ঢাকা মঙ্গলবার, ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৯, ২৯ নভেম্বর, ২০২২
Mukto Sangbad Protidin

পদ্মা সেতু-অভ্যন্তরীণ ভূ-রাজনীতির ট্রাম্প কার্ড


আবু হানিফ, বিশেষ প্রতিনিধি, মুক্তসংবাদ প্রতিদিন শনিবার, ০২ জুলাই, ২০২২, ১২:০২
পদ্মা সেতু-অভ্যন্তরীণ ভূ-রাজনীতির ট্রাম্প কার্ড
ফাইল ছবি

দেশি-বিদেশি অনেক ষড়যন্ত্রের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে অবশেষে ২৫ জুন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার  হাত দিয়ে উদ্ভোধন হলো আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতির মহাকাব্যিক গেম চেঞ্জার পদ্মা সেতু।পদ্মা সেতু কেবল একটি ইট - পাথরের অবকাঠামো নয়,  এটি  বাঙালির বিজয়,  আত্মপরিচয়, আত্মমর্যাদা,  অহংকার, গর্ব ও  সক্ষমতার প্রতীক। ষড়যন্ত্র পদদলিত করে বিশ্বের বুকে মাথা উচুঁ করে দাঁড়ানোর স্তম্ভ । সুকান্ত ভট্টাচার্যের ভাষায় - জলে পুড়ে মরে ছারখার তবু মাথা নোয়াবার নয়। জাতির পিতার ৭ই মার্চের ভাষণে বলেছিলেন  'আমাদের কেউ দাবায়ে রাখতে পারবা না' । মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পদ্মা সেতু উদ্ভোধনের মধ্যদিয়ে জাতির পিতা আর সুকান্তের কথার আবারও  প্রমাণ দিয়ে উচ্চারণ করলেন "যতবারই হত্যা করো জন্মাবো আবার, দারুণ সূর্য হবো লিখবো নতুন ইতিহাস "।

আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতির ট্রাম্প কার্ড স্বপ্নের পদ্মা সেতু উদ্ভোধনের মধ্যদিয়ে  বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির পাশাপাশি  আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতিতেও পদ্মা সেতু নতুন গেম চেঞ্জার হবে।

পদ্মা সেতু নির্মাণে সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছিল যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের নিয়ন্ত্রিত   বিশ্বব্যাংক। বিশ্বব্যাংকের সে বাধার সঙ্গে হাত মিলিয়েছিল এডিবি, আইডিবি ও জাপানের  জাইকা। অথচ পদ্মা সেতু উদ্বোধনে সেই তারা  ও বিশিষ্টজনেরা কী বলে একটু দেখে নিই :

ঢাকায় নিযুক্ত  মার্কিন দূতাবাস থেকে বিবৃতি হলো " পদ্মা সেতুর  নির্মাণসাফল্য দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক যোগাযোগের উন্নয়নে বাংলাদেশের নেতৃত্বের ‘উদাহরণ’ "।

অন্যদিকে নিজস্ব  অর্থায়নে পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্প সঠিকভাবে সম্পন্ন করায় বাংলাদেশকে অভিনন্দন জানিয়েছে  বাংলাদেশে নিযুক্ত বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর মার্সি মিয়াং টেম্বন।

শুধু তাই না  জাপানের রাষ্ট্রদূত  ইতো নাওকি বলেন, " পদ্মা সেতু নির্মিত হয়েছে নিজস্ব উদ্যোগ ও অর্থায়নে। এটা স্পষ্টভাবে বলে দেয় যে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও জাতীয় স্থিতির মাধ্যমে বাংলাদেশ অনেক কিছুই করতে পারে এবং পদ্মা সেতু সেই সক্ষমতার জানান দিয়েছে  "।

ভিডিও বার্তায় চীনা রাষ্ট্রদূত নিজস্ব অর্থে বাংলাদেশের পদ্মা সেতু নির্মাণে সাহসিকতার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ‘সেতুটি আমার কাছে সাহসের একটি প্রতীক। স্বল্পোন্নত দেশ বাংলাদেশ এমন সেতু নির্মাণ করতে পারবে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট  সংশয় ছিল। তারপরও বাংলাদেশের মানুষ তাদের স্বপ্ন অনুসরণ করার সিদ্ধান্ত নেয়। আজ সেতুটি শুধু বাস্তবায়নই হয়নি, বাংলাদেশের নিজস্ব অর্থায়নে এর শতভাগ নির্মিত হয়েছে। এতে প্রতীয়মান হয় যে যদি সাহসের কোনো সীমা না থাকে, তবে আকাশ তার সীমা।’

অপরদিকে বাংলাদেশের বন্ধুপ্রতিম প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের  বাংলাদেশে নিযুক্ত  হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী বলেন 'বাংলাদেশের গর্ব ও মর্যাদার প্রতীক পদ্মা সেতু দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের জন্যই অত্যন্ত  গুরুত্বপূর্ণ '।

ড. মোহাম্মদ ইউনুস বলেন " পদ্মা সেতু দক্ষিণ অঞ্চলে মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ছিলো আর সেটার সফল বাস্তবায়নের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ "

পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন বলেন, ‘বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতায় বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারিত্বের প্রতিফলন নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু প্রকল্প বাস্তবায়ন। এই সেতু আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতিতে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ় ও সুসংহত করবে।’

পদ্মা সেতু উদ্বোধন ভোটের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগকে খানিকটা এগিয়ে নিল কিনা— এমন প্রশ্নের জবাবে কাদের সিদ্দিকী বলেন, নিশ্চয়ই নেবে। কেউ কাজ করলে সে অগ্রসর হবে না কেন।

বর্তমানে আওয়ামীলীগের কট্টর সমালোচক ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী  বলেন, ‘আজকে জাতির এই সাহসী উদ্যোগের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই। অত্যন্ত আনন্দঘন অনুভূতি এটা। একাত্তরেও মুক্তিযুদ্ধ করতে পেরেছি। আজকে পদ্মা সেতু নিজের চোখে দেখতে পেরেছি। এটি আমার জীবনের বড় একটি আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ হয়ে গেছে। উনি অনেক ভালো কাজ করেছেন। এখন উনার সুস্বাস্থ্য কামনা করছি।’

বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাবেক সংসদ সদস্য মেজর ( অব)  আকতার বলেন - বেগম খালেদা জিয়া সাবেক  প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পদ্মা সেতু উদ্বোধন অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে মাননীয়  প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ দিতে পারতেন। এতে ইতিবাচক জনমত তৈরি হতো বলেই আমি বিশ্বাস করি ।

রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আলী শিকদার (অব.) বলেন - যারা নিজস্ব জায়গা থেকে আওয়ামী লীগের বিরোধিতা করে এবং নাম শুনতে পারে না, তাদের একটি অংশও আজ বলতে বাধ্য হচ্ছে, শেখ হাসিনা সত্যি পেরেছেন, তিনি পারেন। জাতীয় নেতৃত্বের বিশাল স্বীকৃতি। দক্ষিণ অঞ্চলের ২১ জেলায় যাঁরা বিএনপির সাধারণ নেতাকর্মী রয়েছেন, তাঁদের মুখেও শোনা যাচ্ছে, শেখ হাসিনা ছাড়া অন্য কেউ এই পদ্মা সেতু করতে পারতেন না। সুতরাং আগামীর রাজনীতিতে এর একটি প্রভাব থাকবে, সেটিই স্বাভাবিক।

পদ্মা সেতু ভৌগলিকভাবে খণ্ডিত বাংলাদেশকে একসঙ্গে করেছে বলে মনে করেন যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ বুয়েটের  অধ্যাপক ড. শামসুল হক।

অন্যদিকে রাষ্ট্রের অখণ্ডতার জন্য পদ্মা সেতু ভীষণ জরুরি ছিল বলে মনে করে পদ্মা সেতুতে কারিগরি টিমে কাজ করা নদী বিশেষজ্ঞ  ড. আইনুন নিশাত। তিনি আরো বলেন বিশ্ব ব্যাংক রাজনৈতিক কারণে পদ্মা সেতুর অর্থায়ন বন্ধ করে দিয়েছে। দূর্নীতি হলে সেটার দায়ভার আমার আর ড.জামিলুর রেজা চৌধুরীর হতো।

বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. মারুফ মল্লিক বলেন -
কূটনীতিতে পূর্বানুমান  অনুসারে ভূরাজনীতির  ঘুঁটির বুদ্ধিদীপ্ত ব্যবহার প্রতিপক্ষের ওপর চাপ প্রয়োগ করে। পদ্মা সেতুর কারণে  যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চীনা চাপ সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছে।  পদ্মা সেতুর ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব অত্যন্ত জটিল। তাই এ সেতু নিয়ে চীনের উচ্ছ্বাস ভিন্ন মাত্রার।

গণতন্ত্রে  জনগণই হলো সবচেয়ে বড় শক্তি। বিভিন্ন রকম নানাবিধ সমস্যা পরও আওয়ামীলীগ সরকার এক পদ্মা সেতু দিয়ে দেশের সিংহ ভাগ মানুষের  সমর্থন এবং সহমর্মিতা আদায় করেতে সক্ষম হয়েছে।  সে কারণেই পদ্মা সেতু জাতীয়  রাজনীতির মাঠে সব হিসাব-নিকাশ পাল্টে দিয়েছে। এই আবেগ, উচ্ছ্বাস- ও আনন্দের কারণে বিরোধী দল হঠাৎ করে এখন যেমন আন্দোলনের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারবে না, তেমনি ভূ-রাজনীতির খেলোয়াড়েরা  বিপুল জনসমর্থনে থাকা এই সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন রকম চাপ প্রয়োগ করেও খুব একটা সফল হতে পারবে বলে মনে হয়  না। ঐক্যবদ্ধ  জনগণের শক্তি যে বড় শক্তি, সেটি পদ্মা সেতু আবারও প্রমাণ করেছে। এই সেতু উদ্বোধনের মধ্যদিয়ে জনগণ আওয়ামী লীগ সরকারকে বিশ্বাস করতে শিখেছে যে,  শেখ হাসিনা যা বলেন তা পালন করেন। ফলে আগামী রাজনীতিতে পদ্মা সেতু একটি বড় ফ্যাক্টর হিসেবে দাঁড়াবে।

প্রমত্ত পদ্মায় সেতু নির্মাণ শুধু দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নেই না আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতেও এর প্রভাব অপরিসীম হবে। এ সেতুকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার রাজনীতির দাবার চাল  যুক্তরাষ্ট্র থেকে চীনের দিকে গমন করতে পারে বলে মনে করেন দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ।
ভূ-রাজনৈতিক বিবেচনায় বাংলাদেশকে বলা হয় ‘দক্ষিণ- পূর্ব এশিয়ার সেতু’। বর্তমান বিশ্বে উন্নয়নের সুতিকাগার ইউরোপ নয়, বরং এশিয়া।  বর্তমান বিশ্বের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র হলো এশিয়া এবং অত্র অঞ্চলে বাংলাদেশের অবস্থান একবারে কেন্দ্র পর্যায়ে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের উন্নয়ন মানেই হচ্ছে এশিয়ার উন্নয়ন।  সাম্প্রতিক সময়ে বুঝা যাচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিযোগীতা- প্রতিদ্বন্দ্বীতাপূর্ণ ভূ-রাজনৈতিক খেলায় বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ অভিনেতা হিসাবে আবির্ভূত  হয়ে উঠেছে। এইরূপ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ একটি ‘উন্নয়ন হাব’ হিসেবে  যদি  পদ্মাসেতুর গুরুত্ব বিবেচনা করে দেশ হিসাবে  নিজেদের সক্ষমতা  কাজে লাগাতে পারে তাহলে সামনের দিনগুলোতে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের গ্রহণযোগ্যতা আরো বৃদ্ধি পাবে তাতে কোন সন্দেহ নেই এবং দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে নিয়ন্ত্রকের ভূমিকায় গুরুত্বপূর্ণ পালাবদলের ভুমিকায় থাকবে এই পদ্মা সেতু।

গত এক দশকে পশ্চিমা  নিয়ন্ত্রিত অর্থনৈতিক ব্যবস্থার বিপরীতে চীনকেন্দ্রিক নতুন এক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার উত্থান  লক্ষ করা যাচ্ছে ।  পদ্মা সেতুকেন্দ্রিক রাজনীতিতে চীন প্রথমেই বিশ্বব্যাংককে হারিয়ে দিয়েছে। বিশ্বব্যাংকের পরাজয় মানে কার্যত যুক্তরাষ্ট্রেরই পরাজয়। এতে দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্র চীনের থেকে পিছিয়ে গেল।

রাশিয়া - ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতির মেরুকরণ ও সমীকরণ বদলে যাওয়ার সম্ভাবনা  স্পষ্ট হচ্ছে। চীন-ভারতের সম্পর্কে বরফ গলা শুরু হয়েছে। টাইমস নার্ড নামের ভারতের একটি জনপ্রিয় সংবাদ চ্যানেলে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. জয়শঙ্কর বলেছেন, ‘চীনের সঙ্গে আমাদের সমস্যা রয়েছে, তবে সেটি দেখভাল করার জন্য ভারত একাই যথেষ্ট, অন্য কারো সংশ্লিষ্টতার প্রয়োজন নেই। ’ এটিকে চীন - ভারতের সুসম্পর্ক হিসাবেও অনেকে ইঙ্গিত করেছেন। চীনও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়েছে।
জয়শঙ্কর আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছেন - ইউরোপের সমস্যাকে ইউরোপবাসী বিশ্বের সমস্যা মনে করে। কিন্তু বিশ্বের অন্যান্য সমস্যাকে ইউরোপ নিজেদের সমস্যা মনে করে না। তিনি আরো বলেছেন, আগামী দিনে ইউরোপকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থার পরিবর্তন হবে, যে কথা চীন বহু আগে থেকেই বলে আসছে।

এসব বক্তব্য থেকে স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে চীন-ভারত সম্পর্কের মধ্যে সুঘ্রাণের বাতাবরণ তৈরি হয়েছে, এই সুসম্পর্ক অব্যাহত থাকলে  পুরো এশিয়া অঞ্চলের ভূ-রাজনৈতিক আবহাওয়ার বিশাল পরিবর্তন ঘটবে। সেই পরিবর্তনের ঢেউ এসে পড়বে পদ্মা সেতুর ওপর।
 সুতরাং পদ্মা সেতুর যেমন অভ্যন্তরীণ গুরুত্ব রয়েছে, তেমনি রয়েছে বহুমাত্রিক ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব।

অনেক ষড়যন্ত্র ও হাজারো  চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার  বিচক্ষণ, দূরদর্শী, চৌকশ নেতৃত্বের মাধ্যমে পদ্মা সেতুর উদ্ভোধন  বাংলাদেশের জন্য এক বিরাট মহাকাব্য।  এই মহাকাব্যিক অর্জন বিশ্বরাজনৈতিক পরিমন্ডলে আমাদেরকে প্রতিষ্ঠিত করেছে অনন্য মর্যাদায়-অনন্য উচ্চতায়। মর্যাদার এই আসন সমুন্নত রেখে  আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতির  প্রতিটি পথচলায় লাল-সবুজের এই মহাকাব্যিক অগ্রযাত্রাকে উঁচিয়ে ধরে নায্য অধিকার আদায়ের জন্য দল,মত নির্বিশেষে সবাইকে দেশপ্রেমে উদ্ভুদ্ধ হয়ে  কাজ করতে হবে।

লেখকঃ ইঞ্জিনিয়ার  ফকর উদ্দিন মানিক
সভাপতিঃ সিএসই এলামনাই এসোসিয়েশন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।
(লেখকঃ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি পাঠ্য বই)

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন / কে. আলম

ঈদ পূণর্মিলনী ও করোনাকালীন জনকল্যাণে করনীয় শীর্ষক বৈঠক


কাজল, সিলেট প্রতিনিধি:
শনিবার, ২৪ জুলাই, ২০২১, ১২:৪১
ঈদ পূণর্মিলনী ও করোনাকালীন জনকল্যাণে করনীয় শীর্ষক বৈঠক

ফাইল ছবি

বাংলাদেশ প্রেস ক্লাব হবিগঞ্জ জেলা কমিটির সাংবাদিকগণ ঈদ পরবর্তী পূণর্মিলনী ও করোনাকালীন জনকল্যাণে করনীয় শীর্ষক এক বৈঠক ২৩ জুলাই শুক্রবার হবিগঞ্জে অস্থায়ী কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। 

বৈঠকে দৈনিক মুক্ত সংবাদ প্রতিদিন-এর সিলেট বিভাগীয় প্রতিনিধি ও বাংলাদেশ প্রেস ক্লাব হবিগঞ্জ জেলার আহ্বায়ক সাংবাদিক শেখ মোঃ আব্দুল কাদির কাজলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। 

সদস্য সচিব এম এ হান্নানের সঞ্চালনায় অন্যান্যদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিকবৃন্দ জনাব মুজিবুর রহমান খান, মীর দুলাল, আছাদুজ্জামান চৌধুরী, শাহেনা আক্তার, শেখ শামসুল ইসলাম, জমির আলী ও নজরুল ইসলাম প্রমুখ।

বৈঠকে করোনার এই দুর্যোগ পরিস্থিতিতে নিজেদের সুরক্ষা রেখে জনসচেতনতামূলক কর্মকান্ডে নিজেদের আরও নিবিড়ভাবে কিভাবে সম্পৃক্ত করা যায়, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত হয় নিজেদের সংগঠনগুলোর উদ্যোগে জনসচেতনতার পাশাপাশি মাস্ক ও সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ।
 

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন / কে. আলম

রীতিমত সার্কাস  চলছে পরীমনিকে নিয়ে: সিটি ব্যাংকের এমডি


এমএস. প্রতিদিন ডেস্ক::
বুধবার, ১১ আগষ্ট, ২০২১, ০৫:৫১
রীতিমত সার্কাস  চলছে পরীমনিকে নিয়ে: সিটি ব্যাংকের এমডি

ফাইল ছবি

মাদক মামলায় গ্রেফতার চিত্রনায়িকা পরীমনিকে নিয়ে সারা দেশে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। গত এক সপ্তাহ ধরে সংবাদমাধ্যমে খবরের শিরোনামে ঠাঁই পেয়েছে তার নাম। এক কথায় টক অব দ্য কান্ট্রি। এদিকে পরীমনি ইস্যুতে আরো বেশ কিছু নাম জড়িয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তালিকায়।

গ্রেফতার হয়েছেন রাজ মাল্টিমিডিয়া প্রযোজনা কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা নজরুল ইসলাম রাজ। এদিকে পরীমনিকে বিলাসবহুল গাড়ি উপহার দিয়েছেন সিটি ব্যাংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাসরুর আরেফিন— সম্প্রতি গণমাধ্যমে এমন একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।

এ সংবাদকে মিথ্যাচার বলে দাবি করেন সিটি ব্যাংকের এমডি মন্তব্য করেছেন, পরীমনিকে নিয়ে যা চলছে তা একটা রীতিমত সার্কাস।

মঙ্গলবার রাতে এমন মন্তব্য লিখে নিজের ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছেন মাসরুর আরেফিন।

তার দীর্ঘ স্ট্যাটাসের একটি অংশে লেখা রয়েছে, ‘আগস্ট আবছায়া’ ও ‘আন্ডারগ্রাউন্ড’ উপন্যাসের প্রধান কথা এই যে, নির্বিচার নৃশংসতা কারও ওপরেই না চলুক—দেশ নির্মাতার ওপরেও না, কোনো কবি ও কার্টুনিস্টের ওপরেও না। পরীমনিকে নিয়ে যা চলছে তা একটা রীতিমত সার্কাস, যা কিনা এভাবে চলতে থাকলে আমরা শিগগির ভাল্লুকের ডাক শিখে ফেলতে যাচ্ছি নিশ্চিত। ওই ডাকেরই ভদ্রস্থ নাম—সহিংসতা। সহিংস হয়েন না। মায়া রাখুন মানুষের প্রতি। এক নিৎশের ‘ডাক’ শুনে হিটলার হিটলার হয়েছিলেন। 

পরীমনি কাণ্ডে যা দেখছি তাতে মনে হচ্ছে সবার হাতে একটা করে জীবনানন্দ দাশের ‘রূপসী বাংলা’ তুলে দিই, যাতে করে নিস্তব্ধ দুপুরে চালতে গাছের ছায়ায় দাঁড়িয়ে চিলের ‘ডাক’ শোনার কল্পনা করে আপনি মাথা ঠাণ্ডা রাখতে পারেন। ভালবাসা সবার জন্য, ব্যক্তিমানুষ পরীমনিসহ। ন্যায়বিচারই প্রাপ্য তার, আর প্রাপ্য—বিচারের আগেই ছিন্নভিন্ন না হয়ে যাওয়া। আইনের বিচারের আগেই কেউ যেন সমাজের বিচারের হাতে টুকরো না হয়ে যায়। কারণ এইটা ট্রাইবাল-নৃশংস-খুনি এক হায়েনা-গোত্রের, দাঁত ও জিভ বের করে বিকৃত নৃশংসতার প্রেমে পড়ে থাকা, ‘গ্রাম্য’ সমাজ।’

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন / কে. আলম
Share on Facebook