a বর্তমান সঙ্কটের সমাধান, জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা করে একযোগে কাজ করা
ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ মাঘ ১৪৩২, ০৩ ফেরুয়ারী, ২০২৬
https://www.msprotidin.com website logo

বর্তমান সঙ্কটের সমাধান, জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা করে একযোগে কাজ করা


কর্ণেল(অব.) আকরাম, মুক্তসংবাদ প্রতিদিন
বুধবার, ৩০ জুলাই, ২০২৫, ০৬:০৮
বর্তমান সঙ্কটের সমাধান, জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা করে একযোগে কাজ করা

ছবি সংগৃহীত

 

কর্ণেল(অব.) আকরাম: 'সঙ্কটের মূল সুর' বলতে একটি জটিল পরিস্থিতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও কেন্দ্রীয় দিকটি বোঝানো হয়। এটি সেই মূল সমস্যা বা ইস্যু, যার চারপাশে সবকিছু আবর্তিত হয় এবং যা সমাধান না করা পর্যন্ত সঙ্কট নিরসন সম্ভব হয় না। এটি হচ্ছে সমস্যার কেন্দ্রবিন্দু—যেখান থেকে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে বা যেখানে সমাধান নিহিত রয়েছে। প্রকৃত সমস্যাটি কোথায়, তা বোঝা গেলে সমাধানের পথও খুঁজে পাওয়া সহজ হয়। এটি সেই মৌলিক বিষয়, যা পুরো সঙ্কটের ভিত্তি তৈরি করে এবং কখনও কখনও এটি এমন একটি নির্ধারক মুহূর্তকে নির্দেশ করে, যেখানে সঠিক সিদ্ধান্ত বা পদক্ষেপ নেওয়া আবশ্যক হয়ে পড়ে।

ব্যক্তি, পরিবার বা জাতীয় জীবনে সঙ্কট নিরসনের ক্ষেত্রে এই 'মূল সুর' চিহ্নিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি চিহ্নিত করতে পারলে প্রচেষ্টা সঠিক খাতে পরিচালিত করা যায় এবং দ্রুত ও কার্যকর সমাধান সম্ভব হয়। সঙ্কটের মূল সুর বা কেন্দ্রীয় সমস্যাটি নির্ণয় করতে হলে, তা বিশ্লেষণ করে গভীরভাবে বোঝার প্রয়োজন হয়।

আমাদের দেশের মতো একটি রাষ্ট্রে যেখানে নানা রকম সমস্যা বিদ্যমান, সেখানে এই মূল সুর হতে পারে—অদক্ষতা ও দুর্নীতি। একটি সামাজিক সঙ্কটে মূল সুর হতে পারে—গভীর প্রোথিত বৈষম্য। একটি রাজনৈতিক সঙ্কটে তা হতে পারে—মূল জাতীয় ইস্যু নিয়ে মতবিরোধ বা জনগণের আস্থার অভাব।

স্বাধীনতার পর থেকেই আমরা সামাজিক, রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক নানা সঙ্কটে ভুগছি। কিন্তু এই দীর্ঘমেয়াদি সঙ্কটের মূল সুর হিসেবে জাতীয় ঐক্যের অভাবকে চিহ্নিত করা হয়েছে। 

স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের শুরুর সময়েই সরকার দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করার পরিবর্তে বিভক্ত করার পথ বেছে নেয়, যার পেছনে ছিল গুপ্ত অভিসন্ধি। এর ফলে ১৯৭৫ সালের আগস্টে শেখ মুজিব সরকারের পতন পর্যন্ত মাত্র চার বছরের মধ্যেই দেশ অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলায় নিমজ্জিত হয়ে পড়ে।

এই অবস্থায় বাংলাদেশ সৌভাগ্যক্রমে পায় জিয়াউর রহমানের মতো একজন দূরদর্শী ও দৃঢ় নেতৃত্বসম্পন্ন রাষ্ট্রনায়ককে, যিনি মাত্র পাঁচ বছরের মধ্যে একটি আধুনিক বাংলাদেশের ভিত্তি স্থাপন করেন। 

‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ ধারণাটি তার একটি ঐতিহাসিক কীর্তি, যা বিভক্ত জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার উদ্দেশ্যে প্রবর্তিত হয়েছিল। জিয়াউর রহমান জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজনকে গভীরভাবে অনুধাবন করেছিলেন এবং সেই অনুযায়ী কার্যকর নীতি গ্রহণ করে সফলতার সাথে তা বাস্তবায়ন করেছিলেন।

জিয়াউর রহমানের দ্বিতীয় ঐতিহাসিক অবদান ছিল—দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র চালু করা, যা শেখ মুজিবুর রহমান বিলুপ্ত করেছিলেন, যদিও তিনি নিজেকে একজন গণতন্ত্রবাদী বলে দাবি করতেন। জিয়া আওয়ামী লীগকেও নতুন করে রাজনীতি শুরু করার সুযোগ দেন এবং বাম ও ডানপন্থী রাজনৈতিক দলগুলোকে পৃষ্ঠপোষকতা দেন। ইসলামপন্থী রাজনীতির ক্ষেত্রেও অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

এর ফলে দেশে একটি সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ে ওঠে, যেখানে সব রাজনৈতিক দল সক্রিয়ভাবে গণতান্ত্রিক চর্চায় অংশ নিতে পারে। অতীতের ব্যর্থতা সত্ত্বেও আওয়ামী লীগ সংসদে বিরোধীদল হিসেবে জায়গা করে নেয়। এটি ছিল এক সত্যিকারের জাতীয়তাবাদী নেতৃত্বের দূরদর্শী পদক্ষেপ।

জিয়াউর রহমানই ছিলেন একমাত্র নেতা যিনি রাজনৈতিক সঙ্কটের মূল সুর বুঝতে পেরেছিলেন এবং একটি সুশৃঙ্খল, ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। তার নেতৃত্বে গঠিত বিএনপি (বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল) রাজনৈতিক সঙ্কটের মুহূর্তে একটি সময়োপযোগী ও প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। এটা নিঃসন্দেহে তার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও দূরদর্শিতার ফল।

এরশাদ এবং খালেদা জিয়া শাসনামলে জাতীয় ঐক্য তেমন হুমকির মুখে পড়েনি। কিন্তু ২০০৮ সালে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এসে তার পিতার নীতি অনুসরণ করে জাতিকে চিরতরে বিভক্ত করার জন্য পরিকল্পিতভাবে পদক্ষেপ নেন। তিনি ভারতের সরাসরি সহায়তা ও আশীর্বাদে একধরনের ফ্যাসিস্ট শাসক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। কিন্তু ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব শেখ হাসিনার শাসনের অবসান ঘটায়। তার পিতার মতো তাকেও ক্ষমতা হারাতে হয় গণ-অভ্যুত্থানের মুখে পড়ে দেশ ত্যাগ করতে বাধ্য হয়ে। একে বলে ভাগ্যের পরিহাস—ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি।

বাংলাদেশের নিরীহ জনগণ বরাবরই ভারতের আধিপত্যবাদী রাজনীতির বলি হয়েছে। জনগণ এখন সঙ্কটের মূল সুর—জাতীয় ঐক্যের অভাব—সঠিকভাবে বুঝতে শিখেছে। ১৯৭১ সাল থেকে ভারতই ছিল জাতীয় বিভক্তির অন্যতম রূপকার। কিন্তু জনগণের ঐক্যের মধ্য দিয়ে যে সুযোগ সৃষ্টি হয়েছিল, তা রাজনীতিক দলগুলোর ব্যর্থতার কারণে এখন আবার ধ্বংসের মুখে। যদি রাজনৈতিক দলগুলো এই ‘মূল সুর’ বুঝতে ব্যর্থ হয়, তাহলে জুলাই বিপ্লবের সুফলও হাতছাড়া হয়ে যাবে।

আমরা একটি বিপ্লবী সরকার গঠনের সুযোগ হারিয়েছি। এখন সেটা উপলব্ধি করার জন্য অনেক দেরি হয়ে গেছে। বিএনপি একটি ঐতিহ্যবাহী দল হওয়ায় নবগঠিত এনসিপি‑র বিপ্লবী চিন্তাধারার সাথে সমন্বয় করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয় এবং তা প্রত্যাশাও করা যায় না। জামায়াতে ইসলামি বাংলাদেশ কিছু রাজনৈতিক পরিপক্কতার পরিচয় দিলেও, দেশের সবচেয়ে বড় জাতীয়তাবাদী শক্তির (বিএনপি) সঙ্গে দূরত্ব সৃষ্টি করেছে—যা অনেকের মতে, একটি ভুল রাজনৈতিক কৌশল। ভবিষ্যতের রাজনীতিতে জামায়াত একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হবে এবং কল্যাণ রাষ্ট্র গঠনে তাদের ভূমিকাও অপরিহার্য হবে, তবে এখনই সময় নয়—তাদের অপেক্ষা করতে হবে।

এখন বিএনপির উচিত—একটি পরিপক্ক রাজনৈতিক দলের* মতো আচরণ করা। জাতি প্রত্যাশা করে—তারা যেন সবকিছু দেশপ্রেম ও জাতীয়তাবাদের চেতনা নিয়ে পরিচালনা করে। তাদের সামনে ভুল করার আর সুযোগ নেই।

এনসিপি, জন্মলগ্ন থেকেই অভ্যন্তরীণ ও বহিঃশত্রু দুই দিক থেকেই চাপে* রয়েছে। তাদের মাঝে রাজনৈতিক পরিপক্কতা ও সহনশীলতার ঘাটতি রয়েছে, যা রাজনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চাঁদাবাজির অভিযোগ তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা সরকারের উপর নির্ভর না করে স্বনির্ভর রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে গড়ে ওঠার চেষ্টা করা উচিত। গোপালগঞ্জ ও কক্সবাজারের ঘটনা তাদের রাজনৈতিক পরিপক্কতার অভাব প্রমাণ করেছে। তারা তরুণ, কিন্তু এখনও কেউ ক্যারিশমাটিক নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারেননি—যা একটি রাজনৈতিক দলের সাফল্যের জন্য অপরিহার্য। জাসদের ব্যর্থতা ও বিএনপি‑র সাফল্য তারই প্রমাণ। বেগম খালেদা জিয়াও নিজেকে একজন সত্যিকারের জাতীয়তাবাদী নেত্রী হিসেবে প্রমাণ করেছেন এবং বিএনপি‑কে দেশের সবচেয়ে বড় ও বিশ্বাসযোগ্য জাতীয়তাবাদী শক্তিতে পরিণত করেছেন।

রাজনীতিতে কোনো শর্টকাট নেই—এটি একটি সময়সাপেক্ষ প্রজ্ঞা ও পরিপক্কতার খেলা। এনসিপি নেতৃত্বের উচিত এখনই রাজনৈতিক সঙ্কটের মূল সুর বুঝে নেওয়া এবং এমন কোনো যাত্রা শুরু না করা, যা বাস্তবায়ন এখন প্রায় অসম্ভব। জামায়াতের সামনে জাতীয় ঐক্য গঠনে বিশাল ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে, আর জাতি তাকিয়ে আছে—বিএনপি‑র ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের দিকে*। অতীতে তারা যা পেরেছিল, এবারও তাদের প্রমাণ করতে হবে।

আমাদের অবশ্যই সচেতন থাকতে হবে—এই সঙ্কটের মূল সুরের মূল চক্রান্তকারীরা আবার সক্রিয় হতে পারে। তারা হয়তো পতিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগকে পুনরায় মাথা তুলতে সহায়তা করতে চাইবে। এক্সাইল সরকার গঠনের ঘোষণাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। জুলাই বিপ্লবের অংশীদারদের এখন আরও বেশি ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে—সব ধরনের ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় প্রস্তুত থাকতে হবে।

জাতীয় ঐক্যের বিকল্প নেই—এখন সময় জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার জন্য সবাইকে একযোগে কাজ করার। জাতীয় ঐক্যের গুরুত্ব কাউকে ভুলে গেলে চলবেনা।
 

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন / কে. আলম

এরিক এরশাদের অভিযোগ: আমার ও মায়ের কিছু হলে চাচা দায়ী


এমএস.প্রতিদিন ডেস্ক:
বৃহস্পতিবার, ০৮ জুলাই, ২০২১, ০৪:৫৮
এরিক এরশাদের অভিযোগ: আমার ও মায়ের কিছু হলে চাচা দায়ী

সংগৃহীত ছবি

আমার ও আমার মায়ের কিছু হলে আমার চাচা জিএম কাদের দায়ী থাকবেন মন্তব্য করে জাতীয় পার্টির সাবেক প্রেসিডেন্ট হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের ছেলে এরিক এরশাদ অভিযোগ করে বলেছেন, ‘আমি সাবেক প্রেসিডেন্ট হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সন্তান। আজ আমার বাবা নেই। এই সুযোগে আমার চাচা জিএম কাদের জন্ম পরিচয় তুলে আমার ও আমার মা বিদিশা এরশাদের বিরুদ্ধে গত দুদিন ধরে নিউজ করাচ্ছেন।’

রাজধানীর বারিধারায় এরশাদের প্রেসিডেন্ট পার্কের বাসায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে তিনি একথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে এরিক এরশাদ বলেন, 'আমার মায়ের বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থপাচারের অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং তা আমার চাচা জিএম কাদেরের ষড়যন্ত্র। আমার ও আমার মায়ের কিছু হলে আমার চাচা জিএম কাদের দায়ী থাকবেন।'

তার ও তার মায়ের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে জানিয়ে এরিক এরশাদ এরিক বলেন, 'বাবার মৃত্যুর পর থেকে সহায় সম্পত্তির লোভে চাচা জিএম কাদের ষড়যন্ত্র করে আসছেন। এখনও তিনি ষড়যন্ত্র করছেন। আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।'

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন / কে. আলম

আরও পড়ুন

আমি কাদম্বরী ========


ফেসবুক ডেস্ক:
বুধবার, ০৫ মে, ২০২১, ০৫:০১
আমি কাদম্বরী

শীলা ঘটক । ফাইল ছবি


ঠাকুরবাড়ির বাজার সরকার শ্যাম গাঙ্গুলীর তিন নম্বর মেয়ে__
রবির আদরের নতুন বৌঠান।
রবি ডাকতোও খুব মিষ্টি করে, নতুন-বৌ-ঠান ___
কথায় বলে জন্মদিনে বিয়ে দিতে নেই___
নয় বছরে জ্যোতির সঙ্গে বিয়ে হলো ঐ তারিখেই___
বিধাতা হয়তো এটাই চেয়েছিলেন!
আমি কাদম্বরী_____
কোন ছেলেপুলে হলো না____
‘বাঁজা’ বলে ঠাকুরবাড়ির মানুষের দুচোখের বিষ,
সারাক্ষণ আমায় নিয়ে চলত ফিসফাস।
আমার বাবাকে পাঠিয়ে দেওয়া হলো গাজীপুরের জামিদারি দেখতে।
বেয়াইমশাই মেয়ের বাড়িতে থাকবে!
সেটা আবার হয় নাকি!
নয় বছর থেকে একেবারে একা!
আমি কাদম্বরী____
ঊর্মিলা আমার ননদ স্বর্ণকুমারীর মেয়ে
দু বছর বয়স ওর
আমার বড় আদরের
ওকে খাওয়ানো, স্নান করানো, ঘুম পাড়ানো __
সব করতুম আমি।
বাড়ির পেছনের ঘোরানো লোহার সিঁড়ি দিয়ে
পড়ে গেল একদিন___
বাঁচলো না___চলে গেল চিরতরে।
আমার ভালোবাসার প্রান পাখীটি চলে গেল___
আমি একেবারে একা......
জ্যোতির উপযুক্ত বউ হতে পারিনি আমি!
বাজার সরকার শ্যাম গাঙ্গুলীর তিন নম্বর মেয়ে আমি।
শ্বশুরমশায়ের ইচ্ছেতে বিয়েটা হয়েছিল,
মেজজা-ভাসুর কারোর ভালো লাগেনি আমায়......
গায়ের রঙ কালো ......
জ্যোতির মতো রাজপুত্তুরের এই বৌ!
ঠাকুরবাড়ির দমবন্ধ ঘরে____
খোলা জানালা দিয়ে দক্ষিণা বাতাসের মতো___
রবি আসতো আমার ঘরে।
আমার রবি।
যাকে আমি খুব ভালোবাসতুম খু-ব।
রবি আমার চেয়ে দুবছরের ছোটো।
রবির এই আসা-যাওয়া নিয়েও অ-নে-ক খোঁটা!
আমি কাদম্বরী ____
কবিতা লিখতুম, একা থাকতে থাকতে
লিখে ফেলেছিলুম অনেকগুলো কবিতা।
রবি তা নিয়ে হাসিঠাট্টা করতও খুব।
দুজনে মিলে ঘরের সামনে গড়েছিলুম নন্দনকানন।
রবির বিয়ে হয়ে গেল___
আবার আমি একা।
অবসাদে ভ’রে থাকতো মন___
বেশ কদিন হলো রবি আর আসে না।
নতুন বৌ এসেছে যে, তার ঘরে......
আমাকে সময় দেবার সময় কই তার!
আমি কাদম্বরী___
একদিন জ্যোতিকে বললুম, আজকের রাত টা আমার কাছে থাকো না......
জ্যোতি চলে গেল_____
শুনলে না আমার কথা।
বেঁচে থাকার ইচ্ছে গুলো এক এক করে শেষ হয়ে গেল
এই বিশাল বাড়িতে আমি একেবারে একা।
মা কে মনে পড়ে না____
মা থাকলে হয়তো জন্মের তারিখে বিয়ে দিত না আমায়......
আমি তো সত্যিই সুখী হলুম না,
চারদিকটা অন্ধকার---ঘন অন্ধকার___
চোখের জল আর কবিতা লেখা____
একদিন জ্যোতির পকেট থেকে পেলুম একটা চিঠি____
প্রেমের চিঠি, ভালোবাসার চিঠি, সোহাগের চিঠি...
গোপন কিছু কথার চিঠি________ এক নটীর চিঠি!
জ্যোতির জীবনে আমি একেবারেই শূন্য____
বুঝলুম সেইদিন___ খুব বেশী করে ......
বেঁচে থাকার শেষ ইচ্ছেটুকুও রইল না আর ___
বাজার সরকার শ্যাম গাঙ্গুলীর তিন নম্বর মেয়ে
আমি কাদম্বরী।

------শীলা ঘটক, এফবি/দেশ পত্রিকা, কোচবিহার

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন / কে. আলম
Share on Facebook

মুক্তসংবাদ প্রতিদিন এর জনপ্রিয়

সর্বশেষ - রাজনীতি