a
ফাইল ছবি
বনেদী ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত ফরম্যাট হচ্ছে টি-টুয়েন্টি যেখানে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার রাজত্ব বহু পুরনো। কিন্তু পরাজয় যেন পিছু ছাড়ছে না অজিদের, ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জে সীমিত পরিসরের সিরিজের হার চলমান রয়েছে বাংলাদেশেও এ নিয়ে হতাশায় দিন কাটছে অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট প্রেমিদের মনে। তাদের এ হতাশা বহুগুনে বাড়িয়ে দিচ্ছে সরাসরি খেলা দেখতে না পারার আক্ষেপ। ইতিহাস ঘেটে দেখা যায় দীর্ঘ ২৭ বছর পর জাতীয় দলের ম্যাচ দেখতে না পেরে ক্ষিপ্ত দেশটির ক্রিকেট ভক্তরা।
গত ২৭ বছরে এই প্রথম জাতীয় দলের কোন ম্যাচ দেখা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে স্বদেশী দর্শকরা। বিষয়টি নিয়ে একরকম রসিকতা করেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে পোস্ট করে সঠিক লিংক চেয়েছেন অজি মারকুটে ব্যাটসম্যান গ্লেন ম্যাক্সওয়েল।
তিনি তার পোস্টে বলেন আমি কি বাংলাদেশ বনাম অস্ট্রেলিয়া ম্যাচের লিংক পেতে পারি? তার সেই টুইটের কমেন্ট সেকশনে তখন জমা হতে শুরু করে অসংখ্য অবৈধ স্ট্রিমিং লিংক।
অস্ট্রেলীয় দলের ১৯৯৪ সালের পাকিস্তান সফর ছিল সর্বশেষ সিরিজ যেটা কোন টিভি চ্যানেলে দেখতে পারেনি স্বদেশী দর্শকরা। গত ২৭ বছরে অস্ট্রেলিয়ার সিংহভাগ ক্রিকেট ম্যাচই সম্প্রচার করেছে টেলিভিশন কোম্পানি ফক্সটেল। সম্প্রচারের বেলায় বলতে গেলে অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটের মেরুদণ্ডই ফক্স।
২০১৮ সালে ১১৮ কোটি ডলারের বিশাল এক চুক্তিতে ৬ বছরের জন্য অস্ট্রেলিয়ার সকল হোম সিরিজ এবং আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের সত্ত্ব কিনে নেয় ফক্সটেল। এই চুক্তির পর থেকেই বাইরের সিরিজগুলোর জন্য একটু হিসেব করে খরচ করা শুরু করে তারা। প্রতিটি সফরের আগেই আয়োজক দেশের বোর্ডের সাথে একরকম দামাদামিতে লিপ্ত হয় ফক্সটেল। কম হাইপ থাকা সিরিজগুলোয় সেই দামাদামি একেবারে চূড়ান্ত রূপ ধারণ করে।
মে মাসে এই সিরিজের সূচি ঘোষিত হওয়ার পর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ফক্সটেলের কাছে সিরিজ সম্প্রচার বিষয়ক চুক্তির জন্য নিজে থেকে প্রস্তাব পেশ করে। তাদের সেই প্রস্তাবকে একদম পাত্তাই দেয়নি ফক্স।
বাংলাদেশে আসার আগেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর করে এসেছে অজিরা। সেই সিরিজের চুক্তির সময়ও একইরকম গড়িমসি করেছে ফক্স। সিরিজের প্রথম ম্যাচ শুরু হওয়ার মাত্র দুইদিন আগে উইন্ডিজ বোর্ডের সাথে সম্মতিতে আসে তারা।
ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া পরবর্তী সময়ে এই সিরিজ ইউটিউবে সম্প্রচারিত হবে এরকম ইঙ্গিত দিলেও গতকাল অস্ট্রেলিয়ার কোথাও ইউটিউবেও স্ট্রিম হয়নি এই ম্যাচটি। অস্ট্রেলিয়ায় ২৭ বা তারচেয়ে কম বয়সী কোন ক্রিকেট ভক্তই এর আগে এরকম ব্ল্যাকআউটের শিকার হয়নি।
এমন আক্ষেপের দিনে স্বাভাবিকভাবেই ক্ষিপ্ত অস্ট্রেলিয়ার সাধারণ ক্রিকেট ভক্তরা। গতকাল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ নিয়ে ভালোই ক্ষোভ ঝেড়েছেন তারা। সম্প্রচারকদের এমন বিলাসিতার সমালোচনা করেছে কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় সংবাদপত্রও।
ফাইল ফটো:
লিটন দাস-নাজমুল শান্ত এবং পেসার রুবেল হোসেনের তোপে দারুণ ব্যাটিংয়ে কুইন্সটাউনে বড় ব্যবধানে হেরেছে তামিম ইকবাল একাদশ। ওয়ানডে সিরিজের আগে নিজেদের মধ্যে খেলা এই প্রস্তুতি ম্যাচে শুরুতে ব্যাট করে তামিমরা তোলেন ২৩৩ রান। জবাবে ৯ উইকেটের জয় পায় শান্ত একাদশ।
মঙ্গলবার জন ডেভিস ওভালে শুরুতে ব্যাট করে সৌম্য সরকার ২৮ রান, নাঈম শেখরা ১২ রান সেট হয়ে ফিরে যান। ভরসা দেওয়া মাহমুদুল্লাহ রিয়াদও আউট হন সেট হয়ে। তিনি করেন ৩৫ রান। তবে মোহাম্মদ মিঠুন একপাশ দিয়ে খেলে যাচ্ছিলেন। তার ব্যাট থেকে আসে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ হার না মানা ৬৬ রান।
নিউজিল্যান্ডের বেঞ্জি চুলহান খেলেন অপরাজিত ৪৬ রানের ইনিংস। তরুণ ডানহাতি অফ স্পিন অলরাউন্ডার শেখ মাহেদি হাসান করেন ৩৬ রান। নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে তামিমের একাদশ তোলে ওই রান।
নাজমুল শান্তর একাদশ জবাব দিতে নেমে উড়ন্ত শুরু করে । অধিনায়ক শান্তর ব্যাট থেকে আসে ৪০ রান। অন্যদের সুযোগ দিতে মাঠ ছেড়ে উঠে যান তিনি। লিটন দাস ৫৯ রান করে মাঠ ছাড়েন। অপরাজিত থাকেন মুশফিকুর রহিম ৫৪ রান করে। মেহেদি মিরাজও ফিফটি রান করে। তিনি পুরোপুরি ৫০ রান করে মাঠ ছাড়েন। পেস অলরাউন্ডার সাইফউদ্দিন করেন ১৬ রান।
রুবেল হোসেন দারুণ বোলিং করেন নাজমুল একাদশের হয়ে। দলের সিনিয়র এই পেসার ৪২ রানে নেন ৪ উইকেট। অন্য উইকেটটি নেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। তামিম একাদশের হয়ে একমাত্র উইকেটটি পান দলের বাঁ-হাতি পেসার মুস্তাফিজুর রহমান।
তামিম একাদশ: তামিম ইকবাল, নাঈম শেখ, সৌম্য সরকার, মোহাম্মদ মিঠুন, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, শেখ মাহেদি হাসান, নাসুম আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ, আল আমিন হোসেন এবং নিউজিল্যান্ডের এক ব্যাটসম্যান ও বোলার।
নাজমুল একাদশ: লিটন দাস, নাজমুল শান্ত, আফিফ হোসেন, মুশফিকুর রহিম, মেহেদি মিরাজ, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, শরিফুল ইসলাম, হাসান মাহমুদ, রুবেল হোসেন এবং নিউজিল্যান্ডের তিন ক্রিকেটার।
ফাইল ছবি
নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীতে কার্গো জাহাজের ধাক্কায় শতাধিক যাত্রী নিয়ে লঞ্চডুবির ঘটনায় এখন পর্যন্ত (রাত সাড়ে ১১টা) চার নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া এ ঘটনায় ২০ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের মিডিয়া সেল কর্মকর্তা মো. রায়হান রোববার (০৪ এপ্রিল) রাতে এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মো. রায়হান বলেন, ডুবে যাওয়া লঞ্চটি ও নিখোঁজ যাত্রীদের উদ্ধারে কাজ করছে উদ্ধারকারী জাহাজ প্রত্যয়, নৌপুলিশ, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড, ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।
প্রসঙ্গত, আজ রোববার সন্ধ্যায় শীতলক্ষ্যা নদী কার্গো জাহাজের ধাক্কায় শতাধিক যাত্রী নিয়ে ডুবে যায় রাবিতা আল হাসান নামের একটি লঞ্চ। নারায়ণগঞ্জ-মুন্সিগঞ্জ রুটে যাত্রী নিয়ে চলাচলকারী ওই লঞ্চটি প্রতিদিনের মতো নারায়ণগঞ্জ লঞ্চ টার্মিনাল থেকে শতাধিক যাত্রী নিয়ে মুন্সিগঞ্জ টার্মিনালে যাওয়ার পথে শীতলক্ষ্যা নদীতে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি জাহাজের সঙ্গে ধাক্কা লঞ্চটি ডুবে যায়।
মুক্তারপুর নৌ স্টেশনের ইনচার্জ কবির হোসেন এ বিষয়ে জানান, লঞ্চটিতে ধারণ ক্ষমতার অনেক বেশি যাত্রী ছিলেন। এদিকে নিখোঁজ যাত্রীদের স্বজনরা মুন্সিগঞ্জ লঞ্চঘাট ও এর আশপাশে ভিড় করেছে।
এদিকে লঞ্চডুবির ঘটনা তদন্তে বিআইডব্লিউটিএ এর পরিচালককে প্রধান করে ৪ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।