a
ফাইল ছবি: (ইইউ) মানবাধিকারবিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি ইমোন গিলমোর
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মানবাধিকারবিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি ইমোন গিলমোর আগামীকাল সোমবার ঢাকায় আসছেন। ৬ দিনের এই সফরে তিনি মানবাধিকারসহ নানা বিষয়ে আলোচনা করবেন। কথা বলবেন জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী, কর্মকর্তা, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ও শ্রমিকনেতাদের সঙ্গে।
ইইউর মানবাধিকারবিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি এমন এক সময় ঢাকায় আসছেন, যখন বাংলাদেশের আগামী সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে পশ্চিমা দেশগুলোর বিশেষ মনোযোগ এখন এই দিকে। তাঁর বাংলাদেশ সফরের ঠিক আগে ইইউর প্রাক্–নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশন ১৬ দিনের ঢাকা সফর শেষ করেছে। ফলে তাঁর এই সফরে শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ এবং নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হবে কি না, তা নিয়ে কৌতূহল রয়েছে।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, আয়ারল্যান্ডের সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনকারী ইমোন গিলমোর বাংলাদেশ সফরের সময় রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কোনো বৈঠক করবেন না।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাংলাদেশ সফরের দ্বিতীয় দিনে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলমের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন ইমোন গিলমোর। প্রাসঙ্গিকভাবে এসব আলোচনায় রাজনীতি ও নির্বাচনের প্রসঙ্গ আসতে পারে।
কূটনৈতিক একটি সূত্রে জানা যায়, ইইউর মানবাধিকারবিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি বাংলাদেশ সফরের সময় সুশাসন পরিস্থিতি, নির্বাচন, নাগরিক অধিকারের চর্চা, সংখ্যালঘুদের অধিকার এবং রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে আলোচনা করবেন।
খসড়া সূচি অনুযায়ী জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন ইমোন গিলমোর।
এ ছাড়া তিনি নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি, ঢাকায় জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গেও মতবিনিময় করবেন। রোহিঙ্গাদের পরিস্থিতি দেখতে ২৭ জুলাই রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে যাবেন তিনি।
ইইউর মানবাধিকারবিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে চার বছরের মধ্যে এটি ইমোন গিলমোরের দ্বিতীয় বাংলাদেশ সফর। তিনি ২০১৯ সালের জুনে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন। ওই সফর শেষে দেওয়া বিবৃতিতে ইমোন গিলমোর বাংলাদেশে শ্রম অধিকারসহ মানবাধিকারের বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নয়নের তাগিদ দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, শ্রম অধিকারসহ মানবাধিকার হচ্ছে বাংলাদেশ–ইইউ সম্পর্ক এবং অস্ত্র ছাড়া সবকিছু বাণিজ্য কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।
ঢাকায় ইইউ রাষ্ট্রদূত চার্লস হোয়াটলির সম্প্রতি গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ইইউ বাংলাদেশে সবার স্বার্থে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন চায়। স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের পর ইইউর অগ্রাধিকারমূলক বাজার সুবিধা জিএসপি প্লাস পেতে হলে বাংলাদেশকে যেসব শর্ত পূরণ করতে হবে, তার অন্যতম হচ্ছে নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার। আগামী নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হলে তা বাংলাদেশের জিএসপি প্লাস পাওয়ার ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। সূত্র: প্রথম আলো
বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেছেন, অগণতান্ত্রিক পন্থায় যাদের সৃষ্টি, তাদের মুখে এখন গণতন্ত্রের কথা বলতে বলতে ফেনা উঠে যাচ্ছে। কিন্তু তাদের মুখে গণতন্ত্রের কথা মানানসই না।
তিনি বলেন, যখন ক্ষমতায় ছিলেন তখন কোনো গণতন্ত্র মেনেছেন আপনারা? বরং শেখ হাসিনাকে হত্যা করে বিরোধী দলকে নিশ্চিহ্ন করার পরিকল্পনা করেছেন। আপনাদের কাছে জানতে চাই, এটা গণতন্ত্রের কোনো সঙ্গার মধ্যে পড়ে?
হানিফ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এখন দেশের উন্নয়ন হচ্ছে। দেশের মানুষের ভাগ্য বদলে যাচ্ছে। দেশের মানুষ ভালো থাক আপনারা কি তা চান না? এই দেশ তো আপনাদেরও। আপনারা উন্নয়ন করতে পারেননি, আমরা করছি ধ্বংসাত্মক রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে আপনাদেরও এই উন্নয়নের ধারায় শামিল হওয়া উচিত।
রোববার (৩ জানুয়ারি) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে বিশ্বশান্তি ও মানবাধিকার সংগঠন বাংলাদেশ আয়োজিত ‘বঙ্গবন্ধুর দর্শন শক্তি ও নম্রতা সমন্বয়’ শীর্ষক এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।
এসময় তিনি বিএনপি দলের প্রধান রাজনৈতিক নেতার পরিবর্তন করে নতুন যোগ্য নেতা আনা এবং আন্দোলন করলে আওয়ামী লীগের কাছ থেকে আন্দোলন শিখে তারপর আন্দোলন করার জন্য বিএনপিকে আহ্বান জানান।
আয়োজনে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য বহু ত্যাগ স্বীকার করেছেন বঙ্গবন্ধু। তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশেছেন, তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। বাঙালি জাতির অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তিনি বারবার কারাবরণ করেছেন। বঙ্গবন্ধু যেমন কোমল মনের মানুষ ছিলেন তেমনি ছিলেন দৃঢ়চেতা। আর তার মনোবল সবসময়ই ছিল অটুট।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বেগম রোকিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও সংগঠনের সভাপতি প্রফেসর ড. নাজমুল আহসান কলিম উল্লাহ।
এতে আরও উপস্থিত ছিলেন আয়োজক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ফনিন্দ্র সরকার, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল মান্নান, দৈনিক জাগরণের সম্পাদক আবেদ খান, নিউজটোয়েন্টিফোর চ্যানেলের হেড অব নিউজ রাহুল রাহা, ব্যরিস্টার তৌফিকুর রহমান প্রমুখ।
ছবি সংগৃহীত
প্রিয় ইসলামপুরবাসী, আমার প্রিয় নেতাকর্মীবৃন্দ,
আসসালামু আলাইকুম।
আজ সন্ধ্যায় ময়মনসিংহ বিভাগ, ফরিদপুর ও কুমিল্লার আগামী সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীগণকে গুলশান দলীয় কার্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান এক মতবিনিময় সভায় ডেকেছিলেন।
এ সভায় জনাব তারেক রহমান এক অভূতপূর্ব, আবেগঘন ও নির্দেশমূলক বক্তব্য প্রদান করেন। এটি শুধু একজন নেতার বক্তব্য নয়, এটি একজন রাষ্ট্রনায়কের ভাষণ। এ ভাষণে আমরা আবেগাপ্লুত না হয়ে পারিনি।
তিনি বলেছেন, নিজেদের অস্তিত্বের জন্য দলকে ভালোবাসতে হবে। দলে অনৈক্য কখনোই কাম্য নয়। দলে শুধু ঐক্য চাই — চাই ইস্পাত-কঠিন ঐক্য। ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই।
তিনি আরও বলেন, পরস্পরের মধ্যে বিভেদ কখনোই কাম্য নয়। পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ ও বন্ধুত্বই ঐক্য প্রতিষ্ঠা করতে পারে। নেতাকর্মীদের মধ্যে কটু কথা ও অশোভন বচন দলের জন্য অমঙ্গল বয়ে আনে। এজন্য অশ্লীল বাক্য সর্বদা পরিত্যাজ্য।
তিনি আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, এই দলের, দলের নেতাকর্মীদের জন্য এবং এ দেশের আপামর জনসাধারণের জন্য তার পিতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান জীবন দিয়েছেন। তাঁর মাতা, গণতন্ত্রের মাতা বেগম খালেদা জিয়া — যিনি নেতাকর্মী এবং এ দেশের মানুষকে নিজের সন্তানের চেয়েও বেশি ভালোবাসেন — তিনিও এই জনগণের জন্য ছয়বার মৃত্যুকূল থেকে ফিরে এসেছেন। কিন্তু এদেশের মানুষকে ফেলে তিনি কোথাও যাননি।
দেশমাতার এই নিঃস্বার্থ ত্যাগের তুলনা হয় না। এসব কথা বলতে গিয়ে জনাব রহমান অশ্রু সংবরণ করতে পারেননি। তিনি বলেন, দল, দলের নেতাকর্মী এবং দেশের সাধারণ মানুষকে ভালোবাসলেই সত্যিকারের দেশপ্রেমিক হওয়া যায়। দলে বিভেদ কমিয়ে আনতে হলে পরস্পরের মধ্যে শ্রদ্ধাবোধ অন্তরে ধারণ করতে হবে। দলীয় কর্মকাণ্ডে মিথ্যাচার ও অপপ্রচার বন্ধ রাখতে হবে।
তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে দলীয় কোনো কোনো কর্মকাণ্ডে অকারণ মিষ্টান্ন বিতরণ ইত্যাদি তাঁকে ক্ষুব্ধ করেছে। এজন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের কাজ না হয়, সে নির্দেশ দিয়েছেন।
তিনি আরও দুঃখ প্রকাশ করেছেন এই কারণে যে, আজকের সভায় শুধুমাত্র প্রার্থীদের ডাকা হয়েছিল; কিন্তু অনেকেই অনেক নেতাকর্মীকে সঙ্গে এনেছেন, ফলে রাস্তায় এবং অফিস প্রাঙ্গণে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে, এমনকি যান চলাচলেও বিঘ্ন ঘটেছে। এজন্য তিনি ক্ষুব্ধতা ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং ভবিষ্যতে এমনটি না করার অনুরোধ জানিয়েছেন।
দলকে তিনি তাঁর বক্তব্যে আমাদের নিজ নিজ সন্তানের সঙ্গে তুলনা করেছেন। এই সন্তানকে লালন-পালন করা, বড় করে তোলা, সুষ্ঠুভাবে গড়ে তোলা, এর নিরাপত্তা ও মঙ্গল দেখা — এ দায়িত্ব আমাদের, দলীয় নেতাকর্মীদের। দলের প্রতি আমাদের সবার স্নেহ, ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা থাকা বাঞ্ছনীয় এবং কর্তব্য।
মাননীয় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মনোনয়ন প্রসঙ্গে বলেন, যেসব নির্বাচনী এলাকায় একাধিক প্রার্থী রয়েছেন, সেখানে মাত্র একজনকেই মনোনয়ন দেওয়া হবে। এর ব্যত্যয় ঘটানোর কোনো সুযোগ নেই। কাজেই একজন খুশি হবেন, অন্যজন নমিনেশন না পেলে অখুশি হবে — এটাই স্বাভাবিক। দলের স্বার্থে এবং দেশের স্বার্থে আমাদের এটি মেনে নিতে হবে। এজন্য পরস্পরের মধ্যে হিংসা, বিবাদ বা অনৈক্য সৃষ্টি করা যাবে না।
কারো প্রতি কোনো কটু কথা বা অশালীন বাক্য ব্যবহার করা ঠিক হবে না। মনে রাখতে হবে, মানুষের মনে দুঃখ দেওয়া দৈহিক আঘাতের চাইতেও অনেক কঠিন ও ক্ষতিকর।
মাননীয় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আজকে যে ভাষণ দিয়েছেন, তা দিকনির্দেশনামূলক তো বটেই — তার এই ভাষণের মধ্যে অন্তর্নিহিত রয়েছে বাংলাদেশের গণমানুষের আকাঙ্ক্ষা। আগামী দিনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল যেন সেই আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে পারে, সে লক্ষ্যেই তিনি শুধু একজন সত্যিকারের নেতার মতো নয় — একজন রাষ্ট্রনায়কের মতো মূল্যবান ভাষণ প্রদান করেছেন।
তবে তিনি মনোনয়ন কবে ঘোষণা করবেন, সে বিষয়ে কিছু বলেননি। সুতরাং, মনোনয়ন নিয়ে কোনো নেতাকর্মীর দুশ্চিন্তার কারণ নেই।
সকলকে ধন্যবাদ ও শুভকামনা জানাচ্ছি।
_________________________________________
এ.এস.এম. আব্দুল হালিম
বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা