a বিশ্ব ল্যাবরেটরি দিবসে শিক্ষক ও গবেষকদের মতামত
ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১২ চৈত্র ১৪৩২, ২৬ মার্চ, ২০২৬
https://www.msprotidin.com website logo

বিশ্ব ল্যাবরেটরি দিবসে শিক্ষক ও গবেষকদের মতামত


এমএস.প্রতিদিন ডেস্ক:
শনিবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২১, ০৩:২৪
বিশ্ব ল্যাবরেটরি দিবসে শিক্ষক ও গবেষকদের মতামত

ফাইল ছবি

বিশ্ব ল্যাবরেটরি দিবসটি ২৪শে এপ্রিল  অনুষ্ঠিত হয়। দুর্দান্ত  আবিষ্কারের জায়গা উল্লেখ করে এটি  উদযাপন করা হয়, যা বিশ্বকে আরও উন্নত করতে সহায়তা করে। পরীক্ষাগার এমন একটি জায়গা যা নিয়ন্ত্রিত শর্তাদি ও সরঞ্জাম সরবরাহ করে, যেখানে বৈজ্ঞানিক গবেষণা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও পরিমাপ সম্পাদন করা যেতে পারে। গবেষণাগারে অগণিত ধারণা এবং তত্ত্ব পরীক্ষা করা হয়। সীমাহীন অধ্যয়ন এবং পরীক্ষার পরে বিশ্বের বেশিরভাগ বৃহত্তম চিকিৎসা এবং নিরাময়গুলি পরীক্ষাগারগুলিতে আবিষ্কার ও সিদ্ধ করা হয়েছিল। পরীক্ষাগার থেকে বেরিয়ে আসা পণ্যগুলি মানবজাতিকে  বহু উপায়ে সহায়তা করেছে। 

বিজ্ঞানের বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞের বিভিন্ন প্রয়োজনের কারণে বৈজ্ঞানিক গবেষণার জন্য ব্যবহৃত ল্যাবরেটরি  অনেকগুলি রূপ নেয়। একটি পদার্থবিদ্যার ল্যাবটিতে একটি কণা ত্বরণকারী বা ভ্যাকুয়াম চেম্বার থাকতে পারে, অন্যদিকে ধাতুবিদ্যার গবেষণাগারে ধাতব ঢালাই বা পরিশোধন করার জন্য বা তাদের শক্তি পরীক্ষা করার জন্য যন্ত্রপাতি থাকতে পারে। একজন রসায়নবিদ বা জীববিজ্ঞানী একটি জীবন্ত বা কেমিক্যাল সম্পন্ন পরীক্ষাগার ব্যবহার করতে পারেন। যখন একজন মনোবিজ্ঞানের ল্যাব এমন এক ঘর হতে পারে যেখানে একমুখী আয়না এবং লুকানো ক্যামেরা রয়েছে যাতে আচরণটি পর্যবেক্ষণ করা যায়। বৈজ্ঞানিক পরীক্ষাগারগুলি স্কুল এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে, শিল্পে, সরকারী বা সামরিক সুবিধাগুলিতে এবং জাহাজ এবং মহাকাশযানের উপরেও পাওয়া যায়।


শিক্ষক ও গবেষকদের মতামত নিতে গেলে তাদের থেকে গবেষণাগারের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে আসে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগের  অধ্যাপক ডঃ শামীমা বেগম বলেন, "ল্যাবরেটরীর প্রয়োজনীয়তাটা বিশেষভাবে প্রভাবিত করে দেশ এর উন্নয়নে। একদম সূচনা লগ্ন স্কুল পর্যায় থেকে শুরু করে কলেজ পর্যায় এবং পরবর্তী বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ল্যাবরেটরির গুরুত্ব অপরিসীম। উচ্চতর গবেষণা বা শিক্ষার জন্য ল্যাবরেটরী বিশেষ প্রয়োজনীয়তা যেমন রয়েছে তার মধ্যে সমৃদ্ধ ল্যাবরেটরির বিষয়টিকে ছাড় দিলে চলবে না। 

বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বা বিশেষ প্রতিষ্ঠান ক্ষেত্রে বললে ল্যাবরেটরী সমৃদ্ধ হলে সেখানে উন্নয়নের ধারা অবশ্যই দ্রুতগতির হবে। যদিও এর পর্যাপ্ত ব্যবস্থা করা ব্যয়বহুল তাই কেন্দ্রীয় ভাবে হলেও ল্যাবরেটরী প্রতিষ্ঠা করে গবেষণাকে এগিয়ে নিয়ে যািয়া উচিত।"

কোন বিভাগের অধ্যাপক ডক্টর আমিনুল হক বলেন, "ল্যাবে তৈরি হচ্ছে বিজ্ঞানের হৃদপিণ্ড। ল্যাবরেটরী ছাড়া প্রয়োগিক শিক্ষার কথা চিন্তাই করা যায় না। বিশেষ করে বিভাগের শিক্ষার্থীদের কথা বললে ল্যাবরেটরী ছাড়া উচ্চতর শিক্ষা শিক্ষার প্রায়োগিক বিষয়গুলোকে কল্পনায় আনা যায় না। মাধ্যমিক উচ্চমাধ্যমিক ও উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণের ক্ষেত্রে ল্যাবরেটরির অপরিহার্যতা রয়েছে। বর্তমান বিশ্বের প্যানডেমিক অবস্থার কথা বিবেচনায় আনলেও ল্যাবরেটরিতে ছাড়া এর থেকে মুক্তির কথা চিন্তা করা যায় না। সকলক্ষেত্রে বর্তমান সময়ে ল্যাবরেটরীকে বিবেচনা করা যায় হার্টের  মতো।তাই ল্যাবরেটরি দিবসকে উপলক্ষ করে হলেও সমৃদ্ধি শিখরে পৌঁছাতে এর গুরুত্বের কথা সকলের সামনে তুলে ধরা উচিত।"

অধ্যাপক ড. সুব্রত চন্দ্র রায়, (রসায়ন বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়) বলেন, "গবেষণাগারের প্রয়োজনীয়তার কথা বলতে গেলে তা সকল ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের অনন্য জায়গা। রসায়নবিদ হিসেবে বাস্তবিক প্রয়োগ ব্যতীত এর কার্যক্রম পরিচালনা করা কখনোই সম্ভব না। অতএব গবেষণাগারের সম্প্রসারণ ও এর প্রয়োগক্ষেত্রে বাড়াতে পারলে দেশকে বহুদূর এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে।"

মনোবিজ্ঞান বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডক্টর অশোক কুমার সাহা বলেন, "শিক্ষার প্রয়োগিক  দিক গবেষণার ক্ষেত্রে বললে মনোবিজ্ঞান বিভাগের গবেষণাগার বিশেষভাবে প্রয়োজনীয়। বিশ্বে প্রথম মনোবিজ্ঞানে ল্যাবরেটরী বা গবেষণাগারের ব্যবহার জার্মানে শুরু হয়েছিল। বাংলাদেশ পূর্বে মনোবিজ্ঞান গবেষণার বিভিন্ন যন্ত্রপাতি দেশের বাইরে থেকে কেনা হতো। বর্তমানে বাংলাদেশের বিভিন্ন কোম্পানির সকল যন্ত্রপাতি তৈরি করে থাকে এবং ল্যাবের সরবরাহ করে থাকে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের ল্যাবরেটরীও বর্তমানে বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও প্রয়োজনীয় উপাদানের সমন্বয়ে সুবিধা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ও গবেষণার সুব্যবস্থা নিশ্চিত করতেই কাজ চলছে। ল্যাবরেটরী দিবসকে সামনে রেখে একে আরো সমৃদ্ধ করা যায়।"

ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জনাব মোঃ মহিউদ্দিন বলেন, "প্রতীক প্রতীক পড়াশোনার পাশাপাশি শিক্ষার প্রয়োগিক দিককে  গুরুত্ব দিলে দেশ তথা জাতি এগিয়ে যাবে বহুদূর। তাত্ত্বিক শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে প্রয়োগিক শিক্ষার ক্ষেত্রে ল্যাবরেটরীর অপরিহার্যতা রয়েছে। ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের বৈদিক শিক্ষার দিক থেকে ব্যবহৃত হয় এনভারমেন্টাল ল্যাবরেটরী। এছাড়াও রয়েছে সয়েল টেস্ট, ওয়াটার টেস্ট ও রক টেস্ট  এর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা। ল্যাবরেটরী দিবস কে বিবেচনা করে কার্যক্রমকে এগিয়ে নিয়া যাওয়া যায় আর গবেষণার কার্যক্রমকে জোড়দার করা যায়।তাহলে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াও সহজ এবং দেশের দ্রুত সম্প্রসারণ সম্ভব হবে।"

এভাবেই গবেষক ও শিক্ষকদের মতামত অনুসারে ল্যাবরেটরী দিবসকে সামনে রেখে দেশে গবেষণার প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয় এবং তারা মনে করেন দেশকে এগিয়ে নিতে ভাল ও উন্নত ল্যাবরেটরীর গুরুত্ব অপরিসীম।

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন / কে. আলম

গৃহস্থালীর বর্জ্য থেকে তেল গ্যাস উৎপাদনের প্রযুক্তি আবিষ্কার


হানিফ, মুক্তসংবাদ প্রতিদিন:
শনিবার, ০১ মে, ২০২১, ১০:২৮
গৃহস্থালীর বর্জ্য থেকে তেল গ্যাস উৎপাদনের প্রযুক্তি আবিষ্কার

ফাইল ছবি

গৃহস্থালীর বর্জ্য থেকে জ্বালানি তেল ও গ্যাস উৎপাদনের প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত রসায়ন ও ক্যামিকৌশল বিভাগের দুই শিক্ষার্থী। তরুণ এই দুই গবেষক হলেন এইচএম রঞ্জু ও পীযুষ দত্ত। গত ২৭ মার্চ থেকে তাদের যন্ত্রটি তেল ও গ্যাস উৎপাদন শুরু করে। এতে লাভের পরিমাণ খরচের ২৫ শতাংশ বলে জানিয়েছেন তারা। রাজধানীর মাতুয়াইলে তুষারধারা এলাকায় প্রায় সাত কাঠা জমির ওপর বানানো প্ল্যান্টটি থেকে পাওয়া যাচ্ছে গ্যাস ও জ্বালানি তেল।

এ ছাড়াও এতে আরও সাত প্রকারের দ্রব্য উৎপাদন করা সম্ভব বলে জানান তারা। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় উপকরণ যুক্ত করে যন্ত্রটির মাধ্যমে বিদ্যুৎও উৎপাদন করা যাবে। এতে প্রতি ইউনিটের খরচ পড়বে সাড়ে ৫ টাকা থেকে পৌনে ৬ টাকা।

গতবছরের ১৪ নভেম্বর প্ল্যান্টটি স্থাপনের কাজ শুরু হয়। শেষ হয় চলতি বছরের ১৭ মার্চ। উৎপাদন শুরু হয় ২৭ মার্চ। এতে এ পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ২৫ লাখ ৭৫ হাজার টাকা।

বর্জ্য থেকে তেল ও গ্যাস উৎপাদনের জন্য দুই তরুণ বিজ্ঞানী ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত গবেষণা পরিচালনা করেন। তাদের গবেষণার সার্বিক তদারকি করেছেন একই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তসলিম-উর-রশিদ, প্রভাষক সাজিদুল ইসলাম ও বাংলাদেশ অ্যাডভান্স রোবটিক রিসার্চ সেন্টারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জিমি মজুমদার।

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন / কে. আলম

আরও পড়ুন

রাজনৈতিক দলগুলো পরিপক্ক নেতৃত্ব ও প্রজ্ঞার মাধ্যমে দেশকে সঠিক পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে, এটাই সবার প্রত্যাশা


কর্নেল(অব.) আকরাম, অধ্যাপক ও কলাম লেখক
শনিবার, ০৩ মে, ২০২৫, ১১:৫১
রাজনৈতিক দলগুলো পরিপক্ক নেতৃত্ব ও প্রজ্ঞার মাধ্যমে দেশকে সঠিক পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে, এটাই সবার প্রত্য

ছবি সংগৃহীত

 


নিউজ ডেস্ক: বর্তমান বিশ্বে প্রতিটি জাতির জন্য রাজনীতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, এবং রাজনীতিবিদরাই একটি দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের প্রধান খেলোয়াড়। কোনো কোনো সময় একটি দেশের রাজনীতি পুরোনো ধারা থেকে সরে নতুন মোড় নেয় এবং তখন জনগণ ভবিষ্যতের রাজনীতিতে কিছু ভালোর আশায় থাকে। একটি দেশের ভবিষ্যৎ—ভালো হোক বা খারাপ—সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করে সেই দেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক দলগুলোর আচরণ ও ভূমিকার উপর। রাজনৈতিক দলগুলো যদি সঠিক পথে না গিয়ে ভুল পথে চলে, তবে শেষ পর্যন্ত জাতিকেই তার খেসারত দিতে হয়।

আমরা একটি জাতি হিসেবে অতীতে রাজনৈতিক দলগুলোর ভুল সিদ্ধান্তের জন্য অনেক ভোগান্তির শিকার হয়েছি। পূর্ব পাকিস্তানের মানুষ আওয়ামী লীগকে সমর্থন করেছিল গণতন্ত্র, সাম্য ও সামাজিক ন্যায়বিচারের আশায় কিন্তু স্বাধীনতার শুরু থেকেই তারা হতাশ হয়। আওয়ামী লীগ সরকার বিদেশি শক্তির পরামর্শে কিছু ভুল পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা প্রিয় মানুষের আকাঙ্ক্ষাকে উপেক্ষা করে।

যিনি সারা জীবন গণতন্ত্রের জন্য লড়েছেন, তিনি একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করে গণতন্ত্রকে হত্যা করে বাকসাল গঠন করেন। শেখ মুজিবের এই পদক্ষেপ জনগণের অনুভূতি ও স্বার্থ এবং তার দীর্ঘদিনের মিত্র যুক্তরাষ্ট্রকেও উপেক্ষা করে বলেই বিবেচিত হয়েছে।

বাংলাদেশের জনগণ এবং যুক্তরাষ্ট্র উভয়েই শেখ মুজিবের এই অস্বাভাবিক আচরণে অসন্তুষ্ট ছিল এবং তার পতনের জন্য অপেক্ষায় ছিল। এরই মাঝে ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশে এক ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ দেখা দেয় এবং কয়েক হাজার মানুষ না খেয়ে মারা যায়।

বাংলাদেশের রাজনীতি হঠাৎ করেই এক অপ্রত্যাশিত মোড় নেয় ১৫ আগস্ট ১৯৭৫ সালে, এবং রক্তক্ষয়ী ঘটনার মাধ্যমে শেখ মুজিবের যুগের অবসান ঘটে। এরপর খন্দকার মোশতাকের উত্থানের মাধ্যমে বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন এক অধ্যায় শুরু হয়, যিনি শেখ মুজিবের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহযোগী এবং যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের মিত্র হিসেবে পরিচিত ছিলেন। কিন্তু তার শাসনকাল ছিল স্বল্পস্থায়ী।

আবার রাজনীতিতে নতুন মোড় আসে ৩ নভেম্বর ১৯৭৫, যখন খালেদ মোশাররফ খন্দকার মোশতাকের কাছ থেকে ক্ষমতা ছিনিয়ে নেন, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত তিনি নিজ বাহিনীর হাতে নিহত হন, কারণ দেখানো হয় তিনি ভারতের এজেন্ট। দেশের রাজনীতি বিশৃঙ্খল হয়ে পড়ে, কিন্তু সিপাহি-জনতা এগিয়ে আসে এবং ৭ নভেম্বর ১৯৭৫ সালের বিপ্লবের মাধ্যমে জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দিত্ব থেকে মুক্ত করে আনে এবং তাকে রাষ্ট্রক্ষমতায় আনে।

এইভাবে ৭ নভেম্বর ১৯৭৫ সালের ঐতিহাসিক সিপাহি-জনতা নেতৃত্বাধীন বিপ্লবের ফলে জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন মোড় নিয়ে আসেন। ইতিহাসের সেই সংকটময় মুহূর্তে জিয়াউর রহমান দেশ পরিচালনার জন্য সঠিক ব্যক্তি হিসেবে প্রমাণিত হন। তিনি বাংলাদেশকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে অসামান্য অবদান রাখেন। জিয়াউর রহমান জাতির রক্ষক ও আধুনিক বাংলাদেশের স্থপতি হিসেবে বিবেচিত হন। দেশ ও জাতি প্রকৃত অর্থে ভারতীয় আধিপত্যবাদী রাজনীতি থেকে মুক্ত হয় কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত তিনি নিজেকে সেই আধিপত্যবাদী শক্তির হাত থেকে রক্ষা করতে পারেননি।

এরপর বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন মোড় আসে স্বৈরাচার এরশাদের শাসনামলে। তিনি দেশের উন্নয়নে অনেক কাজ করলেও গণতান্ত্রিক চর্চাকে হত্যা করে স্বৈরশাসন কায়েম করেন। কিন্তু ১৯৯০ সালের ডিসেম্বরে গণজাগরণে তার পতন ঘটে এবং বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায় সূচিত হয়। প্রথমবারের মতো দেশে দ্বিদলীয় রাজনৈতিক সংস্কৃতির যাত্রা শুরু হয় এবং সংসদীয় সরকারব্যবস্থা চালু হয়।

কিন্তু অচিরেই আওয়ামী লীগ জামায়াত একসঙ্গে জোট করে বিএনপিকে ক্ষমতা থেকে সরে যেতে বাধ্য করে। এরপর বিএনপি সরকার সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার প্রবর্তন করে পদত্যাগ করে।

২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি আবার ক্ষমতায় ফিরে আসে জামায়াতের সমর্থনে, কিন্তু আগের মতো সাফল্য অর্জন করতে পারেনি। জেনারেল মইন উদ্দীন বিএনপির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেন এবং বাংলাদেশে নিজেকে রাজনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করেন, কিন্তু ব্যর্থ হয়ে ভারতের পরামর্শে ডিসেম্বর ২০০৮ এর এক প্রহসনের নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা আওয়ামী লীগের হাতে তুলে দেন।

ভারতের আশীর্বাদপুষ্ট শেখ হাসিনা বাংলাদেশে একটি ফ্যাসিবাদী শাসন প্রতিষ্ঠা করেন এবং দেশ এক দীর্ঘ দমন-পীড়নের রাজনীতির নতুন মোড়ে প্রবেশ করে, যা ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে অবসান ঘটে।

জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে বাংলাদেশ রাজনীতিতে নতুন এক আশাবাদী যুগে প্রবেশ করে। গত পনেরো বছর ধরে শেখ হাসিনার পুতুল সরকারের অধীনে গভীরভাবে প্রোথিত ভারতীয় আধিপত্যবাদী রাজনীতিকে উৎখাত করা সম্ভব হয়েছে এই বিপ্লবের মাধ্যমে।

জুলাই বিপ্লবকে বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি মোড় পরিবর্তনের ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা হয় এবং এই বিপ্লবের মাধ্যমে দেশটি দীর্ঘ সময় পর স্বৈরাচার মুক্ত হয়। এটি সম্ভব হয়েছে জনগণের ঐক্যের মাধ্যমে, তবে বিপ্লব-পরবর্তী রাজনীতি আমাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে দোলাচলেই আছে।

যদিও ছাত্রসমাজ বিপ্লবে মুখ্য ভূমিকা পালন করেছে, তবে বিএনপি ও জামায়াতের ত্যাগ ও অবদান অস্বীকার করার সুযোগ নেই। নিঃসন্দেহে ধাপে ধাপে বিএনপি, জামায়াত এবং হেফাজতই বিপ্লবের ক্ষেত্র প্রস্তুত করেছে।

কিন্তু কিছু জাতীয় ইস্যুতে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে মতভেদ দেখে জনগণ হতাশ হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা সংস্কার ও নির্বাচন ঘিরে সম্ভাব্য বিরোধের ইঙ্গিত দিয়েছেন।

তবে সম্প্রতি লন্ডনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়ার বাসভবনে খালেদা জিয়া ও জামায়াতের আমির ড. শফিকুর রহমানের মধ্যে যে বৈঠক হয়েছে, তা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে নতুন এক ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

লন্ডনে সংবাদমাধ্যমে দেয়া এক বিবৃতিতে ডা. শফিকুর রহমান বাংলাদেশের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। অনেকেই এটিকে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে একটি নতুন মোড় বলে মনে করছেন এবং এটি জামায়াতের রাজনৈতিক আন্তরিকতা সম্পর্কে জাতিকে একটি স্পষ্ট বার্তা দেয়। সম্ভবত তারা দেশের বৃহত্তর স্বার্থে নিজেদের মধ্যে ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি দেরিতেও হলেও বুঝতে পেরেছে।

এই দুটি রাজনৈতিক দলের ঐক্য দেশের ওপর যে কোনো অভ্যন্তরীণ বা বাহ্যিক হুমকি থেকে জাতিকে রক্ষা করতে পারে। উভয় দলের নেতৃত্বের উচিত জাতীয় স্বার্থে ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করা এবং অতীতের বিভাজন ভুলে গিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়া।

নতুন প্রজন্মের ছাত্রদের নেতৃত্বে গঠিত এনসিপিকে ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে কিছু জায়গা দেয়া উচিত, তবে তাদের অতিরিক্ত উচ্চাশী হওয়া ঠিক নয়। তাদের রাজনীতি শিখতে হবে এবং উপযুক্ত সময়ের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। ইতিহাস সবসময় তাদের ত্যাগকে সম্মান ও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।

জাতি প্রত্যাশা করে যে, সকল রাজনৈতিক দল পরিপক্ক নেতৃত্ব ও প্রজ্ঞার সঙ্গে দেশের জন্য কাজ করবে। কোনো ভুল পথে নয়, বরং সঠিক পথে এগিয়ে যাওয়াই হবে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের প্রত্যাশা।

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন / কে. আলম
Share on Facebook

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন এর জনপ্রিয়

সর্বশেষ - তথ্য ও প্রযুক্তি

সর্বোচ্চ পঠিত - তথ্য ও প্রযুক্তি

তথ্য ও প্রযুক্তি এর সব খবর