a
ফাইল ছবি
এশিয়া কাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে টসে জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। এবারের আসরে প্রথম বারের মতো বাংলাদেশের মুখোমুখি আফগানিস্তান।
মঙ্গলবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে টসের মধ্য দিয়ে এবারের আসর শুরু করলো বাংলাদেশ। টুর্নামেন্টের তৃতীয় ম্যাচে আজ মুখোমুখী হচ্ছে বাংলাদেশ বনাম আফগানিস্তান। খেলাটি শুরু হবে রাত ৮টা থেকে।
আফগানিস্তান অবশ্য জয় দিয়ে শুরু করেছে এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্বের ১৫তম আসর। নিজেদের প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ৮ উইকেটে সহজ জয় পেয়েছিল আফগান শিবির।
ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটে শুরু থেকেই দুর্দান্ত ক্রিকেট খেলে যাচ্ছে আফগানিস্তান। ইতোমধ্যে ১০০ ম্যাচ খেলে ৬৭টিতে জয় তুলে নিয়েছে তারা। পরাজয় মাত্র ৩৩টিতে। অন্যদিকে বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টিতে ১৩১ ম্যাচে অংশ নিয়ে মাত্র ৪৩টিতে জয় পেয়েছে। হার ৮৩ ম্যাচে।
বাংলাদেশ একাদশ : নাঈম শেখ, এনামুল হক, সাকিব আল হাসান (অধিনায়ক), আফিফ হোসেন, মুশফিকুর রহিম (উইকেট রক্ষক), মোসদ্দেক হোসেন, মাহমুদউল্লাহ, মেহেদী হাসান, সাইফউদ্দিন, তাসকিন আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান।
আফগানিস্তান একাদশ : হজরতুল্লাহ জাজাই, রহমানুল্লাহ গুরবাজ (উইকেট-রক্ষক), ইব্রাহিম জাদরান, কারিম জানাত, নাজিবুল্লাহ জাদরান, মোহাম্মদ নবী (অধিনায়ক), রশিদ খান, আজমাতুল্লাহ ওমরজাই, নবীন-উল হক, মুজিব উর রহমান ও ফজল হক ফারুকী। সূত্র: নয়াদিগন্ত
ঘনিয়ে আসছে টি-টুয়ান্টি বিশ্বকাপ। আজ ১০ সেপ্টেম্বর ই হলো দল ঘোষণার বেধে দেওয়া সময়ের শেষ দিন, তবে নিয়ম অনুযায়ী দল ঘোষণার পর পরিবর্তন করা যাবে স্কোয়াড। আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য ১৫ সদস্যের শক্তিশালী দল ঘোষণা করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ড। দলে রেখেছেন অভিজ্ঞ ক্রিকেটার ক্রিস গেইল, আন্দ্রে রাসেল ও ব্রাভোকে। এছাড়াও দীর্ঘ ৬ বছর পর ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলে ফিরেছেন রবি রামপাল।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের কথা আসলেই সবার আগে নাম উঠে আসবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলটির কথা। তাঁর কারণ বেশ পরিস্কার। গত দুই আসরের চ্যাম্পিয়ন দল তাঁরা। ২০১২ সালে শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ জিতেছিল ক্যারিবীয়রা। ভারতে অনুষ্ঠিত হওয়া ২০১৬ বিশ্বকাপের ট্রফিও নিজেদের ঘরেই তুলেছে ক্যারিবীয়রা।
এছাড়াও এই দলে রয়েছেন পোলার্ড, গেইল, রাসেলদের মতো টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে দাপিয়ে বেড়ানো ক্রিকেটাররা। আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য দল ঘোষণা ক্রিকেট দেশটির ক্রিকেট বোর্ড। ১৫ সদস্যের মূল দলে চমক বলতে পেসার রবি রামপাল।
দীর্ঘ ছয় বছর পর ওয়েস্ট ইন্ডিজের টি-টোয়েন্টি দলে এই অভিজ্ঞ পেসার। অবশ্য টি-টোয়েন্টি দলে যুক্ত করার পেছনে রয়েছে ঘরোয়া ক্রিকেটের পারফরম্যান্স। চলমান সিপিএলে সাত ম্যাচে ৭ উইকেট পেয়েছেন রামপাল। এছাড়াও টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে প্রথমবারের মতো ডাক পেয়েছেন রোস্টন চেজ। সিপিএলে ৭ ম্যাচে ১৫০ এরও বেশি স্ট্রাইক রেটে করেছেন ২৮১ রান।
এছাড়াও যথারীতি বিশ্বকাপের স্কোয়াডে রাখা হয়েছে অভিজ্ঞ ওপেনার ক্রিস গেইলকে। দলে রয়েছেন ডোয়াইন ব্রাভো, আন্দ্রে রাসেল, শিমরন হেটমায়ার, নিকোলাস পুরনের মতো বিপজ্জনক ব্যাটসম্যান।
১৫ সদস্যের মূল দলে জায়গা না হলেও দলের সঙ্গে আরব আমিরাতে যাবেন জেসন হোল্ডার, ড্যারেন ব্রাভো, শেল্ডন কটরেল, আকিল হোসেইন। আগামী ২৩ অক্টোবর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু করবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সুপার ১২ এ ইংল্যান্ডের পাশাপাশি প্রতিপক্ষ হিসেবে রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া।
এক নজরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের টি-টোয়েন্টি স্কোয়াডঃ কাইরন পোলার্ড-(অধিনায়ক), নিকোলাস পুরান-(সহ অধিনায়ক), ফাবিয়ান অ্যালেন, ডোয়াইন ব্রাভো, রোস্টন চেজ, আন্দ্রে ফ্লেচার, ক্রিস গেইল, আন্দ্রে রাসেল, শিমরন হেটমায়ার, এভিন লুইস, ওবেড ম্যাকয়, রবি রামপাল, ওশান থমাস, হেইডেন ওয়ালশ জুনিয়র, লেন্ডল সিমন্স।
রিজার্ভঃ ড্যারেন ব্রাভো, শেল্ডন কটরেল, জ্যাশন হোল্ডার, আকিল হোসেইন।
ছবি সংগৃহীত
কর্নেল(অব.) আকরাম: কটি জাতির জন্য পদ্ধতি বা ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং একটি সরকারি ব্যবস্থাপনা অনুসরণ করার কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু ফরাসি বিপ্লবের পর থেকে আমরা বর্তমান বিশ্বে বিভিন্ন পদ্ধতির মধ্যে সংঘাত দেখতে পাচ্ছি। বিশ্বে অতীতে বিভিন্ন পদ্ধতির অভিজ্ঞতা রয়েছে। পশ্চিমে রাজতন্ত্র ও রাজপ্রথা এবং পূর্বে খিলাফত ব্যবস্থা ছিল, কিন্তু উভয় ব্যবস্থাই এখন বিলুপ্ত।
বর্তমান সময় গণতন্ত্রের যুগ এবং এটি এখন পর্যন্ত সারা বিশ্বে সর্বোত্তম সরকারি ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচিত। একটি দেশের সংবিধান সরকারের গঠন ও কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বাংলাদেশ স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে প্রণীত সংবিধান নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল, কিন্তু এটি জনগণের ভালো শাসনের উদ্দেশ্য পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। এটি বাংলাদেশের জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণেও ব্যর্থ হয়েছে।
জনগণের অধিকার ও আকাঙ্ক্ষার বিষয়ে আমাদের অতীত অভিজ্ঞতা খুব একটা ইতিবাচক নয়। বর্তমান সংবিধানে নাগরিকদের অধিকার সম্পর্কে অনেক ভালো বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হলেও তা কখনই বাস্তবায়িত হয়নি। উপরন্তু অতীতে দেশের জনগণকে শাসকদের দ্বারা সব সময়ই হয়রানি ও চাপের মুখে রাখা হয়েছে।
যেহেতু দেশের বেশিরভাগ জনগণ মুসলিম, তাই তাদের প্রত্যাশা সংবিধানে প্রতিফলিত হওয়া উচিত। জনগণের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে এবং নাগরিকদের এমন একটি ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশের প্রশাসনে সক্রিয় ভূমিকা পালনের সুযোগ দিতে হবে যা তাদের জন্য উপযুক্ত। একটি টেকসই কল্যাণমুখী সমাজ গঠনের জন্য এই ব্যবস্থাকে অর্থবহ ও ব্যবহারিক করে তুলতে গভীর গবেষণা এবং সুচিন্তিত পরিকল্পনা প্রয়োজন।
দেশের জনগণ সংবিধানে আর কোনো মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেখতে প্রস্তুত নয়, বরং তারা একটি সত্যিকারের কল্যাণ রাষ্ট্রের দিকনির্দেশনা চায়। একটি জাতি মূলত তার সংবিধানের মাধ্যমেই গঠিত হয় এবং এটি যথাযথ যত্ন ও বিচক্ষণতার সাথে করা উচিত। রাতারাতি কোনো ভালো ফলাফল অর্জিত হয় না। আমরা অতীতে ভয়াবহ দুর্ভোগের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি এবং কোনো অশুভ ভবিষ্যৎকে আমরা প্রশংসা করব না। ভবিষ্যতে যেকোনো ব্যবস্থা সংক্রান্ত উদ্যোগে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের চেতনা ও আকাঙ্ক্ষা প্রতিফলিত হওয়া উচিত। আমাদের জনগণ সবচেয়ে বেশি কষ্টভোগ করছে এবং তারা তাদের দুর্ভোগের অবসান চাইছে।
২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব নিঃসন্দেহে জাতিকে বর্তমান সংবিধানের উপযোগিতা নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করার সুযোগ তৈরি করেছে। এদিকে জাতি দুটি শিবিরে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। এক শিবিরে রয়েছে বিএনপি এবং অন্যটিতে রয়েছে সিএনসি, একটি নতুন ছাত্রনেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক দল। জামাত সম্ভবত এনসিপির পদক্ষেপের পক্ষে থাকবে। সংবিধান ও শাসন ব্যবস্থা নিয়ে দুটি শিবিরের মধ্যে একটি সত্যিকারের সংঘাতের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
উভয় পক্ষই অনমনীয় ও একগুঁয়েমী বলে মনে হচ্ছে এবং সমস্যা সমাধানের জন্য পারস্পরিক সমঝোতার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। এদিকে এনসিপির নেতারা ইঙ্গিত দিয়েছেন যে শাসন ব্যবস্থা নিয়ে বাংলাদেশে নিকট ভবিষ্যতে একটি রাজনৈতিক সংঘাত হতে পারে। সম্প্রতি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের একজন উপদেষ্টা মাহফুজ আলম বলেছেন যে দেশটি যুদ্ধের পরিবেশের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
১৯৭২ সাল থেকে আমরা কখনই সত্যিকারের স্বাধীনতা অনুভব করতে পারিনি এবং ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনা শাসনামলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে যখন আমরা আমাদের নিজ দেশের উপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছি। গত পনেরো বছর ধরে ভারত বাংলাদেশের মালিক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। মনে হচ্ছে আমরা আমাদের ইতিহাসের সাম্প্রতিক অতীত ভুলে গেছি এবং তাদের অনুগ্রহ পাওয়ার চেষ্টা করছি।
ঐক্যের মাধ্যমে অর্জিত সাফল্য এখন মারাত্মক হুমকির মুখে এবং এটি মোকাবেলা করার জন্য আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। পরাজিত শত্রুরা এই অস্থির পরিস্থিতিকে তাদের সুবিধা নেওয়ার সুযোগ হাতছাড়া করবে না। আমরা সম্পূর্ণ জেনেশুনেই আমাদের নিজেদের পায়ে কুড়াল মারতে চলেছি। আমরা কি এতই মূর্খ যে সাম্প্রতিক পরিবর্তনগুলোর পরেও আমাদের জাতীয় স্বার্থ বুঝতে পারছি না?
এনসিপির প্রত্যাশা অনুযায়ী দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্রের বিষয়ে একটি জাতীয় সংলাপ হোক। আসুন আমরা আমাদের প্রত্যাশার বিষয়ে বাস্তববাদী ও ব্যবহারিক হই। প্রতিটি শিবিরকে ধৈর্য ধরতে হবে এবং পরিপক্কতা ও বিচক্ষণতার সাথে কাজ করতে হবে। সবকিছু রাতারাতি করা যায় না। আমরা নতুন বাংলাদেশে ভবিষ্যতে একটি সুস্থ রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার সংস্কৃতি দেখতে চাই। আমাদের আর জনগণকে ভণ্ডামির রাজনীতির শিকার করা থেকে বিরত থাকতে হবে।