a
ফাইল ছবি
সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সংহতি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক। সোমবার (২৪ জানুয়ারি) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে প্রতীকী অনশন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা।
শিক্ষক নেটওয়ার্কের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক সামিনা লুৎফা।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত কয়েক দিন ধরে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘটিত হামলার প্রতিবাদ, শিক্ষার্থীদের প্রাণরক্ষার দাবি ও তাদের ন্যায্য দাবিগুলোর সমর্থনে আজ দুপুর ১২টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে একটি প্রতীকী অনশন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে শিক্ষক নেটওয়ার্ক।
উল্লেখ্য, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা গণ-অনশন কর্মসূচি শুরু করেছেন। আমরণ অনশনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন আরও ৫ শিক্ষার্থী। এ নিয়ে মোট অনশনকারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৮ জনে। অনশনকারীদের মধ্যে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১৫ জন। বাকি ১৩ জন অনশনরত অবস্থায় উপাচার্য বাস ভবনের সামনে অবস্থান করে আসছেন। সূত্র: বিডি প্রতিদিন
ছবি: মুক্তসংবাদ প্রতিদিন
মুন্না শেখ, জবি প্রতিনিধি: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকটসহ বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে চার দফা দাবির প্রেক্ষিতে সাধারণ শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং সক্রিয় সকল রাজনৈতিক দলের নেতা কর্মী সমন্বয়ে ‘জবি ঐক্য’ নামক একটি নতুন প্ল্যাটফর্মের ব্যানারে এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (১২ মে) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাস্কর্য চত্বরে এই সমাবেশ হয়।
সমাবেশে বক্তারা বাজেট বৈষম্যের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং হল সংকট নিরসনের জন্য দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানান।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধক্ষ সবিনা শারমিন বলেন, ‘আমরা আমাদের শিক্ষার্থীদের জন্য আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। আবাসন ভাতা একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। ইউজিসির সাথে বৈঠক করে আমরা আমাদের শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসন ভাতা বৃদ্ধির চেষ্টা করছি।’
শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. রইছ উদ্দিন বলেন, ‘আমরা অতীতে বহু প্রশাসনকে দেখেছি যারা বাহির থেকে এসে নিজেদের এজেন্ডা বাস্তবায়িত করেছে শুধু। বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্যা নিয়ে ভাবে নি। আমি লক্ষ করেছি পূর্বে যখন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন আন্দোলন হয়েছে তখন প্রশাসন আন্দোলনকারীদের বিভিন্ন বিভিন্ন ট্যাগ দিয়ে দমন করতে চেয়েছে। আবাসন আমাদের ন্যায্য অধিকার। অতীতে আমাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। এখন আর কোন ধরনের বৈষম্য মেনে নেওয়া হবে না।’
ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. বিলাল হোসেন বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি ভবন বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে, যেকোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে। সবসময় আতঙ্কে থাকতে হয়। আমরা কেন আমাদের ক্যাম্পাসকে উন্নত করতে পারছি না, সেটি নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। আমাদের দাবি একটাই—প্রথম ক্যাম্পাসকে সুসজ্জিত করতে হবে। দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের দায়িত্ব সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। অতি দ্রুত সেখানকার কাজ শেষ করে শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসন উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। বর্তমানে ক্যাম্পাসে বিকেল ৩টার পর বাস ছেড়ে যায়, ফলে ক্যাম্পাস কার্যত বন্ধ হয়ে পড়ে। গবেষণার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজও মাঝপথে ছেড়ে বাস ধরতে হয়। এমন পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে এসে এমন ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে আমরা রাত ১০টা কিংবা ১২টা পর্যন্তও কাজ চালিয়ে যেতে পারি।”
ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০১৯-২০ সেশনের শিক্ষার্থী নূর নবী বলেন, “প্রতিটি স্তরেই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে বৈষম্য করা হচ্ছে। মন্ত্রণালয় ও সচিবালয়ে এমন কিছু স্বৈরাচারী দোসর বসে আছে, যারা ইচ্ছাকৃতভাবে জবির বাজেট আটকে দিচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে ১১টি হলের কথা বলা হলেও বাস্তবে সেগুলো বিভিন্ন গোষ্ঠীর দখলে। প্রশাসন এখনও এসব হল বা জমি উদ্ধার করতে পারেনি। বলা হচ্ছে, জমিগুলো ভেস্টেড প্রপার্টি (ভিপি), যেখানে নির্মাণের অনুমতি নেই। অথচ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক হলই ভিপি জমিতে গড়ে উঠেছে। এই বৈষম্যের জবাবদিহিতা আমাদের কাছেই করতে হবে।”
ইংরেজি বিভাগের ২০১৮-১৯ সেশনের শিক্ষার্থী প্রিয়ন্তী বলেন, “আমরা যখন অধিকার আদায়ের জন্য শিক্ষকদের পাশে চাই, তখন অনেক শিক্ষক আমাদের সহায়তা করেন না। তারা আমাদের অবজ্ঞা করেন। এতে আমাদের লজ্জা লাগে, কিন্তু শিক্ষকরা লজ্জা পান না—কারণ তারা আমাদের সন্তান মনে করেন না। অথচ শিক্ষার্থীরাই সবচেয়ে বড় লিডার, এটি সবার মনে রাখা উচিত।”
শিক্ষার্থীদের চার দফা দাবি—
১. জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ষিক বাজেট বৃদ্ধি করতে হবে এবং ২০২৫–২৬ অর্থবছরের বাজেটে অন্তত ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থীর জন্য আবাসন ভাতা অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
২. দ্বিতীয় ক্যাম্পাস এবং পুরান ঢাকার ড. হাবিবুর রহমান হল ও বাণী ভবনের নির্মাণকাজ আগামী ১০ মে ২০২৫-এর মধ্যে শুরু করতে হবে।
৩. বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে হল ও দ্বিতীয় ক্যাম্পাস নির্মাণ কার্যক্রমের অগ্রগতি প্রতি ১৫ দিন অন্তর মুক্তমঞ্চে এসে অবহিত করতে হবে।
৪. আগামী ১৫ মে ২০২৫-এর মধ্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জকসু) নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করতে হবে।
বায়তুল মোকাররমে মুসল্লি-পুলিশ তুমুল সংঘর্ষ
বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সামনে মুসল্লিদের একাংশের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ চলছে। এই সংঘর্ষে সময় সংবাদের চিত্রসাংবাদিকসহ অনেক সাংবাদিক আহত হয়েছেন। পোড়ানো হয়েছে বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেল।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ রাবার বুলেট ও টিয়ারশেল ছুঁড়ছে। জলকামানও ব্যবহার করা হচ্ছে। থেকে থেকে সংঘর্ষ চলছে। এই ঘটনায় সাংবাদিকসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছেন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজে থাকা আহতরা জানান, দেখেই মনে হচ্ছিলো তারা আগেই প্রস্তুতি নিয়ে মসজিদে ঢুকেছে। নামাজ শেষ হতেই ব্যাগ থেকে লাঠিসোঠা ইট পাটকেল বের করে অতর্কিতে হামলা শুরু করে।
সর্বশেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে অবস্থান নিয়েছে পুলিশ। ভেতর থেকে ইটপাটকেল ছোঁড়া থেমে নেই।
শুক্রবার (২৬ মার্চ) জুমার নামাজের পর এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।