a জুম-এর উত্থান ও একটি ইতিহাস
ঢাকা সোমবার, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২, ০১ ডিসেম্বর, ২০২৫
https://www.msprotidin.com website logo

জুম-এর উত্থান ও একটি ইতিহাস


আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
শুক্রবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২১, ০৭:২৭
জুম-এর উত্থান ও একটি ইতিহাস

ফাইল ছবি

চীনে উৎপত্তি হ্ওয়া করোনা বিশ্বব্যাপী মহামারী রোগ হিসেবে আত্মপ্রকাশ কোভিড-১৯ নামে। এই ভাইরাসের কারণে ২০২০ সালের মার্চে থেকেই পুরো বিশ্বে আতঙ্ক চরমে ওঠে। অফিস, স্কুল-কলেজ থেকে শুরু করে সকল প্রতিষ্ঠান এক এক করে বন্ধ হয়ে যায়। করোনার ভয়ে মানুষ ঘর থেকে বের হওয়া বন্ধ করে দেয়। ধীরে ধীরে ব্যবসা, পড়াশোনা, যোগাযোগ সব বন্ধ হয়ে গেলো। তখন মানুষ ব্যাপকভাবে প্রযুক্তির উপর নির্ভরশীল হতে লাগলো। 

আর মানুষের সেই কাজকে সহজ করে দিয়েছে অডিও-ভিডিও কনফারেন্সিং মাধ্যম জুম। ইন্টারনেটের সাহায্যে ডিভাইসে (যেমন, মোবাইল, কম্পিউটার) অ্যাপ ব্যবহার করে এই প্লাটফর্মের মাধ্যমে কয়েকজন ব্যবহারকারী একসঙ্গে ভিডিও কলে যুক্ত হতে পারেন। বলতে গেলে যোগাযোগকে সহজ এবং আরও বাস্তব করে তুলেছে জুম।

করোনাকালীন জুমের জনপ্রিয়তা:
মানুষ যখন করোনার কারনে ঘরবন্দী হয়ে পড়েছে তখন একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য জুমের উপর নির্ভর হচ্ছিলো। লকডাউন শুরুর পর এই অ্যাপের ব্যবহার জনপ্রিয়তা কতটা বেড়েছে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। জুমে কী না করেছে মানুষ? অনলাইন ক্লাস, ক্লাসপার্টি, অফিসের কাজ, মিটিং, আদালতের বিচারকাজ, সরকারি মিটিং, এমনকি বিয়ের আয়োজনও হয়েছে জুমে। 

কতক ক্ষেত্রে যে জুম মানুষকে পথ দেখিয়েছে, তা এক সমীক্ষায় দেখা গেছে। ফেব্রুয়ারিতে জুম ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল ২ দশমিক ২২ মিলিয়ন অর্থাৎ ২২ লাখ। যার পরিমান ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে ছিল প্রতিদিনের ব্যবহারকারীর প্রায় ১০ মিলিয়নের মতো। সেখান থেকে ২০২১ সালের এপ্রিলে দৈনিক ব্যবহারকারীর সংখ্যা দাঁড়ায় ৩০০ মিলিয়নে।

জুমের জনপ্রিয়তার রহস্য :
অনেকেরই প্রশ্ন থাকতে পারে অন্যান্য অ্যাপ থাকতে জুম এত জনপ্রিয় কেন? কারন হিসেবে উল্লেখ করা যায় যে, জুমের ফ্রি ভার্সনে একসঙ্গে ১০০ জন ব্যবহারকারী একসঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সিং এ যুক্ত হতে পারেন। যেখানে মাইক্রোসফটের ফ্রি ভার্সনে মাত্র ৫০ জন এর বেশি ব্যবহারকারী একসাথে  যুক্ত হতে পারেন না। 

আবার ৪০ মিনিটের বেশি সময় কনফারেন্সিংয়ে যুক্ত থাকতে হলে মাসে খরচ করতে হয় ১৪ দশমিক ৯৯ মার্কিন ডলার। তবে এন্টারপ্রাইজ ব্যবহারকারীদের খরচ করতে হয় ১৯ দশমিক ৯৯ মার্কিন ডলার। জুমে রয়েছে, প্রাইভেট কল, সরাসরি মেসেজ পাঠানোর সুবিধা এবং পারসোনালাইজড টুলসহ নানা ফিচার।

জুমের যাত্রা:
২০১১ সালের শুরুরদিকে ৪০ জন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারকে নিয়ে নতুন একটি কোম্পানি চালু করেন এরিক ইউয়ান। শুরুতে এর নাম ছিল ‘সাসবি’। কোম্পানিটি প্রথমদিকে  বিনিয়োগ অভাবে কাজ করতে পারেনি। সকলের মত ছিল বর্তমানে ভিডিও টেলিফোনোর বাজার পড়ে গেছে। এ কারণেই কোনো ব্যক্তি কিংবা প্রতিষ্ঠান এর পেছনে বিনিয়োগে আগ্রহী ছিল না। ভাগ্যক্রমে সে বছরই বছরের জুন মাসে বেশ কিছু পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ পায় কোম্পানিটি। পরের বছর অর্থাৎ ২০১২ সালে ‘সাসবি’ জুম নামটি ধারণ করে। 

২০১২ সালের সেপ্টেম্বরে কোম্পানিটি একটি বেটা ভার্সন চালু করে যেটির মাধ্যমে ১৫ জন ব্যবহারকারী ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হতে পারতেন। একই বছরের নভেম্বরে প্রথম গ্রাহক হিসেবে স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়। ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে আরও কোম্পানিটি আরও বিনিয়োগ পায়। সেসময় জুম ১.১ ভার্সন চালু করে। এতে ২৫ জন ব্যবহারকারী একসঙ্গে যুক্ত হতে পারতেন। চালুর এক মাসের মধ্যে এর ব্যবহারকারীর সংখ্যা দাঁড়ায় ৪ লাখ। এরপর মে মাসের মধ্যেই ব্যবহারকারীর সংখ্যা পৌঁছে ১ মিলিয়নে।  

তবে মজার ইতিহাস হলো, জুমের আবিস্কার হয়েছে এরিক ইউয়ান এর একান্ত এক ব্যক্তিগত এক সম্পর্ক থেকে। কলেজে পড়ার সময় তার এক বান্ধবি ছিল তার সাথে দেখা করতে তাকে অনেকটা পথ পেরিয়ে যেতে হতো। সময় লেগে যেত প্রায় ১০ ঘণ্টা। তখন থেকেই চিন্তা করতেন যদি এমন কোনো মাধ্যম থাকতো, যার সাহায্যে দূর থেকেও একে অপরকে মূহুর্তেই মন চাইলে দেখে দেখে কথা বলা যেত। তখন হয়তো চিন্তাও করেন নাই তিনিই একদিন সেই মাধ্যমে কোটি কোটি মানুষকে যুক্ত করে সেবা দিতে পারবেন। তার সেই ভাবনা- আজকের জুম। যা তাকে বিশ্বের শীর্ষ ৪০০ ধনীর কাতারে এনে দিয়েছে।

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন / কে. আলম

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের স্বায়ত্বশাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠা প্রয়োজন


সাইফুল আলম, বিশেষ প্রতিনিধি, মুক্তসংবাদ প্রতিদিন
মঙ্গলবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৫, ০৩:৪২
বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের স্বায়ত্বশাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠা প্রয়োজন

ছবি: মুক্তসংবাদ প্রতিদিন

 

সাইফুল আলম, ঢাকা:  মন্ত্রণালয়ের অযাচিত হস্তক্ষেপ ও কর্তৃত্ববাদী আচরণের প্রতিবাদ এবং বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের স্বায়ত্বশাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের সর্বস্তরের বিজ্ঞানী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

আজ ২২ এপ্রিল ২০২৫, রোজ মঙ্গলবার, দুপুর ১২:০০ টার দিকে ড. আনোয়ার হোসেন অডিটরিয়াম, পরমাণু ভবন, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন, ই-১২/এ, আগারগাঁও, ঢাকায় এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

উক্ত সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের সর্বস্তরের বিজ্ঞানী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পক্ষে প্রধান বক্তা বলেন, কমিশনের স্বায়ত্বশাসন বিনষ্ট করে মন্ত্রণালয়ের চলমান অযাচিত হস্তক্ষেপ এবং কর্তৃত্ববাদী আচরণের বিরুদ্ধে আমাদের প্রতিবাদ জানাতেই আজকের এই আয়োজন।

কমিশনের বিজ্ঞানীরা গত ৫০ বছর ধরে দেশের পরমাণু বিজ্ঞান চর্চায় নিষ্ঠাভরে কাজ করে আসছে। তাঁদেরকে যথাযথভাবে সহায়তা করছে কমিশনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ। এই প্রতিষ্ঠানের স্বায়ত্বশাসন, ন্যায্য অধিকার ও সম্মান রক্ষা না হলে, দেশের পরমাণু বিজ্ঞান চর্চা ও গবেষণা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। দেশ গঠনে সংবাদ মাধ্যম তথা সাংবাদিকদের ভূমিকা অপরিসীম। দেশের পরমাণু বিজ্ঞান ও গবেষণার উন্নয়নে কমিশনের স্বায়ত্বশাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠা, অযাচিত হস্তক্ষেপ বন্ধ এবং একটি পেশাদার ও সম্মানজনক কর্মপরিবেশ সুনিশ্চিত করার লক্ষ্যে আপনাদের মাধ্যমে দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। আমরা বিশ্বাস করি, সংবাদ মাধ্যমে আপনাদের সহযোগিতার মাধ্যমে এই সংকট উত্তরণের পথ সুগম হবে।

বিভিন্ন কার্যক্রম এবং প্রেক্ষাপটের গুরুত্ব বিশ্লেষণ করে তারা বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সবার সম্মুখে উপস্থাপন করেন। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো -

বিশেষ সুবিধাদি চালু না থাকা: বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞানী হিসেবে যোগদান করে। যোগদানের পর তাঁরা বিদেশের বিভিন্ন স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চতর ডিগ্রি/প্রশিক্ষন সম্পন্ন করে দেশে ফিরে অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে নিজেদেরকে পরমাণু বিজ্ঞান চর্চায় নিয়োজিত রাখে। কমিশনে বিজ্ঞানী, কর্মকর্তা- কর্মচারীদের জন্য বিশেষ কোন সুবিধাদি চালু না থাকায় এবং মন্ত্রণালয়ের কর্তৃত্ববাদী আচরণের কারণে মেধাবীদের এই পেশায় আকৃষ্ট করা এবং ধরে রাখা দুরূহ হয়ে পড়ছে। ইদানিং তরুণ বিজ্ঞানীদের অনেকেই কমিশনের চাকুরী ছেড়ে অন্য পেশায় নিয়োজিত হচ্ছে, যা দেশে পরমাণু বিজ্ঞান চর্চার অগ্রগতিকে ভীষনভাবে বাধাগ্রস্থ করছে। মেধাবীদের এই পেশায় আকৃষ্ট করতে উচ্চ শিক্ষা/প্রশিক্ষনের বাধা অপসারণ, বিজ্ঞানী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বিশেষ ভাতা প্রদান, সরকারী চাকুরীজীবিদের ন্যায় কমিশনের বিজ্ঞানী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য গৃহ নির্মাণ/ফ্লাট ক্রয় ঋণ, সুদমুক্ত ঋণ এবং গাড়ী সেবা নগদায়ন, মন্ত্রণালয়ের কর্তৃত্ববাদী আচরণ কমিয়ে বিজ্ঞানীদের স্বাধীনভাবে গবেষণার সুযোগ দেওয়া, আধুনিক গবেষণাগার নির্মাণ, পর্যাপ্ত তহবিল সরবরাহ, এবং সহযোগিতামূলক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা বিশেষভাবে প্রয়োজন।

কমিশনের প্রেক্ষাপট ও গুরুত্ব:
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (IAEA) এর রীতিনীতি অনুসরণক্রমে বাংলাদেশে পরমাণু শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার, উন্নয়ন, প্রসার, তদ্‌সংশ্লিষ্ট গবেষণা কর্ম, সেবা, শিক্ষা বিষয়ক কার্যক্রম পরিচালনা, পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র সংক্রান্ত উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং এতদ্‌সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি সম্পাদনের জন্য বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন (বাপশক) ১৯৭৩ সালের প্রেসিডেন্সিয়াল অর্ডার নং: ১৫ তথা ২০১৭ সালের ২৩ নং আইন বলে প্রতিষ্ঠিত একটি বিশেষায়িত কমিশন।

কমিশনের আওতাধীন ৪০টি ইনস্টিটিউটের মাধ্যমে দেশে পরমাণু বিজ্ঞান সংশ্লিষ্ট বিশেষায়িত গবেষণা, শিক্ষা, চিকিৎসা ও সেবামূলক কর্মকান্ড পরিচালিত হচ্ছে। কমিশনের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রতি বছর প্রায় ৮ লক্ষাধিক ব্যক্তি ও শতাধিক প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন ধরণের সেবা গ্রহণ করে থাকে। এ ধরণের সেবা প্রদানের মাধ্যমে কমিশন উল্লেখযোগ্য পরিমান রাজস্ব আয় করে থাকে। কমিশন কর্তৃক প্রদত্ত উল্লেখযোগ্য সেবাসমূহের মধ্যে রয়েছে স্বল্প মুল্যে ক্যানসার নির্ণয় ও পরমাণু চিকিৎসা সেবা, দেশে বিভিন্ন হাসপাতালে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার রেডিও আইসোটোপ সরবরাহ, টিস্যু ব্যংকিং সেবা, আমদানিকৃত সকল খাদ্য দ্রব্যে তেজস্ক্রিয়তার উপিস্থিতি নির্ণয়, জীবন রক্ষাকারী ঔষুধের কাচামাল জীবানুমুক্তকরণ, তেজস্ক্রিয় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, প্রক্রিয়াজাত রপ্তানি পণ্যের বিকিরণ সেবা, বিভিন্ন ধরণের নমুনা বিশ্লেষণ, বিবিরণ যন্ত্রের মান নির্ণয়, তেজস্কক্রিয় খনিজ অনুসন্ধান, ৩ মেগাওয়াট রিসার্চ রিয়্যাক্টর এবং ৩ মেগাডোন্ট ট্যান্ডেম এক্সিলারেটর পরিচালনা ইত্যাদি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এছাড়াও কমিশনের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতিবছর দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শতাধিক ছাত্র/ছাত্রী বিনা খরচে মাস্টার্স ও পিএইচডি'র থিসিস সম্পন্ন করে থাকে। বিগত ৫০ বছর ধরে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন পরমাণু বিজ্ঞান এবং এতদৃসংশ্লিষ্ট বিষয়াদি নিয়ে ধারাবাহিকভাবে গবেষণা কর্মকান্ড পরিচালনার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানের সক্ষমতা ও দক্ষতা অর্জন করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র কমিশনের বিজ্ঞানীদের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে পাবনা জেলার রূপপুরে নির্মিত হচ্ছে।

বর্তমান সংকট ও বৈষম্য:
স্বায়ত্তশাসনের সংকট: বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন চেয়ারম্যান ও ৪ জন সদস্যের সমন্বয়ে কমিশন গঠিত হওয়ার কথা থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে শীর্ষ পদগুলো শূন্য থাকায় কমিশনের সার্বিক কার্যক্রমে স্থবিরতা বিরাজ করছে। বর্তমানে চেয়ারম্যান পদে একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত এবং মাত্র একজন সদস্য চলতি দায়িত্বে নিয়োজিত। পূর্ণ কমিশন না থাকায় এবং মন্ত্রণালয়ের অযাচিত হস্তক্ষেপ এবং কর্তৃত্ববাদী আচরণের কারণে কমিশনের বিজ্ঞানী, কর্মকর্তা এবং কর্মচারীবৃন্দ বাপশক আইন ২০১৭ এবং বাপশক চাকুরীবিধিমালা ১৯৮৫ তে প্রদত্ত সুবিধাদি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

বিজ্ঞানীদের উচ্চশিক্ষা ও প্রশিক্ষণে বাধা:
বর্তমানে কমিশনে বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখার (ভৌত বিজ্ঞান, জীব বিজ্ঞান, চিকিৎসা বিজ্ঞান, প্রকৌশল এবং ভূতত্ত্ব বিজ্ঞান) প্রায় ৬০০ বিজ্ঞানীসহ ২৫০০ কর্মকর্তা, কর্মচারী কর্মরত রয়েছে। বিজ্ঞানীদের অধিকাংশই বিদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চতর ডিগ্রি (পিএইচডি) প্রাপ্ত। কমিশনে বিজ্ঞানী পদে চাকুরির আবেদনের নূন্যতম যোগ্যতা দেশের অন্য যে কোন প্রতিষ্ঠানের থেকে আলাদা। কমিশনে বিজ্ঞানী পদে আবেদন করতে কমপক্ষে ৩টি প্রথম বিভাগসহ স্নাতক/স্নাতকোত্তর ডিগ্রির প্রয়োজন হয়। দেশে অন্য কোন চাকরির ক্ষেত্রে নূন্যতম তিনটি প্রথম শ্রেনীর ডিগ্রি চাওয়া হয় না। প্রথম শ্রেণীর উচ্চতর ডিগ্রি প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার মাধ্যমে কমিশনে বিজ্ঞানী পদে নিয়োগ দেয়া হয়ে থাকে। বিশেষায়িত এ প্রতিষ্ঠানের চাকুরীবিধিমালাও ভিন্নতর। চাকুরীবিধিমালায় এ প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞানীদেরকে বিদেশে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণকে উৎসাহিত করা হয়েছে। উচ্চ শিক্ষা ও বিশেষায়িত গবেষণার সুযোগ থাকায় দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সেরা মেধাবী শিক্ষার্থীদের অন্যতম আকর্ষণ কমিশনে চাকুরী। কমিশন সৃষ্টির পর থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত কমিশনের বিজ্ঞানীদের উচ্চ শিক্ষা/প্রশিক্ষণের পূর্বানুমতি, মনোনয়ন এবং বিদেশ গমনের সরকারী আদেশ (জিও) কমিশন থেকেই প্রদান করা হতো। ২০১১ সালে তৎকালীন সরকার কমিশনের জিও প্রদানের ক্ষমতা রহিত করে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপর ন্যস্ত করে। পরবর্তীতে মন্ত্রণালয় বিজ্ঞানীদের উচ্চ শিক্ষার পূর্বানুমতি ও মনোনয়ন প্রদানের বিষয়টি নিজেদের আওতায় নিয়ে নেয়। তখন থেকে কমিশনের বিজ্ঞানীগণ উচ্চ শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে বিভিন্নভাবে বঞ্চিত হয়ে আসছে। দীর্ঘ ১৬ বছর পর ফ্যাসিস্ট সরকার বিতাড়িত হলেও এখনও মন্ত্রণালয়ে ঘাপটি মেরে থাকা ফ্যাসিস্টের দোসর আমলারা অন্যায়ভাবে পূর্ণ স্কলারশিপ থাকা সত্ত্বেও বিজ্ঞানীদের বিদেশে উচ্চশিক্ষা/প্রশিক্ষনের জিও প্রদান না করে এবং অপ্রয়োজনীয় আমলাতান্ত্রিক জটিলতা তৈরী করে কমিশনের নবীন বিজ্ঞানীবৃন্দকে বঞ্চিত করছে। সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু বিজ্ঞানীর বিদেশে উচ্চ শিক্ষার পূর্বানুমতি প্রদান না করে দেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পরামর্শ প্রদান করছে। কোন কোন ক্ষেত্রে যোগ্য বিজ্ঞানীদের বাদ দিয়ে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা নিজেরাই শুধুমাত্র বিদেশ ভ্রমণের উদ্দেশ্যে বিদেশের বিভিন্ন বিশেয়ায়িত প্রশিক্ষনে অংশগ্রহণ করছেন। গত কয়েকমাসে মন্ত্রণালয়ের প্রায় ১২ জন কর্মকর্তা পরমাণু প্রযুক্তি বিষয়ক বৈদেশিক প্রশিক্ষণে মনোনয়ন নিয়েছেন, যা হতাশাজনক এবং অগ্রহণযোগ্য। এ ধরণের ঘটনা দিনদিন বৃদ্ধি পাওয়ায় কমিশনের নবীন বিজ্ঞানীদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। বিজ্ঞানীদের বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও প্রশিক্ষন গ্রহণ উৎসাহিত না করে বাধাগ্রস্থ করার বিষয়টি দেশকে পরমাণু গবেষণায় পিছিয়ে রাখার কোন এক গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ বলে মনে হয়।

বেতন বৈষম্য ও পদ অবনমন:
বাপশক চাকুরীবিধিশালা ১৯৮৫ এর ১৮(২) অনুযায়ী কমিশনের বিজ্ঞানীদের পদসমূহ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অনুরূপ এবং একইরকম বেতনভাতা ও সুযোগ সুবিধা প্রাপ্য, যেমন কমিশনের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, ঊধ্বর্তন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এবং প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা পদসমূহ যথাক্রমে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকচারার, এ্যসিটেন্ট প্রফেসর, এ্যসোসিয়েট প্রফেসর এবং প্রফেসর সমতুল্য। কমিশনের বিজ্ঞানীবৃন্দ ২০১৫ সাল পর্যন্ত সে ভাবেই শিক্ষকদের অনুরূপ বেতন ভাতা পেয়ে আসছিলেন। গত সরকারের আমলে সিলেকশন গ্রেড প্রথা বাতিল হওয়ার পর শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক বিশেষ প্রজ্ঞাপন জারীর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের গ্রেড-২, গ্রেড-১ প্রাপ্তি নিশ্চিত করে। চাকুরীবিধিমালায় বর্ণিত থাকা সত্ত্বেও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অযাচিত হস্তক্ষেপের কারণে বর্তমানে কমিশনের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তাবৃন্দ গ্রেড-২, গ্রেড-১ প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্তি বাধাগ্রস্থ করা ছাড়াও কমিশনের অনুকুলে সম্প্রতি যে সকল নতুন পদ সৃজন করা হয়েছে সে সকল পদসমূহ গ্রেড অবনমন করে সৃজন করা হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ কমিশনের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা পদটি গ্রেড-৩ পর্যায়ের হওয়া সত্ত্বেও সম্প্রতি সে পদ অবনমন করে গ্রেড-৪ এ অনুমোদন করা হয়েছে। অন্যান্য অনেক পদের ক্ষেত্রেও একই ভাবে গ্রেড অবনমন করা হয়েছে। এ পর্যন্ত বিজ্ঞানীদের ৫৮টি, কর্মকর্তাদের ৬টি এবং কর্মচারীদের ৪৪টি পদ এক বা একাদিক গ্রেড অবনমন করে সৃজন করা হয়েছে। একই পদে ভিন্ন ভিন্ন গ্রেডে সৃজন করে প্রশাসনিক এবং আর্থিক জটিলতা সৃষ্টি করা হয়েছে।

নবীন বিজ্ঞানীদের অনুৎসাহিত করা:
উচ্চশিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা, পদোন্নতিতে বাধা সৃষ্টি এবং আর্থিক সুবিধা সংকোচনের মাধ্যমে তরুণ বিজ্ঞানীদের কমিশন থেকে বিমুখ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে অনেকে পেশা পরিবর্তন করেছেন। দেশের পরমাণু বিজ্ঞানের ভবিষ্যৎ এর ফলে হুমকির মুখে পড়ছে।

রুপপুর পরমাণু বিদ্যুৎ প্রকল্পে কমিশনের অধিকার খর্বের চেষ্টা :
রূপপুর পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের জন্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান রাশিয়ার JSC Atomstroyexport সাথে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের চুক্তি হয় ২০১৫ সালে। চুক্তি অনুযায়ী Atomstroyexport রূপপুরে ১২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন দুই ইউনিট পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করছে। পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র আইন ২০১৫ এর ধারা-৪(২) অনুযায়ী রূপপুর নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট কোম্পানী বাংলাদেশ লিমিটেড (NPCBL) নামক কোম্পানী রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ অন্যান্য পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পরিচালন সংস্থা (Operating Organization) হিসাবে, এবং ধারা-৪(৩) অনুযায়ী বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন মালিক সংস্থা (Owner Organization) হিসাবে কাজ করবে। মালিক সংস্থা হিসেবে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন সংক্রান্ত সকল চুক্তি (Construction, জ্বালানি সংগ্রহ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা) এবং লাইসেন্সসমূহ কমিশনের হওয়া সত্ত্বেও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় কমিশনকে বাদ দিয়ে বিদ্যুৎ ক্রয়ের চুক্তি পিডিবি ও এনপিসিবিএল এর মধ্যে সম্পাদনের জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। মালিক সংস্থা হওয়া সত্বেও কমিশনকে বাদ দিয়ে নবগঠিত একটি কোম্পানির সাথে এ ধরণের চুক্তি করার প্রচেষ্টা কমিশনের অধিকার খর্ব করা এবং কমিশনকে দূর্বল করার অপচেষ্টারই অংশ।

উপযোগীতা যাচাই না করেই iBAS++ সিস্টেম চাপিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা: বিগত সরকার iBAS++ System-এ Personal Ledger (PL) Account –এর মাধ্যমে সরকারি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক কার্যক্রম পরিচালনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার রীতিনীতি মেনে পরমাণু প্রযুক্তি সংক্রান্ত বিশেষায়িত গবেষণা ও সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করে বিধায় iBAS++ সিস্টেমে উক্ত বিশেষায়িত কার্যক্রম নির্বিঘ্নে পরিচালনা করা সম্ভব কিনা সে বিষয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। তা ছাড়াও, পারমাণবিক বিজ্ঞান সংশ্লিষ্ট গবেষণা এবং এ সংক্রান্ত প্রকল্প ও তার পরিচালন ব্যয়সহ সকল তথ্য সংবেদনশীল হওয়ায় iBAS++ সিস্টেমের মতো একটি সার্বজনীন সিস্টেমে উক্ত তথ্য আপলোড করা সমীচীন নয় বলে কমিশনের বিজ্ঞানীরা মনে করে। বিশ্বের অন্য কোন দেশের পারমাণবিক বিজ্ঞান সংশ্লিষ্ট গবেষণা ব্যয় এবং বিজ্ঞানীদের ব্যক্তিগত তথ্য কখনই প্রকাশিত হয় না। বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের বাৎসরিক বাজেট আনুমানিক ৳৩৬৫ কোটি টাকা, তন্মধ্যে সরকারি অনুদান প্রায় ৮২৮০ কোটি টাকা এবং বাকি অর্থ কমিশনের নিজস্ব আয় থেকে যোগান দেয়া হয়ে থাকে। অর্থ বছর শেষে নিরীক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃক প্রতি বছর কমিশনের আর্থিক কার্যক্রম যথাযথভাবে নিরীক্ষা হয়ে থাকে। এমতাবস্থায়, শুধুমাত্র স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার অজুহাতে উপযোগীতা যাচাই ছাড়া কমিশনকে iBAS++ সিস্টেমে অন্তর্ভূক্ত করতে বাধ্য করার প্রচেষ্টা কমিশনের মতো একটি বিশেষায়িত সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানের বিশেষত্ব নষ্ট করার অপচেষ্টা বলে মনে হয়। উল্লেখ্য, কমিশনের সমধর্মী প্রতিষ্ঠানসমূহ, যেমন UGC এবং পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলি iBAS++ সিস্টেমে এখনও অন্তর্ভুক্ত হয়নি।

কমিশন iBAS++ সিস্টেমে অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় কমিশনের অনুকূলে অর্থ ছাড় বন্ধ করা হয়েছে, ফলে কমিশনের বিজ্ঞানী, কর্মকর্তা, কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, পেনশন প্রাপ্তিসহ গবেষণা ও সেবা কার্যক্রম পরিচালনায় অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। কমিশনে কর্মরত প্রায় ৬০০ বিজ্ঞানীসহ ২৫০০ কর্মকর্তা-কর্মচারীর মার্চ’২৫-এর বেতন-ভাতাদি এখনও প্রাপ্ত হননি, এমনকি অবসরপ্রাপ্ত বিজ্ঞানী, কর্মকর্তা-কর্মচারীগণও তাঁদের পেনশনভাতা, আনুতোষিকসহ অন্যান্য ভাতাদি পাচ্ছেন না, যদিও সরকারি সিদ্ধান্ত ছিলো মার্চ’২৫ -এর বেতন-ভাতাদি ২৩ মার্চ ২০২৫ এর মধ্যে পরিশোধ করার। কমিশনের ৫২ বছরের ইতিহাসে এই ধরনের অমানবিক, মর্যাদাহানিকর এবং অগ্রহণযোগ্য ঘটনা এই প্রথম। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কমিশনের অনুকূলে সরকারি অনুদানের ৩য় ও ৪র্থ কিস্তির অর্থ ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে ছাড়ের জন্য কমিশন কর্তৃক প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়ে বারবার পত্র প্রেরণ করা সত্ত্বেও প্রশাসনিক মন্ত্রণালয় থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ে অর্থ ছাড়ের জন্য কোন পত্র প্রেরণ না করায় এই জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। এহেন অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে কমিশনের সকল স্তরের বিজ্ঞানী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে ভীষণ ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।

প্রয়োজনীয় পদ সৃজন এবং পদোন্নতি না হওয়া:
গত ৫০ বছরে কমিশনের গবেষণা, সেবা ও শিক্ষা সহায়তা কার্যক্রম যেভাবে বিস্তার লাভ করেছে সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদ সৃজন এবং নিয়োগ হয়নি। প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে কমিশনের সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার সম্ভব হচ্ছেনা। তাছাড়া কর্মরত বিজ্ঞানী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রয়োজনীয় যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও পদ স্বল্পতার কারণে যথাসময়ে পদোন্নতি প্রদান না করায় সার্বিক কার্যক্রমে স্থবিরতা নেমে আসছে।  তাই, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের স্বায়ত্বশাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠা একান্ত প্রয়োজন বলেই সকলে মনে করেন।

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন / কে. আলম

আইভীর বিপক্ষে গেলে শামীম ওসমানের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা: আব্দুর রহমান


মুক্তসংবাদ প্রতিদিন ডেস্ক
শনিবার, ০৮ জানুয়ারী, ২০২২, ১২:৫৮
আইভীর বিপক্ষে গেলে শামীম ওসমানের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা আব্দুর রহমান

ফাইল ছবি: শামীম ওসমান এমপি

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এমপি শামীম ওসমান আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী আইভীর বিরুদ্ধে কাজ করছেন কিনা এমন প্রশ্নে মুখ খুলেছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুর রহমান।

আব্দুর রহমান বলেছেন, যার কথা বলা হচ্ছে (শামীম ওসমান) তিনি একটা দলের আদর্শ নীতি শৃঙ্খলা নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ ইত্যাদি লালন করেই কিন্তু এতবড় নেতা হয়েছেন। উনি যদি আজ সেগুলো প্রতিপালন না করেন এবং তিনি যদি এই দলের প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেন, আমাদের কাছে যেসব খবর আসছে আমরা সেগুলোর তথ্যউপাত্ত সংগ্রহ করছি। যখন বিষয়টি নিশ্চিত হবে যে উনি আমাদের প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন তখন তার বিরুদ্ধেও সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা ছাড়া আমাদের কাছে বিকল্প কোন কিছু থাকবে না। তার বিরুদ্ধে অবশ্যই সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আজ শনিবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাব ভবনের দোতলায় অবস্থিত সিনামন রেস্টুরেন্টে মেয়র প্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর পক্ষে এক মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন।

সভায় আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানককে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন- আইভীর জয়ের বিষয়ে আপনারা আশাবাদী কি-না। নানক উত্তরে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে নির্বাচন পরিচালনা কমিটিতে আমরা যারা আছি, সবাই কাজ করে যাচ্ছি নৌকাকে জেতাতে।

উল্লেখ্য, ভৌগলিক কারণে নারায়ণগঞ্জ আমাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আইভী এতদিন সুন্দর সুষ্ঠুভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাই তাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। আমরা সবার সহযোগিতা চাই। ভোটাররা কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেবেন এবং নৌকাকে দেবেন বলে আমরা বিশ্বাস করি।’

জাহাঙ্গীর কবির নানকের সভাপতিত্বে এই মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের  কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, বিএম মোজাম্মেল হক, মির্জা আজম, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সদস্য অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান দিপু, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই প্রমুখ। সূত্র: বিডি প্রতিদিন

 

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন / কে. আলম
Share on Facebook

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন এর সর্বশেষ

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন এর জনপ্রিয়

সর্বশেষ - তথ্য ও প্রযুক্তি

সর্বোচ্চ পঠিত - তথ্য ও প্রযুক্তি

তথ্য ও প্রযুক্তি এর সব খবর