a
করোনাভাইরাস
গত ২৪ ঘন্টায় করোনাভাইরাসে মৃত্যু হয়েছে ১০২ জন। এ নিয়ে করোনাভাইরাসে দেশে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল ১০ হাজার ৩৮৫ জন।
এদিকে, গত ২৪ ঘন্টায় করোনাভাইরাসে শনাক্ত হয়েছে ৩৬৯৮ জন। এ নিয়ে দেশে মোট করোনাভাইরাসে শনাক্তের সংখ্যা ৭ লাখ ১৮ হাজার ৯৫০ জন।
আজ রবিবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে আরও জানানো হয়, গত ১ দিনে বাসা ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও ৬১২১ জন করোনারোগী সুস্থ হয়ে উঠেছেন। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত মোট ৬ লাখ ১৪ হাজার ৯৩৬ জন করোনারোগী সুস্থ হয়ে উঠেছেন।
সংগৃহীত ছবি
সময়টা ২০১৯ এর শেষ। সবার মনে অজানা এক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বেশীরভাগ মানুষের মনোযোগের কেন্দ্র বিন্দু হয়ে উঠেছে চীনের উহান। সেই আতঙ্ক শুধু আতঙ্কের পর্যায়ে না থেকে কিছু দিনের মধ্যেই ইউরোপ, আমেরিকাসহ সারা পৃথিবীতে বাস্তব হয়ে দেখা দিল। অপ্রস্তুত পৃথিবীবাসী যেন হাঁটু গেড়ে আত্মসমর্পণ করল সেই অদেখা, অদ্ভুত শত্রুর কাছে। আর সাথে সাথে আমাদের জীবনে নেমে আসল ভয়ানক পরিবর্তন। লকডাউনের মত সিদ্ধান্ত নিতে হল সরকারগুলোকে। আমরা ঘরে আটকা পড়ে গেলাম। পরিশেষে আমরা কিছুটা পরিত্রান পেয়েছি মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের দয়ায় এবং কিছু মানুষের অক্লান্ত চেষ্টায়।
কিন্তু পরিবর্তন আসল আমাদের শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক স্বাস্থ্যের। অনেকে মানসিক ও সামাজিক স্বাস্থ্য কে একি সাথে আলোচনা করলেও আমরা এটাকে পৃথকভাবে আলোচনা করছি। করোনা পরবর্তী মানসিক ও সামাজিক স্বাস্থ্য আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
আসুন দেখি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কি বলছে, বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থা কর্তৃক ১৯৪৮ ঘোষিত সংজ্ঞা হল,
“স্বাস্থ্য বলতে সম্পূর্ণ শারীরিক মানসিক এবং সামাজিক মঙ্গল বা কল্যাণবোধকে বোঝায়। শুধু রোগ বা দুর্বলতার অনুপস্থিতিকেই স্বাস্থ্য বলেনা। “বৃহত্তর সমাজে ব্যাক্তির অবস্থান অনেকটাই তার স্বাস্থ্যের উপর নির্ভর করে।
তাই এখানে সামাজিক স্বাস্থ্যকে মানসিক স্বাস্থ্যের চেয়ে কম গুরুত্ব দেয়ার সুযোগ নেই। ব্যক্তি যেহেতু সমাজের সাথে যুক্ত তাই সামাজিক স্বাস্থ্য আলোচনার দাবি রাখে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের মতই।
করোনার সময় আমরা দেখেছি কিভাবে আত্মহত্যা, মাদকসহ নানারকম মানসিক সমস্যা বেড়ে গিয়েছিল। লম্বা সময় ঘরে বন্দী থাকলেও এখন স্কুল, কলেজ যাওয়াসহ নানা কাজে আমাদের বাইরের জগতে মিশতে হচ্ছে। আর এই জায়গাটাতেই হতে পারে সমস্যা। চলুন দেখি কোন জায়গা গুলোতে সমস্যা হতে পারে!!
১.সামাজিক অভিযোজনঃ করোনার পরবর্তী সময়ে সমাজের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে আমাদের সমস্যা হতে পারে। কেননা, দীর্ঘদিন ঘরে আটকা থেকে একা থাকার প্রবণতা দেখা দিতে পারে।
২.অল্পতেই রেগে যাওয়াঃ সিগমুন্ড ফ্রয়েডের তত্ত্বানুসারে কোন জিনিস অনবদমিত থাকলে সেটা অন্যভাবে প্রকাশ পায়। আমরা করোনার সময় ঘরে বন্দী থেকে যে বিষয়গুলো অবদমন করেছি আমাদের সচেতন মন থেকে অচেতন মনে, সেই জিনিস গুলো রাগ হিসেবে বেরিয়ে আসতে পারে।
৩.সম্পর্কের সমস্যাঃ করোনা পরবর্তী সময়ে আমাদের সম্পর্কগুলো করোনা পূর্ববর্তী সময়ের মত কাজ নাও করতে পারে। এটা হতে পারে সময় এবং ব্যক্তির নিজের মধ্যে পরিবর্তনের ফলে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আমাদের করণীয় --
১.নেচার থেরাপিঃ এখন যেহেতু আমাদের বাইরে যাওয়ার সুযোগ তৈরী হয়েছে, তাই নেচারকে উপভোগ করা এবং এর সান্নিধ্যে গেলে আমরা আমাদেরকে নতুনভাবে খুঁজে পাব।
২.কৃতজ্ঞতা প্রকাশঃ সবসময় হা-হুতাশ না করে যা হয়েছে তাকে গ্রহণ করে নিতে হবে। যা আছে সেটার উপর সন্তুষ্ট এবং কৃতজ্ঞ থাকতে হবে।
৩.অন্যকে বোঝাঃ করোনার মধ্যে সবকিছুই পরিবর্তন হয়েছে। আমাদের রাজনীতি, অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য সবকিছু। সেই আমাদের ব্যক্তি মনন ও মানসিকতারও ঘটেছে আমূল পরিবর্তন। এই ক্ষেত্রে আমরা আগের মত করে আমার চারপাশের মানুষগুলোকে না বুঝে বর্তমান পরিস্থিতির আলোকে বুঝতে হবে।
৪.সামাজিক কাজে সক্রিয় থাকাঃ অনেক বেশি মানুষ এখন সামাজিক সমস্যার মধ্যে পতিত হয়েছে। তাদের সাহায্য সহযোগীতায় এগিয়ে আসলে তাদের যেমন উপকার হবে ঠিক তেমনি আমাদের অভিযোজন ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। তাই নিজেকে উন্নয়নমূলক কাজে যুক্ত করতে হবে।
৫.ক্ষমা করাঃ ক্ষমা একটি মহৎ গুণ। বুঝতে হবে যে আমার যে সমস্যা গুলো হচ্ছে নতুন পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে, ঠিক তেমনি অন্য একজনেরও আমার সাথে একি রকম সমস্যা হতে পারে। তাই ওই ব্যক্তিকে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখা।
উপরোক্ত বিষয়গুলো অনুসরণ করলে আমরা আমাদের ব্যক্তিগত এবং সামাজিক জীবনে সুন্দর একটি মানসিক অবস্থা নিয়ে জীবন যাপন করতে পারব।
সর্বোপরি আমরা যদি সমাজের জন্য এবং সমাজের মানুষের জন্য ভালো কিছু করার মানসিকতা রাখি তাহলে আমাদের শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক সকল স্বাস্থ্যই ভালো থাকবে ইনশাআল্লাহ।
এইচ.এম তৌফিকুর রহমান
শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।
রিসার্চ এসিস্ট্যান্ট, সেন্টার ফর এডভান্স সোশ্যাল রিসার্চ।
ফাইল ছবি
ভারতের জম্মু-কাশ্মীরের কিশতওয়ারে শুক্রবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সন্ত্রাসীদের সঙ্গে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর তুমুল বন্দুকযুদ্ধ হয়েছে। এতে অন্তত দুইজন সেনা নিহত হয়েছে। দেশটির সেনাবাহিনীর একজন সিনিয়র কর্মকর্তা এই তথ্য জানিয়েছেন। খবর এনডিটিভির।
এ ছাড়া কাথুয়ায় নিরাপত্তার বাহিনীর অভিযানে দুইজন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। এক বিবৃতিতে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জম্মু-কাশ্মীরে পুলিশ যৌথ অভিযানে নামে। এরপরেই সন্ত্রাসীদের সঙ্গে গোলাগুলি শুরু হয়। এতে দুই সেনা নিহত হয়েছে। অভিযান এখনো চলমান আছে।
ওই অঞ্চল কিশতওয়ারের ছাত্রোতে অভিযান শুরুর পর সন্ত্রাসীদের সঙ্গে তুমুল বন্দুকযুদ্ধ চলছে, যা এখনো অব্যাহত আছে।
সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, একই ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে গত জুলাই মাসে দোহায় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে গুলি বিনিময় হয়। সেইসময় সেনাবাহিনীর চার সদস্য নিহত হয়েছিল।
এদিকে আগামীকাল জম্মু-কাশ্মীরে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সফর করবেন বলে বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়। সূত্র: ইত্তেফাক