪টার দিকে মরদেহবাহী ফ্রিজার ভ্যানটি জিয়া উদ্যানের উদ্দেশে রওনা হয়। ৪টা ৪২ মিনিটে সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় এবং ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে খালেদা জিয়াকে সমাহিত করা হয়। তাকে দাফন করা হয় তার স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের ঠিক পাশেই।
দাফনের সময় সেনাবাহিনী হিউম্যান চেইন তৈরি করে রাষ্ট্রীয় প্রটোকল প্রদান করে। দাফন কাজ নির্বিঘ্ন করতে জিয়া উদ্যানে আগে থেকেই সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছিল। এর মাধ্যমে সাড়ে ৪৪ বছর পর জিয়াউর রহমানের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন তার সহধর্মিণী। উল্লেখ্য ১৯৮১ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জানাজাও এই মানিক মিয়া এভিনিউতেই অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
জানাজা ও দাফন কার্যক্রমকে ঘিরে রাজধানীজুড়ে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল। এভারকেয়ার হাসপাতাল, জাতীয় সংসদ ভবন এবং জিয়া উদ্যান এলাকায় বিজিবি, সেনাবাহিনী, পুলিশ ও র? র্যবের সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছিল।
দিনভর মানিক মিয়া এভিনিউ ও আশপাশের এলাকায় যানচলাচল বন্ধ ছিল। শোকের প্রতীক হিসেবে নেতাকর্মীরা কালো ব্যাজ ধারণ করেন এবং বিভিন্ন স্থানে কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়। বিএনপির পক্ষ থেকে ৭ দিনের শোক ঘোষণা করা হয়েছে এবং দলীয় কার্যালয়গুলোতে কোরআন খতম ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে লিভার, কিডনি, হৃদরোগ, ডায়াবেটিসসহ নানা জটিল রোগে ভুগছিলেন ৮০ বছর বয়সী এই প্রবীণ নেত্রী। চিকিৎসকদের সব প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ করে দিয়ে গতকাল মঙ্গলবার ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। গত ২৩ নভেম্বর থেকে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন এবং সোমবার গভীর রাতে তার শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি ঘটে। তার মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে পুরো দেশে শোকের ছায়া নেমে আসে। প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস আনুষ্ঠানিকভাবে জাতির উদ্দেশে এই সংবাদ জানান এবং তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেন। এছাড়া গত সারাদেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। সূত্র: সংবাদ