a
ফাইল ছবি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় অসুখের যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে নুসরাত নাজনিন নামের এক স্কুল ছাত্রী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে ধারণা পরিবার ও পুলিশের।
পুলিশ ও পরিবার সূত্র জানা যায়, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে নিজ ঘরে ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে ওই ছাত্রী। ভোরে তার মা-বাবা ডাকাডাকি করলে দরজা না খোলায়, অবশেষে দরজা ভেঙে তারা মেয়েকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার ও প্রতিবেশীদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে আসে।
জানা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলা বায়েক ইউনিয়নের চাঁন্দখোলা গ্রামের নাহিদুল ইসলাম জাহাঙ্গীরের মেয়ে বায়েক শিক্ষাসনদ উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির ছাত্রী নুসরাত নাজনিনের (১৭) খাদ্যনালীতে ঘা হয়েছিল। ফলে যে কোনো খাবার খেলেই তার বমি হতো এবং প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করতো।
পরিবারের পক্ষ থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দেখালেও তেমন কোনো কাজ হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে খাদ্যনালীর ঘায়ের যন্ত্রণা সইতে না পেরে অবশেষে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে নিজ কক্ষে ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে। তার মা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষিকা।
কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলমগীর ভূঁইয়া বলেন, মেয়েটি খুব মেধাবী ছাত্রী ছিল। যতটুকু জানতে পেরেছি, তার খাদ্যনালীতে ঘা হয়েছিল। কোনো খাবার খেলেই বমি হতো। এসব কারণে হয়তো মেয়েটি আত্মহত্যা করেছে।
ফাইল ছবি
আবারো পদ্মা সেতুর স্প্যানে ফেরি ‘বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীরের’ ধাক্কা লাগার ঘটনা ঘটেছে। আজ মঙ্গলবার (৩১ আগস্ট) সকালে মুন্সিগঞ্জের লৌহজং এলাকায় ২ ও ৩ নম্বর খুঁটির মাঝখানে ১-বি স্প্যানে এ ধাক্কা লাগে। এতে ফেরির মাস্তুল ভেঙে গেছে। যায়। তবে সেতুর কোনো ক্ষতি হয়েছে কিনা তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা জায়নি।
বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন বিআইডিব্লউটিসির মেরিন অফিসার আহম্মদ আলী। তিনি বলেন, "সকালে নারায়ণগঞ্জ থেকে পাটুরিয়া যাচ্ছিল ফেরি ‘বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর’। এসময় পদ্মা সেতুর ২ ও ৩ নম্বর খুঁটির মাঝখানে ১-বি স্প্যানের সঙ্গে ওই ফেরির মাস্তুলের ধাক্কা লাগে। এতে ফেরির মাস্তুল ভেঙে গেছে।"
এর আগে গত ১৩ আগস্ট মাদারীপুরের বাংলাবাজার ঘাট থেকে আসছিল ফেরি কাকলি। সকাল ৮টার দিকে প্রবল স্রোতের কারণে ফেরিটি সেতুর ১০ নং পিলারে আঘাত হানে। এতে তেমন কোনো ক্ষতি হয়নি। ৯ আগস্ট সন্ধ্যায় ১০ নম্বর পিলারে আঘাত হানে ফেরি বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর। এ সময় ২০ যাত্রী আহত হন। ২৩ জুলাই সকাল ১০টার দিকে পদ্মা সেতুর ৭ নম্বর পিলারের সঙ্গে ধাক্কা খায় রো রো ফেরি শাহ জালাল। এতে ২০ জন যাত্রী আহত হন।
এসব ঘটনায় থানায় জিডি, তদন্ত কমিটি গঠন ও ফেরি চালকদের সাময়িক বরখাস্তও করা হয়েছে। ঘটনা তদন্তে ওই দিনই চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে বিআইডব্লিউটিসি। তাদের দাখিল করা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পিলারের সঙ্গে সংঘর্ষের পেছনে রো রো ফেরিটির ইনচার্জ মাস্টার আব্দুর রহমান খান ও সুকানির সাইফুল ইসলামের দায়িত্বহীনতা রয়েছে। ফেরি বা অন্য কোনো জলযানের সংঘর্ষ থেকে নিরাপদে রাখতে পদ্মা সেতুর পিলারগুলো রাবার দিয়ে মোড়ানোর পরামর্শও দিয়েছে ওই কমিটি।
সংগৃহিত ছবি
শরীয়তপুর-মাঝিরঘাট সড়কের উত্তর প্রান্তে পদ্মা নদীর শাসন বাঁধ ঘেঁষে জিও ব্যাগ ও বালু ফেলে ফেরিঘাট নির্মাণ কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। আগামী শুক্রবারের মধ্যে ঘাট নির্মাণকাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করছেন বাংলাদেশ নৌ-যান কর্তৃপক্ষ। ঘাটের নির্মাণকাজ শেষ হলে মাদারীপুর জেলার শিবচরের বাংলাবাজার থেকে পন্টুন এনে মাঝিরঘাট দিয়ে ফেরি চলাচল শুরু হবে। তবে এই ঘাট দিয়ে শুধু হালকা যানবাহন চলাচল করবে।
এ ব্যাপারে বিআইডব্লিউটিএর প্রকৌশলী মো. ফয়সাল নির্মাণাধীন মাঝিকান্দি ফেরিঘাট থেকে জানান, নদীর প্রবল স্রোতে মুন্সিগঞ্জের শিমুলিয়া ও মাদারীপুরের বাংলাবাজার ঘাটে ফেরি পারাপার বিঘ্নিত হয়। ইতোমধ্যে দুইবার ফেরি পদ্মা সেতুর পিলারে ধাক্কা লাগে। তাই কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌ-পথে ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে। সে কারণে হালকা যান ও অ্যাম্বুলেন্স পারাপারের জন্য সীমিতভাবে ফেরি সার্ভিস চালু রাখার জন্য মাঝিকান্দি ফেরিঘাট চালু করা হবে। তাই দ্রুতগতিতে কাজ চলছে।
আগামী শুক্রবারের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করা হবে। পরবর্তীতে বাংলাবাজার ঘাট থেকে পন্টুন এনে ফেরি পারাপার চালু করা হবে। জাজিরা অংশে ভারী যান চলাচলের উপযোগী রাস্তা না থাকায় আপাতত ভারী কোনো যান এই ফেরিতে পার হবে না। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে ফেরিঘাট চালু করতে কিছু দোকান সরিয়ে ফেলা হবে।
পরবর্তীতে পদ্মা সেতু কর্তৃপক্ষের অধিগ্রহণকৃত জায়গায় রাস্তা করা সম্ভব হলে ভারী যানবাহন চলাচল শুরু হবে।