a
ছবি: সংগৃহীত
স্বাধিকার, স্বাধীনতা ও স্বকীয়তার চেতনায় মোড়ানো মাস ফেব্রুয়ারি। জাতীয় চেতনা স্ফুরণের মাস ফেব্রুয়ারি। ভাষা রাষ্ট্রের জন্ম দিতে পারে, এই উদাহরণ সৃষ্টির মহিমায় মোড়া এই মাস। এ মাসের আগমনী সুরে বদলে যায় জাতীয় মন ও মানস। গোটা জাতি বাঁধা পড়ে যায় এক সূত্রে। এক ভাষা, এক সুর, এক চেতনায় বিলীন হয়ে যায় ধর্মীয় ও জাতিগত ভেদাভেদ।
ছোট বড় সকলে এক সারিতে এসে দাঁড়ায় এই মাসে। জাতীয় ঐক্যতানের এক অপূর্ব রঙধনু দ্যুতি ছড়ায় এই মাসে। ভাষাকে কেন্দ্র করে রকমারি আয়োজনের মধ্যে হারিয়ে যায় বাংলা ভাষা আন্দোলনের গোড়ার কথা। হারিয়ে যায় ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ প্রসঙ্গ, বাংলা ভাষার বর্তমান অবস্থানের স্বপ্নদ্রষ্টা যিনি। আমরা কুণ্ঠাবোধ করি অধ্যাপক আবুল কাসেম এবং তমদ্দুন মজলিসের কথা স্মরণ করতে। আমাদের স্মৃতির মোহনা থেকে হারিয়ে যায় কেন্দ্রীয় বাংলা উন্নয়ন বোর্ডের অবদানের কথা। অথচ এই টুকরো টুকরো অধ্যায়গুলো বাংলা ভাষার অবস্থানকে বর্তমান পর্যায়ে নিয়ে এসেছে। ভাষার মাসে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি তাদের। তাদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করি।
বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন আমাদের জাতীয় জীবনের এক অবিস্মরণীয় ঐতিহাসিক ঘটনা। এটি আমাদের জাতীয় স্বাতন্ত্র্য ও চেতনাবোধকে শাণিত করেছে। উদ্দীপ্ত করেছে, উজ্জীবিত করেছে। এক সূত্রে গেঁথেছিল তৎকালীন পাকিস্তানের বাংলা ভাষাভাষীদের। পাকিস্তানের প্রভাব বলয়ের ভেতরে ধীরে ধীরে পল্লবিত হয়ে এক সময় বিরাট মহীরুহে রূপান্তরিত ভাষা আন্দোলন ভবিষ্যৎ স্বাধীনতার ভিত্তি রচনা করেছিল।
একই সাথে তৎকালীন পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার বিচারপতি এস এম মোর্শেদকে সভাপতি করে কেন্দ্রীয় বাংলা উন্নয়ন বোর্ড গঠন করে। উদ্দেশ্য ছিল যথোপযুক্ত পরিভাষা তৈরি, প্রয়োজনীয় বই রচনা, শিক্ষক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে জাতীয় ভাষায় পাঠদান প্রক্রিয়া চালুকরণ।
কেন্দ্রীয় বাংলা উন্নয়ন বোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে বাংলায় রাষ্ট্রবিজ্ঞান, রসায়নশাস্ত্র, পদার্থবিদ্যা, প্রভৃতি বই রচনায় সাফল্য দেখায়। সাথে সাথে নজরুল রচনাবলী (চার খণ্ড), ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচনাবলী, ড. জি সি দেবের বিখ্যাত গ্রন্থ ‘তত্ত্ব বিদ্যাসার’ প্রকাশ করে। প্রকাশ করে পাকিস্তানের লোককাহিনী। কেন্দ্রীয় বাংলা উন্নয়ন বোর্ড একই সাথে মধ্যযুগের বাংলা পাণ্ডুলিপি ও প্রাচীন বইপত্র সংগ্রহ, মানসম্মত বাংলা মুদ্রণযন্ত্র উদ্ভাবন ও উন্নয়ন, সাহিত্য সাময়িকী প্রকাশ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের উন্নয়নের জন্য আর্থিক প্রণোদনা দেয়ার মতো কিছু মৌলিক কার্যক্রম গ্রহণ করে। এ ক্ষেত্রে সমন্বিতভাবে কাজ করেছিলেন ড. মমতাজউদ্দীন আহমেদ (সাবেক ভিসি, রাবি), মো: শামসুল হক (ডিপিআই, ইপি), ড. কাজী মোতাহার হোসেন, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, অধ্যাপক মু. আ: হাই, কবি জসিম উদ্দীন, কবি গোলাম মোস্তফা, ড. সৈয়দ সাজ্জাদ হোসেন, প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ, ড. মুহম্মদ এনামুল হক। বোর্ড পাঠ্যপুস্তক রচনা ও প্রকাশের সাথে সাথে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে বাংলা পাঠ্যক্রম তৈরিতে অভ‚তপূর্ব সাফল্য দেখায় বোর্ড। পদার্থবিদ্যা, রসায়নশাস্ত্র, সমাজবিজ্ঞান, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ের বাংলা পরিভাষায় বই রচনায় তাদের অবদান আজো শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করতে হয়।
তালপাতায় লেখা পুঁথি ও অসংখ্য দুর্লভ বই সংগ্রহ করে এক সমৃদ্ধ সংগ্রহশালা তৈরি করেছিল কেন্দ্রীয় বাংলা উন্নয়ন বোর্ড যা পরবর্তী সময়ে বাংলা একাডেমির সাথে একীভূত হয়ে যায়। বোর্ডের অর্থায়নে ও পৃষ্ঠপোষকতায় অধ্যাপক মুনীর চৌধুরীর বাংলা কি-বোর্ডের (মুনীর অপটিমা) আধুনিকায়ন বোর্ডের একটি অনন্য অবদান। একই সাথে বাংলা একাডেমি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, এশিয়াটিক সোসাইটিকে বাংলা ভাষায় সাহিত্য সাময়িকী, বিজ্ঞানবিষয়ক পত্রিকা, ইতিহাস সম্পর্কিত গবেষণা ও প্রকাশনার জন্য আর্থিক সহযোগিতা প্রদান এক অভ‚তপূর্ব কর্মচাঞ্চল্য তৈরি করে। বোর্ডের পৃষ্ঠপোষকতায় পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘ভাষা সাহিত্য সপ্তাহ’ বাংলা ভাষা চর্চার ক্ষেত্রে অন্যরকম আরেকটি মাইলফলক। প্রদর্শনীতে বাংলা সাহিত্যের ক্রমবিবর্তন; চর্যাপদ থেকে শুরু করে ক্রমধারায় নজরুলকে ধারণ করে তালপাতার পুঁথি, তুলোট কাগজে লেখা দুর্লভ বইপত্র প্রদর্শন করা হয়। আয়োজন করা হয় কয়েক প্রস্থ সেমিনারের, প্রাচীন বাংলা সাহিত্য, মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্য, আধুনিক বাংলা সাহিত্য প্রসঙ্গে আলোচনা উপস্থাপন করেছিলেন ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, ড. এনামুল হক ও সৈয়দ আলী আহসান। আলোচকমণ্ডলীর ভেতর ছিলেন অধ্যাপক আহমদ শরীফ, ড. নীলিমা ইব্রাহিম, অজিত গুহ, মুনীর চৌধুরী ও সৈয়দ মুর্তজা আলী। বাংলা ভাষা উন্নয়ন ও চর্চার ক্ষেত্রে এ ধরনের আয়োজন আর হয়েছে কিনা আমার জানা নেই। বোর্ডের আরেকটি মহতী উদ্যোগ ছিল ‘বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস’ রচনার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগকে আর্থিক মঞ্জুরি- যদিও কার্যত ইতিহাস রচনার কাজ সম্পাদিত হয়নি।
স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বাংলা একাডেমি এবং বাংলা উন্নয়ন বোর্ডকে একীভূত করা হয় ড. মযহারুল ইসলামকে একই সাথে উভয় প্রতিষ্ঠানের মহাপরিচালক নিয়োগের মাধ্যমে। উচ্চশিক্ষা, অফিস আদালতে বাংলা ভাষা প্রচলনের ক্ষেত্রে বোর্ডের কার্যক্রম আজো প্রশংসার দাবিদার। স্বল্প সময়ে ৩৫ হাজার ৮৭টি দুর্লভ বিভিন্ন ভাষার বই, পত্র-পত্রিকা, সাময়িকী ছাড়াও বিভিন্ন মানচিত্র এবং মুদ্রা সংগ্রহ করে এক বিশাল ভাণ্ডার গড়ে তোলা হয়েছিল ভবিষ্যতে বাংলা ভাষার বিস্তারের লক্ষ্যে। বাংলা একাডেমির লাইব্রেরিতে পুরোনো বইয়ের সংগ্রহ তালিকায় বোর্ডের সংগৃহীত বই তাদের ঐকান্তিক একনিষ্ঠ চেষ্টার কথা, সফলতার কথা সগৌরবে ঘোষণা করছে। সূত্র: নয়াদিগন্ত
সঙ্গীতশিল্পী ইন্দ্রমোহন রাজবংশী
করোনার নির্মম ছোবলে অনন্তযাত্রায় পাড়ি জমালেন একুশে পদকপ্রাপ্ত সঙ্গীতশিল্পী ইন্দ্রমোহন রাজবংশী। বুধবার ৭ এপ্রিল সকাল প্রায় ১০টার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
ইন্দ্রমোহন রাজবংশীর জন্ম রাজধানী ঢাকা শহরে। তার পরিবারের পাঁচ পুরুষ সঙ্গীতের সঙ্গে জড়িত। সঙ্গীত কলেজে লোকসঙ্গীত বিভাগের প্রধান হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন কাজ করেছেন।
তিনি ছিলেন বাংলাদেশ লোকসংস্কৃতি পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা। ১৯৫৭ সালে ছোটদের আসরে গান করতে শুরু করেন তিনি।
১৯৬৭ সালে 'চেনা অচেনা' চলচ্চিত্রের মধ্য দিয়ে প্লেব্যাক শিল্পী হিসেবে চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে তার। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতন বন্ধে নাম-পরিচয় গোপন করে পাকিস্তানিদের দোভাষী হিসেবে কাজ করেছেন কিছুদিন।পরবর্তীতে সেখান থেকে চলে এসে মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রেরণা দিতে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে কণ্ঠযোদ্ধা হিসেবে অংশগ্রহণ করেন রাজবংশী।
ভাওয়াইয়া, ভাটিয়ালী, জারি, সারি, মুর্শিদি ইত্যাদি গানের পাশাপাশি রবীন্দ্রসঙ্গীতশিল্পী হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত তিনি। দেশের সঙ্গীতাঙ্গণে অসামান্য অবদানের জন্য ২০১৮ সালে সঙ্গীত বিভাগে একুশে পদক লাভ করেন খ্যাতিমান এই সঙ্গীতশিল্পী।
চলচ্চিত্র, বেতার ও টেলিভিশনে অনেক গান গেয়েছেন তিনি। গান গাওয়ার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে লোকগান সংগ্রহ করতেন ইন্দ্রমোহন রাজবংশী। দেশের সহস্রাধিক কবির লেখা কয়েক লাখ গান সংগ্রহ করেছেন তিনি। তার স্ত্রীর নাম দীপ্তি রাজবংশী, পুত্র রবীন রাজবংশীও লোকগানের সঙ্গে জড়িত। দেশবরেণ্য এই কণ্ঠযোদ্ধার প্রতি রইল অন্তিম শ্রদ্ধা।
ছবি: মুক্তসংবাদ প্রতিদিন
সাইফুল আলম, ঢাকা: আসন্ন জাতীয় বাজেটে তামাকজাত দ্রব্যের কর কাঠামো সংস্কার ও কঠোর নজরদারি করতে হবে। এজন্য জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাকজাত দ্রব্যের ওপর সুনির্দিষ্ট সম্পূরক শুল্ক আরোপ, কর আদায় ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা ডিজিটালাইজেশন এবং ধোঁয়াবিহীন তামাকের কর ফাঁকি রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশে কর্মরত তামাক বিরোধী সংগঠনগুলো। মঙ্গলবার (২৭ মে, ২০২৫) জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত প্রাক বাজেট সংবাদ সম্মেলনে তারা এসব দাবি জানিয়েছে। বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট, বাংলাদেশ নেটওয়ার্ক ফর টোব্যাকো ট্যাক্স পলিসি এবং ডাব্লিউবিবি ট্রাস্ট যৌথভাবে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।
অর্থনৈতিক গবেষণা ব্যুরো’র প্রকল্প কর্মকর্তা ইব্রাহিম খলিলের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোটের সমন্বয়ক সাইফুদ্দিন আহমেদ, প্রত্যাশা মাদক বিরোধী সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হেলাল আহমেদ, বিশিষ্ট আইনজীবি ও নীতি বিশ্লেষক মাহবুবুল আলম তাহিন, ভাইটাল স্ট্রাটেজিস এর টেকনিক্যাল এডভাইজর আমিনুল ইসলাম সুজন, একাত্তর টিভির বিশেষ প্রতিনিধি সুশান্ত সিনহা, দেশ রুপান্তর পত্রিকার বিজনেস এডিটর মাসুম বিল্লাহ, তামাক নিয়ন্ত্রণ গবেষক নাসিরুদ্দিন শেখ, এইড ফাউন্ডেশনের প্রকল্প পরিচালক শাগুফতা সুলতানা ও প্রমুখ ব্যাক্তিবর্গ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডাব্লিউবিবি ট্রাস্টের প্রকল্প কর্মকর্তা মিঠুন বৈদ্য। সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, বিদ্যমান তামাক কর ব্যবস্থা অত্যন্ত জটিল ও ত্রুটিপূর্ণ। পাশাপাশি বিদ্যমান একাধিক মূল্যস্তর তামাক কোম্পানিগুলিকে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ফাঁকি দিতে সহায়তা করছে। সমস্যা সমাধানে অ্যাড ভেলোরেম কর পদ্ধতির পরিবর্তে সুনির্দিষ্ট সম্পূরক শুল্ক পদ্ধতি চালুর দাবি জানানো হয়। বক্তারা তুলে ধরেন, ২০০৯ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর উৎপাদন দ্বিগুণ হলেও মুনাফা বেড়েছে পাঁচ গুণ। যা প্রমাণ করে তামাকজাত দ্রব্যের কর ও মূল্য বাড়ালেও সরকারের রাজস্ব আয় কাঙ্ক্ষিত হারে বাড়েনি। পাশাপাশি ব্যবহার হ্রাসেও কোনো প্রভাব পড়েনি।
বক্তারা আরো বলেন, জর্দা ও গুলসহ ধোঁয়াবিহীন তামাকজাত দ্রব্যের ওপর কার্যকর কর আরোপ ও ফাঁকি রোধে এখনো কোনো শক্তিশালী ব্যবস্থা নেই। বাজারে ৩৫০টি কোম্পানির ৮০০টির বেশি ব্র্যান্ডের এসব পণ্যের অধিকাংশেরই লাইসেন্স নেই এবং নির্ধারিত ব্যান্ডরোল ও স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা নেই। এর ফলে সরকার বিপুল রাজস্ব হারাচ্ছে এবং জনস্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়ছে। উল্লেখ্য, দেশে ধোঁয়াবিহীন তামাক ব্যবহারকারীর সংখ্যা তুলনামূলক বেশি হলেও এই খাত থেকে আদায়কৃত করের পরিমাণ সিগারেট ও বিড়ি থেকে আদায়কৃত মোট করের ৬০০ ভাগের এক ভাগ।
তারা বলেন, ডিজিটাল ট্যাক্স ট্র্যাকিং ব্যবস্থা চালু না থাকায় স্ট্যাম্প ও ব্যান্ডরোল ব্যবস্থাও কার্যকর হচ্ছে না। বিশেষ করে বিদেশি সিগারেটের প্যাকেটে ব্যান্ডরোল না থাকায় সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে। এমতাবস্থায় তামাকজাত দ্রব্য প্রস্তুত ও বিক্রেতাদের বাধ্যতামূলক লাইসেন্সিংয়ের আওতায় আনা, নিয়মিত বাজার তদারকি, এবং এনবিআর ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর উপর জোর দেওয়া জরুরি।
এছাড়া, সংবাদ সম্মেলনে তামাক চাষ নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। তামাক পাতা রপ্তানি শুল্ক মওকুপ করায় গত ৭ বছরে সরকার ১৫ হাজার কোটি টাকারও অধিক রাস্বস্ব হারিয়েছে। খুবই উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে, গত এক বছরেই ৫০,০০০ একর জমিতে তামাক চাষ বেড়েছে। অথচ এই জমিতে খাদ্যশস্য উৎপাদন করলে ডাল ও গমের আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা যেত। এছাড়া তামাক চাষে ব্যবহৃত জমির কারণে পশুপালন কমে যাচ্ছে, শিশুদের পুষ্টি ও শিক্ষায় ব্যাঘাত ঘটছে এবং পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ তুলে ধরেন, যেমন—
> সকল তামাকজাত দ্রব্যের উপর সুনির্দিষ্ট সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা।
> ধোঁয়াবিহীন তামাকজাত দ্রব্যের জন্য ডিজিটাল ট্যাক্স ট্র্যাকিং ও ব্যান্ডরোল চালু করা।
> সকল তামাকজাত দ্রব্য প্রস্তুতকারক ও বিক্রেতাদের জন্য বাধ্যতামূলক লাইসেন্সিং ব্যবস্থা কার্যকর করা
> মোড়কে উল্লেখিত সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য (MRP) তে তামাকজাত দ্রব্য বিক্রয় নিশ্চিতে মনিটরিং ব্যবস্থা শক্তিশালী করা।
> ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে নিয়মিত বাজার তদারকি করা
> শক্তিশালী তামাক চাষ নিয়ন্ত্রণ নীতি ও তামাক কর নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা।
> তামাক পাতা রপ্তানিতে ২৫% শুল্ক পুনর্বহাল করা।
সংবাদ সম্মেলনে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থেকে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, বাজেটে তামাক নিয়ন্ত্রণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে জনস্বাস্থ্য রক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করা হোক।