a
ফাইল ছবি
এল ক্লাসিকোয় জিতে লা লিগায় পয়েন্ট তালিকায় শীর্ষে উঠল রিয়াল মাদ্রিদ। রবিবার স্যান্টিয়াগো বার্নাবিউতে বার্সেলোনাকে ৩-১ গোলে হারিয়ে এল ক্লাসিকোয় বাজিমাত করল কার্লো আন্সেলোত্তির দল। ম্যাচের ৮২ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে এগিয়ে ছিল রিয়াল। ম্যাচের ১২ মিনিটে করিম বেঞ্জিমার গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর ৩৫ মিনিটে ভালভেরদে-র গোলে লিড দ্বিগুণ করে রিয়েল।
ম্যাচের ৮৩ মিনিটে ব্যবধান কমান বার্সার ফার্নান্দো টোরেস। খেলা শেষের ঠিক আগে পেনাল্টি থেকে ফল রিয়ালের পক্ষে ৩-১ করেন রডরিগো। লা লিগায় ৯ ম্যাচে ২৫ পয়েন্ট পেয়ে শীর্ষে উঠল রিয়াল। অন্যদিকে, মৌসুমে প্রথম হারের স্বাদ পেল জাভির দল।
ফাইল ছবি
ব্রাজিলকে হারিয়ে কোপা আমেরিকা, ইতালিকে গুড়িয়ে ফিনালিজিমা জয়ী লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনাকে আসরের ফেবারিট বলেছিলেন সকলে। ৩৬ ম্যাচ অপরাজিত দলটিতে বাজি ধরা ছিল সহজ। কাতারে প্রথম দুই ম্যাচে চেনা ওই আকাশি-সাদার দেখা মেলেনি। ঘটেছিল অনলাইনে পণ্য অর্ডার করে হতাশ হওয়ার মতো ঘটনা। কিন্তু দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া আর্জেন্টিনা সময় মতোই ফিরেছে। পোল্যান্ডকে ২-০ গোলে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় পা রাখতে সক্ষম হয়েছে।
কিছুটা কঠিন সমীকরণ মাথায় নিয়েই মাঠে নেমেছিলেন লিওনেল মেসিরা। হারলেই আসর থেকে বিদায়। ড্র করলেও নিশ্চিত নয় শেষ ষোলো। অঙ্কের মারপ্যাচে উত্তর মিললেও মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা উড়ন্ত ফ্রান্সের। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন ভিন্ন কোন চিন্তা তাই মাথায় নিয়ে নামার সুযোগ ছিল না আলবিসেলেস্তেদের। পুরো ম্যাচে দুর্দান্ত ফুটবল খেলে ও দ্বিতীয়ার্ধে দুই গোল করে মিলিয়ে দিয়েছে দু'বারের চ্যাম্পিয়ন ল্যাতিন দলটি। শেষ ষোলোয় এখন তারা মুখোমুখি হবে ডেনমার্ককে বিদায় করে 'ডি' গ্রুপের রানার্স আপ হওয়া অপেক্ষাকৃত সহজ প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়ার।
ম্যাচের প্রথমার্ধে গোল করার মতো চারটি সুযোগ পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। এর মধ্যে লিওনেল মেসি ৩৯ মিনিটে পেনাল্টি থেকে দলকে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ পান। হেড থেকে গোল করার চেষ্টা করলে গোলরক্ষকের গ্লাভস চোখে লাগে লিও'র। ভিএআর চেক করে দেওয়া হয় পেনাল্টি। তবে বিতর্কিত ওই পেনাল্টি থেকে গোল করতে পারেননি সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার মেসি। গোলশূন্য হতাশার সমতায় প্রথমার্ধ শেষ করতে হয় আর্জেন্টিনার।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই লিড নেয় আকাশি-সাদা জার্সির দলটি। ম্যাচের ৪৬ মিনিটে গোল করেন মিডফিল্ডার মার্ক এলিস্টার। তাকে দারুণ এক বল বানিয়ে দেন ফুলব্যাক নাহুয়েল মলিনা। এরপর ম্যাচের ৬৭ মিনিটে দ্বিতীয় গোল পায় হার দিয়ে আসর শুরু করা দলটি। গোল করেন লওতারো মার্টিনেজের বদলে শুরুর একাদশে জায়গা পাওয়া তরুণ স্ট্রাইকার জুলিয়ান আলভারেজ। তার গোলের কারিগর ১৮ বছর বয়সী তরুণ অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ। মেক্সিকোর বিপক্ষে দুর্দান্ত গোল করা এনজোও এই ম্যাচে শুরুর একাদশে ছিলেন।
দুই গোলের জয়কে জয় নিশ্চিত করে আজেন্টিনা। পেনাল্টি বাদে অন্তত আরও তিনটি গোল পেলে অবাক হওয়ার কিছু থাকতো না। সব মিলিয়ে ম্যাচে গোল পোস্টেই কেবল ১২টি শন নিয়েছে লিওনেল স্কালোনির দল। লক্ষভ্রষ্ট সাতটি আক্রমণের কথা তো বাদই থাকলো। বিপরীতে লেভারা গোলে একটি শটও নিতে পারেনি। তবে হতাশার হারের পরও মেক্সিকোর সমান পয়েন্ট নিয়ে পোল্যান্ড গোল ব্যবধানে শেষ ষোলোয় চলে গেছে। কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়ার লড়াইয়ে তারা খেলবে ফ্রান্সের বিপক্ষে। সূত্র: সমকাল
ফাইল ছবি
তালেবানের কবলে পড়া কাবুলের আকাশপথে ঢুকতে পারছে না অনেক দেশ। যার জেরে ভারতের আকাশপথ থেকেও বিমান ঘুরিয়ে নিচ্ছে সংস্থাগুলি। সেটা হলে অচিরেই বড়সড় আর্থিক লোকসানের মুখে পড়তে পারে ভারতীয় বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।
এশিয়া থেকে ইউরোপ যাওয়ার অন্যতম রাস্তা ভারত, পাকিস্তান, আফগানিস্তানের আকাশপথ ধরে ইউরোপের সীমান্তে প্রবেশ করা। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে বহু বিমান সংস্থাই আফগানিস্তানের আকাশপথ ব্যবহার করতে চাইছে না। কোনো কোনো দেশ ইতোমধ্যেই দেশের বিমান সংস্থাগুলিকে যাত্রাপথ বদলের নির্দেশ দিয়েছে। অসুবিধা হলো, যাত্রাপথ বদলালে বহু বিমান ভারতের আকাশপথও ব্যবহার করতে পারবে না। তাদের পথ পরিবর্তন করতে হবে। ফলে বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখোমুখি হতে হবে ভারতীয় বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে।
বিমানবন্দরের এক কর্মকর্তা সংবাদ সংস্থাকে জানিয়েছেন, ''এতদিন বহু বিদেশি বিমান দিল্লি হয়ে পাকিস্তান এবং আফগানিস্তানের উপর দিয়ে ইউরোপে ঢুকে যেত। ভারতের আকাশ সীমা ব্যবহারের জন্য তারা বিপুল অঙ্কের মাশুল দিত। কিন্তু রুট পরিবর্তন হলে তারা ভারতের এয়ারস্পেসে ঢুকবে না।''
বস্তুত, দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার বহু বিমান কলকাতার উপর দিয়েও যাতায়াত করে। সেই বিমানগুলিও রুট বদলাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিমানবন্দরের আরেক কর্মকর্তার বক্তব্য, ইতোমধ্যেই বহু বিমান রুট বদলেছে। আফগানিস্তানের আকাশপথ দিয়ে যাতায়াত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখনো তারা দিল্লি এবং এবং পাকিস্তানের আকাশপথ ব্যবহার করছে। কিন্তু তাতে তাদের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে। অতিরিক্ত পথ অতিক্রম করতে হচ্ছে। ফলে অনেকেই পুরোওয়া রুট বদলে নের পরিকল্পনা করছে।
এর আগে বালাকোটে সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের পর বেশ কিছুদিন পাকিস্তানের এয়ারস্পেস বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। সে সময়েও দিল্লির উপর দিয়ে যাওয়া বিমান যাত্রাপথ পরিবর্তন করেছিল। ভারতীয় বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের আর্থিক ক্ষতি হয়েছিল। তবে সে ঘটনা ছিল সাময়িক। আফগানিস্তানের পরিস্থিতি অনেক জটিল। আদৌ সেখানকার আকাশপথ অদূর ভবিষ্যতে ব্যবহার করা যাবে কি না, তা নিয়ে সংশয় আছে। এবং সে কারণেই বহু বিমান সংস্থা নতুন রুট তৈরির পরিকল্পনা করছে।
এমনিতেই করোনার কারণে ভারতীয় বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে। বিমানবন্দর সূত্র জানাচ্ছে, ভারত হয়ে পাকিস্তানে ঢোকা বিমানের সংখ্যা অন্তত ৬০ শতাংশ কমে গেছে।
শুধু তাই নয়, কোনো কোনো বিমান সংস্থা এই রুটের বিমান বন্ধ করে দেওয়ার কথাও ভাবছে। কারণ করোনায় বিমান সংস্থাগুলিরও বিপুল ক্ষতি হয়েছে। ফলে সাময়িক রুট বদলে তারা ক্ষতির পরিমাণ বাড়াতে চাইছে না।
কোনো বিমান যখন অন্য দেশের আকাশসীমায় ঢোকে তখন সেই দেশ তাকে এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোল (এটিসি) পরিষেবা প্রদান করে। তার বিনিময়ে বিমানসংস্থা ওই দেশের বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে বিপুল পরিমাণ টাকা দেয়। এর থেকে লাভবান হয় বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। ভারতের ভয়, তালেবানের ভয়ে তাদের সেই রোজগার অনেকটাই কমে যেতে পারে।
সূত্র: আনন্দবাজার ও ডয়েচে ভেলে।