a
ফাইল ছবি
নারীদের অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ব্রাজিলকে ২-১ গোলে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করেছে জাপান। জাপানের হয়ে ইয়ুজুকি ইয়ামামোতো ও মাইকা হামানো একটি করে গোল করেন। অন্যদিকে সেলেসাওদের হয়ে মিরিয়াম ক্রিশ্চিনা একটি গোল করেন।
আজ শুক্রবার কোস্তারিকার জাতীয় স্টেডিয়ামে সেমিফাইনালে ব্রাজিল মুখোমুখি হয় অনূর্ধ্ব ২০ নারী বিশ্বকাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন জাপান। শুরু থেকে ব্রাজিল বলের দখলে পিছিয়ে থাকলেও প্রতিপক্ষের গোলমুখে নেওয়া ১৯ শটের ৬টিই ছিল লক্ষ্যে। এর বিপরীতে জাপানের ৯টি শটের মাত্র ৪টি ছিল গোলমুখে।
ম্যাচের ৩০ মিনিটে ইয়ুজুকি ইয়ামামোতোর গোলে এগিয়ে যায় বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। অনেক চেষ্টা করেও গোল শোধ দিতে পারেনি ব্রাজিল। ফলে ১-০ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় জাপান। বিরতির পর গোল শোধ দিতে মরিয়া হয়ে ওঠে সেলেসাওরা। এর সুফল পায় ম্যাচের ৫৫ মিনিটে। মিরিয়াম ক্রিশ্চিনার গোলে সমতা ফেরায় ব্রাজিল।
ম্যাচের ৮৪তম মিনিটে ব্রাজিলের বিরুদ্ধে জয়সূচক গোলটা আদায় করে নেন মাইকা হামানো। বক্সের বাইরে থেকে সতীর্থের বাড়ানো বল দখলে নিয়ে গোলরক্ষককে দারুণ দক্ষতায় ধোঁকা দিয়ে জয়সূচক গোলটা পেয়ে যান তিনি। ফলে ২-১ ব্যবধানে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে জাপান।
দিনের অন্য ম্যাচে একই ভেন্যুতে স্পেনের মুখোমুখি হয়েছিল নেদারল্যান্ডস। সেই ম্যাচে ইনমা গাবারোর জোড়া গোলে ডাচদের ২-১ গোলে হারিয়ে ফাইনালে উঠে গেছে স্পেন। আগামী ২৮ আগস্ট প্রতিযোগিতার ফাইনালে জাপানের মুখোমুখি হবে স্পেন।একই দিন তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ব্রাজিলের বিপক্ষে খেলবে নেদারল্যান্ডস। সূত্র: বিডি প্রতিদিন
ফাইল ছবি
শৈশবের প্রিয় ক্লাব বার্সোলোনা ছাড়তে বাধ্যই হলেন লিওনেল মেসি। ক্লাবের আর্থিক সমস্যা লা লীগার বেধে দেওয়া বেতন কাঠামোর ভিত্তিতে মেসিকে তার নতুন চুক্তিতে সই করানো সম্ভব হলো না। এদিকে মেসির চলে যাওয়ার খবরে থমকে গেছে ফুটবল প্রেমিরা তারা এক মূহুর্ত ও নিজেদের বিশ্বাস করাতে পারছে না যে মেসি ছাড়া বার্সা আর বার্সা ছাড়া মেসি কিভাবে কল্পনা করবে তারা।
২০০০ সালে একটি টিস্যু পেপারে সই করে পথচলা শুরু হয় মেসি আর বার্সার। তারপর পেরিয়ে গেছে ২১টি বছর। গ্রীষ্মকালীন দলবদলে বোর্ড চেয়েছিলো বেশকিছু খেলোয়াড় বিক্রি করে তাদের আর্থিক অবস্থা ঠিক করতে তাদের মধ্যে গ্রীজম্যান বার্সায় থাকতে চায়, লেংলেটকে কিনতে প্রীমিয়ার লীগ থেকে ভালো অফার ছিল কিন্তু সে যাবে না, ওদিকে বসে বসে বেতন খাওয়া ফ্রেঞ্জম্যান সামুয়েল উমতিতিও জানিয়েছে সে দল ছাড়বে না, মাত্র ১৮ বছর বয়সী ইলাইশ মরিবা বেতন কমানো দূরে থাক বেতন বৃদ্ধির জন্য উল্টো চাপ দিচ্ছেন,আরো বেশ কিছু খেলোয়াড় বোর্ড তাদেরকে বিক্রি করতে চাইলেও তারা রাজি না হওয়ায় কিংবা অন্য ক্লাব তাদের ফর্মের কারনে তাদের কিনতে আগ্রহী না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত উভয়পক্ষের সমঝোতায় মেসিকেই ক্লাব ছাড়তে হলো।
প্রাণের ক্লাবটি ছেড়ে এখন তিনি যাবেন কোথায়? এই প্রশ্নটা গতকাল রাত থেকেই ঘুরপাক খাচ্ছে ইউরোপিয়ান ফুটবলে। বার্সেলোনা তাদের অফিশিয়াল বক্তব্যে জানিয়ে দিয়েছে, কাতালান ক্লাবটিতে মেসি আর থাকছেন না। এখন ইউরোপের বেশ কিছু বড় ক্লাব তাকে দলে নিতে নড়চড়ে বসার কথা। মেসির দেশ আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টস জানিয়েছে, ম্যানচেস্টার সিটি, পিএসজি, ইন্টার মিলান ও ইন্টার মিয়ামি আছে তাঁকেকিনতেআগ্রহীদের তালিকায়। কিন্তু চাইলেই তো আর মেসিকে কেনা সম্ভব নয়। আর্জেন্টাইন তারকার আকাশচুম্বী বেতন দেওয়ার সামর্থ্য আছে কয়টি ক্লাবের? স্প্যানিশ লিগের আরোপ করা বেতন সীমার মধ্যে থাকতে না পারাতেই যে মেসিকে ধরে রাখতে পারল না বার্সা। এর মধ্য দিয়ে বার্সার সঙ্গে দীর্ঘ ২১ বছরের সম্পর্ক ছিন্ন হচ্ছে মেসির। প্রতিভায় মুগ্ধ হয়ে ২০০০ সালে তাঁকে ন্যাপকিনে সই করিয়েছিলেন বার্সার তখনকার মূল দলের পরিচালক কার্লেস রেক্সাস। বাকিটা ইতিহাস এবং সোনার অক্ষরে লেখা সেই ইতিহাস সবারই জানা। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম জানিয়েছিল, ৪৩০ মিলিয়ন ইউরোয় মেসিকে পাঁচ বছর মেয়াদে নিতে চায় ম্যানচেস্টার সিটি। পেট্রোডলারসমৃদ্ধ ক্লাব হওয়ায় মেসির বেতন দেওয়ার সামর্থ্য রয়েছে ইংলিশ ক্লাবটির।
এর আগে গত মৌসুম শেষে মেসি যখন বুরোফ্যাক্স করে বার্সা ছাড়তে চেয়েছিলেন, তখন ৬০০ মিলিয়ন ইউরোয় সিটি তাঁকে কিনতে আগ্রহী, এমন খবরও বেরিয়েছিল। সিটিতে বার্সার সাবেক কোচ পেপ গার্দিওলা রয়েছেন। মেসির সঙ্গে তাঁর বোঝাপড়াটা সব সময়ই ভালো। এর পাশাপাশি সিটি ছেড়ে আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার সের্হিও আগুয়েরো যোগ দিয়েছেন বার্সায়। টিওয়াইসি স্পোর্টস জানিয়েছে, মেসিকে সিটিতে যোগ দেওয়ার বিষয়ে রাজি করানোর চেষ্টা করছেন আগুয়েরো। তবে সিটিতে পরিস্থিতি এখন একটু ঘোলাটে। এরই মধ্যে অ্যাস্টন ভিলা থেকে জ্যাক গ্রিলিশকে ১০০ মিলিয়ন পাউন্ডে কেনার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে সিটি। ফরাসি ক্লাব পিএসজিতে মেসির সঙ্গে জাতীয় দলে খেলা কয়েকজন সতীর্থ রয়েছেন। আনহেল ডি মারিয়া, লিয়ান্দ্রো পারেদেস ও মাউরো ইকার্দি। এর পাশাপাশি বার্সার সাবেক সতীর্থ নেইমার রয়েছেন সেখানে। ব্রাজিলিয়ান তারকা আবার মেসির বন্ধু। পিএসজি বেশ আগে থেকেই মেসিকে কিনতে আগ্রহী ছিল।
তবে প্রস্তাবটা ঠিক কত টাকার, সংবাদমাধ্যমে তা আসেনি। গত মৌসুম শেষে মেসি বার্সা ছাড়ার ইচ্ছার কথা জানানোর পর পিএসজির নামটা আগেভাগে উঠে এসেছিল।গত বছরের আগস্টে জানা গিয়েছিল, ইন্টার মিলানের ৭০ শতাংশ শেয়ারের মালিক চীনের ইলেকট্রিক পণ্য নির্মাতা প্রতিষ্ঠান সানিং মেসিকে কেনার জন্য স্পনসর খুঁজছে। এ নিয়ে নাকি চীনের সরকারের কাছ থেকে তারা সবুজ সংকেতও পেয়েছিল। তবে ইন্টার মিলানের সহসভাপতি হাভিয়ের জানেত্তি তখন এই গুঞ্জন অস্বীকার করেছিলেন। গত জুনের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের মেজর সকার লিগের দল ইন্টার মিয়ামির মালিক ডেভিড বেকহামের সঙ্গে কথা বলেন মেসি। তখন জার্মান সংবাদমাধ্যম ‘কিকার’ জানিয়েছিল, বার্সায় চুক্তির মেয়াদ শেষে ক্যারিয়ারের বাকি সময় ইন্টার মিয়ামিতে শেষ করতে পারেন মেসি।
বেকহাম তখন বলেছিলেন, ‘মেসির ইন্টার মিয়ামিতে খেলার ব্যাপারে আমি আশাবাদী।’ এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় বাড়িও কিনেছেন মেসি। তখন গুঞ্জন বের হয়, ইন্টার মিয়ামিতে ক্যারিয়ার শেষ করার পরিকল্পনায় যুক্তরাষ্ট্রে থাকার জায়গাটা আগেই ঠিক করেছেন তিনি।
ফাইল ছবি
মালয়েশিয়ায় গ্রেপ্তার বাংলাদেশের সাবেক হাইকমিশনার এম খায়রুজ্জামানকে ঢাকায় ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া স্থগিত রাখার আদেশ দিয়েছেন দেশটির উচ্চ আদালত। তিনি জেলহত্যা মামলার অন্যতম আসামি ছিলেন।
মঙ্গলবার খায়রুজ্জামানের স্ত্রী রিটা রহমানের আইনজীবীর করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মালয়েশিয়ার হাইকোর্ট দেশটির অভিবাসন বিভাগকে অন্তর্বর্তীকালীন এ আদেশ প্রদান করেন।
ফ্রি মালয়েশিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খায়রুজ্জামানের আইনজীবী আদালতে যে ‘হেবিয়াস করপাস রিট’ করেছেন, সে বিষয়ে শুনানির জন্য ২০ মে পরবর্তী তারিখ রেখেছেন বিচারক মোহাম্মদ জাইনি মাজলান।
কাউকে ‘বেআইনিভাবে’ আটক করার অভিযোগ উঠলে তাকে আদালতের সামনে হাজির করার জন্য এ ধরনের রিট মামলা হয়।
আইনজীবীরা আদালতে যুক্তি দেন, খায়রুজ্জামান মালয়েশিয়ায় রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থী ছিলেন। তার নামে ইউএনএইচসিআরের কার্ডও ছিল। তিনি অভিবাসন আইন ‘ভঙ্গ করেননি’, ফলে তাকে আটকে রাখা ‘বেআইনি’।
আদালতের স্থগিতাদেশের পরও গত বছর মিয়ানমারের কযেকজন নাগরিককে মালয়েশিয়া থেকে ফেরত পাঠানোর ঘটনা মনে করিয়ে দিয়ে আইনজীবী এডমুন্ড বন বলেন, খায়রুজ্জামানের ক্ষেত্রে যেন তেমনটা না হয়।
তখন বিচারক বলেন, আদালতের আদেশের পরও তাকে ফেরত পাঠানো হয়েছে- এমন কিছু আমি শুনতে চাই না। আমি আশা করি, ইমিগ্রেশন বিভাগ বিষয়গুলো নিজেদের কাঁধে তুলে নেবে না।
হাইকোর্টের আদেশের ইমিগ্রেশন বিভাগের আইনজীবী উওং সিউ মুন বলেছেন, অন্তর্ববর্তীকালীন এই স্থগিতাদেশের বিষয়ে তিনি অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিসে যোগাযোগ করবেন।
ফ্রি মালয়েশিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়, খায়রুজ্জামানকে অজ্ঞাত কারণে ফেরত চায় বাংলাদেশ। খায়রুজ্জামানের স্ত্রী রীতা রহমানের দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কারণে তার স্বামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
খায়রুজ্জামানকে গত ১০ ফেব্রুয়ারি মালয়েশিয়ার সেলাঙ্গর প্রদেশের আমপাং এলাকার বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে দেশটির অভিবাসন পুলিশ।
খায়রুজ্জামানকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তরের ক্ষেত্রে গত শুক্রবার সাময়িক নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিলেন মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরের একটি আদালত। এখন দেশটির হাইকোর্ট তাকে হস্তান্তরের ওপর স্থগিতাদেশ দিলেন।
সাবেক সেনা কর্মকর্তা থেকে পরে সামরিক সরকারের আমলে প্রেষণে নিয়োগ পেয়ে সেদেশে কূটনীতিকের দায়িত্ব পালন করেন খায়রুজ্জামান।
১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর জেলে জাতীয় চার নেতা হত্যা মামলার অন্যতম আসামি খায়রুজ্জামানকে চাকরিচ্যুতির পর গ্রেপ্তার করা হয়।
২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ক্ষমতায় এলে খায়রুজ্জামান জামিনে মুক্তি পান। এরপর চাকরি ফিরে পেয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মহাপরিচালক পদে যোগ দেন তিনি।
২০০৪ সালে জেলহত্যা মামলা থেকে খালাস পান খায়রুজ্জামান। ২০০৫ সালে তিনি মিয়ানমারে বাংলাদেশ দূতাবাসে নিয়োগ পান। পরে ২০০৭ সালে সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ পান।
আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০০৯ সালে মালয়েশিয়ায় তৎকালীন বাংলাদেশি হাইকমিশনার খায়রুজ্জামানকে দেশে ফেরার নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই আদেশ অগ্রাহ্য করে তিনি মালয়েশিয়ায় অবস্থান করেন।