a
ছবি: সংগৃহীত
কাতারে মিশন হেক্সা মিশনে আজ রাত ১টায় লুসাইল স্টেডিয়ামে মাঠে নামবে ব্রাজিল। আসরের প্রথম প্রতিপক্ষ হিসেবে নেইমাররা পাচ্ছে ইউরোপের দেশ সার্বিয়াকে। এছাড়া ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগাল, সুয়ারেজের উরুগুয়ের ম্যাচও রয়েছে আজ।
কাতার বিশ্বকাপে আজ চারটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে এবং যা দেখা যাবে টিভির পর্দায়-
২০২২ বিশ্বকাপ ফুটবল
সুইজারল্যান্ড–ক্যামেরুন
বিকেল ৪টা, বিটিভি, টি স্পোর্টস, গাজী টিভি
উরুগুয়ে–দক্ষিণ কোরিয়া
সন্ধ্যা ৭টা, বিটিভি, টি স্পোর্টস, গাজী টিভি
পর্তুগাল–ঘানা
রাত ১০টা, বিটিভি, টি স্পোর্টস, গাজী টিভি
ব্রাজিল–সার্বিয়া
রাত ১টা, বিটিভি, টি স্পোর্টস, গাজী টিভি
সূত্র: ইত্তেফাক
ছবি: আলজেরিয়ান ফুটবলার ইউসুফ এটল
ফরাসি ওজিসি নেইস ফুটবল ক্লাবের আলজেরিয়ান ফুটবলার ইউসুফ এটলকে একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইসরাইলের বর্বর হামলার বিপক্ষে প্রতিবাদ করায় ফ্রান্সে এই ফুটবলারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে ফরাসি পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২৩ নভেম্বর) ফরাসি পুলিশ তার দেওয়া ওই পোস্ট সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে বলে জানা যায়। খবর আলজাজিরার।
এরপর শুক্রবার ৮০ হাজার ইউরো জরিমানার বিনিময়ে তাকে মুক্তি দেয়া হয়। পুলিশ আরও জানায়, আন্তর্জাতিক খেলা ছাড়া ফ্রান্স ছাড়তে পারবেন না ইউসুফ।
প্রসঙ্গত, গত মাসে একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট শেয়ার করার অভিযোগে ফরাসি ফুটবল লিগে সাতটি খেলার জন্য তাকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। অভিযোগ করা হচ্ছে, তার ভিডিওতে ইহুদিদের বিরুদ্ধে সহিংসতাকে উসকে দেওয়া হয়েছিল।
এদিকে ইউসুফের ক্লাব নেইস ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ানোর দায়ে তার বিরুদ্ধে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। আর কমিটি বলেছে, ১৮ ডিসেম্বরের মধ্যে তার বিচারকাজ শুরু হবে, সে পর্যন্ত ক্লাবের সব খেলা থেকে নিষিদ্ধ থাকবেন ইউসুফ।
ফুটবলার ইউসুফ এটেল বলেন, তিনি কখনই সহিংসতা বা কারও বিপক্ষে ঘৃণা ছড়ানো পছন্দ করেন না। বিশ্বের যেখানেই সহিংসতা হোক তিনি এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করবেন। সূত্র: যুগান্তর
ফাইল ছবি : কৃষ্ণকুমার কুনাথ কেকে
কলকাতায় নজরুল মঞ্চে গান গাইতে গাইতে অসুস্থ হয়ে পড়েন বলিউড তারকা গায়ক কৃষ্ণকুমার কুনাথ। এর কিছুক্ষণ পর হোটেলেই ফিরেই মারা যান তিনি। বলিউডে তিনি কেকে নামেই পরিচিত ছিলেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫৪ বছর।
মঙ্গলবার কলকাতায় নজরুল মঞ্চে কনসার্টে যোগ দেন তিনি। হোটেলে ফিরে অসুস্থ হয়ে পড়তেই দ্রুততার সাথে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় শহরের প্রথম সারির এক বেসরকারি হাসপাতালে। সেখানেই মৃত ঘোষণা করা হয় তাকে। চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েই মৃত্যু হয়েছে এই সংগীতশিল্পীর।
মৃত্যুর আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে কেকে’র সবশেষ স্ট্যাটাস ছিল, “আজ রাতে নজরুল মঞ্চে বিবেকানন্দ কলেজের উত্তেজনাপূর্ণ কনসার্ট!! সবাইকে ভালোবাসা।”
কলকাতার নজরুল মঞ্চ ভিড়ে ঠাসা। দর্শকদের মধ্যে উত্তেজনা, কখন আসবেন গায়ক? কৃষ্ণকুমার কুন্নাথ, যিনি কেকে নামেই সুপরিচিত, তিনি এলেন। কণ্ঠে সুরের ঝাঁপি আর হাতে মাইক্রোফোন নিয়ে। হাততালিতে ফেটে পড়ল গোটা হল।
হাম, রাহে ইয়া না রাহে কাল.... মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মাইক্রোফোন হাতে গান ধরেছিলেন কেকে। উপলক্ষ গুরুদাস কলেজের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এর আগের রাতেই ছিল বিবেকানন্দ কলেজের অনুষ্ঠান।
গান শুরু হতেই উৎসাহ-উত্তেজনায় দর্শকদের গলা ফাটিয়ে চিৎকার। হবে না-ই বা কেন! মঞ্চে যিনি গান গাইতে উঠেছেন, তিনি তো আর সাধারণ কেউ না। বলিউডের তারকা নেপথ্যগায়ক কেকে।
মঞ্চে উঠে দর্শকদের মাতোয়ার করতে পারা সঙ্গীতশিল্পীদের মধ্যে অন্যতম কেকে। মঙ্গলবারের অনুষ্ঠানেও তার ব্যত্যয় হয়নি। সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত বাড়ার পাশাপাশি গাইতে থাকেন একের পর এক গান। বাড়তে থাকে দর্শকেদের উত্তেজনাও।
নজরুল মঞ্চে হাজির দর্শক-শ্রোতারা দেখলেন, ৫৪ বছর বয়সী একজন গায়ক কতটা তরতাজা। গান গাইতে গাইতে মঞ্চের এ পাশ থেকে অন্য পাশে দাপিয়ে বেড়াতেও দেখা গেল কেকে-কে। কখনও দর্শকদের উদ্দেশে ‘ফ্লাইং কিস’ ছুড়ে দিচ্ছেন, তো কখনও আবার গান গাইতে গাইতে নিজের মনেই লাফাচ্ছেন। দর্শকদের অনেকেই কেকে-কে দেখার জন্য, তার গান শোনার জন্য বহু দিন ধরেই অপেক্ষা করেছিলেন।
গান গাওয়ার ফাঁকে কেকে মঞ্চের স্পটলাইটগুলো নিভিয়ে দেওয়ার অনুরোধও করেন। যার গানের সুরে ভারতীয় উপমহাদেশের আপামর শ্রোতা মুগ্ধ, তার আবার স্পটলাইটের দরকারই বা কী! স্পটলাইট নেভাতেই শতাধিক ফোনের ফ্ল্যাশলাইটের ঝলকানি গানের পরিবেশে অন্য এক মাত্রা যোগ করে মঙ্গলবারের অনুষ্ঠানে।
কেকে’র অনুষ্ঠানের সময় নজরুল মঞ্চে শীতাতপ যন্ত্র ঠিকঠাক কাজ করছিল না বলে অভিযোগ করেছেন অনেকে। গান গাইতে গায়ককে দরদর করে ঘামতেও দেখা গেছে। মাঝে মাঝে সাদা তোয়ালে দিয়ে মুখ মুছে নিচ্ছিলেন। তবে চোখে মুখে বিরক্তির লেশমাত্র নেই।
শেষের দিকে বেশ খানিকটা ক্লান্তই লাগছিল গায়ককে। ভিতরে কষ্ট হচ্ছিল কি? কষ্ট হলেও বুঝতে দেননি। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যন্ত দর্শকদের আবদার মিটিয়েছেন মুখের মিষ্টি হাসি ধরে রেখেই।
অনুষ্ঠান শেষ হতেই চলে যান স্থানীয় ধর্মতলা এলাকার বিলাসবহুল হোটেলে। সেখানে পৌঁছে শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে।
তবে ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। চিকিৎসকরা জানিয়ে দেন, মৃত্যু হয়েছে কেকে’র। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েই মৃত্যু হয়েছে তার। নিজে বুঝে থাকলেও, শারীরিক অসুবিধার কথা বুঝতে দেননি দর্শকদের। দক্ষ জাদুকরের মতো সুরের জাদু দেখিয়েছেন শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত।
‘আলবিদা’। ‘লাইফ ইন আ মেট্রো’ সিনেমায় তার গাওয়া বিখ্যাত গান। সুরের শহরকে সেই কথাই হয়তো জানাতে এসেছিলেন তিনি। আর এই অনুভবের শেষ সাক্ষী কলকাতা। সূ্ত্র: বিডি প্রতিদিন