a
ফাইল ছবি
মহামারী করোনাভাইরাসের জন্য দীর্ঘ বিরতি দিয়ে নিজ দেশ ভারত থেকে সরিয়ে আইপিএল এর বাকি অংশ মাঠে গড়াচ্ছে দুবাইতে। কিন্তু সেখানে করোনার হানা। আরব আমিরাতের পর্ব শুরুর চতুর্থ দিনেই ধরা পড়েছে করোনাভাইরাস। কোভিড-১৯ পজিটিভ হয়েছেন সানরাইজার্স হায়দরাবাদের পেসার থাঙ্গারাসু নাটরাজন।
আরটি-পিসিআর টেস্টে নাটরাজনের পজিটিভ ফল আসার কথা গতকাল বুধবার বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে আইপিএল কর্তৃপক্ষ। আপাতত নাটরাজনকে সেলফ কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। তবে, আক্রান্ত হলেও তাঁর কোনো উপসর্গ নেই। নটরাজনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদেরও রাখা হয়েছে আইসোলেশনে। এঁদের মধ্যে ক্রিকেটার আছেন একজন। তিনি হলেন বিজয় শঙ্কর। বাকিরা হলেন—দলের ম্যানেজার বিজয় কুমার, ফিজিওথ্যারাপিস্ট শ্যাম সুন্দর জে, চিকিৎসক অঞ্জনা ভান্না, লজিস্টিক ম্যানেজার তুষার খেদকার এবং নেট বোলার পেরিয়াস্বামি গানেসান।
তবে, সবার টেস্টই নেগেটিভ এসেছে। তবে, দলের বিপদের দিন মাঠে নেমেও হতাশ হয়েছে হায়দরাবাদ। দুবাই পর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচে আট উইকেটে দিল্লির কাছে হেরেছে তারা। টুর্নামেন্টে খুব একটা স্বস্তিতে নেই তারা। আট ম্যাচ খেলে জিতেছে কেবল একটিতে। দুই পয়েন্ট নিয়ে তাদের অবস্থান টেবিলের তলানিতে। গত মে মাসে করোনার প্রভাব বেড়ে যাওয়ায় মাঝপথে স্থগিত হয়ে যায় ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের এবারের আসর। ভেন্যু বদলে সংযুক্ত আরব আমিরাতে গত রোববার শুরু হয় আইপিএলের বাকি অংশ। ভারতে প্রথম অংশে ২৯টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। চার মাস পর স্থগিত হওয়া আইপিএলের বাকি ৩১টি ম্যাচ হচ্ছে এবার মরুর দেশে।
ফাইল ছবি
ডান-হাতি ব্যাটার আরিফুল ইসলামের সেঞ্চুরিতে অনূর্ধ্ব-১৯ ওয়ানডে বিশ্বকাপের সুপার সিক্স নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশের যুবারা। আজ ‘এ’ গ্রুপে নিজেদের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশ ১২১ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রকে। চার নম্বরে নেমে ১০৩ রানের নান্দনিক ইনিংস খেলেন আরিফ।
এই জয়ে গ্রুপ পর্বে ৩ ম্যাচে ২ জয় ও ১ হারে ৪ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দ্বিতীয়স্থানে থেকে সুপার সিক্স নিশ্চিত করলো বাংলাদেশ। ভারতের কাছে হার দিয়ে আসর শুরু করলেও টানা দুই জয়ের পরের রাউন্ডের টিকিট পায় বাংলাদেশ। ২ ম্যাচে ২ জয়ে ৪ পয়েন্ট নিয়ে ইতোমধ্যে সুপার সিক্স নিশ্চিত করেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারত।
ব্লুমফন্টেইন টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নামে বাংলাদেশ। ব্যাট হাতে বড় ইনিংস খেলতে ব্যর্থ হন টপ অর্ডার ব্যাটাররা। আশিকুর রহমান শিবলি ২৭, আদিল বিন সিদ্দিক ১৩ ও এমডি রিজওয়ান ৩৫ রান করে আউট হন।
৯৪ রানে ৩ উইকেট পতনের পর চতুর্থ উইকেটে ১২২ রানের জুটি গড়েন আরিফ ও আহরার আমিন। ৪৯ বলে ৪৪ রানে আহরার থামলেও, ৯৯ বলে সেঞ্চুরি স্পর্শ করেন আরিফুল। ৪৬তম ওভারে আউট হবার আগে ৯টি চারে ১০৩ বলে ১০৩ রান করেন তিনি।
বাংলাদেশ ইনিংসের শেষ দিকে মোহাম্মদ শিহাব জেমস ১৭ বলে ৩১ ও শেখ পারভেজ জীবন ৭ বলে অপরাজিত ১৩ রান করেন। এতে ৫০ ওভারে ৭ উইকেটে ২৯১ রানের বড় সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ। যুক্তরাষ্ট্রের আরিয়া গার্গ ৬৮ রানে ৩ উইকেট নেন।
২৯২ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে বাংলাদেশ বোলারদের দারুন বোলিংয়ে সুবিধা করতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাটাররা। ১৭ বল বাকী থাকতে ১৭০ রানে অলআউট হয় যুক্তরাষ্ট্র। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৫৭ রান করেন প্রণব চেট্টিপালায়ম ।
বল হাতে ১০ ওভারে ৩১ রানে ৪ উইকেট নেন বাংলাদেশের অধিনায়ক ও বাঁ-হাতি স্পিনার মাহফুজুর রহমান রাব্বি। ম্যাচ সেরা হন আরিফ। সূত্র: ইত্তেফাক
নিউজ ডেস্ক: ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এবং এই সম্পর্ক সঠিক কূটনৈতিকভাবে পরিচালনা করা প্রয়োজন। তবে এই দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক কখনোই স্বাভাবিক ছিল না, এবং এর পেছনে কিছু সুস্পষ্ট কারণ রয়েছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক একটি ভিন্ন ধারায় বিকশিত হয়েছে, যা সাধারণ কূটনীতির রীতিনীতির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
স্বাধীনতার পর থেকে যে ধরণের সম্পর্ক এই দুই দেশের মধ্যে গড়ে উঠেছে, তা অনন্য। এটি সাধারণত ভারত সরকারের সাথে বাংলাদেশের আওয়ামী লীগের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। যেখানে সাধারণভাবে রাষ্ট্রের সঙ্গে রাষ্ট্রের সম্পর্ক গড়ে ওঠার কথা, সেখানে এই সম্পর্ক মূলত একটি দলের সাথে কেন্দ্রীভূত হয়েছে। গত পাঁচ দশকে ভারত কখনোই প্রকৃত কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনে আগ্রহ দেখায়নি। বরং, তারা সবসময় বাংলাদেশের প্রতি বড় ভাইয়ের মতো আচরণ করেছে।
বর্তমান সম্পর্কের শিকড় ইতিহাসে নিহিত। ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক প্রায় এক হাজার বছরের পুরনো। আমরা, মুসলমানরা, গর্ব ও সফলতার সঙ্গে সাতশ বছরের বেশি সময় ধরে ভারত শাসন করেছি। আজকের ভারতীয় ঐতিহ্যের অনেকটাই মুসলিম শাসকদের অবদান। কিন্তু ভারতীয় নেতৃত্ব কখনো মুসলমানদের এই গৌরবময় ইতিহাস মেনে নিতে পারেনি। তারা মুসলমানদের বহিরাগত হিসেবে বিবেচনা করেছে এবং ভারতের সমাজ থেকে মুসলিম সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য মুছে ফেলার চেষ্টা করেছে। বাবরি মসজিদ ধ্বংস তার একটি উজ্জ্বল উদাহরণ।
ব্রিটিশ শাসনকে হিন্দু সম্প্রদায় শুধু শাসকের পরিবর্তন হিসেবে দেখেছে এবং শুরু থেকেই ব্রিটিশদের পক্ষ নিয়েছিল। তারা মুসলিম জনগোষ্ঠীকে নির্মূল করার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিল। তবে মুসলিম লীগ ও তার নেতৃত্বের কারণে তারা তাদের উদ্দেশ্যে সফল হতে পারেনি।
১৯৪৭ সালে ভারতের বিভক্তি নিয়ে তৎকালীন হিন্দু নেতৃত্ব, বিশেষত জওহরলাল নেহেরু, সন্তুষ্ট ছিলেন না। পাকিস্তানের জন্মের দিন থেকেই তারা এর বিরুদ্ধে কাজ শুরু করেন।
১৯৭১ সালে আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধ তাদের সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগ করে দেয়। তারা সময় নষ্ট না করে পাকিস্তানকে ভাঙার পরিকল্পনায় সফল হয়।
আমাদের বহু ত্যাগের বিনিময়ে স্বাধীনতা অর্জিত হয় এবং ভারত একটি ভালো বন্ধুর মুখোশে হাজির হয়। কিন্তু স্বাধীনতার পরপরই তাদের প্রকৃত রূপ প্রকাশ পায়, যা ছিল লুটেরার মতো।
ভারত কখনোই প্রকৃত বন্ধু হয়ে উঠতে পারেনি; তারা সবসময় বন্ধুত্বের ভান করে কূটনৈতিক সম্পর্ককে একতরফাভাবে পরিচালনা করেছে। ১৯৭১ সাল থেকে ভারত কৌশলে বাংলাদেশকে ব্ল্যাকমেইল করেছে এবং বড় ভাইয়ের মতো প্রভাব বিস্তার করেছে।
তবে এটা অস্বীকার করার উপায় নেই যে ভারত আমাদের চিরস্থায়ী প্রতিবেশী। আমাদের তাদের সঙ্গে ভালো কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে, তবে সেটি হওয়া উচিত ভারসাম্যপূর্ণ এবং উভয়ের সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মানজনক।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট বিপ্লবের পর দৃশ্যপট পরিবর্তন হয়েছে। আমরা এখন ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য সঠিক পথে ফিরে এসেছি। নতুন সম্পর্কটি পেশাদারিত্বের ভিত্তিতে গড়ে উঠবে এবং উভয় দেশের মধ্যে ভালো প্রতিবেশীর সম্পর্কের নতুন অধ্যায় সূচিত করবে।
প্রফেসর ড. শেখ আকরাম আলী
সম্পাদক, সামরিক ইতিহাস জার্নাল ও আইনের অধ্যাপক।