a
চোখের জলই যেন এখন আছমা বেগমের একমাত্র সম্বল। এবারের কঠোর লকডাউনে অভাবের তাড়নায় আছমা বেগম রাজধানীর রাস্তায় মাস্ক বিক্রি করা শুরু করেছেন, এর আগে তিনি গৃহকর্মীর কাজ করতেন।
কিন্ত আছমা আগে যে বাড়িতে কাজ করতেন, সেই বাড়ির মালিকের চাকরি চলে যাওয়ায় তারাও এখন গ্রামের বাড়িতে চলে গেছেন। আর তাই আছমা বেগম কঠোর লকডাউনের মধ্যে কর্মহীন হয়ে পড়ে।
তিন সন্তানের জননী। স্ট্রোক করার পর থেকে স্বামী এখন পর্যন্ত কোন কাজ করতে পারে না। আছমার কাজের টাকা দিয়েই তাদের সংসার চলতো। তাই তিনি মানিকনগর তার বাসা থেকে একটি কাজের সন্ধানে বের হয়েছিল। কিন্ত এ কঠোর লকডাউনে কোন কাজের ব্যবস্থা করতে না পেরে মাস্ক বিক্রির কথা ভাবেন। দোকানে গিয়ে তিনি দেখেন এক বক্স মাস্ক কিনতে লাগে ১১০ টাকা অর্থাৎ এক প্যাকেট মাস্কের দাম ১১০ টাকা। কিন্তু আছমার কাছে ছিল মাত্র ৯০ টাকা। এক প্রকার আকুতি-মিনতি করেই তিনি এক প্যাকেট মাস্ক কিনে বিক্রি শুরু করেন সন্তানদের মুখে দু'মুঠো খাবারের ব্যবস্থা করতে।
ছবি: মুক্তসংবাদ প্রতিদিন
সাইফুল আলম, ঢাকা: চাঁদপুরকে আধুনিকতার ছোঁয়ায় রূপান্তরিত করতে ঢাকাস্থ চাঁদপুর সমিতির নতুন কমিটি গঠন হয়েছে। সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন অধ্যক্ষ মো. সালাউদ্দিন ভূঁইয়া আর সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ উপাধ্যক্ষ নূরুজ্জামান হীরা।
মানবিক চাঁদপুর গঠনের লক্ষ্যে ঢাকায় বসবাসরত চাঁদপুর জেলার বাসিন্দাদের নিয়ে গঠিত ঢাকাস্থ চাঁদপুর সমিতি। আত্নপ্রকাশের পর আহ্বায়ক কমিটি সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছে। আজ বুধবার (১৭ ডিসেম্বর ২০২৫ইং) সন্ধ্যায় রাজধানীর পল্টনস্থ সীগাল চাইনিজ রেস্ট্রুরেন্টে উৎসবমুখর পরিবেশে নতুন কমিটির আত্মপ্রকাশ ঘটে। এই সময় প্রধান নির্বাচন কমিশনার এসএএম মিজানুর রহমান খান আগামী ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের ২১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির মধ্যে শীর্ষ ৬ পদের নাম ঘোষনা করেন।
এতে ঢাকাস্থ চাঁদপুর সমিতির নতুন সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন অধ্যক্ষ মো. সালাউদ্দিন ভূঁইয়া আর সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ উপাধ্যক্ষ নূরুজ্জামান হীরা।
কমিটির অন্যরা হলেন- সিনিয়র সহ সভাপতি এবিএম হানিফ মাস্টার, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিঃ গাজী আহমেদ উল্লাহ ও অর্থ সম্পাদক মোহাম্মদ হোসেন মিয়া। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অপর দুই নির্বাচন কমিশনার মোঃ বোরহান উদ্দিন প্রধান ও হাফেজ মেঃ মোহাসিন।
এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি শাহরিয়ার পলাশ, টেক্স কর্মকর্তা এএনএম শামিম হাসান, আট উপজেলার গন্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ। ঘোষিত কমিটি দ্রুততম সময়ের পূর্নাঙ্গ কমিটি গঠন করে সমিতির কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।
ফাইল ছবি
জরুরি চিকিৎসাসেবা দিতে কোনো সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অসম্মতি জানাতে পারবে না বলে আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
হাসপাতাল, ক্লিনিক বা চিকিৎসকের কাছে কোনো অসুস্থ ব্যক্তিকে নেওয়া হলে তাৎক্ষণিক তাকে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা দিতে হবে। সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অসম্মতি জানাতে পারবে না।
তবে জরুরি স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থা না থাকলে তাকে কাছের কোনো হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হবে। সব সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের তালিকা আগামী তিন মাসের মধ্যে আদালতে দাখিল করতে বলা হয়েছে।
জরুরি চিকিৎসাসেবা বিভাগ রয়েছে এমন হাসপাতাল ও ক্লিনিকের পৃথক তালিকা এবং সেগুলোর বর্তমান অবস্থার বিস্তারিত বিবরণ দাখিল করতে হবে।
রোববার এক রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি এসএম মনিরুজ্জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
একইসঙ্গে দেশে বিদ্যমান সব সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক প্রয়োজন বিশেষে যে কোনো অসুস্থ ব্যক্তিকে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা দিতে অসম্মতি জানানোকে কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত।
কোনো হাসপাতাল বা ক্লিনিকে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার ব্যবস্থা না থাকলে জরুরি সেবা রয়েছে এমন কাছের কোনো হাসপাতালে উক্ত ব্যক্তিকে কেন পাঠানো হবে না রুলে তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।
বেসরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিকের নতুন লাইসেন্স ইস্যু করার সময় এবং বিদ্যমান রেজিস্টার্ড হাসপাতাল বা ক্লিনিকের লাইসেন্স নবায়ন করার সময় জরুরি স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ আবশ্যিকভাবে বিদ্যমান থাকতে হবে- এমন শর্ত যুক্ত করে দিতে কেন নির্দেশনা দেওয়া হবে না- রুলে তাও জানতে চেয়েছেন আদালত।
স্বাস্থ্যসচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) প্রেসিডেন্ট, বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ অ্যাসোসিয়েশন ও বাংলাদেশ প্রাইভেট হাসপাতাল ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনকে চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
আদালতের আদেশ সম্পর্কে রিটের পক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম বলেন, এ আদেশের ফলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মুমূর্ষু রোগীকে জরুরি চিকিৎসাসেবা দিতে বাধ্য থাকবে। সূত্র: যুগান্তর