a
সংগৃহীত ছবি
করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় রোজ মৃত্যু বাড়ছে। শনাক্ত রোগীর সংখ্যাও বেড়েই চলেছে। এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ দৈনিক মৃত্যু গতকাল একদিনে ১৫৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।
দেশে কঠোর লকডাউন দিয়েও সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি। গতকাল ৮৬৬১ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে। নমুনা পরীক্ষার তুলনায় শনাক্তের হার বেড়ে ২৮ দশমিক ৯৯ শতাংশ।
এমতাবস্থায় চলমান সর্বাত্মক লকডাউন আরও এক সপ্তাহ বাড়ানো হতে পারে জানা গেছে। আজ অথবা আগামীকাল মঙ্গলবার লকডাউন বাড়ানোর বিষয়ে ঘোষণা আসতে পারে।
এ বিষয়ে রোববার রাতে কোভিড-১৯ বিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সদস্য অধ্যাপক এম ইকবাল আর্সলান বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আমরা আগেই কমপক্ষে দুই সপ্তাহ লকডাউনের পরামর্শ দিয়েছিলাম। সুপারিশে আমরা বলেছিলাম করোনার সুফল পেতে হলে তিন সপ্তাহ লকডাউন আইডিয়াল, না হলে কমপক্ষে দুই সপ্তাহ লকডাউন দিতে হবে।’
রোববার চলমান কঠোর লকডাউন আরও এক সপ্তাহ বাড়ানোর সুপারিশ করেছে কোভিড-১৯ বিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি। সরকার বিষয়টি বিবেচনায় রেখেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক নয়। মৃত্যুর সংখ্যা এখনো একশ’র বেশি। তাই বিধিনিষেধের মেয়াদ আরও বাড়ানোর বিষয়ে চিন্তা-ভাবনা করা হচ্ছে।’
কতদিন বাড়তে পারে- জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে ৭ দিন বাড়তে পারে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘করোনায় যে হারে মৃত্যু ও আক্রান্ত হচ্ছে, বিধিনিষেধ বাড়ানো ছাড়া সরকারের কাছে অন্য কোনো পথ খোলা নেই।’
কোভিড-১৯ বিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সুপারিশের আলোকে ২৮ জুন থেকে ৩০ জুন তিন দিন সীমিত পরিসরে লকডাউন ঘোষণা করে সরকার।
এরপর ১ জুলাই থেকে দেশব্যাপী শুরু হয় কঠোর বিধিনিষেধ। যা শেষ হবে ৭ জুলাই। নতুন করে ৭ দিন সময় বাড়ানো হলে ১৪ জুলাই পর্যন্ত চলবে এই কঠোর বিধিনিষেধ।
গত ৩০ জুন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করে লকডাউনের বিধিনিষেধ দেওয়া হয়েছে।
বিধিনিষেধ বাস্তবায়নে অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে মাঠে রয়েছে সেনাবাহিনী। বিনা প্রয়োজনে বের হলেই গ্রেফতার করা হচ্ছে। গত চারদিনে শুধু ঢাকায়ই সহস্রাধিক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সূত্র: যুগান্তর
সংগৃহীত ছবি
চলতি মাসের শেষে অর্থাৎ আগস্ট মাসের প্রথম সপ্তাহে কোভ্যাক্স থেকে আরও ৬০ লাখ ডোজ ফাইজারের টিকা আসছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক।
শনিবার (১০ জুলাই) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) কনভেনশন সেন্টারে ফিল্ড হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, গতকাল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে আমাদের কাছে চিঠি এসেছে। চিঠিতে তারা জানিয়েছে চলতি মাসের শেষের দিকে বা আগস্ট মাসের শুরুতেই ৬০ লাখ ডোজ ফাইজারের টিকা আমাদেরকে দেওয়া হবে।
এর আগে গত ৩ জুলাই ও ৪ জুলাই দেশে সর্বমোট ৪৫ লাখ টিকা পৌঁছেছে। মোট চার ধাপে যুক্তরাষ্ট্র থেকে মডার্নার ২৫ লাখ ও চীন থেকে সিনোফার্মের ২০ লাখ ডোজ টিকা এসেছে।
ফাইল ছবি
বিশ্বকাপ বাছাইয়ে ইউরোপ অঞ্চলে পাঁচ ম্যাচ পর জয়ের দেখা পেল বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স। ঘরের মাঠে ফিনল্যান্ডকে ২-০ গোলে হারিয়েছে ফরাসিরা। জোড়া গোল করেছেন সদ্য সাবেক বার্সা তারকা অ্যান্তনিও গ্রিজম্যান। এই জয়ের সঙ্গে গ্রুপ টেবিলের শীর্ষে অবস্থান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। অস্বস্তি আর ছন্দহীনতা যেন চেঁপে ধরেছিল বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের।
টানা ৫ ম্যাচে জয়হীন দিদিয়ের দেশমের দল। যেখানে বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের ম্যাচে পয়েন্ট খোঁয়াতে হয়েছে ইউক্রেন আর বসনিয়া হার্জেগোভিনার মতো দলের বিপক্ষে। অবশেষে চেনা রূপে ফিরেছে ফরাসিরা। অলিম্পিয়াকোতে ম্যাচের শুরু থেকে আক্রমণের পসরা সাজায় গ্রিজম্যান-বেঞ্জেমারা। কিন্তু রক্ষণাত্মক ফিনল্যান্ডের রক্ষণ যেন কোনোভাবেই ভাঙ্গতে পারছিল না ফ্রান্স। ২২ মিনিটে গোলটা বলতে গেলে পেয়েই গিয়েছিলেন করিম বেঞ্জেমা। তবে প্রতিপক্ষ গোলরক্ষকের বাঁধায় এগিয়ে যাওয়া হয়নি এই পর্যায়ে।
এরপর আর বেশি অপেক্ষায় থাকতে হয়নি তাদের। ২৫ মিনিটে দারুণ বুঝাপড়ায় ডেডলক ভাঙ্গেন অ্যান্তনিও গ্রিজম্যান। এবার অবশ্য বলটা বানিয়ে দেওয়ার কাজটা করেছেন রিয়াল মাদ্রিদ তারকা করিম বেঞ্জেমা। গোটা স্টেডিয়ামে উল্লাসের জোয়ার। প্রথমার্ধে আরো বেশ কয়েকটি আক্রমণ কাঁপন ধরিয়ে ছিল ফিনল্যান্ডের রক্ষণে। কিন্তু কাজের কাজ হয়নি। ৪৯ মিনিটে কর্নার থেকে পাওয়া বলটা জায়গা মতো পাঠাতে ব্যর্থ ফরাসি ফুটবলার। তবে ৫৩ মিনিটে আর মিস করেননি গ্রিজম্যান। সতীর্থের পাস থেকে পাওয়া বল নিখুঁত ফিনিশিংয়ে জাল কাঁপান ফিনল্যান্ডের। জোড়া গোলের সঙ্গে ২-০ গোলের লিড স্বাগতিক শিবিরে। ৫৯ মিনিটে ফ্রান্সের আক্রমণটা চোখে লেগে থাকার মতো। বেঞ্জেমা, মার্শিয়ালদের দারুণ বোঝাপড়ার ফিনিশিংটা করতে পারেননি গ্রিজম্যান। ফলে মিস করেন হ্যাটট্রিকও। ৮১ মিনিটে আরও একটা সুযোগ নষ্ট হয় দেশম বাহিনীর। শেষ দিকে একটা সুযোগ তৈরি করেছিল ফিনল্যান্ড। তবে ফ্রান্স গোলরক্ষকের বাঁধা ব্যবধান কমানো হয়নি। শেষ পর্যন্ত ২-০ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। সেই সঙ্গে ৬ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে অবস্থান ফ্রান্সের।