a
ফাইল ছবি
আজ সন্ধ্যা ৭টায় জাতির উদ্দেশে ভাষণে তফসিল ঘোষণা করবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল। আজ সকাল ১০টায় এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ইসি সচিব মো. জাহাংগীর আলম।
তিনি জানান, বিকেল ৫টায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়ালের নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন বৈঠকে বসবে। বৈঠক শেষে সন্ধ্যা ৭টার দিকে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন সিইসি। ওই ভাষণেই তফসিল সংক্রান্ত ঘোষণা দেওয়া হবে।
তফসিল ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আগারগাঁওয়ে কমিশন ভবন ও এর আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। এছাড়া কমিশন ভবনে এনআইডি সংশোধনের জন্য ব্যক্তিগত শুনানি মঙ্গলবার থেকে বন্ধ রাখা রয়েছে।
এর আগে নভেম্বরের প্রথমার্ধে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা দেওয়ার কথা জানিয়ে আসছিল নির্বাচন কমিশন। সূত্র: বিডি প্রতিদিন
ফাইল ছবি
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির দল তৃণমূল কংগ্রেস আবারও নির্বাচনে ঐতিহাসিক বিজয় লাভ করায় মমতা ব্যানার্জিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন। বুধবার মমতা ব্যানার্জিকে লেখা এক পত্রে ড. মোমেন এ অভিনন্দন জানান।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তৃণমূল কংগ্রেস ধারাবাহিকভাবে তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠনে জনগণের সমর্থন লাভ করেছে, যা আপনার নেতৃত্বের প্রতি পশ্চিমবঙ্গের জনগণের অব্যাহত আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতিফলন।
আমরা আপনার প্রতি কৃতজ্ঞ, কারণ আপনি বাঙালির দীর্ঘ লালিত মূল্যবোধ ‘ধর্মীয় সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ’ ধারণ করেছেন এবং এ ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধু সারাজীবন অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন।
ড. মোমেন উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে চমৎকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বিদ্যমান এবং সাম্প্রতিক বছরে দু’দেশের পারস্পারিক সহযোগিতার সম্ভাব্য ক্ষেত্রগুলো আরও প্রসারিত হয়েছে।
অবিভক্ত ইতিহাস, সংস্কৃতি, ভাষা, মূল্যবোধ এবং বংশানুক্রমিক সংযোগ দু’দেশের জনগণের সম্পর্ককে অনন্য ও শক্তিশালী করেছে। বিশেষ করে, পশ্চিমবঙ্গের জনগণ বাংলদেশিদের হৃদয়ে বিশেষ স্থান দখল করে রেখেছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী, মুজিববর্ষ এবং বাংলাদেশ ও ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর উদযাপনের এ বিশেষ বছরে আমি পশ্চিমবঙ্গের জনগণসহ ভারতের জনগণ এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের সমর্থন ও আত্মত্যাগকে কৃতজ্ঞতার সহিত স্মরণ করছি।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আপনার অঙ্গীকার ও সহযোগিতার মাধ্যমে দু’দেশের সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে এবং অনিষ্পন্ন বিষয়গুলোর সমাধান হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।’
ড. মোমেন আরও বলেন, অজানা শত্রু করোনাভাইরাসের ফলে সারাবিশ্ব নজিরবিহীন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ দু’দেশের পারস্পারিক সম্পদ ও অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং জনগণের কল্যাণে কাজ করে যেতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।
আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, সবাই সম্মিলিতভাবে এ মহাবিপদ থেকে মুক্ত হয়ে শিগগিরই স্বাভাবিক জীবন-যাপনে ফিরে আসবো।
ছবি: মুক্তসংবাদ প্রতিদিন
সবুজ হাওলাদার, ঢাকা: ‘জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও এসডিজির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে একটি বড় বাধা হিসেবে কাজ করে তামাক। পাশাপাশি এসডিজি’র ১৭টি লক্ষ্যকেই বাধাগ্রস্থ করছে তামাক। তাই ২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজি অর্জনে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন শক্তিশালীকরণের বিকল্প নেই।’
আজ রবিবার সকালে (২৩ ফেব্রুয়ারী’২৫) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে-(ডিআরইউ) ঢাকা আহছানিয়া মিশন আয়োজিত ‘বর্তমান প্রেক্ষাপটে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এমন তথ্য জানান বক্তারা।
ঢাকা আহছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য ও ওয়াশ সেক্টরের পরিচালক ইকবাল মাসুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মূখ্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, স্বাস্থ্যখাত সংস্কার কমিশনের সদস্য ও স্কয়ার ক্যান্সার সেন্টারের কো-অর্ডিনেটর অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আকরাম হোসেন এবং আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট আইনজীবী সমিতির ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. মাহফুজুর রহমান মিলন এবং ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক ইনকিলাবের জেষ্ঠ্য সাংবাদিক মাইনুল হাসান সোহেল।
মূল প্রবন্ধে তামাক নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের সমন্বয়কারী মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশে ১৫ বছর ও তদুর্ধ্ব জনগোষ্ঠীর মধ্যে তামাক ব্যবহারের হার ৩৫.৩ শতাংশ। তামাক ব্যবহারজনিত রোগে দেশে প্রতিবছর ১ লাখ ৬১ হাজার মানুষ মৃত্যুবরণ করে, পঙ্গুত্ববরণ করে বছরে প্রায় ৪ লাখ মানুষ, পরোক্ষ ধূমপানে শিকার ৪২.৭ শতাংশ। দেশের ৩০ শতাংশ বন উজাড় করে তামাক পাতা পোড়ায় তামাক কোম্পানীগুলো। আমেরিকান ক্যান্সার সোসাইটির ২০১৯ সালে প্রকাশিত গবেষণা ফলাফল অনুযায়ী, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে তামাক ব্যবহারের অর্থনৈতিক ক্ষতির (চিকিৎসা ব্যয় এবং উৎপাদনশীলতা হারানো) পরিমাণ ৩০ হাজার ৫৬০ কোটি টাকা, যা একইসময়ে এই খাত থেকে অর্জিত রাজস্ব আয়ের (২২ হাজার ৮১০ কোটি) চেয়ে অনেক বেশি। সবমিলিয়ে বাংলাদেশে তামাকের ব্যবহার জনস্বাস্থ্য, অর্থনীতি এবং পরিবেশের জন্য ক্রমবর্ধমানভাবে হুমকি সৃষ্টি করছে।
বক্তারা বলেন, তামাক কোম্পানির মূল টার্গেট কিভাবে এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে তামাকে আসক্ত করে ব্যবসা বাড়ানো যায়। তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনে তামাকপণ্যের প্রচার ও বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ হলেও কার্যকর বাস্তবায়নের অভাবে তামাক কোম্পানির কূটকৌশল ও চটকদার বিজ্ঞাপনের ফলে, অরক্ষিত হয়ে পড়েছে দেশের তরুণরা।এক্ষেত্রে রাষ্ট্রের উচিত তামাক কোম্পানির ছোবল থেকে তরুণদের সুরক্ষা প্রদান করা। তাই বিদ্যমান ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০০৫ (সংশোধিত ২০১৩) যুগোপযোগী করতে হবে।
বক্তারা আরো বলেন, সম্প্রতি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন শক্তিশালীকরণের যুগান্তকারী উদ্যোগ হাতে নিয়েছে যা অত্যন্ত প্রসংশনীয়। তবে আইন শক্তিশালী হলে রাজস্ব আদায়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে তামাক কোম্পানী অপপ্রচার চালাচ্ছে যা একেবারেই ভিত্তিহীন। আইন শক্তিশালীকরণের সাথে রাজস্ব কমার কোন সম্পর্ক নেই। অন্যদিকে খূচরা বিক্রেতার আয়ের উপরেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা নেই।
সভাপতির বক্তব্যে ইকবাল মাসুদ বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রণীত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশোধনী পাসের মাধ্যমে এফসিটিসি’র সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ও শক্তিশালী করতে হবে যা জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও এসডিজির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি, তামাক কোম্পানির কূটকৌশল ও হস্তক্ষেপ মোকাবেলায় এফসিটিসি আর্টিক্যাল ৫.৩ অনুসারে নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে।