a শিক্ষার্থীদের সমর্থন জানিয়ে প্রতীকী অনশনে বসছে শিক্ষক নেটওয়ার্ক
ঢাকা রবিবার, ৪ মাঘ ১৪৩২, ১৮ জানুয়ারী, ২০২৬
https://www.msprotidin.com website logo

শিক্ষার্থীদের সমর্থন জানিয়ে প্রতীকী অনশনে বসছে শিক্ষক নেটওয়ার্ক


মুক্তসংবাদ প্রতিদিন ডেস্ক
সোমবার, ২৪ জানুয়ারী, ২০২২, ১১:৫৭
শিক্ষার্থীদের সমর্থন জানিয়ে প্রতীকী অনশনে বসছে শিক্ষক নেটওয়ার্ক

ফাইল ছবি

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সংহতি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক। সোমবার (২৪ জানুয়ারি) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে প্রতীকী অনশন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা।

শিক্ষক নেটওয়ার্কের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক সামিনা লুৎফা।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত কয়েক দিন ধরে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘটিত হামলার প্রতিবাদ, শিক্ষার্থীদের প্রাণরক্ষার দাবি ও তাদের ন্যায্য দাবিগুলোর সমর্থনে আজ দুপুর ১২টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে একটি প্রতীকী অনশন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে শিক্ষক নেটওয়ার্ক।

উল্লেখ্য, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা গণ-অনশন কর্মসূচি শুরু করেছেন। আমরণ অনশনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন আরও ৫ শিক্ষার্থী। এ নিয়ে মোট অনশনকারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৮ জনে। অনশনকারীদের মধ্যে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১৫ জন। বাকি ১৩ জন অনশনরত অবস্থায় উপাচার্য বাস ভবনের সামনে অবস্থান করে আসছেন। সূত্র: বিডি প্রতিদিন

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন / কে. আলম

আরও পড়ুন

ইবিতে ছাত্রী নির্যাতিতদের পৈশাচিক উল্লাস! দেশের বাকি হলগুলো কি নিরাপদ?


মুক্তসংবাদ প্রতিদিন ডেস্ক
সোমবার, ২৭ ফেরুয়ারী, ২০২৩, ০৯:২৬
ইবিতে ছাত্রী নির্যাতিতদের পৈশাচিক উল্লাস দেশের বাকি হলগুলো কি নিরাপদ

ছবি: সংগৃহীত

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) দেশরত্ন শেখ হাসিনা হলের গণরুমে ছাত্রী নির্যাতনের ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন গঠিত তদন্ত কমিটি। এতে নবীন সেই ছাত্রীর ওপর অমানবিক নির্যাতন এবং তাকে বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণের প্রমাণ পাওয়া যায়। মারধর-অত্যাচারের সময় ছাত্রীটি যখন আর্তনাদ করছিলেন তখন অট্টহাসি আর উল্লাসে মেতেছিল নির্যাতনকারীরা। এছাড়া চিৎকার করলে তার মুখে গামছা ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। একপর্যায়ে পিপাসায় কাতর হয়ে পড়েন ভুক্তভোগী ছাত্রী। পানি চাইলেও তাকে দেওয়া হয়নি। উলটো ডাইনিংয়ে নিয়ে পরিত্যক্ত ময়লা গ্লাস চেঁটে পরিষ্কার করতে বাধ্য করা হয়। পুরো ঘটনায় সবচেয়ে উগ্র ভূমিকায় ছিলেন মীম ও ঊর্মি নামের দুই ছাত্রী। ১১ পৃষ্ঠার মূল প্রতিবেদনের সঙ্গে ভুক্তভোগী ও অভিযুক্তদের লিখিত তথ্য-প্রমাণসহ শতাধিক পৃষ্ঠার রিপোর্ট দিয়েছে তদন্ত কমিটি।

এসব ঘটনায় সচেতন অভিভাবকগণ গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। তারা তাদের ছেলেমেয়েদের উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের জন্য নিজ বাড়ি থেকে অনেক দূরে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করান। ভর্তির পর ভাল পড়াশুনা ও নিরাপত্তার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত হোস্টেলগুলোই নিরাপদ মনে করেন। অথচ নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র-জুনিয়র বন্ধু-বান্ধবদের দ্বারা অমানবিক নির্যাতনে শিকার হচ্ছে যা শুনলে গা শিউরে উঠে। মাঝে মধ্যে কিছু কিছু ঘটনা আমাদের সামনে উঠে আসলেও প্রায়ই ঘটনাগুলো আমাদের অগোচরেই থেকে যাচ্ছে। ইডেনসহ বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোতে লোমহর্ষক ঘটনা ইতিমধ্যে সংঘটিত হলেও এবার কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটনাসমূহ অন্যসব ঘটনা ছাপিয়ে যায়। আজ সেদিনের ঘটে যাওয়া বিভিন্ন উৎস থেকে পাওয়া সামান্য ঘটনাসমূহ তুলে ধরা হলো-

২৬ ফেব্রুয়ারি রোববার সকাল ১০টায় তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব আলীবদ্দীন খান ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারের কাছে এ প্রতিবেদন জমা দেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এইচএম আলী হাসান গণমাধ্যমকে বলেন, সুপ্রিমকোর্ট ও হাইকোর্ট ডিভিশনের নির্দেশনা মোতাবেক উপাচার্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। আমরা সেই কমিটির রিপোর্ট হাতে পেয়েছি। প্রতিবেদনের কপি পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। এরপর মহামান্য হাইকোর্ট যে নির্দেশনা দেবেন সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।

বিভিন্ন সূত্র মতে, তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই রাতে শাখা ছাত্রলীগের সহসভাপতি সানজিদা চৌধুরী অন্তরা ৩০৬ নং কক্ষ থেকে ভুক্তভোগী ছাত্রীকে গণরুমে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। আইন বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের ইসরাত জাহান মীম ও চারুকলার একই বর্ষের ছাত্রী হালিমা খাতুন ঊর্মি তাকে গণরুমে (দোয়েল ১) নিয়ে যান। এ সময় পাশের গণরুমের ছাত্রীদের কক্ষ থেকে বের না হতে কঠোরভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়। এমনকি তাদের ওয়াশরুমেও যেতে নিষেধ করা হয়। এরপর ভুক্তভোগী ছাত্রীর সিনিয়র, ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের মোয়াবিয়া জাহানকে তার কক্ষ থেকে ডেকে আনেন একই বিভাগ ও সেশনের তাবাসসুম ইসলাম। শুরুতে মোয়াবিয়াকে ভুক্তভোগী ছাত্রীকে থাপ্পড় মারতে বাধ্য করা হয়। এরপর শুরু হয় অমানবিক নির্যাতন। চড়, থাপ্পড় ও গলায় ফাঁস দিয়ে নির্যাতন করা হয় এবং একপর্যায়ে ভুক্তভোগী ছাত্রীকে বিবস্ত্র করা হয়। এসময় বাধা দিলে নির্যাতনের মাত্রা আরও বেড়ে যায়।

হালিমা খাতুন ঊর্মি তার ফোন দিয়ে নির্যাতনের ভিডিও ধারণ করেন। এসময় প্রচণ্ড যন্ত্রণায় আর্তনাদ করে ওঠেন ভুক্তভোগী ছাত্রী। বারবার তাকে ছেড়ে দিতে আকুতি জানান। কিন্তু তাতেও তারা কর্নপাত করেনি, বরং অট্টহাসি আর উল্লাসে মেতে উঠে নির্যাতনকারীরা। পৈশাচিক আনন্দ উপভোগ করে বিকৃত মনের এসব হায়েনারুপী নরপিশাচ।

এক পর্যায়ে যন্ত্রনায় চিৎকার করলে তার মুখে গামছা ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। এ সময় তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করা হয়। একইসঙ্গে তাকে বাজে অঙ্গভঙ্গি করে নাচতে বাধ্য করা হয়। নির্যাতনের একপর্যায়ে পিপাসায় কাতর হয়ে পড়লে, পানি চাইলেও না দিয়ে ডাইনিংয়ে নিয়ে পরিত্যক্ত ময়লা গ্লাস চেঁটে পরিষ্কার করিয়ে নেওয়া হয়। পুরো নির্যাতনে মীম ও ঊর্মি উগ্র ভূমিকায় ছিল। এ সময় গণরুমের সাধারণ ছাত্রীরা মুখ চেপে চেপে কাঁদছিল।

পরদিন সকালে আতঙ্কে ক্যাম্পাস ছেড়ে যায় অনেক ছাত্রী। এ ঘটনা প্রকাশ না করতে মীম ও ঊর্মি গণরুমের ছাত্রীদের ভয়ভীতি ও চাপ প্রয়োগ করে। পরবর্তীতে ঘটনা জানাজানি হলে ভিডিও ডিলিট করে নিজের অ্যান্ড্রয়েড ফোনটি ব্যবহার করা বন্ধ করে উর্মি।

তদন্ত কমিটি সূত্রে জানা যায়, এমন বর্বর নির্যাতনের বর্ণনা শুনে বিব্রত ও আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন তদন্ত কমিটির সদস্যরাও। ভুক্তভোগীর নির্যাতনের বর্ণনার সময় কিছু ঘটনা এমন ছিল যে কমিটির পুুরুষ সদস্যদের বাইরে বের হওয়ার অনুরোধ করেছিলেন নারী সদস্য।

তদন্ত প্রতিবেদনের বিষয়বস্তু জানতে চাইলে কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর ড. রেবা মণ্ডল বলেন, আমি খুবই ব্যস্ত, খুব কাজের চাপে আছি। প্রতিবেদনের বিষয়ে এখন কিছুই বলার নেই বলে এড়িয়ে যান।

তদন্ত কমিটির সদস্য ও প্রভোস্ট কাউন্সিলের সভাপতি প্রফেসর ড. দেবাশীষ শর্মা বলেন, এ বিষয়ে কিছু বলার অনুমতি আমাদের নেই। আমরা কর্তৃপক্ষকে প্রতিবেদন জমা দিয়েছি। তারা চাইলে বলতে পারেন। অন্য সদস্যরাও কোনো প্রকার মন্তব্য করতে রাজি হননি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মাহবুবুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, তদন্ত কমিটি আমাদের কাছে প্রতিবেদনের দুটি কপি জমা দিয়েছে। একটি কপি সিলগালা করে অলরেডি হাইকোর্টে পাঠানো হয়েছে। আগামীকাল প্রতিবেদন হাইকোর্টে জমা দেওয়া হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ছুটিতে আছেন, তিনি ফিরলে তদন্ত প্রতিবেদন খোলা হবে। এর বাইরে আমি কিছুই বলতে পারছি না।

এদিকে তদন্ত প্রতিবেদনে কোনো প্রকার নির্দেশনা বা সুপারিশ করেনি কমিটি। শুধু ঘটনার সত্যতার বিষয়ে তদন্ত এবং ওই রাতে কী ঘটেছিল সে বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে। কমিটির সদস্যরা ১০ দিনে প্রায় ৮৪ ঘণ্টা অভিযোগ গ্রহণ, শুনানি ও পর্যালোচনা করেন। তদন্তে ভুক্তভোগীর বড় বোনের বক্তব্যও শোনা হয়েছে। একইসঙ্গে এ ঘটনায় সঙ্গে সংশ্লিষ্ট, প্রত্যক্ষদর্শীসহ গণরুমের অন্তত ২০ শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলেন কমিটির সদস্যরা।

১২ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দেশরত্ন শেখ হাসিনা হলে এক নবীন ছাত্রীকে রাতভর নির্যাতন ও বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারনের অভিযোগ ওঠে শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সানজিদা চৌধুরী অন্তরার বিরুদ্ধে। ছাত্রী নির্যাতনের ঘটনায় ১৫ ফেব্রুয়ারি আইন বিভাগের প্রফেসর ড. রেবা মণ্ডলকে আহ্বায়ক করে ৫ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

এদিকে হলের তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর ড. আহসানুল হক গণমাধ্যমকে বলেন, আমাদের প্রতিবেদন লেখার কাজ চলছে। কালকের (আজ) মধ্যেই প্রতিবেদন জমা দেওয়ার চেষ্টা করব।

ইবি শাখা ছাত্রলীগের গঠিত তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক কামরুল হাসান অনিক রোববার গণমাধ্যমকে বলেন, আজ (রোববার) রাতেই আমরা কমিটির চারজন বসে অলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব। রাতেই অনলাইনে কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে আমরা প্রতিবেদন সাবমিট করব। সোমবার (আজ) কুরিয়ারের মাধ্যমেও প্রতিবেদনের হার্ড কপি কেন্দ্রে পাঠানো হবে।

সিসিটিভি ফুটেজ ছাড়াই তদন্ত প্রতিবেদন : হলের বিভিন্ন স্থানে অন্তত ১২টি সিসিটিভি রয়েছে বলে জানিয়েছে হল কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে হল ডাইনিং ও গণরুমে প্রবেশপথে সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে। তথ্য অনুযায়ী ওই ক্যামেরার ফুটেজ খুঁজে পেলে ওই রাতের ঘটনায় কারা কারা জড়িত ছিল তা আরও স্পষ্টত ধারণা পাওয়া যেতো। কিন্তু ঘটনার ১৫ দিনেও সিসি ফুটেজ উদ্ধার করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। তদন্ত কমিটি থেকে ফুটেজ চাওয়া হলেও হল কর্তৃপক্ষ তা দিতে পারেনি। এ ঘটনায় হল কর্তৃপক্ষ আইসিটি সেলকে দায়ী করছে।

হল প্রভোস্ট প্রফেসর ড. শামসুল আলম গণমাধ্যমকে বলেন, বায়োসের ব্যাটারি নষ্ট থাকায় সিসি ফুটেজ পাওয়া যাচ্ছে না। আমি আইসিটি সেলকে উদ্ধার করতে নির্দেশ দিয়েছি। তারা এখনো উদ্ধার করতে পারেনি। তবে আইসিটি সেলের পরিচালক প্রফেসর ড. আহসানুল আম্বিয়া বলেন, বাইরে থেকে এক্সপার্ট আনা হলে তা উদ্ধার করা সম্ভব হবে।

সচেতন অভিভাবক মহলের আরজি, মাঝে মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে র‌্যাগিং ও হল বাণিজ্যের নামে প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করতে আসা ছাত্র/ছাত্রীদের উপর আর কোন অমানবিক ও হিংস্র আচরণ পূণরাবৃত্তি না হয়। ভবিষ্যতে এসব ঘটনা ঘটতেই থাকলে এর দায়-দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনসহ অন্য সকলকে দায়ভার গ্রহণ করতে হবে। উচ্চ শিক্ষা নাম করে অন্যের ছেলেমেয়েদের নিয়ে খেলাধুলা করার অধিকার কারও নেই। সূত্র: যুগান্তর

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন / কে. আলম

আরও পড়ুন

বরিশাল সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে যে কারণে রণক্ষেত্র পরিণত


এমএস.প্রতিদিন ডেস্ক:
বৃহস্পতিবার, ১৯ আগষ্ট, ২০২১, ১০:৫৫
বরিশাল সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে যে কারণে রণক্ষেত্র পরিণত

ফাইল ছবি

বরিশাল সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে সাঁটানো অবৈধ ব্যানার-বিলবোর্ড-প্লাকার্ড অপসারণকে কেন্দ্র করেই রণক্ষেত্রে পরিণত হয় উপজেলা পরিষদ এলাকা। তিন দফা গুলি ও দফায় দফায় লাঠিচার্জে আহত হন বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) প্যানেল মেয়র, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, আওয়ামী লীগের পদদিধারী নেতাসহ অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী। কোতয়ালী মডেল থানার ওসি গুলিবিদ্ধ হন। আহত হন জেলা আনসার কমান্ডারসহ পুলিশের দুইজন সদস্য। এ ঘটনায় যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. শাহাবুদ্দিন খান ও জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার। 

অপরদিকে, এ ঘটনাকে উদ্দেশ্যমূলক দাবি করে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত দাবি করেছেন বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তালুকদার মো. ইউনুস ও মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি এ কে এম জাহাঙ্গীর। এদিকে, স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর কাছে এ ঘটনার বিচার চেয়েছেন সিটি মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ। 

সিটি করপোরেশনের প্রশাসনিক কর্মকর্তা স্বপন কুমার দাস বলেন, কর্তৃপক্ষের নির্দেশ নগরীর অবৈধ ব্যানার-বিলবোর্ড অপসারণ চলছিল। 

বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে বিসিসি কর্মীরা উপজেলা পরিষদ চত্বরের বিলবোর্ড অপসারণ করতে গেলে তাদের বাঁধা দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। একপর্যায়ে তিনি বিসিসি কর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন এবং সরকারি কাজে বাধা দেন। এ নিয়ে বাদানুবাদের একপর্যায়ে আনসার সদস্যরা আমাদের কর্মীদের লক্ষ্য করে গুলি করে। এতে কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হন।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরের বাসিন্দা মহানগর আওয়ামী লীগের সদস্য হারুন অর রশিদ বলেন, সিটি করপোরেশনের কর্মীদের ওপর গুলির খবর পেয়ে মেয়র ঘটনাস্থলে গেলে তাকেসহ নেতাকর্মীদের লক্ষ্য করে ফের গুলি করেন আনসার সদস্যরা। এতে তিনিসহ (হারুন) বেশ কয়েকজন আহত হন। 

মহানগর আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক জিয়াউর রহমান জিয়া বলেন, মানববর্ম করে মেয়রকে গুলির হাত থেকে রক্ষা করে, তাকে সেখান থেকে সরিয়ে দেন তারা। এরপর দফায় দফায় গুলি ও লাঠিচার্জ করে আওয়ামী লীগের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মীকে আহত করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

আহতদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ ২৩ জনকে শের-ই বাংলা মেডিকেলেসহ অন্যান্যদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা। তাদের মধ্যে ২৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি মনির হোসেন পেশকারের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এ ছাড়া গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আহক শ্রমিকলীগ কর্মী নাসির আলমসহ পুলিশের দুই সদস্যকে ভর্তি করা হয় জেলা পুলিশ হাসপাতালে। কোতয়ালী থানার ওসি মো. নুরুল ইসলামের বুকেও একটি স্প্লিন্টার বিদ্ধ হয়েছে। তবে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হননি।

হাসপাতালে আহতদের চিকিৎসা দেওয়া মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মনিরুজ্জামান বলেন, গুলিবিদ্ধ ২৩ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে মনির নামে একজনের চোখে গুলি লেগেছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। আহতদের চিকিৎসা চলছে। 

এদিকে রাত ২টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন বিভাগীয় কমিশনার মো. সাইফুল হাসান বাদল, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. শাহাবুদ্দিন খান, রেঞ্জ ডিআইজি এসএম আক্তারুজ্জামান এবং জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দারসহ অন্যান্যরা। 

এ সময় তাদের সামনে প্রথমবারের মতো গণমাধ্যমে বক্তব্য দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনিবুর রহমান। তিনি বলেন, রাতে ব্যানার অপসারণে বাধা দেওয়ায় কিছু লোক তার ওপর চড়াও হয়। তাদের হামলার হাত থেকে বাঁচতে গুলি করে আনসার সদস্যরা। তখন মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক হাসান মাহমুদ বাবুকে টেনে তিনি তার সরকারি বাসভবনে নিয়ে যান।

এ ঘটনা খতিয়ে দেখার কথা বলেন বরিশালের জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার। তদন্তে যে বা যারা দোষী হবেন তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেন তিনি। 

মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. শাহাবুদ্দিন খান বলেন, সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে উদ্ভুত পরিস্থিতি তাৎক্ষণিক মোকাবিলা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে পুলিশ। এ ঘটনায় পুলিশের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। আটক করা হয়েছে কয়েকজনকে। তবে তাদের সংখ্যা জানাতে পারেননি তিনি। এ ঘটনায় মামলা দায়েরসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান পুলিশ কমিশনার। 

অপরদিকে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনাকে উদ্দেশ্যেমূলক বলে দাবি করেছেন বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তালুকদার মো. ইউনুস। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসায় হামলার অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করে এ ঘটনায় সাংগঠনিক ও আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেন মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি এ কে এম জাহাঙ্গীর। 

সিটি মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ বলেন চোখের সামনে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের গুলিবিদ্ধ হতে দেখে তিনি ব্যথিত। তিনি এ ঘটনায় স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিচার দাবি করেন। সূত্র: বিডি প্রতিদিন

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন / কে. আলম
Share on Facebook

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন এর জনপ্রিয়

সর্বশেষ - আমার ক্যাম্পাস