a
করোনাভাইরাস
গত ২৪ ঘন্টায় করোনাভাইরাসে মৃত্যু হয়েছে ৬১ জন। এ নিয়ে করোনাভাইরাসে দেশে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল ২৬ হাজার ৪৯৩ জন।
এদিকে, গত ২৪ ঘন্টায় করোনাভাইরাসে শনাক্ত হয়েছে ১,৭৪৩ জন। এ নিয়ে দেশে মোট করোনাভাইরাসে শনাক্তের সংখ্যা ১৫ লাখ ১২ হাজার ২৬ জন।
আজ শনিবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে আরও জানানো হয়, গত ১ দিনে বাসা ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও ৩,৪২১ জন করোনারোগী সুস্থ হয়ে উঠেছেন। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ১৪ লাখ ৪৬ হাজার ৩ জন।
উল্লেখ্য, গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ১৭ হাজার ৭৫০টি। শনাক্তের হার ৯.৮২ শতাংশ।
ফাইল ছবি
করোনার আরেকটি নতুন ঢেউ আসার মতো বৈশ্বিক পরিস্থিতি সৃষ্টি হচ্ছে বলে সতর্ক করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। সবাইকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের স্বাস্থ্য বিষয়ক সংস্থাটি। খবর হিন্দুস্তান টাইমস।
ভাইরাসটির যে পরিবর্তিত ধরনের কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, সেই বিএ পয়েন্ট ফাইভ ডেল্টা, ওমিক্রনসহ আগের বিভিন্ন ধরনের তুলনায় বেশি বিপজ্জনক বলে উল্লেখ করেছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) শীর্ষ বিজ্ঞানী সৌম্য স্বামীনাথান।
বিএ পয়েন্ট ফাইভ করোনাভাইরাসের সবচেয়ে সংক্রামক পরিবর্তিত ধরণ ওমিক্রনের একটি উপধরন। তবে এই ভাইরাসটির মারণক্ষমতা অন্যান্য পরিবর্তিত ধরনের তুলনায় বেশি।
বৃহস্পতিবার (১৪ জুলাই) এক টুইটবার্তায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এ শীর্ষ বিজ্ঞানী বলেন, গত কয়েক মাস সংক্রমণ ও মৃত্যু কমলেও বিশ্বব্যাপী আবারও করোনার ভয়াবহতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দিন দিন পরিস্থিতি ক্রমান্বয়ে খারাপের দিকে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, প্রতিদিন এ রোগে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বেড়েই চলছে। বিএ পয়েন্ট ফাইভ নামের উপধরনটির প্রভাব, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আমাদের উদাসীনতা ও বিশ্বজুড়ে করোনা টিকার বণ্টনে চরম অসমতা এ উত্থানের অন্যতম কারণ।
পৃথক আরেক টুইট বার্তায় সৌম্য স্বামীনাথান জানান, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, দক্ষিণ আমেরিকা, প্রশান্ত মহাসাগরের পশ্চিম উপকূলের বিভিন্ন দেশ ও ভূমধ্যসাগরীয় দেশগুলোতে দৈনিক সংক্রমণ-মৃত্যুতে ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সংক্রমণ-মৃত্যুর হিসাবে বর্তমানে শীর্ষে রয়েছে ফ্রান্স, জার্মানিসহ ইউরোপের গোটা দেশ।
ফাইল ছবি
ডেঙ্গু এখন নীরব ঘাতক। উপসর্গ ও লক্ষণ আছে, কিন্তু পরীক্ষায় নেগেটিভ রিপোর্ট আসছে। এরপর দেখা যায় অবহেলা করে আর চিকিৎসকের কাছে যায় না রোগী। কিন্তু ধীরে ধীরে প্লাটিলেট কমে যাওয়ায় নানা জটিলতা শুরু হয়। এক পর্যায়ে রোগী হাঁটতে পারে না, বিছানায় পড়ে যায়। তখন তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু ততক্ষণে তার শরীরে ডেঙ্গু নীরব ঘাতকের মতো সিংহভাগ ক্ষতি করে ফেলে। বিলম্বে আসার কারণে চিকিৎসক শত চেষ্টা করেও অনেক রোগীকে বাঁচাতে পারে না।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলেন, রিপোর্ট নেগেটিভ হলেও ডেঙ্গুর লক্ষণ ও উপসর্গ থাকলে অবশ্যই চিকিৎসাসেবা নিতে হবে। উপসর্গ দেখে বাসায় থেকেই চিকিৎসা ব্যবস্থা নেওয়া যায়, হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজন নেই।
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা শিশু হাসপাতাল, ডেঙ্গু ডেডিকেটেড হাসপাতাল ও মুগদা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলেছেন, ডেঙ্গু রোগী মৃত্যুর অন্যতম কারণ বিলম্বে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা। হাসপাতালের চিকিৎসকরাও একই অভিমত প্রকাশ করেছেন। শিশু ও নারীরা ডেঙ্গুতে বেশি মারা যাচ্ছে। কারণ তারা চিকিৎসাসেবা নিতে অবহেলা করছে, বিলম্বে হাসপাতালে আসছে।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলেন, রিপোর্ট যাই আসুক, লক্ষণ ও উপসর্গ থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
ভয়ংকর হয়ে ওঠা ডেঙ্গুর প্রকোপের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর মোট সংখ্যায় অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। গত একদিনে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ২ হাজার ১৯৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাতে দেশে মোট ভর্তি রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২ হাজার ১৯১ জনে। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর এই সংখ্যা এযাবতকালে সর্বোচ্চ। সূত্র: ইত্তেফাক