a
করোনাভাইরাস
গত ২৪ ঘন্টায় করোনাভাইরাসে মৃত্যু হয়েছে ৩৯ জন। এ নিয়ে করোনাভাইরাসে দেশে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল ১৩ হাজার ৭১ জন।
এদিকে, গত ২৪ ঘন্টায় করোনাভাইরাসে শনাক্ত হয়েছে ১৬৩৭ জন। এ নিয়ে দেশে মোট করোনাভাইরাসে শনাক্তের সংখ্যা ৮ লাখ ২৪ হাজার ৪৮৬ জন।
আজ শনিবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে আরও জানানো হয়, গত ১ দিনে বাসা ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও ২১০৮ জন করোনারোগী সুস্থ হয়ে উঠেছেন। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ৭ লাখ ৬৪ হাজার ২৪ জন।
ফাইল ছবি
ভারতে টিকা দেওয়ার পরও করোনা সংক্রমণের হার বেড়ে যাওয়া নিয়ে দেশটির বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকা এই ভাইরাসের শরীরে প্রবেশ ঠেকাতে পারে না, এটি শুধু আক্রান্ত রোগীর মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়ার ঝুঁকি এবং মৃত্যুহার কমায়। শুধু মাস্কই এই ভাইরাস নাক-মুখের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ ঠেকাতে পারে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের এক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা করোনায় একবার আক্রান্ত হয়ে সেরে উঠেছেন তাদের জন্য টিকার একটি ডোজই যথেষ্ট। খবর হিন্দুস্তান টাইমসসহ বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের
ভারতের পাটনা, দিল্লি, চেন্নাইসহ কয়েকটি শহরে গত কয়েক মাসে টিকা গ্রহণের পরও আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা ঘটেই চলেছে। দিল্লির শ্রী গঙ্গারাম হাসপাতালের ৩৭ জন ডাক্তার সম্প্রতি করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন, এদের মধ্যে ৫ জন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। যাদের প্রায় সবাই অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার করোনার দুই ডোজ টিকাই গ্রহণ করেছিলেন।
হায়দরাবাদের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক লক্ষ্মী লাবণ্য আলাপাটি বলেন, দুই ডোজ টিকা দেওয়ার পর শরীরে অ্যান্টিবডিগুলো উন্নত হয় এবং এটি সংক্রমণের জটিলতা এবং মৃত্যুহার হ্রাস করে। টিকা গ্রহণের পর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তির ঝুঁকি ৮৫ ভাগ কমে। কিন্তু টিকা ভাইরাসকে শরীরে প্রবেশ করা ঠেকায় না। শুধু মাস্কই এটি করতে সক্ষম।
দিল্লি সরকারি হাসপাতালের এক জ্যেষ্ঠ ডাক্তার বলেন, টিকা করোনার বিরুদ্ধে পূর্ণ নিরাপত্তা সুরক্ষা দেয় না। মাস্ক না-পরলে টিকা গ্রহণকারীর নাক ও মুখের মাধ্যমে ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করে। ফলে অনেকেই টিকা গ্রহণের পর মাস্ক না-পরায় আক্রান্ত হয়েছেন।
মনে রাখতে হবে, আমাদের সবচেয়ে বড় টিকা হচ্ছে মাস্ক। দিল্লিতে ৫৪ বছরের একজন পরিচ্ছন্নতা কর্মী ২২ ফেব্রুয়ারি করোনায় স্বাস্থ্য জটিলতায় ভুগে মারা যান। তার ছেলে ধীরাজ বলেন, আমার বাবা ১৭ ফেব্রুয়ারি টিকা নেন। বাসায় আসার পর থেকেই তিনি অসুস্থ বোধ করেন, তার তাপমাত্রা বেড়ে যায়, দু-তিন দিন পরই তিনি মারা যান। চেন্নাইতে ১৫ মার্চ টিকার প্রথম ডোজ গ্রহণকারী এক ব্যক্তির ২৯ মার্চ করোনাভাইরাস শনাক্ত হয় এবং ৩০ মার্চ হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর ৪ এপ্রিল মারা যান।
সেরে উঠলে এক ডোজ টিকাই যথেষ্ট: করোনায় যারা একবার আক্রান্ত হয়েছেন এবং পরে সেরেও উঠেছেন-কোভিড টিকার একটি ডোজই তাদের জন্য যথেষ্ট। টিকার একটি ডোজ নিলেই করোনাভাইরাস মোকাবিলার জন্য তাদের দেহের প্রতিরোধ ব্যবস্থা যথেষ্ট শক্তিশালী হয়ে ওঠে। গবেষণাটি চালিয়েছে আমেরিকার পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পেরেলম্যান স্কুল অব মেডিসিনের পেন ইনস্টিটিউট অব ইমিউনোলজির বিজ্ঞানীরা। শুক্রবার আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান গবেষণা পত্রিকা ‘সায়েন্স ইমিউনোলজি’তে গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে।
গবেষকরা পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪৪ জন সুস্থ মানুষকে বায়োএনটেক-ফাইজার ও মডার্নার তৈরি ‘মেসেঞ্জার আরএনএ (এমআরএনএ)’ কোভিড টিকা দিয়েছিলেন। ৪৪ জনের মধ্যে ১১ জন আগে কোভিডে আক্রান্ত হয়েছিলেন। পরে তারা সবাই সেরে ওঠেন। কীভাবে তাদের শরীরে প্রতিরোধ ব্যবস্থা শক্তিশালী হয়ে উঠছে, তা বুঝতে গবেষকরা টিকা নেওয়ার আগে ও পরে দুবার করে মোট চারবার ৪৪ জনের রক্তের নমুনা পরীক্ষা করেন।
টিকাও যাদের সুরক্ষা দিতে পারবে না: এক বছরেরও বেশি সময় ধরে ডা. অ্যান্ড্রু ওলোউইৎজ নিজেকে নিউইয়র্কের মামারোনেকে বাড়ির ভেতর বন্দি করে রেখেছেন। ৬৩ বছর বয়সি এ চিকিৎসক সম্প্রতি করোনার টিকা নিয়েছেন। অবশ্য তাতে ওলোউইৎজের শরীরে কোনো অ্যান্টিবডি তৈরি হচ্ছে না। তিনি হচ্ছেন লাখ লাখ আমেরিকানের একজন, যাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কাজ করে না। এদের অনেকে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাপনা ছাড়া কিংবা ত্রুটিপূর্ণ ব্যবস্থাপনা নিয়ে জন্মেছেন। অন্যরা হয় কোনো রোগে ভুগে কিংবা থেরাপির কারণে তাদের রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট করেছেন।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতায় ঘাটতি নিয়ে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকা এ ব্যক্তিদের অধিকাংশই তাদের ঝুঁকি সম্পর্কে অবগত নন। লিউকেমিয়া অ্যান্ড লিম্ফোমা সোসাইটির প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. লি গ্রিনবার্গার বলেন, তারা বাইরে হেঁটে বেড়ান, মনে করেন যে তারা নিরাপদ, কিন্তু তেমনটা না-ও হতে পারে। সূত্র: যুগান্তর
ছবি সংগৃহীত
সম্প্রতি চীনের মধ্যস্থতায় সৌদি ও ইরানের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছে। বলার অপেক্ষা রাখেনা ভূরাজনীতিতে এর প্রভাব ও গুরুত্ব কত অপরিসীম! সারা বিশ্বে হঠাৎ চীন যেভাবে আধিপত্য বিস্তারে যুক্তরাষ্ট্রকে টেক্কা দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে তার দায় যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা মিত্র এড়াতে পারবে?
ইরান-সৌদি আরবে সন্ধি স্থাপনের পর পরই আরব রাজনীতিতে বরফ গলতে শুরু করেছে। মধ্যপ্রাচ্যে ইরাক,ইয়েমেনসহ অন্যান্য দেশগুলোর সাথে ইরানের যে বৈরিতা শুরু হয়েছিল, সৌদির সাথে ইরানের সম্পর্ক উন্নয়নে গোটা মধ্যপ্রাচ্যে সম্পর্ক উন্নয়নে আমুল পরিবর্তন আসছে।
মূল কথায় আসি। যদিও চীন মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা আনয়নে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কাজ করছে কিন্তু ভূ-রাজনীতি বিবেচনায় চীনকে গনতন্ত্রের সহায়ক শক্তি হিসেবে কখনো বিবেচনা করা যাবে না। কারন চীন অর্থনৈতিক, সামরিক শক্তির পাশাপাশি বহুমাত্রায় নিজের শক্তি বাড়াতে মধ্যপ্রাচ্যসহ উন্নয়নশীল দেশগুলোর সহিত যোগাযোগ বৃদ্ধি করেইা যাচ্ছে। আর এটা করতে গিয়ে বেছে নিচ্ছে বিভিন্ন দেশের ফ্যাসিবাদ ও কর্তৃত্ববাদী সরকারকে। দেশটি নিজের আধিপত্য বিস্তার করতে আর্থিক সহযোগিতার নামে ফ্যাসিবাদ রপ্তানি করছে এবং আমেরিকার পুঁজিবাদী মুক্তবাজার মডেলের বিপরীতে হিউম্যান অথোরিটি বা মানুষের কর্তৃত্ব নিয়ে বিশ্বকে দখলে নিতে চাচ্ছে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জার্মান, জাপান ও ইতালি অক্ষশক্তিগুলোর পতন হলে যুক্তরাষ্ট্র পুঁজিবাদী অর্থনীতির নাম করে মুক্তবাজার ও উদার রাজনীতির খোলস পরে মানুষের মুক্তি ও স্বাধীনতার ধোঁয়া তুলে বিশ্ব রাজনীতিতে নিজেদের অবস্থান পাকাপোক্ত করেছিল। যুক্তরাষ্ট্র গণতন্ত্র ও রাজনৈতিক স্বাধীনতার নামে বিভিন্ন দেশে অন্যায়ভাবে ক্ষমতার পরিবর্তন করেছে। অনেক ক্ষেত্রে নিরংকুশ জনপ্রিয় ও গণতান্ত্রিক সরকারগুলোকেও অন্যায়ভাবে ক্ষমতা থেকে তাড়িয়ে দিয়ে তাদের ইচ্ছা মতো শাসককে বসিয়ে দিতেও কার্পন্য করেনি। এসব করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র দেশের কিছু সুশীল সমাজ, জনসাধারণ ও সামরিক বাহিনীকে নির্লজ্জভাবে ব্যবহার করেছে। যদিও ইদানীং চীনকে ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্র তার নীতির পরিবর্তন এনেছে, তারপরও রাশিয়া-ইউক্রেনের যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন হীন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো বুঝতে পেরে এবং একক ক্ষমতাধর যুক্তরাষ্ট্র করোনা উত্তরোত্তর ও খালি হাতে আফগানিস্তান ও ইরাক হতে সৈন্য ফেরত এককচ্ছত্র ক্ষমতা শৈথিল্য বিশ্ব দরবারে প্রকাশের ফলে দেরিতে হলেও ঘুপটি মেরে থাকা দেশগুলো বর্তমানে চীন-রাশিয়ার বলয়ে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে চলে আসছে।
পূর্বেই বলেছি চীন তার শক্তির বলয় বাড়াতে বিভিন্ন দেশে ফ্যাসিবাদ ও কর্তৃত্ববাদী সরকারকে সমর্থন দিয়ে আমেরিকার আধিপত্যবাদ ঠেকিয়ে নিজেদের দিকে ভেড়াচ্ছে। ফলে চীন রাশিয়া, উত্তর কোরিয়া, মায়ানমার, সিরিয়াসহ অগনতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রধানদের সঙ্গে নিয়ে বিশ্বরাজনীতিতে নিজেদের অবস্থান পাকা পোক্ত করতে মরিয়া।
এদিকে, চীন তার শক্তি বৃদ্ধিতে অর্থনৈতিক শক্তি, দক্ষ কূটনীতি ও সামরিক শক্তি দিয়ে বিভিন্ন দেশ ও শাসককে নিরবে নিজেদের পক্ষে নেয়ার কাজ করে যাচ্ছে। আর এটা করতে গিয়ে চীন বিভিন্ন দেশের অগণতান্ত্রিক সরকারগুলোর সাথে কাজ করছে। এরই সর্বশেষ উদাহরণ ইরান-সৌদি আরবকে মিলিয়ে দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে আমেরিকার বলয় থেকে বের করার সুযোগ সৃষ্টি করে চমক তৈরির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতেও চীন একই নীতিতে প্রভাব বিস্তার করে চলেছে।
উল্লেখ্য, ইসরায়েলের নিরাপত্তার কথা বলে ফিলিস্তিনীসহ আরব দেশগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের ভ্রষ্ট নীতির কারনে বিশ্বের শান্তিকামী মুসলমানকে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে দিয়েছে। বাংলাদেশের রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা উল্লেখ না করলেই নয়। বাংলাদেশের জন্ম থেকে বর্তমানবধি যুক্তরাষ্ট্রের প্রচ্ছন্ন ভূমিকা এদেশের স্বাধীন প্রিয় ও সচেতন জনগনকে আশাহত করে অনেক অনেক ক্ষেত্রে। আর যুক্তরাষ্ট্রের এসব রাজনীতিতে ইইউসহ পশ্চিমা শক্তিগুলো নির্লজ্জ সমর্থনের কারনে অনেক দেশ যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বলয় থেকে বেরিয়ে চীন-রাশিয়ার বলয়ে ঝুঁকছে।
আরো উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘ সময়ে সন্ত্রাসবিরোধী লড়াই করে নিজেদের ইমেজ নষ্ট করেছে। এরমধ্যে আরও দৃশ্যমান তাদের নীতিতে দ্বি-চারিতা ও দূর্বল কূটনৈতিক কৌশল। মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার দেশগুলোতে অযথা সংঘাত বাধিয়ে সেসব দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ হাতিয়ে নেওয়ার জ্বলন্ত উদাহরণ সম্পর্কে সম্যক ধারণা সবার।
তারপরও যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষয়িষ্ণু শক্তির বিপরীতে চীনের উত্থান কোনভাবেই বিশ্ববাসীর জন্য আশাপ্রদ নয়। কারণ চীন বিভিন্ন দেশের এক নায়কতন্ত্র লৌহমানব ও কর্তৃত্ববাদী শাসকদের সঙ্গে নিয়ে একক মঞ্চ তৈরি করার সুযোগ করে দিচ্ছে ও তাদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা শক্তিগুলোর যুদ্ধাংদেহী মনোভাব ও ভুল পররাষ্ট্রনীতির কারনে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মিত্র দেশগুলোকে একে একে হারানোর ফলে সেসব জায়গাগুলো পূরণ করছে চীন। বিশেজ্ঞদের ধারণা, বিশ্ব ভূ-রাজনীতিতে চীনের উত্থানের দায় যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা শক্তিগুলো কোনভাবে এড়াতে পারবে না।
মোহা. খোরশেদ আলম
কলাম লেখক ও সম্পাদক মুক্তসংবাদ প্রতিদিন
নির্বাহী পরিচালক
হিউম্যানরাইটস এন্ড এনভায়রমেন্ট ডেভে. সোসাইটি