a
ফাইল ছবি: ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ লেখক সালমান রুশদি
ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ লেখক সালমান রুশদি এখন ভালো থাকলেও নিজ হাতে লিখতে পারছেন না কিংবা কিছু টাইপ করতে পারছেন না।
যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যম দ্য নিউইয়র্কারকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এসব তথ্য জানিয়েছেন রুশদি। বুকার পুরস্কারজয়ী এই লেখক গত বছরের আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রে হামলার শিকার হন।
নিউইয়র্কে একটি অনুষ্ঠানে তাঁকে ১০ থেকে ১৫ বার ছুরিকাঘাত করা হয়। এরপর থেকে বেশ অসুস্থ ছিলেন তিনি। সম্প্রতি তাঁর উপন্যাস প্রকাশ উপলক্ষে আবারও আলোচনায় এসেছেন। তবে রুশদি শারীরিক অবস্থার কারণে উপন্যাসের প্রচারকাজে নিজে অংশ নিচ্ছেন না।
রুশদি বলেন, ‘আমি এখন একা দাঁড়াতে পারি এবং হাঁটতে পারি। আমি যখন বলছি, আমি ভালো আছি, এর মধ্য দিয়ে আমি এটাই বলছি, আমার শরীরের বিভিন্ন অংশ প্রতিনিয়ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হয়। এটা ভয়ংকর হামলা ছিল।’ নিউইয়র্কের ওই হামলার পর থেকে বেশ ভয়ের মধ্যেও রয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ লেখক সালমান রুশদি ২০ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। ১৯৮১ সালে ‘মিডনাইটস চিলড্রেন’ নামক বইয়ের জন্য বুকার পুরস্কার জেতেন তিনি। তবে ১৯৮৮ সালে তাঁর চতুর্থ বই ‘দ্য স্যাটানিক ভার্সেস’-এর জন্য তাঁকে ৯ বছর লুকিয়ে থাকতে হয়েছিল।
যুক্তরাজ্যে বসবাসকালে বেশির ভাগ সময় তাঁকে সরকারের সুরক্ষা নিয়ে থাকতে হয়েছে। ‘স্যাটানিক ভার্সেস’ প্রকাশের পর তাঁর বিরুদ্ধে ইসলাম ধর্ম অবমাননার অভিযোগ আনে বিভিন্ন মহল। এটি প্রকাশের পর থেকে সালমান রুশদি হত্যার হুমকি পেয়ে আসছিলেন। বইটি প্রকাশের এক বছর পর ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লা আলী খামেনি সালমান রুশদির মৃত্যুদণ্ডের ফতোয়া জারি করেন। সেই সঙ্গে তাঁর মাথার দাম হিসেবে ৩০ লাখ মার্কিন ডলার পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। সূত্র: প্রথম আলো
ছবি: মুক্তসংবাদ প্রতিদিন
সাইফুল আলম: দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে সৌদি প্রবাসীদের। সৌদিতে বাংলাদেশী কর্মী কর্তৃক বাংলাদেশী কর্মীদের অপহরণ ও খুনের ঘটনা দিন দিন বেড়েই চলেছে। এই নিয়ে প্রবাসী মহল এবং সকলের মাঝে উদ্বেগ প্রকাশ করছে। প্রায় ৩৫ লক্ষ বাংলাদেশী কাজ করে সৌদি আরবে। উদ্বেগ এবং কান্না জড়িত কষ্ট নিয়ে সৌদি আরবের অবস্থানরত প্রবাসী এবং তাদের পরিবারবৃন্দের জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক মানব বন্ধনের আয়োজন করেন।
সেখানে তারা অনেক কষ্ট এবং দুঃখের কথা বলেন। সেই সাথে প্রবাসী মহল বাংলাদেশ সরকারের কাছে সাত দফা দাবি দাবি জানিয়েছে। দাবিগুলো হলো-
১. দূতাবাস ও কনস্যুলেটকে সক্রিয় করুন-প্রবাসীদের সুরক্ষা ও আইনি সহায়তায় দ্রুত পদক্ষেপ নিতে তাদের নির্দেশ দিন।
২. সৌদি প্রশাসনের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ করুন যাতে অপহরণচক্রকে দ্রুত গ্রেফতার ও শাস্তির ব্যবস্থা করা হয়।
৩. ভুক্তভোগী প্রবাসীদের জন্য আইনজীবী ও সহায়তা সেবা নিশ্চিত করা হোক।
৪. সৌদি সরকার যাদের দেশে পাঠাবে, তাদের বিমানবন্দরেই গ্রেফতার করার ব্যবস্থা করা হোক।
৫. বিদেশে দেশের বদনামকারী অপরাধীদের পাসপোর্ট বাতিল করা হোক এবং দেশে ফিরে কঠোর আইনে বিচার নিশ্চিত করা হোক।
৬. মুক্তিপণের অর্থ দিয়ে যারা দেশে অবৈধ সম্পদ গড়ে তুলেছে, সেই সম্পদ জব্দ করা হোক।
৭. অপহরণচক্রকে সহযোগিতা করা ব্যক্তিদের, এমনকি পরিবার ও শুভানুধ্যায়ীদের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, এইখানে অবস্থানরত আমরা, কেউ সাবেক সৌদি প্রবাসী, কেউ ছুটিতে আসা প্রবাসী, আবার অনেকে প্রবাসীদের পরিবারের সদস্য।
আমরা প্রবাসী প্রবাসেই থাকি, কয়েক মাসের জন্য দেশে আসলে পরিবারকে সময় দেই, প্রয়োজনীয় কাজকর্ম সম্পাদন করে আবার প্রবাসেই ফিরে যাই। আপনারা জানেন বাংলাদেশের জন্য এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় শ্রম বাজার হচ্ছে সৌদি আরব, সেখানে আমাদের প্রায় ৩৫ লক্ষ বাংলাদেশী কাজ করেন।
আপনাদের অবগতির জন্য জানাতে চাই, সৌদি প্রবাসীরা ভালো নেই, তাদের দিন কাটে এখন ভয়ে আতঙ্কে, দেশে থাকা তাদের পরিবার ও ভালো নেই, প্রবাসে থাকা পরিবারের সেই মানুষটির জন্য তাদের বেড়েছে দুঃচিন্তা।
প্রিয় গণমাধ্যমকর্মী কর্মী ভাই ও বোনেরা !
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার সৌদি আরবে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশী কর্মী কর্তৃক বাংলাদেশী কর্মীদের অপহরণ ও খুনের ঘটনা ঘটছে। যা জাতি হিসেবে আমাদের জন্য খুবই দুঃখের ও লজ্জার, সেই সাথে হুমকি আছে শ্রমবাজার বন্ধের।
ছবি সংগৃহীত
পাকিস্তান ও ইরানের মধ্যে হঠাৎ উত্তেজনা বাড়ার কারনে মধ্যপ্রাচ্যসহ সারা বিশ্বে উদ্বেগ উৎকন্ঠা বেড়ে গেলেও আমেরিকা ও ইসরাইল ভেতরে ভেতরে পাকিস্তানকে উসকানি দিয়ে যাচ্ছিল এবং মজাই পাচ্ছিল। বিশ্বের কিছু প্রভাবশালী দেশগুলোর কূটনৈতিক কূটচালে দূ'দেশের সম্পর্ক প্রায় স্বাভাবিক পর্যায়ে।
কয়েক বছর সিরিয়ায় ইরান সমর্থিত লক্ষ্যবস্তুতে ইসরায়েল হামলা চালিয়ে আসছে। বিশেষ করে ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হঠাৎ হামলার পর ইসরায়েল-গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরানের উপর ইসরায়েলসহ পশ্চিমারা বেজায় চটেছে। কারণ তাদের ধারণা, ইরানের বলেই হামাস ও ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা আজ এতো শক্তিশালী অবস্থায় পৌঁছেছে। তাই কোন শক্তিশালী দেশকে দিয়ে ইরানকে ব্যস্ত রাখতে পারলে ইসরায়েল বা পশ্চিমা শক্তিশালী দেশগুলো ইরানকে ধরাশায়ী করার সহজ হবে। তবে ইরান-পাকিস্তানের হঠাৎ স্বাভাবিক সম্পর্ক তৈরি হওয়ায় পশ্চিমাদের জন্য তাদের আশা গুড়েবালি হতে যাচ্ছে। এই মূহুর্তে ভঙ্গুর অর্থনীতি পাকিস্তান আর্থিক বা শামরিক সহযোগিতা ফিলিস্তিনীদের করতে না পারলেও তাদের লজিষ্টিক সাপোর্ট থাকলেই পশ্চিমাদের জন্য বড় মাথার ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়াবে।
সর্বশেষ খবরে জানা যায়, টেলিফোনে কথা বলার পর পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জলিল আব্বাস জিলানি ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমির আবুদল্লাহিন সন্ত্রাস দমনে নিবিড় সমন্বয় ও পারস্পরিক উদ্বেগের বিভিন্ন বিষয়ে শক্তিশালী অবস্থান নেওয়ার বিষয়ে একমত হন। ইসলামাবাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত উভয়ের কথোপকথন থেকে জানা গেছে, এ দু’জন পরিস্থিতি শান্ত করার বিষয়েও একমত হয়েছেন।
এদিকে সিরিয়ায় আবারও ইসরায়েল হামলার ফলে ইরানের বিপ্লবী গার্ডের ঊর্ধ্বতন কয়েকজন কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। খবর বিবিসি।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ডের মতে, এই হামলার জন্য দায়ী ইসরায়েল এবং তিনি দাবি করেন, এতে চারজন সামরিক উপদেষ্টার পাশাপাশি সিরিয়ার অনেক বাহিনী নিহত হয়েছেন। হামলার বিষয়ে ইসরায়েল চিরাচরিত নিয়মে কোনো মন্তব্য করেনি। কয়েক বছর ধরে ইসরায়েল সিরিয়ায় ইরান সমর্থিত লক্ষ্যবস্তুতে উপর্যপুরি হামলা চালিয়ে আসছে। বিশেষ করে, ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলার পর ইসরায়েল-গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ ধরনের হামলা আরও তীব্রতর হয়েছে। ফলে এই মূহুর্তে ইরান-পাকিস্তানের উত্তেজনা নিরসনটাই বেশি দরকার ছিল বলে বিশেষজ্ঞগণ মনে করেন।
লেখক: খোরশেদ আলম, সম্পাদক, মুক্তসংবাদ প্রতিদিন